

জুলাই সনদের চূড়ান্ত খসড়ায় কিছু অসামঞ্জস্যতা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, জুলাই সনদে কিছু বিষয় সঠিকভাবে উপস্থাপিত হয়নি।
আজ রবিবার একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, জুলাই সনদের চূড়ান্ত খসড়ায় কিছু বিষয়ে অসামঞ্জস্যতা রয়েছে। চূড়ান্ত খসড়া পর্যালোচনা করে আগামী ২০ আগস্টের মধ্যে বিএনপি মতামত।
উল্লেখ্য, গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে জুলাই সনদের সমন্বিত খসড়া পাঠিয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এতে বলা হয়েছে, বিদ্যমান সংবিধান বা অন্য কোনো আইনে ভিন্নতর কিছু থাকলে সে ক্ষেত্রে এই সনদের বিধান/প্রস্তাব/সুপারিশ প্রাধান্য পাবে। সনদের বৈধতা, প্রয়োজনীয়তা কিংবা জারির কর্তৃত্ব সম্পর্কে কোনো আদালতে প্রশ্ন তোলা যাবে না।
এ ছাড়া রাষ্ট্রের সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন বিষয়ে যেসব সংস্কারে ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলো তুলে ধরা হয়েছে।
জুলাই সনদের খসড়ায় উল্লেখ করা হয়, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, জোট ও শক্তিসমূহ পারস্পরিক ও সম্মিলিত আলোচনার মাধ্যমে এসব বিষয়ে একমত হওয়া গেছে। তবে সব দল সব বিষয়ে একমত হয়নি, কোনো কোনো দল কোনো কোনো সুপারিশের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে।
মন্তব্য করুন


বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আনুপাতিক হারে নির্বাচনের প্রশ্নই ওঠে না। বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ঢাকাস্থ ভারপ্রাপ্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন চায় না বিএনপি। এছাড়া, বিএনপি আনুপাতিক হারে নির্বাচনের ব্যবস্থার পক্ষে নয়।
জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থান বিষয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদনকে স্বাগত জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বিগত ১৭ বছরের সব গণহত্যার জন্য শেখ হাসিনা দায়ী। তিনি আরও বলেন, দেশে কোন রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা বা নিষিদ্ধ হবে কিনা, তা জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে।
এছাড়া, ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশনার লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলেও জানান বিএনপি মহাসচিব।
মন্তব্য করুন


সরকারপ্রধান বলেন ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি ঐতিহাসিক একটি নির্বাচন করতে চান। সেই বিবেচনায় আমরা ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন মেনে নিয়েছি। তবুও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ফেব্রুয়ারি মাস যেন কোনোভাবে ক্রস না করে।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অপরাজেয় বাংলাদেশের উদ্যোগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে এক প্রতীকী যুব সমাবেশে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু এসব কথা বলেন।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, যথাসময়ে, সঠিক সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে হবে। ফ্যাসিবাদ নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চাইছে। আপনারা লক্ষ্য করবেন দেশের ভেতরে এবং দেশের বাইরে ফ্যাসিবাদ ও তার দোসররা মিডিয়াতে যেভাবে কথা বলছে, যেভাবে চলাফেরা করছে, সেটা গণতন্ত্রের জন্য অশুভ।
তিনি বলেন, স্বৈরতন্ত্রের পতন হয়েছে তার মানে এই নয় আমরা সবকিছু অর্জন করে ফেলেছি। স্বৈরতন্ত্রের পতন হয়েছে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য, স্বাধীনতা, অধিকারের জন্য। যদি সেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা না যায় তাহলে অধিকারও প্রতিষ্ঠা হবে না। আর সেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে গ্রহণযোগ্য, সুষ্ঠু, ভালো নির্বাচন হওয়া দরকার।
বিএনপির এই নেতা বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষণা হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই নির্বাচন হতে হবে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা জানে, দেশের পর্যবেক্ষক, দেশের মানুষ জানে ডিসেম্বরেই নির্বাচন করা সম্ভব ছিল। তারপরেও সরকারপ্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি ঐতিহাসিক একটি নির্বাচন করতে চান। সেই বিবেচনায় আমরা ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন মেনে নিয়েছি।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, শেখ হাসিনা গত তিনটি নির্বাচনে দেশের মানুষকে ভোট দিতে দেয়নি। দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। সে স্বৈরতন্ত্র কায়েম করেছিল। দেশে গণহত্যা চালিয়েছে। তার বিচার এবং দেশের সংস্কার চলমান প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচন হতে হবে। দেশে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
তিনি বলেন, কেউ যদি নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা করে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে টালবাহানা করে, তাহলে বুঝতে হবে তারা ফ্যাসিবাদকে পুনরায় ফিরিয়ে আনতে চাইছে। তাই আমাদের সবাইকে সতর্ক করতে হবে।
মন্তব্য করুন


জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, বিএনপির জন্ম হয়েছে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মধ্য দিয়ে আর মৃত্যু হবে ‘না’ ভোটের মধ্য দিয়ে।
বৃহস্পতিবার নাগরিক ঐক্য আয়োজিত ‘রাজনীতির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।
নাসীরুদ্দীন বলেন, বিএনপি আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে সংস্কার কমিশনকে ভিন্নখাতে পরিচালনা করতে চেয়েছে। জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের ব্যাপারে ছাড় নেই।
তিনি বলেন, জুলাই সনদের প্রস্তাবনার পথেই সরকারকে হাঁটতে হবে। জুলাই সনদে ‘বিবেচনা করবে’ বা ‘হবে’ টাইপ কথার স্পষ্ট ব্যাখ্যা চায় জাতীয় নাগরিক পার্টি। কাবিন নামায় সাইন করেছে বিএনপি, ‘হ্যাঁ’ বলেছে জুলাই সনদে, তাদের ‘না’ বলার সুযোগ নেই।
ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন না দিতে পারলে এর দায় অন্তর্বর্তী সরকারকেই নিতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উপদেষ্টাদের অনেক সময় হয়েছে ফ্যামিলি টাইমিংয়ে, এখন কেবল সার্ভিস দিতে হবে। আইন উপদেষ্টার ওপরে আমাদের আস্থা নেই। প্রধান উপদেষ্টাকে শহীদ মিনারে মানুষের মাঝে গিয়ে সংস্কার আদেশ জারি করতে হবে।
মন্তব্য করুন


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, প্রতিবিপ্লব শক্তি ক্রমাগত উঁকি-ঝুঁকি মারছে, কিন্তু আমরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছি এবং সেটা কোনোভাবেই সফল হতে দেওয়া হবে না।
শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে দ্রোহের গ্রাফিতির প্রকাশনা উৎসবে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী আরও বলেন, দেশে গণতন্ত্রের বিকাশের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কিন্তু ভারত এটাকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। তিনি উল্লেখ করেন, ভারতীয় মিডিয়া শেখ হাসিনার পক্ষ নিয়ে যেভাবে কথা বলছে, তা কোনো গণতান্ত্রিক দেশের ভাষা হতে পারে না।
তিনি বলেন, বিপ্লব ও গণতন্ত্রের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। কারণ প্রতিবিপ্লব শক্তি সবসময় উঁকিঝুঁকি মারছে এবং সেটাকে কোনোভাবেই সফল হতে দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, এখন সরকারের সমালোচনা করলে গুম হতে হবে—এমন ভয় থেকে মানুষ মুক্তি পেয়েছে। তিনি বলেন, আমরা সমালোচনা করবো সফলতার জন্য, কিন্তু এই সরকারকে ব্যর্থ হতে দেব না।
মন্তব্য করুন


সরকারের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র চাওয়ার পরই সচিবালয়ে আগুন লাগার ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) ঢাকার রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ন্যাশনালিস্ট এক্স-স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (রুনেসা) আয়োজিত ‘রক্তাক্ত মতিহার ও রিজভী আহমেদ: ২২ ডিসেম্বর ১৯৮৪ স্মরণে’ এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
রিজভী বলেন, "সরকারের সংস্কারমূলক পদক্ষেপগুলো কেমন হবে, তা আমরা নির্ধারণ করতে পারি না। তবে সাম্প্রতিক সাইবার সংশোধনের দৃষ্টিতে বোঝা যাচ্ছে, এর থেকে ভালো কিছু প্রত্যাশা করা যাচ্ছে না।"
তিনি আরও বলেন, "বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা শঙ্কিত ও ভীত। এটি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত নয়, বরং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিয়ে ভয়। এর আগেও দেখা গেছে, জনগণের প্রতিবাদের মুখে কোনো সচিব বা মন্ত্রীর সংশ্লিষ্ট নথি গায়েব হয়ে যায় কিংবা সচিবালয়ে আগুন লাগে।"
রিজভী আহমেদ বলেন, "গতকাল (বুধবার) মধ্যরাতে সচিবালয়ে যে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, এতে বহু গুরুত্বপূর্ণ নথি পুড়ে গেছে। ঘটনাটি জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি করেছে। মাত্র কিছুক্ষণ আগেই সংবাদপত্রে প্রকাশ হয়েছিল, সরকারের পক্ষ থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নথি চাওয়া হয়েছে। এরপরই এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে জনমনে বিশাল প্রশ্ন উঠেছে।"
তিনি এই অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত দাবি করেন। তিনি বলেন, "শেখ হাসিনা ও তার ঘনিষ্ঠদের কিছু নথি চাওয়ার পরই সচিবালয়ে নথিপত্র পুড়ে যাওয়া এবং ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এই ঘটনা মানুষকে ভাবিয়ে তুলেছে এবং সন্দেহ আরও গভীর হয়েছে।"
রিজভী আরও বলেন, "রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা একটি রাজনৈতিক দল গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে। যদি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নির্ধারণ করে দেয়, তবে মানুষের আত্মত্যাগের কোনো মূল্য থাকবে না।"
ভারতের ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। রিজভী বলেন, "গণতান্ত্রিক দেশ হয়েও ভারত কীভাবে শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছিল? শেখ হাসিনার মাধ্যমে ভারত তার নীতি বাংলাদেশে বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়েছে। তবে শেখ হাসিনার সময়কাল শেষে একটি পরিবর্তিত বাংলাদেশকে বিশ্বের সবাই স্বীকৃতি দিলেও ভারত তা দেয়নি।"
তিনি বলেন, "বিএনপিসহ অন্যান্য দলগুলোর আত্মত্যাগকে কখনো অস্বীকার করা যাবে না। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বিএনপিকে দুর্বল করার চেষ্টা চালাচ্ছে কি না, তা নিয়েও জনগণের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে।"
মন্তব্য করুন


মিছিল থেকে গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা আবারও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করেছেন।
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইলে জাপার কার্যালয়ে এই হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেন তারা।
এর আগে, গত ৩১ আগস্ট মিছিল নিয়ে একদল বিক্ষোভকারী কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
তখনও বিক্ষোভকারীরা কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে পুলিশ এসে হামলাকারীদের লাঠিপেটা করে সরিয়ে দেয়। হামলাকারীদের সরাতে ও কার্যালয়ের আগুন নেভাতে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারকে সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কোনো মহল যেন রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের এজেন্ডাকে সরকারের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
শনিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু উপদেষ্টা ক্ষমতায় থাকাকালীন রাজনৈতিক দল গঠন প্রক্রিয়ায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত হওয়ায় জনমনে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সংস্কার আগে নাকি নির্বাচন আগে—এ ধরনের অপ্রয়োজনীয় বিতর্কের কোনো স্থান নেই।
তিনি বলেন, সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া, তাই সংস্কার ও নির্বাচন প্রক্রিয়া একই সঙ্গে চলতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমতের ভিত্তিতে একটি সংস্কার সনদ তৈরি করা সম্ভব, যা নির্বাচিত সরকার পরবর্তীতে বাস্তবায়ন করবে। এ অবস্থায় অন্তর্বর্তী সরকারের মূল দায়িত্ব হলো একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করে দ্রুত নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করা এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত সরকারই জনগণের প্রত্যাশিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবে। কারণ নির্বাচিত সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ এবং ন্যায়বিচার ও সুশাসন নিশ্চিত করার অঙ্গীকারাবদ্ধ। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু উপদেষ্টা রাজনৈতিক দল গঠন প্রক্রিয়ায় জড়িত থাকায় জনমনে সংশয় তৈরি হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক যন্ত্রকে ব্যবহার করার লক্ষণও দেখা যাচ্ছে, যা দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য মোটেও ইতিবাচক নয়।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের স্প্রেডশিটে যে অপশন বা পছন্দগুলো দেওয়া হয়েছে, তাতে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে যে, যেসব বিষয় প্রস্তাব আকারে আসার কথা ছিল, সেগুলো প্রস্তাব না রেখে শুধু ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ উত্তর দিতে বলা হয়েছে। যেমন, প্রস্তাবগুলো গণপরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন চাই কি না—এ প্রশ্নের উত্তর ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলতে বলা হয়েছে। কিন্তু প্রথমে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার যে, গণপরিষদের প্রস্তাবে আমরা একমত কি না। একইভাবে ‘গণভোট’, ‘গণপরিষদ’ এবং আইন সভা হিসেবে নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমে প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন চাই কি না—এ প্রশ্নের উত্তরও ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলতে বলা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, সংবিধানের ‘প্রস্তাবনা’র মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংস্কার কমিশনের সুপারিশে থাকলেও স্প্রেডশিটে তা উল্লেখ করা হয়নি। স্প্রেডশিটে প্রায় ৭০টি প্রস্তাব উল্লেখ করা হলেও মূল প্রতিবেদনে সুপারিশের সংখ্যা প্রায় ১২৩টি।
মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের মূল প্রতিবেদনে প্রায় ১৫০টি সুপারিশ তুলে ধরা হলেও স্প্রেডশিটে মাত্র ২৭টি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, যার অধিকাংশই সংবিধান সংস্কারের সাথে সংশ্লিষ্ট। তিনি মনে করেন, স্প্রেডশিটের পাশাপাশি মূল সুপারিশমালার উপর মতামত সংযুক্ত করলে বিভ্রান্তি এড়ানো সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের স্প্রেডশিটের অবস্থা এবং কমিশন সদস্যদের বিভিন্ন সময়ের বক্তব্য ও কিছু রাজনৈতিক দলের বক্তব্যের মধ্যে মিল পাওয়া যায়। এতে জনমনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, এসব বিষয় যেন একটি পূর্বনির্ধারিত কর্মপরিকল্পনার অংশ, যা গণতন্ত্রের স্বার্থের পক্ষে কিনা তা বলা কঠিন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান ও সালেহ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।
মন্তব্য করুন


নতুন করে আরও ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে এক কোটি করে মোট ছয় কোটি ডিম আমদানির অনুমতি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. হায়দার আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আমদানির অনুমতি পাওয়া নতুন ছয়টি প্রতিষ্ঠান হলো- চিজ গ্যালারি, পপুলার ট্রেড সিন্ডিকেট, মেসার্স রিপা এন্টারপ্রাইজ, এস এম কর্পোরেশন, বিডিএস কর্পোরেশন এবং মেসার্স জয়নুর ট্রেডার্স।
এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর চারটি প্রতিষ্ঠানকে এক কোটি করে মোট ৪ কোটি ডিম আমদানির অনুমতি দেয় সরকার।
সম্প্রতি ডিম, আলু ও পেঁয়াজের দাম নির্ধারণ করে দেয় সরকার। বলা হয়, খুচরা পর্যায়ে প্রতি পিস ডিমের দাম পড়বে ১২ টাকা। এর মধ্যে দুই ধাপে মোট ১০ প্রতিষ্ঠানকে ১০ কোটি ডিম আমদানির অনুমিত দিলো সরকার।
এছাড়া ডিম আমদানিতে কয়েকটি শর্ত দেওয়া হয়। সেগুলো হলো:
১. এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ড ফ্লু-মুক্ত দেশ থেকে ডিম আমদানি করতে হবে।
২. আমদানি করা ডিমের প্রতিটি চালানের জন্য রপ্তানিকারক দেশের সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের দেওয়া এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ড ফ্লু ভাইরাস ও ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ামুক্ত সনদ দাখিল করতে হবে।
৩. নিষিদ্ধ পণ্য আমদানি করা যাবে না।
৪. সরকারের অন্যান্য বিধি–বিধান প্রতিপালন করতে হবে।
এদিকে ডিমের দাম নির্ধারণকে স্বাগত জানালেও আমদানির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, ডিম আমদানি করলে এ শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে। পরে আরও বেশি দামে ডিম খেতে হবে।
মন্তব্য করুন


বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের লন্ডন যাত্রা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছিল। এবার জানা গেছে, জানুয়ারির প্রথমার্ধে তিনি লন্ডন যাচ্ছেন। দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, তার শারীরিক অবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) রাতে মেডিকেল বোর্ডের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। সম্ভাব্য যাত্রার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ জানুয়ারি। তবে এটি এখনও নিশ্চিত নয়। সবকিছু খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে।
৭৯ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে রওনা হবেন। তার সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন ১৬ সদস্যের একটি টিম। এ টিমে তার চিকিৎসা বোর্ডের বেশিরভাগ সদস্য, তিনজন দলীয় নেতা, দুজন একান্ত সচিব, একজন প্রটোকল অফিসার, পুত্রবধূ এবং দুজন গৃহকর্মী অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
হিথ্রো বিমানবন্দরে খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানাবেন তার পুত্র ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ ৮ বছর পর মায়ের সঙ্গে তারেক রহমানের এ সাক্ষাৎ হবে।
সূত্র জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার লন্ডন সফরের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের ভিসা প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। যেসব হাসপাতালে তার চিকিৎসা হবে সেখানকার অ্যাপয়েন্টমেন্টও নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর আগে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, খালেদা জিয়া শারীরিক ও মানসিকভাবে বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মন্তব্য করুন


মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ব্যবসায়ীকে হত্যার ঘটনায় কোনো কোনো দল ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
শনিবার রাজধানীর উত্তরায় ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, গতকাল মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সত্য উদঘাটনের দায়িত্ব প্রশাসনের বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। এ ঘটনায় বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের যাদের নাম পাওয়া গেছে, তাদের গতকাল রাতেই আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিএনপি একটি বৃহৎ পরিবার। এর কোনো ছিদ্র পথে যদি দু’একজন দুষ্কৃতিকারী ঢুকে পড়ে, সেটি সব সময় খোঁজ রাখা যায় না। কিন্তু দুষ্কৃতিকারীদের কোনোভাবে যদি চিহ্নিত করা যায়, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কার্পণ্য করে না দল বা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
রিজভী বলেন, গত পরশু রাতে পাবনার সুজানগরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়, সে রাতেই তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকালের যে হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে, এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। অথচ কোনো কোনো রাজনৈতিক দল দেখছি, ওই ঘটনাকে রাজনৈতিক কালার দেওয়ার, রঙচঙ দেওয়ার চেষ্টা করছে।
এখানে দল কোথায় জড়িত? দলের নামধারী কেউ হতে পারে।
এটাতো দলের পদ-পদবি নিয়ে সংঘর্ষ হয়নি। দলের মতাদর্শ নিয়ে ঝগড়া হয়নি, ঝগড়া হচ্ছে তাদের ব্যবসা নিয়ে। এগুলো তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। আপনারা শুনেছেন, ভাঙাড়ি ব্যবসা নিয়ে ঘটনা। এ ঘটনার সঙ্গে দল কোথায় জড়িত?
তিনি বলেন, যিনি নিহত হয়েছেন, আর যারা ঘাতক; তাদের মধ্যে ঝগড়া চলছে। এটি যুগ যুগ ধরে তারা করে আসছে। এখন পট পরির্বতন হয়েছে ওয়ার্ড পর্যায়ের কেউ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হতে পারে, যা মহানগর বা কেন্দ্রীয় নেতারা জানেন না। তাবে কোনো ধরনের অপর্কম সংঘাত বা মানুষ হত্যায় যারা জড়িত, তাদের ছাড় নেই। মাটির গভীরে গেলেও সেখানে থেকে ধরে এনে এমন দৃষ্টান্ত স্থাপান করুন, যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে।
রিজভী বলেন, এ ঘটনার পর দু’-একটি দল মিছিল করে বিএনপির ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করেন। আমরা যদি শেখ হাসিনার মতো নিশ্চুপ থাকতাম, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিতাম, তাদের বহিষ্কার না করতাম, তাহলে এককথা ছিল। কিন্তু দল অবিলম্বে বিচার ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাহলে আপনারা মিছিল করছেন কেন? মানে একটা রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য।
তিনি বলেন, আমরা আপনাদের অতীত অপকর্ম ভুলে যাইনি। আমরা ভুলে যাইনি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্বিবিদ্যালয়ের ছাত্রদের কিভাবে পায়ের রগ কেটেছে। কিভাবে বাসের ভেতর থেকে ছাত্রদল নেতাকে ধরে বিনোদপুর গ্রামে হত্যা করা হয়েছে। আপনাদের নৃশংতা, আপনাদের ভয়াবহতা মানুষ ভুলে যায়নি।'
তিনি বলেন, এখনো মনে পড়ে, যে উপাধিগুলো মানুষ আপনাদের দেয়। আর আপনারা এখন মিছিল করেন। বিএনপির ইতিবাচক দিকগুলো উপক্ষো করে কেউ কেউ ফায়দা লোটার চেষ্টা করছেন, তাতে কোনো লাভ হবে না।
মন্তব্য করুন