

শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওরের জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেছেন, প্রাকৃতিকভাবে দেশীয় মাছের বিভিন্ন প্রজাতি হারিয়ে যাচ্ছে, যা শুধুমাত্র অভয়াশ্রমের মাধ্যমেই রক্ষা করা সম্ভব। একদিকে হাওর সংরক্ষণের কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে হাওরে ধানের উৎপাদন বাড়াতে কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। এই কীটনাশক পানির সঙ্গে মিশে হাওরের মাছের ব্যাপক ক্ষতি করছে। তাই হাওর রক্ষায় কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
রোববার সকালে শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওরের হাজীপুর এলাকার বাইক্কার বিল মৎস্য অভয়াশ্রম সংলগ্ন পাড়ে ‘বাইক্কার বিল মৎস্য অভয়াশ্রম সংশ্লিষ্ট সুফলভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময়’ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, যারা পাখি শিকার করে আনন্দ পেতে চান, তাদের এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়। কারণ, এ ধরনের শিকার নির্মম, অমানবিক এবং প্রাণবৈচিত্র্য ও দেশের জন্য ক্ষতিকর।
বাইক্কা বিল রক্ষার জন্য অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে উল্লেখ করে মৎস্য উপদেষ্টা বলেন, বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভর না হয়ে নিজস্ব সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। তিনি জানান, নিজস্ব অর্থায়নে দাদুরিয়া বিল খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সম্পদ ব্যবস্থাপনা সংগঠনের কাজগুলো অভয়াশ্রম রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে বিল রক্ষায় মৎস্য কর্মকর্তাদের প্রতিনিধিত্ব না থাকলে কাঙ্ক্ষিতভাবে অভয়াশ্রম রক্ষা করা কঠিন হবে।
তিনি আরও বলেন, কালচারাল মাছের ওপর নির্ভর করে চলতে চাই না। অভয়াশ্রম তৈরি করে দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষা করা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি বড় দায়িত্ব। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকার তরুণদের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। ৫ আগস্ট শহিদ পরিবার ও আহত পরিবারের সদস্যদের জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে, যা তাদের সহায়তায় কাজ করবে।
এর আগে উপদেষ্টা শ্রীমঙ্গলের হাজীপুর এলাকার বাইক্কার বিল মৎস্য অভয়াশ্রম সংলগ্ন পাড়ে হিজল গাছ রোপণ করেন। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোসা. শাহীনা আক্তারের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শাহীনা ফেরদৌসী, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুর রউফ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জিয়া হায়দার চৌধুরী, সিলেট বিভাগীয় মৎস্য অফিসের উপপরিচালক মো. আশরাফুজ্জামান, সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. আনোয়ার কবীর, মৌলভীবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. আরিফ হোসেন, সিলেট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সীমা রাণী বিশ্বাস, সিনিয়র সহকারী পরিচালক আল-মিনান নূর, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইসলাম উদ্দিন, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিনয় কুমার রায় এবং বাইক্কার বিল মৎস্য অভয়াশ্রম সংশ্লিষ্ট সুফলভোগীরা।
মন্তব্য করুন


নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও নৈতিকতা বজায় রেখে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের ওপর জোর দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
তিনি বলেছেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অগ্রাধিকার হচ্ছে পেশাদারিত্ব এবং নিরপেক্ষতা। সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নৈতিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। আইন-কানুনের বাইরে কারো যাওয়ার সুযোগ নেই। শতভাগ নিরপেক্ষতা বজায় রেখে আগামী নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী কোর প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সিইসি বলেন, এবারের নির্বাচন আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের হবে। নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি এবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। আরো অনেক ধরনের চ্যালেঞ্জ সামনে আসবে। যেকোনো ধরনের নতুন চ্যালেঞ্জ আসলে সেটা মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট আয়োজিত এই প্রশিক্ষণে কার্যক্রমে ৮০ জন কর্মকর্তা অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে আগামী নির্বাচন আয়োজনে সাড়ে দশ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।
তিনি আরো বলেন, আপনাদের এই প্রশিক্ষণের ওপর আমাদের সফলতা বা ব্যর্থতা নির্ভর করছে। আশা করি, সফল ট্রেনিং হবে। কমিউনিকেশন ব্রেকডাউন যেন না হয়। প্রফেশনালিজ অ্যান্ড নিউট্রালিটি বজায় রাখতে হবে।
মন্তব্য করুন


প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, সংবিধান বাতিল করা জুলাই বিপ্লবের লক্ষ্য ছিল না। সংবিধানের সঙ্গে বিচার বিভাগের সম্পর্ককে বিশুদ্ধ ও জবাবদিহিমূলক করাই অভ্যুত্থানের লক্ষ্য ছিল।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) অবসরের আগে আপিল বিভাগে শেষ কর্মদিবসে এ কথা বলেন তিনি।
বিদায়ী বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি বলেন, গণতন্ত্রে যতদিন বিচার বিভাগের মূল্যবোধ থাকবে, ততদিন সুপ্রিম কোর্ট ন্যায়বিচার ও স্বাধীনতার শেষ আশ্রয় হয়ে থাকবে।
বিচার বিভাগকে অবশ্যই বর্তমান সংবিধানের মূল কাঠামো নীতি মেনে চলতে হবে। যা ক্ষমতা পৃথকীকরণ, বিচারিক স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক শাসন, মৌলিক অধিকার এবং জনগণের সার্বভৌমত্বের মতো আদর্শগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করে।
তিনি বলেন, বিচার বিভাগের শক্তি কোনও একক দফতরে নয়, বরং সততা ও দূরদর্শিতার সাথে ন্যায়বিচার করার সম্মিলিত সংকল্পের মধ্যে নিহিত।
এদিকে, প্রধান বিচারপতির শেষ কর্মদিবসে আপিল বিভাগের এজলাসেই অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে তাকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ সময় সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি, আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


নিজেকে মেয়র ঘোষণা করে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন দখলের বিষয়ে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানান, আর চুপ থাকার মতো পরিবেশ পরিস্থিতি নেই। সরকারের উচ্চপর্যায়ে এটা নিয়ে আলোচনার ভিত্তিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত আসবে।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) সচিবালয়ে উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে পাবলিক লাইব্রেরির নির্মাণ কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান উপদেষ্টা।
এখন ডেঙ্গুর সময়। যেখানে নানান ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার কথা। সেখানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে, কতদিন এভাবে চলবে- দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে উপদেষ্টা বলেন, ‘ডেঙ্গুর বিষয়টি নিয়ে আমরা কনসার্ন আছি উচ্চপর্যায়ে থেকে।
এটা নিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব একাধিক মিটিং করেছেন। সিটি করপোরেশনগুলো কনসার্ন আছে। সিটি করপোরেশনগুলোর কার্যক্রম সারফেসে আপনারা হয়তো দেখছেন না। এটা নিয়ে ডেডিকেটেডলি আমরা আপনাদের ব্রিফ করব। কী কী উদ্যোগ আমরা নিচ্ছি, কী কী উদ্যোগ আমরা নেব। একই সঙ্গে এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করাটা জরুরি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এক্ষেত্রে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে আমাদের চ্যালেঞ্জ আছে। সেখানে স্বাভাবিক কার্যক্রম স্বভাবতই ব্যাহত হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি, যতটা সম্ভব বাইরে থেকে হলেও নাগরিক সেবা কন্টিনিউ রাখা এবং সেটা কাভার করা।’
আমরা দেখলাম একজন স্বঘোষিত মেয়র। নগর ভবন তার দখলে, নাগরিক সেবা বন্ধ। আপনারা সরকার নতজানু হয়ে আছেন। সরকার সমস্যা সমাধান করছে না, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নিচ্ছে না-এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা বলেন, ‘এ বিষয়ে সরকার কনসার্ন আছে। এটি এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয় নয়। এ সরকার গুড কো-অর্ডিনেশনের মাধ্যমে কাজ করে।
একই সঙ্গে আমরা যখন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের কথা বলি, সেটা রক্ষা করতে গেলে প্রত্যেকের কাছ থেকেই দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশিত। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করার চেষ্টা করছি। তবে যেভাবে নাগরিক সেবা ডেডলকের দিকে যাচ্ছে, আর চুপ থাকার মতো পরিবেশ পরিস্থিতি নেই। সরকারের উচ্চপর্যায়ে এটা নিয়ে কনসার্ন আছে। সেখানে আলোচনার ভিত্তিতে যেটা সিদ্ধান্ত আসে, আমি সেটাই বাস্তবায়ন করব।’
কতদিনে সিদ্ধান্ত হবে- জানতে চাইলে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে।’
গত সোমবার ও মঙ্গলবার ৭০টি ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতা পরিদর্শক ও ওয়ার্ড সচিবদের সঙ্গে বৈঠকের পর এবার নগর ভবনে মশক নিধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন।
এদিকে, ইশরাক হোসেনকে মেয়র পদে দায়িত্ব দেওয়ার দাবিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবনে আজও অবস্থান নিয়েছে সংস্থাটির কর্মচারীরা। এর সঙ্গে 'ঢাকাবাসী'র ব্যানারে নগর ভবনে একত্রিত হয়েছেন ইশরাকের অনুসারীরা।
বুধবার (১৫ জুন) ইশরাকের অনুসারীরা ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবনে একত্রিত হয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করলেও দুপুর ১টার দিকে নগর ভবনে প্রবেশ করেন ইশরাক হোসেন। এরপর তিনি আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য প্রদানের পরই নগর ভবন প্রাঙ্গণে মশক নিধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ পুলিশের চারজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে বদলি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। তাদের মধ্যে একজন অতিরিক্ত আইজিপি এবং দুইজন ডিআইজি রয়েছেন।
বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ, পুলিশ-১ শাখা থেকে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
উপসচিব আবু সাঈদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের এসব কর্মকর্তাদের বদলি বা পদায়ন করা হয়েছে। জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
প্রজ্ঞাপনটি দেখতে ক্লিক করুন
মন্তব্য করুন


আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের মাধ্যমে স্মরণীয় করে রাখতে হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী আগামী নির্বাচনকে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সারা দেশের উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের (ইউএনও) সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নির্বাচন প্রস্তুতি বিষয়ে দিকনির্দেশনা দানকালে প্রধান উপদেষ্টা এ কথা বলেন। সব জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তাগণ এসময় অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।
প্রধান উপদেষ্টা ইউএনওদের উদ্দেশে বলেন, ‘ইতিহাস আমাদের নতুন করে একটি সুযোগ দিয়েছে। অন্য জেনারেশন এই সুযোগ পাবে না। এই সুযোগকে কাজে লাগাতে পারলে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে পারব, আর যদি না পারি তাহলে জাতি মুখ থুবড়ে পড়বে।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এর আগেও আমরা নির্বাচন দেখেছি। বিগত আমলে যে নির্বাচনগুলো হয়েছে, যেকোনো সুস্থ মানুষ বলবে—এটা নির্বাচন নয়, প্রতারণা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচন অন্যান্য দায়িত্বের মতো নয়; বরং একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব। আমরা যদি ভালোভাবে এই দায়িত্বটি পালন করতে পারি, তাহলে আগামী নির্বাচনের দিনটি জনগণের জন্যও ঐতিহাসিক হবে।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনারা যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন তাহলেই সরকার তার দায়িত্বটি সফলভাবে পালন করতে সক্ষম হবে।’
আগামী নির্বাচন ও গণভোট দুটিই জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন আগামী পাঁচ বছরের জন্য, আর গণভোট শত বছরের জন্য ‘ গণভোট সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এর মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশটাকে স্থায়ীভাবে পাল্টে দিতে পারি। যে নতুন বাংলাদেশ আমরা তৈরি করতে চাই, তার ভিতটা এর মাধ্যমে গড়তে পারি।’
সদ্য যোগদান করা ইউএনওদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনাদের প্রধান দায়িত্ব হলো একটি শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর নির্বাচন আয়োজন করা।’ তিনি ইউএনওদের নিজ নিজ এলাকার সব পোলিং স্টেশন পরিদর্শনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ, এলাকাবাসী এবং সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেন।
গণভোট বিষয়ে ভোটারদের সচেতন করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “ভোটারদের বোঝাতে হবে যে আপনারা মন ঠিক করে আসুন—‘হ্যাঁ’-তে দেবেন নাকি ‘না’-তে ভোট দেবেন—মন ঠিক করে আসুন।”
প্রধান উপদেষ্টা কর্মকর্তাদের ধাত্রীর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ‘ধাত্রী ভালো হলে জন্ম নেওয়া শিশুও ভালো হয়।’ তিনি কর্মকর্তাদের যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় সৃজনশীল হওয়ার পাশাপাশি অপতথ্য ও গুজব প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন।
নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নারীদের অগ্রাধিকার প্রদানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘নারীরা যেন ঠিকভাবে ভোটকেন্দ্রে আসতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।’
শিগগিরই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ইউএনওদের উদ্দেশে বলেন, ‘নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত কখন, কিভাবে, কোন কাজটি করবেন—তার পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি এখন থেকেই নিন।’
অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ, প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম এবং জনপ্রশাসন সচিব মো. এহছানুল হকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


জুলাই-আগস্টে গণহত্যার ঘটনায় মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে হাজির হতে দুটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। আগামী ২৪ জুন এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
আজ সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।
এসময় মামলার আরেক আসামি সাবেক পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন ট্রাইব্যুনালে হাজির ছিলেন। আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
গত ১ জুন জুলাই-আগস্টে গণহত্যার ঘটনায় মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ৫টি অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। মামলার অপর দুই আসামি হলেন— সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী মামুন। একইসঙ্গে এই মামলায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালের বিরুদ্ধে নতুন করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
মন্তব্য করুন


স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সর্বদা সজাগ ও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাহিনীর সদস্যদের সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে রাজধানীর চারটি থানা (মিরপুর, দারুসসালাম, আদাবর ও মোহাম্মদপুর) পরিদর্শনকালে তিনি সংশ্লিষ্টদের এ নির্দেশনা দেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, জনগণ যাতে নির্বিঘ্নে ঘুমাতে পারে এবং নির্ভয়ে চলাফেরা করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে। তিনি আরও বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মনিটরিং করার জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের অফিসারদেরও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ফোর্স ও টহলের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। যারা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে, তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক ও সজাগ রয়েছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে স্থাপিত চেকপোস্টগুলোও সক্রিয় রয়েছে। যৌথবাহিনীর অপারেশনও ভালোভাবে চলছে। থানার কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতে চলছে। থানাসমূহ সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা তা দেখতেই এ পরিদর্শন।
উপদেষ্টা আরো বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ভোরের দিকে দায়িত্বে শিথিলতা দেখায়। এ সুযোগে সন্ত্রাসী ও অপরাধীরা নানা রকম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করার চেষ্টা করে। তিনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন, তারা যেন এসময়েও সজাগ ও সতর্ক থাকে।
চলমান যৌথ অভিযান আর কতদিন চলবে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, পরিস্থিতির উন্নতি হলে যৌথ অভিযান বন্ধ করা হবে। তবে অন্যান্য অভিযান চলমান থাকবে। গতকাল গুলশান থানায় দায়িত্বে অবহেলা করায় একজন এসআই ও একজন কনস্টেবলকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
উপদেষ্টা তার বারিধারাস্থ ডিওএইচএস এর বাসা থেকে বের হয়ে ইসিবি চত্বর, কালশী, পল্লবী, মিরপুর-১০ হয়ে মিরপুর থানায় পৌঁছান। পরিদর্শন শেষে সেখান থেকে মিরপুর-১ হয়ে দারুসসালাম থানায় যান। দারুসসালাম থানা থেকে টেকনিক্যাল মোড়, শ্যামলী হয়ে আদাবর থানা পরিদর্শন করেন। পরবর্তীতে সেখান থেকে মোহাম্মদপুর থানায় যান। মোহাম্মদপুর থানা পরিদর্শন শেষে ধানমন্ডি ২৭, সংসদ ভবন, বিজয় সরণি, মহাখালী, বনানী হয়ে বারিধারার বাসায় ফিরে আসেন।
থানাসমূহ পরিদর্শনকালে উপদেষ্টা থানার অভ্যর্থনা কক্ষ, হাজতখানা-সহ আনুষঙ্গিক স্থাপনা ঘুরে দেখেন। তিনি ডিউটি অফিসারসহ কর্তব্যরত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এসময় তিনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের আরো তৎপর হওয়ার নির্দেশ দেন।
পথিমধ্যে তিনি জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভার চেকপোস্ট ও কালশী মোড় চেকপোস্ট পরিদর্শন করেন এবং দায়িত্বরতদের সঙ্গে কথা বলেন। তাছাড়া উপদেষ্টা মিরপুর থানা মোড় ও টেকনিক্যাল মোড়ে উপস্থিত সাধারণ জনগণের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।
মন্তব্য করুন


ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আগামী ২৪ জুনের মধ্যে তাদের ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হওয়ার জন্য বলা হয়েছে। তারা উপস্থিত না হলে, তাদের অনুপস্থিতিতে বিচার হবে বলেও জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।
সোমবার (১৬ জুন) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
আদালতের আদেশে বলা হয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য তাদের ব্যক্তিগতভাবে হাজিরা নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাদের অবগত করা হবে। তবে এই বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি শেখ হাসিনা কিংবা আসাদুজ্জামান খান কামাল।
মন্তব্য করুন


রায়ের বাজার গণকবর থেকে মরদেহ উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে মরদেহ শনাক্ত করার পর তা স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
আজ শনিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা ও রায়ের বাজারে গণকবর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
উপদেষ্টা বলেন, সরকার মরদেহগুলোর যথাযথভাবে ডিএনএ পরীক্ষা করে পরিচয় নিশ্চিত করার পরই স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, যেহেতু আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, তারা যদি কোনো ধরনের অপকর্মে লিপ্ত হয়, তবে তারা কোনোভাবেই ছাড় পাবে না।
পাঁচ আগস্ট ঘিরে দেশে কোনো নিরাপত্তা হুমকি রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আল্লাহ চাইলে কোনো শঙ্কা নেই। আপনারা (সাংবাদিকরা) যেভাবে সহযোগিতা করছেন, তাতে কোনো ধরনের উদ্বেগের জায়গা নেই।
আওয়ামী লীগের গোপন কার্যক্রম নিয়ে এক প্রশ্নে উপদেষ্টা বলেন, আমরা দেখছি, আওয়ামী লীগের গুপ্ত কর্মকাণ্ডে সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তাও জড়িত। যে বাহিনীর যেই জড়িত থাকবে, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি আরও জানান, আওয়ামী লীগের গোপন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করলে সব তথ্য বেরিয়ে আসবে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আপনারা সত্য ঘটনা প্রচার করেন। এতে জনগণ উপকৃত হয়, আর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও উন্নত হয়।
তিনি আরও বলেন, মিডিয়া সত্য প্রচার করায় দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আপনারা সত্য বলার কারণেই এখন বিদেশি মিডিয়াগুলোর তৎপরতা অনেকটা কমে গেছে।
মন্তব্য করুন


দেশের প্রখ্যাত লেখক, গবেষক ও বাম ধারার বুদ্ধিজীবী বদরুদ্দীন উমর মারা গেছেন। রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ৫ মিনিটে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
খবরটি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হাকিম লালা। তিনি জানান, ‘অসুস্থ অবস্থায় বাসা থেকে স্পেশালাইজড হাসপাতালে নেওয়ার পর সকাল ১০টা ৫ মিনিটে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।’
বদরুদ্দীন উমর ছিলেন বামপন্থি রাজনীতিবিদ, তাত্ত্বিক, লেখক ও গবেষক। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও বৌদ্ধিক জীবনে তিনি বাংলাদেশের সমাজ-রাজনীতি ও সংস্কৃতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা ও বিশ্লেষণ করেছেন। চলতি বছর সরকার তাকে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে, তবে তিনি পুরস্কার গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান।
তার উল্লেখযোগ্য গবেষণাধর্মী গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি’ (তিন খণ্ডে), ‘সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা’, ‘পূর্ব পাকিস্তানের ভাষা ও সংস্কৃতি’, ‘বাঙালীর সমাজ ও সংস্কৃতির রূপান্তর’, ‘ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ’ এবং ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে বাংলাদেশের কৃষক’।
তার পিতা আবুল হাশিম ছিলেন প্রগতিশীল মুসলিম লীগ নেতা ও ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে বদরুদ্দীন উমর ও তার পিতা দুজনেই সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। পরে ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তিনি বিস্তৃত গবেষণা সম্পন্ন করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষে তিনি চট্টগ্রাম কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন এবং পরবর্তীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৯ সালে পাকিস্তান সরকারের বৃত্তি নিয়ে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৯৬৮ সালে তিনি শিক্ষকতা ছেড়ে বিপ্লবী রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন।
১৯৭০-৭১ সালে তিনি গণশক্তির সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন এবং মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পার্টির মতাদর্শ নিয়ে দ্বিমত পোষণ করে পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি থেকে পদত্যাগ করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ লেখক শিবির, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল ও গণতান্ত্রিক বিপ্লবী জোটসহ বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে তিনি কাজ চালিয়ে যান।
নিজের আত্মজীবনী ‘আমার জীবন’ গ্রন্থের ভূমিকায় তিনি লিখেছিলেন: ‘আমার জন্ম হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান শহরে ১৯৩১ সালের ২০ ডিসেম্বর, রোববার, দুপুর দুটোয়।’
বুদ্ধিজীবী ও গবেষক হিসেবে জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি নিয়ে সক্রিয় ছিলেন।
চলতি বছর লেখক ও বুদ্ধিজীবী বদরুদ্দীন উমরসহ ৮ বিশিষ্টজনকে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করে সরকার। তবে বদরুদ্দীন উমর পুরস্কারটি ফিরিয়ে দেন।
এ বিষয়ে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘১৯৭৩ সাল থেকে আমাকে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা থেকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। আমি সেগুলোর কোনোটি গ্রহণ করিনি। এখন বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আমাকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা করেছে। এ জন্য তাদের ধন্যবাদ। কিন্তু তাদের দেওয়া এই পুরস্কারও গ্রহণ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এই প্রেস বিবৃতির মাধ্যমে আমি এটা জানিয়ে দিচ্ছি।’
মন্তব্য করুন