

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) জোয়ারেও মধ্যপ্রাচ্যে বিদেশি কর্মীর চাহিদা কমবে না। বরং সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবাজারে ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫ লাখের বেশি কর্মীর চাহিদা তৈরি হবে। চলতি বছর প্রকাশিত এক বৈশ্বিক শ্রমশক্তি সমীক্ষায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর জিও নিউজের।
গবেষণায় দেখা যায়, এআইয়ের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনার ধরনে পরিবর্তন এলেও উপসাগরীয় অঞ্চলে মানবশ্রমের সামগ্রিক চাহিদা কমছে না। বরং শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প এবং সরকারি ও বেসরকারি সেবাখাতের পরিসর বৃদ্ধি পাওয়ায় এই দুই দেশে টেকসই শ্রমচাহিদা তৈরি করছে।
সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচির কারণে শ্রমশক্তির চাহিদা বাড়ছে। এই কর্মসূচির আওতায় নির্মাণ, অবকাঠামো, পর্যটন, উৎপাদন, লজিস্টিকস এবং নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চলে ব্যাপক বিনিয়োগ করা হচ্ছে।
গবেষণার হিসাব অনুযায়ী, এআই থেকে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি না হলে সৌদি আরবের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার অতিরিক্ত কর্মীর প্রয়োজন হতো। অটোমেশনের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়ার পরও আগামী বছরগুলোতে দেশটিতে উল্লেখযোগ্য শ্রমঘাটতি দেখা দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে শ্রমশক্তির চাহিদা আরও দ্রুত বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে আমিরাতের মোট শ্রমশক্তি ১২ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল শ্রমবাজার হতে যাচ্ছে দেশটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘গবেষণাভুক্ত শ্রমবাজারগুলোর মধ্যে আমিরাতেই শ্রমশক্তি সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পাবে। এ ছাড়া সৌদি আরবে শ্রমশক্তি বৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। এর তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে এই হার মাত্র ২ দশমিক ১ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্যে ২ দশমিক ৮ শতাংশ।’
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যার কোম্পানি সার্ভিসনাও এই গবেষণা করেছে। প্রতিষ্ঠানটি সরকার ও বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের জন্য ডিজিটাল ওয়ার্কফ্লো ও অটোমেশন প্ল্যাটফর্ম সরবরাহ করে।
গবেষণা অনুযায়ী, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সেবাখাতের ডিজিটাল রূপান্তরে আমিরাতের জোরালো মনোযোগ চাকরি কমানোর বদলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। দেশটিতে সরকারি ডিপার্টমেন্ট ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম আধুনিকায়ন করার সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদন, শিক্ষা, খুচরা বাণিজ্য, স্বাস্থ্যসেবা, আর্থিক সেবা এবং প্রযুক্তি-সম্পর্কিত খাতে কর্মীর চাহিদা বাড়ছে।
সৌদি আরব ও আরব আমিরাতে নির্মাণ, পরিবহন, লজিস্টিকস, স্বাস্থ্যসেবা, আতিথেয়তা, খুচরা বাণিজ্য, শিক্ষা, জ্বালানি, আর্থিক সেবা ও তথ্যপ্রযুক্তি সামনের বছরগুলোতে ব্যাপকহারে বিনিয়োগ হবে। প্রযুক্তির প্রভাবে কাজের ধরন বদলালেও যারা প্রশিক্ষণ ও পুনঃদক্ষতায় বিনিয়োগ করবে, সেসব দেশ ও কর্মীরাই নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুফল সবচেয়ে বেশি ভোগ করতে পারবে।
মন্তব্য করুন


ফিলিস্তিনের আওকাফ ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২৪ সালে ইসরাইলি বাহিনী ৮১৫টি মসজিদ ধ্বংস করেছে এবং ১৫১টি মসজিদ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
ওয়াফা নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ১৯টি কবরস্থান ধ্বংস করা হয়েছে, কবর ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং লাশ উত্তোলন করা হয়েছে।
ইসরাইলি হামলায় গাজা সিটির তিনটি গির্জাও হামলা ও ধ্বংস হয়েছে।
এদিকে গাজায় একদিনে অন্তত ৮৮ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরাইলি বাহিনী। তারা মাত্র তিন দিনের মধ্যে ছিটমহলে ১০০ বারের বেশি বোমা হামলা চালিয়ে ২০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে, যার বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৪৫ হাজার ৮০৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত ও ১ লাখ ৯ হাজার ৬৪ জন আহত হয়েছে। সেদিন হামাস নেতৃত্বাধীন হামলায় ইসরাইলে অন্তত ১ হাজার ১৩৯ জন নিহত হয় এবং ২০০ জনেরও বেশি বন্দি হয়।
মন্তব্য করুন


আইফোন ভক্ত তরুণ-তরুণীদের কাছে লাখ টাকা যে কোনও প্রতিবন্ধকতা নয় সেটিই যেন প্রমাণ হলো ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে। শুক্রবার দিল্লিতে সর্বশেষ মডেলের আইফোন বিক্রি শুরু হওয়ার পর তা কেনার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন শত শত তরুণ-তরুণী। আর সেখানেই ঘটেছে এক মর্মান্তিক কাণ্ড; অর্থ পরিশোধের পর আইফোন হাতে তুলে দিতে দেরী হওয়ায় দোকানের কর্মীদের বেধড়ক পিটিয়েছেন দুই ক্রেতা।
আইফোন নিয়ে ভারতে ভক্তদের এমন উন্মাদনার শেষ এখানেই নয়। দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, দিল্লিতে আইফোনের সর্বশেষ সংস্করণের জন্য দোকানের সামনে ১৭ ঘণ্টা কিংবা তারও বেশি সময় ধরে সারিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে ক্রেতাদের।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইফোন-১৫ এর ডেলিভারি বিলম্বিত হবে বলে জানানোর পর দিল্লিতে দুই ক্রেতা দোকানের কর্মীদের মারধর করেছেন।
উত্তর দিল্লির কমলানগর মার্কেটে এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এতে দেখা যায়, শুক্রবার ইলেকট্রনিক্স শোরুমের দুই কর্মচারীকে লাঞ্ছিত করছেন দুই ব্যক্তি। পরে জাসকিরাত সিং ও মনদীপ সিং নামের ওই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ।
পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ভারতে বিক্রি শুরুর প্রথম দিনেই দোকানের কর্মীরা আইফোন সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই দুই ক্রেতাকে তাদের ফোনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি বলে দোকানের পক্ষ থেকে জানানোর সঙ্গে সঙ্গে ক্ষেপে যান তারা।
দুই গ্রাহকে ক্ষোভ এতটাই ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছিল যে, এমনকি ১০ জনের বেশি কর্মচারীর হস্তক্ষেপও তাদের সহকর্মীদের বেধড়ক মারধর থেকে রক্ষা করতে পারেনি। পরে দোকানের এক কর্মচারীর ওপর হামলে পড়েন জাসকিরাত ও মনদীপ। এ সময় তারা তাকে কিল-ঘুষির পাশাপাশি লাথিও মারেন। দোকানের ওই কর্মীর টি-শার্ট ছিঁড়ে ফেলেন তারা।
ভারতের প্রথম অ্যাপল স্টোর মুম্বাইয়ের বান্দ্রা-কুরলা কমপ্লেক্সেও (বিকেসি) শুক্রবার নতুন আইফোন, অ্যাপল ওয়াচ এবং এয়ারপডস কেনার জন্য দেশটির বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতাদের আসার খবর পাওয়া গেছে। প্রথম দিনেই আইফোন হাতে পাওয়ার জন্য আহমেদাবাদ এবং বেঙ্গালুরুর মতো স্থান থেকেও অনেক লোকজন মুম্বাইয়ে গেছেন বলে এনডিটিভি জানিয়েছে।
দেশটির বার্তা সংস্থা এএনআইকে একজন আইফোন ক্রেতা বলেছেন, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা থেকে আমি এখানে রয়েছি। ভারতের প্রথম অ্যাপল স্টোরে প্রথম আইফোন পাওয়ার জন্য আমি ১৭ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। আমি আহমেদাবাদ থেকে এসেছি।
বেঙ্গালুরু থেকে আসা আরেক ক্রেতা বিবেক বলেন, ‘নতুন আইফোন ১৫ প্রো পেয়ে আমি খুশি। আমি অত্যন্ত উত্তেজিত।’
মন্তব্য করুন


ইসরাইলের অভ্যন্তরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে অস্বস্তি বাড়াচ্ছে ইয়েমেনের ইরানপন্থি হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। বুধবার রাতে ইসরাইলের অভ্যন্তরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তারা। হুথিদের এই কার্যক্রমে উদ্বিগ্ন হয়ে তাদের লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছে তেল আবিব।
তবে ইসরাইলের এসব হুমকিকে আমলে না নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। তবে, টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, এই ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলে প্রবেশের আগেই ধ্বংস করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরপর দ্বিতীয় রাতে হুথি গোষ্ঠী মধ্য ইসরাইলে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যা রাতের ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইয়েমেনের হুথিদের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলের আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ধ্বংস করা হয়।
ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সম্ভাবনা বিবেচনায় সাইরেন সক্রিয় রাখা হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে ৫ম বার হামলার কারণে লাখ লাখ ইসরাইলি নাগরিককে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, হুথি বিদ্রোহীদের সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করার উদ্যোগ নিয়েছে ইসরাইল। ইউরোপের সব কূটনৈতিক মিশনকে এই গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে তারা।
এই কূটনৈতিক পদক্ষেপের মাধ্যমে হুথিদের আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা এবং তাদের কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি হুথিরা ইসরাইলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে। তারা এই হামলাকে গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের লড়াইয়ে সংহতি জানানোর অংশ হিসেবে দাবি করেছে।
মন্তব্য করুন


কাতারের রাজধানী দোহায় ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। খবর আল-জাজিরার।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) কাতারের স্থানীয় সময় বিকালে দোহায় বিকট শব্দে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণ হয়। এসময় দোহার আকাশে কালো ধোঁয়া দেখা যায়।
বিস্ফোরণের কিছুক্ষণ পর আইডিএফ এক বিবৃতিতে জানায়, শিন বেত নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে যৌথ অভিযানে তারা হামাসের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট হামলা চালিয়েছে।
যদিও হামাসের কোন নেতাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে তা জানায়নি আইডিএফ। তবে বহু বছর ধরে হামাসের শীর্ষ নেতারা গাজা উপত্যকার বাইরে রাজনৈতিক সদর দপ্তর হিসেবে দোহাকে ব্যবহার করে আসছেন।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে এক জ্যেষ্ঠ হামাস কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, দোহায় তাদের আলোচক দলকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এক বিবৃতিতে বলেছেন, এই হামলা আন্তর্জাতিক সব আইন ও বিধির চরম লঙ্ঘন এবং কাতারের নাগরিক ও অধিবাসীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য গুরুতর হুমকি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কাতার এই হামলার কঠোর নিন্দা জানাচ্ছে এবং স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে, এই বেপরোয়া ইসরাইলি আচরণ, আঞ্চলিক নিরাপত্তায় হস্তক্ষেপ এবং কাতারের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে লক্ষ্য করে যেকোনো পদক্ষেপকে বরদাশত করা হবে না। সর্বোচ্চ পর্যায়ে তদন্ত চলছে এবং বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
মন্তব্য করুন


প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলজুড়ে নতুন করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। রোববার (১৫ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাইফা, তেল আবিবসহ ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এখন পর্যন্ত সাতজন নিহত হয়েছে। চিকিৎসক ও স্থানীয় মিডিয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইসরায়েলের তেল আবিব মেট্রোপলিটন এলাকার বাত ইয়াম শহরেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে এখন পর্যন্ত ৩৫ জন নিখোঁজ রয়েছে। সেই সঙ্গে আহতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে।
ইসরায়েলের জরুরি পরিষেবা মেগান ডেভিড অ্যাডম জানিয়েছে, বাত ইয়ামে যে তিনজন নিহত হয়েছে তাদের মধ্যে একজন ১০ বছর বয়সী শিশু রয়েছে। এ ছাড়া নিহত অন্য দুইজন নারীর মধ্যে একজনের বয়স ৬৯ এবং আরেকজনের বয়স ৮০ বছর।
এদিকে ইরানে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। সর্বশেষ, ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদরদপ্তরে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এ ছাড়া নতুন করে এবার ইরানের তেল স্থাপনা ও গ্যাসক্ষেত্রে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী।
ইসরায়েলের হামলায় ইরানে এখন পর্যন্ত দুই শতাধিক নিহত হয়েছে। নিহতের মধ্যে ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও কমান্ডার ও অন্তত ১২ জন পরমাণুবিজ্ঞানী রয়েছেন।
মন্তব্য করুন


মিয়ানমারের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও সাবেক রাজধানী ইয়াঙ্গুন ও তার আশপাশের এলাকাগুলোতে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৮।
শনিবার স্থানীয় সময় রাত ৮ টা ৫৫ মিনিটে ভূমিকম্পের কম্পন অনুভব করেন ইয়াঙ্গুন ও তার আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব গবেষণা সংস্থা ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভের (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, ইয়াঙ্গুন থেকে ৩৯ কিলোমিটার উত্তরে এবং ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে ছিল এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল।
ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
মিয়ানমারের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুন। প্রায় ৮০ লাখ মানুষ বসবাস করেন এই শহরে। ইয়াঙ্গুনের সংলগ্ন অন্যান্য শহরে বসবাস করেন আরও বেশ কয়েক লাখ মানুষ।
ভূতাত্ত্বিক গঠনের কারণে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৫৭০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দেশটিতে ভূমিকম্প প্রায় নিয়মিত একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
মন্তব্য করুন


পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের কারণ কী- এখন এমন প্রশ্ন সবার মনে। শনিবার (১১ অক্টোবর) রাতে হঠাৎই তীব্র সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই দেশের নিরাপত্তা বাহিনী। আফগান তালেবান যোদ্ধাদের হামলার পর পাকিস্তানি সেনারা পাল্টা গোলাবর্ষণ শুরু করলে সীমান্তজুড়ে ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলি চলে।
এই সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে চলতি সপ্তাহে কাবুলে পাকিস্তানের কথিত বিমান হামলার পর। এটি নিয়ে দুই দেশের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, পাকিস্তান তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে হামলা চালিয়েছে।
তালেবান কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, তারা হেলমান্দ প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলে পাকিস্তানের অন্তত দুটি সীমান্তচৌকি দখল করেছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষও এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আফগান বাহিনীর হামলার জবাবে তারা ভারী অস্ত্রে পাল্টা গুলি চালিয়েছেন। ‘শনিবার রাতে তালেবান বাহিনী একাধিক সীমান্তপয়েন্টে গুলি চালায়। আমরা চারটি স্থানে আর্টিলারি দিয়ে জবাব দিয়েছি,’ ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন পাকিস্তানের এক সরকারি কর্মকর্তা।
তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের ভূখণ্ডে আফগান তালেবানের আগ্রাসন বরদাশত করব না। পাকিস্তানি সেনারা ভারী গোলাবর্ষণের মাধ্যমে আফগান সীমান্ত পোস্টগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
পাকিস্তান সেনাবাহিনী আর্টিলারি, ট্যাংক, হালকা ও ভারী অস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে নিশ্চিত করেছে সামরিক সূত্র।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার আফগান রাজধানী কাবুলে দুটি ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এরপর আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পাকিস্তানকে এই হামলার জন্য দায়ী করে বলে, ‘এটি আফগান সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন।’
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
মন্তব্য করুন


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশ বন্ধ হলেই পশ্চিমবঙ্গে শান্তি ফিরবে। তার মতে, বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশের কারণেই পশ্চিমবঙ্গ এবং ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি বিঘ্নিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গের শান্তি তখনই সম্পূর্ণভাবে স্থায়ী হবে, যখন এই অনুপ্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হবে।
রবিবার পেট্রাপোল স্থলবন্দরে ভারতের সবচেয়ে বড় যাত্রী টার্মিনাল ভবন এবং 'মৈত্রী দ্বার' নামে একটি কার্গো গেট উদ্বোধনকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, 'ল্যান্ড পোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া' (এলপিএআই) এই অঞ্চলে শান্তি ও উন্নয়ন স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বৈধ যাতায়াতের ব্যবস্থা না থাকলে মানুষ অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে আসে এবং এটি পশ্চিমবঙ্গসহ গোটা ভারতের শান্তি বিঘ্নিত করে।
অমিত শাহ বলেন, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরিবর্তন ঘটাতে হবে এবং অনুপ্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেন। তার মতে, এটি বাস্তবায়িত হলে সীমান্তবর্তী দেশগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী হবে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ ছাড়াও নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমারের সঙ্গে সংস্কৃতি, ভাষা ও আদান-প্রদান বাড়বে, যা এক নতুন অংশীদারিত্বের সূচনা করবে।
উত্তর চব্বিশ পরগনার পেট্রাপোল বন্দরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহ আরও বলেন, এলপিএআই একটি ছোট প্রতিষ্ঠান হলেও এর গুরুত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্পর্ক উন্নয়নে ভাষা ও সংস্কৃতির আদান-প্রদানের মাধ্যমে এলপিএআই গত দশ বছরে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে।
অমিত শাহ আরও বলেন, এই ল্যান্ড পোর্ট অথরিটি নরেন্দ্র মোদির চারটি ‘পি’ সূত্র অনুসরণ করে কাজ করে—প্রসপারিটি (সমৃদ্ধি), পিস (শান্তি), পার্টনারশিপ (অংশীদারত্ব) এবং প্রগ্রেস (উন্নতি)।
অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় জাহাজ ও বন্দর প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর, এলপিএআই এর চেয়ারম্যান আদিত্য মিশ্র, বিএসএফ এর ডিজি দলজিৎ সিং চৌধুরী এবং কেন্দ্রের জয়েন্ট ডিরেক্টর পৌসুমী বসু।
মন্তব্য করুন


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
গাজার সংঘাতে মোহাম্মদ আল-তালমাস নামে আরও এক সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। তিনি ১৩ জানুয়ারি, সোমবার গুরুতর আহত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। গাজা সিটিতে ইসরায়েলি বাহিনীর বোমা বর্ষণের সময় তিনি আহত হন। এ খবরটি আল জাজিরা জানায়।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গাজার বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনায় ২০৪ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।
আল-তালমাস বার্তা সংস্থা সাফারের সাংবাদিক ছিলেন। তিনি গাজা সিটিতে ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
টেলিগ্রামে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব জার্নালিস্ট, ফেডারেশন অব আরব জার্নালিস্ট এবং বিশ্বের সকল দেশের সাংবাদিক সংস্থাকে গাজার ফিলিস্তিনি সাংবাদিক এবং মিডিয়া কর্মীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের হামলা ও হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করতে বলা হয়েছে।
এদিকে, গাজায় যুদ্ধবিরতির আলোচনা বেশ এগিয়েছে। কাতারের আমিরের সঙ্গে বৈঠকের পর হামাসের একটি প্রতিনিধি দল জানিয়েছে, গাজার যুদ্ধবিরতির আলোচনা ভালভাবে এগিয়ে চলছে। তবে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চললেও, অন্যদিকে গাজায় হামলা অব্যাহত রেখেছে দখলদার বাহিনী।
বেশ কিছু মেডিক্যাল সূত্র জানিয়েছে, গত ১৩ জানুয়ারি, সোমবার ভোর থেকে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৭০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ জানুয়ারি, মঙ্গলবার ১২ জন প্রাণ হারিয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর উত্তর গাজা অবরোধের শততম দিন পার হয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের সীমান্তে প্রবেশ করে আকস্মিক হামলা চালায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এরপরই গাজায় পাল্টা আক্রমণ চালায় ইসরায়েল।
এখন পর্যন্ত গাজায় এক বছরের বেশি সময় ধরে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। সেখানে কমপক্ষে ৪৬ হাজার ৫৮৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, এছাড়া আহত হয়েছে আরও ১ লাখ ৯ হাজার ৭৩১ জন। প্রতিদিনই ইসরায়েলি হামলায় নিরীহ ফিলিস্তিনিরা প্রাণ হারাচ্ছে।
মন্তব্য করুন


হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের সঙ্গে এক বৈঠকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে তীব্র বাক্বিতণ্ডা হয়। এ ঘটনায় একপর্যায়ে জেলেনস্কিকে হোয়াইট হাউস ত্যাগ করতে বলা হয়। মার্কিন এক কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ঘটনাটির পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিবিসির লাইভ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কো রুবিও বলেছেন, জেলেনস্কির উচিত ক্ষমা চাওয়া। সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আজ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ভলোদিমির জেলেনস্কির যে বৈঠক হয়েছে তা বিপর্যয়কর। ইউক্রেনীয় এই নেতার উচিত ক্ষমা চাওয়া।
জেলেনস্কি সম্পর্কে রুবিও আরও বলেন, সেখানে গিয়ে তার প্রতিপক্ষ হওয়ার কোনো প্রয়োজন ছিল না।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, "আপনি যখন আক্রমণাত্মকভাবে কথা বলা শুরু করবেন এবং প্রেসিডেন্ট একজন চুক্তিবিশেষজ্ঞ, তিনি সারাজীবন চুক্তি করেছেন— তখন আপনি মানুষকে চুক্তির টেবিলে আনতে পারবেন না।"
রুবিও তার সাক্ষাৎকারে এও উল্লেখ করেন যে, জেলেনস্কি সম্ভবত শান্তিচুক্তি চান না।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ চলছে। তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের কাছ থেকে ইউক্রেন কয়েক শ কোটি ডলারের অস্ত্র ও আর্থিক সহায়তা পেয়েছে।
তবে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকে ইউক্রেন নতুন করে সংকটে পড়ে। এই যুদ্ধের জন্য জেলেনস্কিকে দায়ী করেন ট্রাম্প। তাই গতকালের বৈঠকটি নিয়ে সবার নজর ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ওই বৈঠক চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে শেষ হয়।
মন্তব্য করুন