

দীর্ঘ ১৭ বছরের বেশি সময় পর দেশে ফিরে প্রথমবারের মতো নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গেলেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সোমবার বিকেল ৪টার দিকে গুলশানের বাসভবন থেকে তিনি নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসেন। এ সময় রাস্তার দুইপাশে হাজার হাজার নেতাকর্মী স্লোগানে স্লোগানে স্বাগত জানান তারেক রহমানকে। পরে তারেক রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছায় স্বাগত জানিয়ে বরণ করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের কর্মকর্তারা।
তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে দলীয় কার্যালয়। দলটির হাজার হাজার নেতাকর্মী সকাল থেকেই নয়াপল্টন এলাকায় জড়ো হয়েছেন। তাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও প্রাণচাঞ্চল্য দেখা গেছে।
দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত করা হয়েছে। সিএসএফ ঘিরে রেখেছে পুরো কার্যালয়। এছাড়াও পুরো নয়াপল্টন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রয়েছে কঠোর নজরদারি। এর আগে র্যাবের ‘ডগ স্কোয়াড’ দিয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও এর আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


স্বাধীনতা বিরোধীরা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার সকালে মহান বিজয় দিবসে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের একথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যারা স্বাধীনতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল, তারা আজ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষ সব ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করে দিয়ে অবশ্যই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে অটুট রাখবে। গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করবে। ইনশাল্লাহ।’
তিনি বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, ডিসেম্বর মাসের ১৬ তারিখে সেই যুদ্ধে আমরা চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করেছিলাম। এজন্য এদিন আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
মঙ্গলবার সকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দসহ দলের নেতাকর্মীরা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের মাজারে যান তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। এসময় বিএনপি নেতারা শপথ নেন-‘এ দেশের স্বাধীনতাকে অক্ষুণ্ন রাখার জন্য আমাদের যে সংগ্রাম, সেটি অব্যাহত থাকবে’, জানান মির্জা ফখরুল।
খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে তিনি বলেন, ‘আজকের এই দিনে আমাদের দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। শ্রদ্ধা জানাচ্ছি স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের প্রতি। আমরা এদিনে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি এ দেশের প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা ও গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী খালেদা জিয়ার রোগমুক্তির জন্য।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফেরা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আগামী ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান দেশে আসবেন। তার দেশে আসা যেন গণতন্ত্রের লড়াইকে আরো বেগবান করে, সেজন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’
এসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েলসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন




ভরাডুবির ভয়ে কিছু খুচরা পার্টি নির্বাচন চাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু।
আজ রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জনতার অধিকার পার্টির উদ্যোগে এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, কিছু খুচরা পার্টি আছে, আমরা জানি- তারা নির্বাচনে আসলে তাদের কোন সম্ভাবনা নাই। নির্বাচনে যাদের ভরাডুবি হবে বলেই তারা নির্বাচন চায় না।
তারা অবৈধভাবে কিছু মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে, সেগুলোকে নিজের সম্পত্তি মনে করে। আর আমরা বলেছি, এই সরকারকে সমর্থন করছি। অন্যান্য দল করছে।
বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগস্ট মাসে আমাদেরকে শপথ নিতে হবে, নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা না করা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।
এই আন্দোলন সমাপ্তি হবে না। কারণ জবাবদিহিমূলক সরকার মানুষের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকে। মানুষের কথা শুনতে বাধ্য এবং দেশ-বিদেশে গ্রহণযোগ্যতা পায় ও আইন মতো চলে। আগামীতে গণমুখী রাজনৈতিক ব্যবস্থা যদি প্রতিষ্ঠা করতে হয় তাহলে নির্বাচিত সরকার অবশ্যই প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন ফারুক রহমান, মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল খায়ের, কারী আবু তাহের, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, "আপনারা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল করেছেন, যেখানে অনেকের বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি করলে, জনগণ তো কথা বলবেই। কেন এতো জটিলতার সৃষ্টি করছেন?" সোমবার ঢাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী অভিযোগ করেন, "আলী ইমাম মজুমদারের মতো ১/১১-র গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা আজও সরকারে ভূমিকা পালন করছেন। তাদের উপদেষ্টা বানানো হয়েছে, কিন্তু এ বিষয়ে কিছু বলা হয় না। শেখ হাসিনার সহচরদের যারা নিঃশব্দে তাঁর স্বার্থে কাজ করে গেছেন, তারা এখনো বহাল তবিয়তে আছেন।"
বিএনপি মুখপাত্র আরও বলেন, "রাষ্ট্রপতি থাকবেন কি থাকবেন না, তা নিয়ে কেন আমরা দেশে জটিলতা সৃষ্টি করছি? আমাদের দায়িত্ব হলো শেখ হাসিনাকে দেশ থেকে বিদায় করা এবং তার সহযোগীদের বিচার করা।"
রিজভী বলেন, "গণতন্ত্রের পথে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের অবদান ইতিহাসে লেখা থাকবে। তবে সংবিধান বহির্ভূত কিছু যেন না হয়, এ জন্য আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।"
তিনি শেখ হাসিনাকে আক্রমণ করে বলেন, "এ ভদ্রমহিলাকে যেন জন্মের পর করলার রস খাওয়ানো হয়েছিল, কারণ তিনি সবসময় উগ্রভাবে প্রতিরোধের কথা বলেন। তার অডিও ফাঁস হওয়ায় দেখা গেছে, তিনি তার অনুসারীদের রক্তপাতের নির্দেশ দিচ্ছেন, যা ভয়ংকর।"
এসময় বিএনপি’র অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন, যেমন স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, সহযুববিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, এবং ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।
মন্তব্য করুন


আগামী নভেম্বরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। শুক্রবার গুলশানে নিজ বাসায় সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা জানান।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বড় জোট গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গেও রাজনৈতিক যোগাযোগ রয়েছে। তবে জোট হবে কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়।
তিনি জানান, চলতি অক্টোবর মাসের মধ্যেই ২০০ আসনে বিএনপির একক প্রার্থীকে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ দেওয়া হবে, যাতে তারা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে পারেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্বাচনসংক্রান্ত আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের অনেক বিষয়ে বিএনপি সম্মত ছিল। তবে ২০/১ উপধারায় বলা হয়েছিল, জোটবদ্ধ হলে দলগুলো অন্য রাজনৈতিক দলের প্রতীকে নির্বাচন করতে পারবে।
বিএনপি সেটিতেই আশ্বস্ত ছিল, কিন্তু যেভাবে আরপিও পাস হয়েছে, তাতে ছোট দলগুলো জোটে যুক্ত হতে নিরুৎসাহিত হবে। এতে ছোট দলের নেতারা সুযোগ হারাবেন।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই ধরনের আরপিও একতরফাভাবে কেন পাস করা হলো?
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপি বহুদলীয় ও শক্তিশালী সংসদ দেখতে চায়। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে আইনটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।
সালাহউদ্দিন আরো জানান, এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে দলটি চিঠি দেবে। ধারণা করা হচ্ছে, তারেক রহমান দেশে ফেরার পর গুলশান-২ অ্যাভিনিউ রোডের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে থাকবেন। ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তৎকালীন সরকার তাঁর স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে এই বাড়ি বরাদ্দ দেয়। সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকার এই বাড়ির নামজারি সম্পন্ন করে এ সংক্রান্ত কাগজপত্র খালেদা জিয়ার হাতে হস্তান্তর করে। এর পাশের বাড়ি ফিরোজায় থাকেন খালেদা জিয়া।
গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাড়িটি ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ-এর কাছে ভাড়া দেওয়া ছিল।
জানা গেছে, ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো এ বছরের শুরুর দিকে বাড়িটি ছেড়ে দিয়েছে। এখন নতুন করে বাড়ির ভেতরে-বাইরে রং করাসহ প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হয়।
মন্তব্য করুন


জুলাই সনদের চূড়ান্ত খসড়ায় কিছু অসামঞ্জস্যতা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, জুলাই সনদে কিছু বিষয় সঠিকভাবে উপস্থাপিত হয়নি।
আজ রবিবার একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, জুলাই সনদের চূড়ান্ত খসড়ায় কিছু বিষয়ে অসামঞ্জস্যতা রয়েছে। চূড়ান্ত খসড়া পর্যালোচনা করে আগামী ২০ আগস্টের মধ্যে বিএনপি মতামত।
উল্লেখ্য, গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে জুলাই সনদের সমন্বিত খসড়া পাঠিয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এতে বলা হয়েছে, বিদ্যমান সংবিধান বা অন্য কোনো আইনে ভিন্নতর কিছু থাকলে সে ক্ষেত্রে এই সনদের বিধান/প্রস্তাব/সুপারিশ প্রাধান্য পাবে। সনদের বৈধতা, প্রয়োজনীয়তা কিংবা জারির কর্তৃত্ব সম্পর্কে কোনো আদালতে প্রশ্ন তোলা যাবে না।
এ ছাড়া রাষ্ট্রের সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন বিষয়ে যেসব সংস্কারে ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলো তুলে ধরা হয়েছে।
জুলাই সনদের খসড়ায় উল্লেখ করা হয়, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, জোট ও শক্তিসমূহ পারস্পরিক ও সম্মিলিত আলোচনার মাধ্যমে এসব বিষয়ে একমত হওয়া গেছে। তবে সব দল সব বিষয়ে একমত হয়নি, কোনো কোনো দল কোনো কোনো সুপারিশের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে।
মন্তব্য করুন


সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রশাসন থেকে ‘আওয়ামী ক্যাডারদের’ অপসারণের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
আজ সোমবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে নীলফামারী জেলার বিএনপির নবগঠিত কমিটির উদ্যোগে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ দাবি করেন।
মাঠ পর্যায়ে নিরপেক্ষ কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে নির্বাচন কমিশনকে আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই হবে। কিন্তু আওয়ামী আমলের প্রশাসন দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে না। তাই প্রশাসন থেকে আওয়ামী ক্যাডারদের অপসারণ করতে হবে।
আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির জন্য জনগণ প্রস্তুত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য উপযোগী নয়। যারা পিআর দাবি করে তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ থেকে যায়।
এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তরে আসন্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে সব মতের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হওয়ার আশা প্রকাশ করে রিজভী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র প্রতিনিধিরা থাকলে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকে।
মন্তব্য করুন


জাতীয় নির্বাচন নিয়ে যারা শঙ্কা প্রকাশ করেছ, তারা গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি নয়- এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, যারা নির্বাচনের বিপক্ষে বক্তব্য দেবে, তাদের বাংলাদেশের জনগণ রুখে দেবে।
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ। বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের জন্য, ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য সংকল্পবদ্ধ। এর বিপক্ষে যারাই ইনিয়ে-বিনিয়ে কোনো ধরনের বক্তব্য দেবে, যারাই বিভিন্ন রকমের কু-যুক্তি উত্থাপন করে গণতন্ত্রের এই যাত্রাপথকে কণ্টকাকীর্ণ করতে চাইবে, তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণ রুখে দাঁড়াবে। আমরা বিশ্বাস করি, আশা করি- বাংলাদেশের জনগণ ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে যেকোনো রকমের বাধাকে অতিক্রম করতে সংকল্পবদ্ধ।’
আজ শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় দোয়া মাহফিল ও সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মদিন উপলক্ষে এই কর্মসূচির আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী যুবদল।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আজকে যারা গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকমের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে নির্বাচনের বিষয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছে, তারা গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি নয়। তারা বাংলাদেশের মানুষের পক্ষের শক্তি নয়। তারা হয়ত কোনো না কোনো কারণে নিজের কথাগুলোই ইনিয়ে-বিনিয়ে বলছেন। যাতে করে নির্বাচনকে বিলম্বিত করা যায় অথবা বানচাল করা যায়। কিংবা নির্বাচন অনুষ্ঠান না হোক সেটা চায়।’
রাজনৈতিক দল ও শক্তির উদ্দেশ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘আপনারা যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামে, সেই একই রকমের ঐক্য নিয়ে আসুন- আগামী নির্বাচনের জন্য সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে যেভাবে আমরা নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে পারি, সেইভাবে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকি, আলাপ-আলোচনা করি এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণকে সহজতর করি।’
তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া চড়াই-উতরাই পেরিয়ে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করতে করতে আজও বাংলাদেশের মানুষের জন্য আলোর দিশারি হয়ে বেঁচে আছেন। তার ৮১তম জন্মদিন। আমরা মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রার্থনা করি, বাংলাদেশের মানুষের সামনে আলোর দিশারি হিসেবে পথপ্রদর্শক হিসেবে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা কবজ হিসেবে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাকে আরও দীর্ঘায়ু করুন, শতায়ু করুন।’
সালাহউদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের সমসমায়িক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে আমরা সমস্ত বিষয়ে দিক-নির্দেশনা পাচ্ছি বেগম খালেদা জিয়ার কাছ থেকে। তিনি নির্দেশনা দিয়েছিলেন আলাপ-আলোচনার মধ্যদিয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে গণতন্ত্রের উত্তরণের পথকে সহজতর করতে হবে। তার সেই নির্দেশনা মোতাবেক আমরা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেছি অনেকবার, সমস্ত গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর সঙ্গে আমরা আলোচনা অব্যাহত রাখছি।
তিনি বলেন, ‘আমরা জাতীয় ঐকমত্যের মধ্য দিয়ে একটি সুষ্ঠু সুন্দর শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য অপেক্ষমাণ, সারা জাতি অপেক্ষমাণ। আমরা সেই গণতন্ত্রের জন্য অপেক্ষমাণ, যেই গণতন্ত্রের জন্য আমাদের সন্তানেরা শহীদ হয়েছেন, রক্ত দিয়েছেন, পঙ্গুত্ববরণ করেছেন, অন্ধত্ববরণ করেছেন। আমরা অবিরাম ১৬-১৭ বছরের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম করেছি, সেই গণতন্ত্রের জন্য আমরা অপেক্ষমাণ।’
সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ‘এই গণতন্ত্রকে যদি আমরা বিনির্মাণ করতে চাই অত্যন্ত শক্তিশালী হিসেবে, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণ করতে চাই সাম্যের ভিত্তিতে, তাহলে এই গণতন্ত্রের জন্য আমাদেরকে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে হবে। ফ্যাসিবাদবিরোধী যে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেই জাতীয় ঐক্যকে শক্তিতে পরিণত করতে হবে।’
যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের সঞ্চালনায় দোয়া মাহফিলে সংগঠনের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নীরব বক্তব্য দেন। এছাড়া দোয়া মাহফিলে যুবদলের রেজাউল কবির পল, বেলাল হোসেন তারেক, মহানগরের খন্দকার এনামুল হক এনাম, শরীফ উদ্দিন জুয়েল, রবিউল ইসলাম নয়ন, সাজ্জাদুল মিরাজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, অপরাধী যত বড়ই হোক, ‘মব জাস্টিস’ বা উশৃঙ্খল জনতার বিচার সমর্থনযোগ্য নয়।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির নবগঠিত কমিটির নেতা–কর্মীদের নিয়ে রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর তিনি এ মন্তব্য করেন।
রিজভী বলেন, ‘গত তিনটি নির্বাচন ছিল শেখ হাসিনার একক নাটকীয় নির্বাচন। এসব নির্বাচনের সময়কার সকল নির্বাচন কমিশনারই ফ্যাসিবাদের অংশ। তবে তারা যত বড় অপরাধীই হোক, বিচার হবে আইনের মাধ্যমেই, মব জাস্টিসের মাধ্যমে নয়। মব জাস্টিস সমর্থনযোগ্য নয়।’
তিনি আরও বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হচ্ছে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক করা এবং মব জাস্টিসের মতো অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ করা।
রিজভী অভিযোগ করেন, দেশে আবারও করোনার ভয়াবহতা বাড়ছে, কিন্তু সরকার কোনে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। একইভাবে ডেঙ্গু পরিস্থিতিও অবনতির দিকে যাচ্ছে। তিনি দ্রুত স্বাস্থ্য খাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
মন্তব্য করুন


গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন তিনি। তাকে তাৎক্ষণিক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে কথা বলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রে রাজনৈতিক সহিংসতার কোনো জায়গা নেই। কোনো সময়ই না। আমাদের মতাদর্শ যাই হোক, যে কেউ ভয়ভীতি বা শক্তির আশ্রয় নিলে তাকে একসঙ্গে প্রত্যাখ্যান করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে যে খবর পাওয়া যাচ্ছে, তাতে বলা হচ্ছে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
আমি তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। আমি আশা করি অন্তর্বর্তী সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দৃঢ়ভাবে ব্যবস্থা নেবে।’
এর আগে এ নিয়ে কথা বলেছেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, ওসমান হাদিকে গুলি করা হলো।
চাঁদাবাজ ও গ্যাংস্টারদের কবল থেকে ঢাকা সিটিকে মুক্ত করতে অচিরেই আমাদের অভ্যুত্থান শুরু হবে। রাজধানীর ছাত্র-জনতাকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।
মন্তব্য করুন