

বিএনপির নারী কর্মী ও সমর্থকরা প্রতিনিয়ত জামায়াত ও ছাত্র শিবিরের আক্রমণের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যান কার্যালয়ে ভুক্তভোগী নারী কর্মীদের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ধর্মকে ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশের নারীদের সম্পর্কে অশ্লীল ভাষায় মন্তব্য করছে একটি রাজনৈতিক দলের বট বাহিনী। জামায়াত ও ছাত্র শিবির নারীদের অনলাইন অফলাইন সব মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করছে। প্রতিনিয়ত বিএনপির নারী কর্মীদের হুমকি দিচ্ছে।
জামায়াতের কোনো নারী সংসদ সদস্য প্রার্থী নেই উল্লেখ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন দেশের নারীরা। দলটির আমির প্রকাশ্যে বলেছেন, তার দলের প্রধান কখনো কোনো নারী হতে পারবে না।
মন্তব্য করুন


বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, সংস্কারের চলমান প্রক্রিয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই মুহূর্তে বাংলাদেশে একটি নির্বাচিত সরকার জরুরি হয়ে পড়েছে।
আজ রোববার রাজধানীর শাহবাগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তিতে বিএনপির মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত ছাত্র সমাবেশে বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, জুলাই আমাদের জানিয়ে দিয়েছিল এই বাংলাদেশে আয়নারঘর থাকতে পারে না। জুলাই আয়নাঘর ধ্বংস করে দিয়েছে। আজ এই জুলাইয়ের নতুন দাবি, আমাদের সবার প্রত্যাশা হাসিনার বিচার। এই বিচারটা অনেক বেশি প্রয়োজন। হাসিনার বিচার দৃশ্যমান করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আমাদের জানিয়ে দিতে চায়, সংস্কারের চলমান প্রক্রিয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই দেশে একটা জনগণের সরকার, একটা নির্বাচিত সরকার খুব বেশি জরুরি হয়ে পড়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, যদি বাংলাদেশে একটা স্বাভাবিক, সুন্দর, নিরপেক্ষ নির্বাচন হয় তাহলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সরকারের নেতৃত্ব দেবে।
মন্তব্য করুন


সংস্কার ও নির্বাচন একসঙ্গে চলতে পারে এবং এতে কোনো বাধা নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে সংস্কার কমিশনগুলো যে রিপোর্ট জমা দিয়েছে, তা দ্রুত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ, ঐকমত্য ছাড়া কোনো সংস্কার কার্যকর করা সম্ভব নয়।
রবিবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার সমাধিতে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।
জুলাই-আগস্টে নির্বাচন হওয়া নিয়ে সন্দেহের বিষয়ে তিনি বলেন, "সংস্কার চলবে, নির্বাচনও চলবে। নির্বাচনের পর যে সরকার দায়িত্ব নেবে, তারা সংস্কারের কাজ এগিয়ে নেবে। বিএনপির পক্ষ থেকে আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, আমরা প্রতিটি প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সংস্কার ও নির্বাচন একসঙ্গে চলার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই।"
প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিচারণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, "সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণ করে জিয়াউর রহমান আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার শুরু করেন। তিনি একদলীয় শাসন থেকে বহুদলীয় শাসনব্যবস্থা চালু করেন এবং বদ্ধ অর্থনীতিকে মুক্তবাজার অর্থনীতিতে রূপান্তরের পরিকল্পনা করেন। তার হাত ধরে কৃষি ও শিল্পে বিপ্লব ঘটে।"
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, "জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই দল আজ বিভিন্ন বাধা অতিক্রম করে দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে।"
তিনি বলেন, "জিয়াউর রহমানের পর তার স্ত্রী খালেদা জিয়া দলের দায়িত্ব নিয়ে বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করেছেন। বর্তমানে তিনি অসুস্থ হয়ে লন্ডনে চিকিৎসাধীন। আমরা তার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করি। তার যোগ্য উত্তরসূরি তারেক রহমান এখন দেশকে হাসিনা-ফ্যাসিবাদ মুক্ত করার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।"
মন্তব্য করুন


সংবিধান সংশোধন করতে হলে তা অবশ্যই সংসদে করতে হবে। এর বাইরে সংবিধান সংশোধনের কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর নীলক্ষেতের আইসিএমএবি মিলনায়তনে বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নানের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের ব্যাপারগুলো এখনও আলোচনা হচ্ছে। সংবিধানের যদি কোনো সংশোধন করতে হয় তাহলে সেটা সংসদের মধ্য থেকে করতে হবে। সেটার জন্য ম্যন্ডেট জনগণের থেকে নিতে হবে প্রত্যেকটি দলকে। সেটি হতে হবে সংসদের মধ্যে।
তিনি আরও বলেন, স্বচ্ছতা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যদি কোনো পরিবর্তন আনতে হয়, সংসদের বাইরে সেটা করার কোনো সুযোগ নেই। যারা বাংলাদেশের আগামীর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে চাচ্ছে, নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে চাচ্ছে, তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। তারা সংসদীয় পদ্ধতিতেও বিশ্বাস করে না। তারা কোন পদ্ধতিতে যাবে তারা নিজেরাও জানে না।
রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন জরুরি উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, আমরা যতই সংস্কার করি, কোনো লাভ হবে না। যদি রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলাতে না পারি, কোনো সংস্কার কাজে আসবে না। অপরের মতকে আমাদের সম্মান জানাতে হবে। সহনশীল হতে হবে। এর মাধ্যমেই দেশকে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো। বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থে যেখানে ঐক্য দরকার, সেখানে ঐক্য করতে হবে।
ঐক্য এখনও অটুট আছে জানিয়ে আমীর খসরু বলেন, অনেকেই বলছেন, দলগুলোর মধ্যে যে ঐক্য ছিল ৫ আগস্টের পরে তা অনৈক্য হয়ে গেছে। আমি তো কোনো অনৈক্য দেখতে পাচ্ছি না। প্রত্যেকটি দলের নিজস্ব দর্শন, চিন্তাভাবনা থাকবে। যেখানে আমরা একমত হতে পারবো সেখানে একমত হবো। বাকিটা জনগণের কাছে নিয়ে যেতে হবে। জনগণ হচ্ছে মালিক। তাদের কাছে নিয়ে যেতে হবে। তাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে সংসদে পাস করতে হবে।
মন্তব্য করুন


সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্য প্রচার করে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রক্রিয়া চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘যতই সময় যাচ্ছে, ততই পুরোপুরি একটি নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে। দুর্ভাগ্যক্রমে আমরা দেখছি, সোশ্যাল মিডিয়াতেও সেই প্রোপাগান্ডা ও মিথ্যা প্রচার দিয়ে বাংলাদেশে একটা নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রক্রিয়া চলছে।’
রবিবার নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
এর আগে ৭ নভেম্বর সিপাহী জনতার বিপ্লব উপলক্ষে একই স্থানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ফখরুল বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যেমন জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন, আজ তারই উত্তরসূরি তারেক রহমানও সুদূর প্রবাস থেকে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যে সংগ্রামের ধারাবাহিকতা গড়ে উঠেছিল, সেটিই আজ অব্যাহত রেখেছেন তারেক রহমান। জাতিকে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছেন তিনি।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন এবং দ্রুতই দেশকে এমন এক অবস্থানে নিয়ে যান, যেখানে পূর্বে যেভাবে বাংলাদেশকে ‘বটমলেস বাস্কেট’ বলা হতো, সেখান থেকে তিনি দেশকে সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্তে তুলে ধরেন। তার আমলেই শুরু হয় বাংলাদেশের পুনর্জাগরণ, একটি ইমাজিন টাইগার হিসেবে আত্মপ্রকাশের সূচনা।”
তিনি বলেন, ‘৭ নভেম্বর এই দিনটি রাজনীতিতে গুরুত্বপুর্ণ। ১৯৭৫ সালে সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি অবস্থা থেকে মুক্ত করা হয়।
দেশের বিরুদ্ধে চক্রান্তকারীরা শহীদ প্রেসিডেন্টকে বন্দি করে রেখেছিল। সেই অবস্থা থেকে দেশপ্রেমিক সৈনিক ও জনগণ তাকে মুক্ত করে নিয়ে আসে। এরপরই ইতিহাসে শুরু হয় বাংলাদেশের সাফল্যের নতুন অধ্যায়।’
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের বৈঠকের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত করা হয়েছে। ১ জুলাই ২০২৪ থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও বিভিন্ন মামলায় আটকদের মুক্তি দেওয়া শুরু হয়েছে এবং এরই মধ্যে অনেকে মুক্তি পেয়েছেন।
৬ আগস্ট বঙ্গভবন থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস রিলিজে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে গতকাল সোমবার (৫ আগস্ট) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জানান, কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ সব রাজনৈতিক বন্দিকে শিগগির মুক্তি দেওয়া হবে। এসময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান ও আহতদের সুচিকিৎসার প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কথাও জানান রাষ্ট্রপতি।
তিনি আরও বলেন, জরুরি ভিত্তিতে একটি অন্তর্র্বতীকালীন সরকার গঠন করা হবে। সব দল ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে অন্তর্র্বতীকালীন সরকার যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে।
অন্তর্র্বতীকালীন সরকার গঠনের লক্ষ্যে গতকাল রাতে বঙ্গভবনে সেনাপ্রধান, নৌপ্রধান, বিমান বাহিনীর প্রধান এবং দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন রাষ্ট্রপতি।
বৈঠকে কোটাবিরোধী আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করা হয়। এসময় অনতিবিলম্বে একটি অন্তর্র্বতীকালীন সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে সবাইকে ধৈর্য ও সহনশীল আচরণ করার আহ্বান জানানো হয় বৈঠকে। লুটতরাজ ও হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।
সেই বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে অনতিবিলম্বে মুক্তির সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে এবং সম্প্রতি বিভিন্ন মামলায় আটক সব বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি যেন কোনোভাবেই বিনষ্ট না হয় সে ব্যাপারেও সভায় ঐকমত্য হয়।
মন্তব্য করুন


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশে অনেক সংকট থাকার পরও ড. ইউনুস সরকারকে আমরা সবাই সমর্থন জানিয়েছি। কেননা এই সরকার শেখ হাসিনার সরকারের মতো বিদেশে অর্থ পাচার করবে না। জনগণের সেন্টিমেন্ট বুঝে, জনগণের রায় বুঝে আগামী রমজানের আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।
আজ মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় কুড়িগ্রাম কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে জুলাই-আগষ্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে কুড়িগ্রামের ১০ শহীদ পরিবারকে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’- এর পক্ষে থেকে সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, তারেক রহমানকে নিয়ে অপপ্রচারে নামবেন না, তাহলে আপনাদের নিজেদেরই উপর অনেক কিছু নেমে আসেবে। মিডফোর্ড হাসপাতালের সামনে সোহাগ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শুধু বহিষ্কার নয়, তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের অনুকম্পায় দু-একটি ইসলামী দল রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছেন। এখন আপনারা টার্গেট করেছেন তারেক রহমান ও বিএনপিকে। বুক পিঠ বলে আপনাদের কিছু নেই। জিয়াউর রহমান মারা গেলে, এরশাদ বন্দুকের নল দিয়ে গণতন্ত্র হত্যা করলো। সেই এরশাদের সঙ্গে কেউ যাবে না বললেও আপনারা চলে গেলেন। শেখ হাসিনার সঙ্গেও চলে গেলেন। সবসময় সুবিধা খুঁজে বেড়ান, সবসময় ধান্দা খুঁজে বেরান। আপনারা চলে গেলেও বিএনপি যায় নাই। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যায় নাই। জনগণের কাছে দেয়া ওয়াদা থেকে খালেদা জিয়া সরে যায়নি।
তিনি বলেন, আমরা ১৬ বছর লড়াই করেছি। আইনের শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হোক, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হোক, একটা অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। ১৬ বছর ভোটাররা ভোট দিতে পারেনি। কিন্তু এই নির্বাচন নিয়ে এত গড়িমসি কেন? জনগণের সেন্টিমেন্ট বুঝে আগামী রমজানের আগে নির্বাচন দেওয়ার কথা জানান তিনি।
মন্তব্য করুন


২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্তি পান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আর ওই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য তিনি সপরিবার লন্ডনে যান। এরপর কেটে গেছে প্রায় ১৭ বছর। দীর্ঘ এ সময়ে লন্ডনে অবস্থান করছেন বিএনপির এ শীর্ষ নেতা।
৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে নানা গুঞ্জন ওঠে। তবে তিনি কবে নাগাদ দেশে ফিরবেন তা নিয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দলের শীর্ষ নেতা লন্ডনে সাদামাটা জীবন যাপন করে আসছেন। চড়েন পাবলিক বাসেও। সেখানে তার নেই কোনো গাড়িবহর।
সম্প্রতি তারেক রহমানের বাসে চড়ার কয়েকটি স্থির চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। আর তার এমন কাজ নেটিজেনদের প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
শুক্রবার (১ আগস্ট) গভীর রাতে বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে তারেক রহমানের বাসে চড়ার কয়েকটি ছবি প্রকাশ করা হয়। ওইসব ছবিতে দেখা যায়, বাসের জন্য অপেক্ষা করছে বিএনপির শীর্ষ নেতা। ছাউনিতে অপেক্ষারত তারেক রহমান মোবাইল টিপছেন। বাস আসার পরই যানটিতে ওঠেন তিনি।
ওই পোস্টের ক্যাপশনে লেখা রয়েছে, ‘সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত তারেক রহমান। যুক্তরাজ্যে বসবাসকালীন কোনো ভিআইপি সুবিধা গ্রহণ না করে পাবলিক ট্রান্সপোর্টে চলাচল করেন সাধারণ মানুষের মতোই। ’
ইতোমধ্যে ওই পোস্টে ৬৫ হাজারের বেশি রিয়্যাক্ট পড়েছে। কমেন্ট পড়েছে প্রায় ৯ হাজার। শেয়ার হয়েছে সাড়ে চার হাজারেরও বেশি।
মন্তব্য করুন


বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার কাজ শুরু করেছে, নিঃসন্দেহে তারা ইতোমধ্যে অনেক ভালো কাজ করেছে। আমাদেরকে পথ দেখাচ্ছেন।
শনিবার (২১ জুন) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকের আগে ও পরের ঘটনার কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা আশ্বস্ত হচ্ছি যে, আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন হবে। তার মাধ্যমে আমাদের আশাগুলো কিছুটা হলেও পূরণ করার সুযোগ হবে। আশা করব, আমরা সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলো, ফ্যাসিবাদবিরোধী আমরা সবাই একজোট হয়ে একসঙ্গে তাদেরকে সহযোগিতা করব। আমাদের যে লক্ষ্য, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় পৌঁছাতে পারব।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে বেশ কয়েকটি নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি হচ্ছে, একটা গুরুত্বপূর্ণ দল (এনসিপি) সম্ভবত কাল (রবিবার) নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন কমিশনে যাবে। আমরা তাদেরকে স্বাগত জানিয়েছি। তাদের প্রতি আমাদের প্রত্যাশা অনেক বেশি। আমরা প্রত্যাশা করি, এই তরুণেরা, এই নবীনেরা যারা বিগত আন্দোলনে সক্রিয় অংশ নিয়েছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন সেই নেতৃত্ব নিঃসন্দেহে কাঙ্ক্ষিত সেই লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করবে।’
সংস্কার বিষয়ে বিএনপির অবস্থান জানিয়ে দলের মির্জা ফখরুল বলেন, কতগুলো বিষয়ে একমত হয়েছি, কতগুলো বিষয়ে একমত হচ্ছি না। যতগুলো বিষয়ে একমত হওয়া যাবে, সেগুলো আমরা বাস্তবায়ন করব। যেগুলোতে একমত হবে না, নির্বাচনের পরে সেগুলো নিয়ে সংসদে আলোচনা করব, ওই বিষয়গুলো আমরা একমত হব।
মন্তব্য করুন


তারেক রহমানই দেশের ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ শনিবার ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) জাতীয় কাউন্সিলে এ মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, তারেক রহমান যে ৩১ দফা প্রস্তাব করেছেন, তা দেশের স্বাস্থ্য খাতসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনার শক্তি রাখে।
মির্জা ফখরুল বলেন, পারস্পরিক হিংসার যে কালচার তৈরি করা হয়েছে, তা আমাদের ধ্বংস করেছে, আমাদের এ কালচার থেকে বের হয়ে আসতে হবে।
সরকারের ওষুধশিল্প নীতিসহ বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, শুধু ভোটের অধিকার নয়, মানুষের সব অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মন্তব্য করুন


ইসলামী শরিয়াবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়া এবং ইসলামবিরোধী কেউ কোনো কথা না বলাসহ ১০ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছে বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে পল্টনস্থ ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টার বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা জানান।
যেসব বিষয়ে দুই দল একমত হয়েছে-
১. আধিপত্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ-মুক্ত স্বাধীন ও সার্বভৌম টেকসই রাষ্ট্র গঠনে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা।
২. দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী, খুনি ও টাকা পাচারকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা।
৩. ভোটাধিকারসহ সকল মানবাধিকার রক্ষায় জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা।
৪. নূন্যতম প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।
৫. দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ এবং সকল অধিকার বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক করে নিয়ে আসা।
৬. আওয়ামী ফ্যাসিবাদবিরোধী সকল শক্তি দেশ পুনর্গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।
৭. ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে আঘাত করে কথা বলবে না।
৮. আগামীতে যাতে আওয়ামী লীগের মতো আর কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তি ক্ষমতায় আসতে না পারে, সে ব্যাপারে রাজনৈতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকবে।
৯. ইসলামী শরিয়াবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না এবং ইসলামবিরোধী কোনো কথা কেউ বলবে না।
১০. প্রশাসনে এখনো বিদ্যমান আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসরদের দ্রুত অপসারণ করা।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ার বরকতউল্লাহ বুলু, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম, মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুস আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ মাদানী, যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান, ইমতিয়াজ আলম, সহকারী মহাসচিব আতিকুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
মন্তব্য করুন