

নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হলে সেই দায় প্রধান উপদেষ্টাকেই বহন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঐকমত্য কমিশন জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বিচার-সংস্কার-নির্বাচন, অন্তর্বর্তী আমলে বাংলাদেশ’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক এহ্সান মাহমুদের লেখা বইটি প্রকাশ করেছে আদর্শ প্রকাশনী।
প্রধান উপদেষ্টাকে তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, সত্যিকার অর্থে যেটুকু সংস্কার দরকার, সেই সংস্কার সম্পন্ন করে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিন। জনগণ সেই নির্বাচনের ফল মেনে নেবে। কিন্তু যদি সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হয়, তার দায়ভার প্রধান উপদেষ্টাকেই বহন করতে হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, অবাক হয়ে আমরা লক্ষ করলাম—গতকাল যখন ঐকমত্য কমিশন প্রতিবেদন প্রকাশ করলো, নোট অব ডিসেন্টগুলো নেই! পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে, ইগনোর করা হয়েছে। এটা তো ঐকমত্য হতে পারে না। তাহলে ঐকমত্য কমিশনটা করা হয়েছিল কেন? এই ঐকমত্য কমিশন—এটা আমি বলবো, জনগণের সঙ্গে একটা প্রতারণা। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও এটা প্রতারণা।
তিনি বলেন, গতকাল ঐকমত্য কমিশন প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা সেখানে স্বাক্ষরও করেছেন, তিনি এটার চেয়ারম্যান। অবাক হয়ে আমরা লক্ষ করেছি, আমরা যেসব বিষয়ে একমত ছিলাম না, সেসব ক্ষেত্রে আমরা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছিলাম। সেই নোটগুলো লিপিবদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু গতকাল যখন তারা প্রতিবেদন প্রকাশ করলেন, সেই নোটগুলো পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে। এটা ঐকমত্য নয়, এটা প্রতারণা।
তিনি আরও বলেন, অবিলম্বে এ বিষয়গুলো সংশোধন করতে হবে। অন্যথায় এটি ঐক্যের বিপরীতে যাবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, একটা সত্যিকার গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমেই দেশের সংকটগুলোর সমাধান সম্ভব। সেই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের যে পার্লামেন্ট গঠিত হবে, সেই পার্লামেন্টই সংবিধানের মধ্যদিয়ে সংস্কারের বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করবে। আমরা সে কারণে ৫ আগস্টের পরই নির্বাচনের কথা বলেছিলাম। তখন অনেকে বলেছিলেন, বিএনপি ক্ষমতা চায় বলেই তাড়াহুড়ো করছে। আজ প্রমাণ হচ্ছে, নির্বাচন যত দেরি হচ্ছে, ততই সেই শক্তিগুলো শক্তিশালী হচ্ছে যারা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা জাতি হিসেবে ঠিক কোথায় যেতে চাই—সেটা সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারছি কি না, সেটা এখন বড় প্রশ্ন। এত বড় একটা অভ্যুত্থান, এত ত্যাগ, এত প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত পরিবর্তন—আমরা কি সেটা জাতির কল্যাণে কাজে লাগাতে পারছি? দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেখছি, যতই দিন যাচ্ছে আমরা ততই বিভক্ত হয়ে পড়ছি। বিভক্তির এ প্রক্রিয়া কারা করছে, কেন করছে—এটা আমাদের বুঝতে হবে।
তিনি বলেন, আজ সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রবলভাবে পক্ষ-বিপক্ষ তৈরি করে প্রতিপক্ষকে আঘাত করার প্রবণতা চলছে। অথচ এই সময়টা আমাদের ঐক্যের সময়। ন্যূনতম বিষয়গুলোতে ঐকমত্যে পৌঁছে একটা জাতীয় পথনির্দেশ তৈরি করার সময় এটা। কিন্তু সেই জায়গায় বিভাজন তৈরি করা হচ্ছে।
বিএনপি সংস্কার চায় না—এমন প্রচারণাকে মিথ্যা আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বিএনপির জন্মই হয়েছে সংস্কারের মধ্যদিয়ে। মুক্তিযুদ্ধের পর একদলীয় শাসনের পরিবর্তন ঘটিয়ে ৭৫-পরবর্তী বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিল বিএনপি। অথচ কনসাসলি একটা প্রপাগান্ডা চালানো হয়েছে যে বিএনপি সংস্কারবিরোধী—এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, এত বড় অভ্যুত্থানকে আমরা জনগণের কল্যাণে কাজে লাগাতে পারছি না। যতই দিন যাচ্ছে আমরা ততই বিভক্ত হচ্ছি। কারা এই বিভক্তি তৈরি করছে, তা আমাদের বুঝতে হবে।
অনুষ্ঠানে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, ‘চর্চা ডটকম’র সম্পাদক সোহরাব হাসানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও বুদ্ধিজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে মা বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছায় তারেক রহমানকে বহনকারী লাল-সবুজ রঙের গাড়িটি।
পরে হাসপাতালের গেটে গাড়ি থেকে নেমে দলের ঊর্ধ্বতন নেতাকর্মীদের সঙ্গে হেঁটে হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করেন তিনি। তবে হাসপাতালে প্রবেশের আগে থেমে থেমে কয়েকবার হাসপাতালের সীমানার ফাঁক দিয়ে উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে হাত মেলান তিনি।
এর আগে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে বিকেল সাড়ে ৪টার পর সংবর্ধনাস্থল থেকে এভারকেয়ারের দিকে রওনা হয় তারেক রহমানকে বহনকারী গাড়িবহর। এ সময় পুরো রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে অভ্যর্থনা জানায় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ। একই সময় গাড়ির সামনের অংশে দাঁড়িয়ে ক্ষণে ক্ষণে তাদের উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে সাড়া দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
এদিকে বিকেল ৫টা ১০ মিনিটের দিকে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে এবং তাকে দেখতে এভারকেয়ারে পৌঁছেছেন তার পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান ও নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। দেশে ফিরে বিমানবন্দরে অবতরণের পর সেখান থেকে তারা গুলশানের বাসায় গিয়েছিলেন। পরে বিকেলের দিকে এভারকেয়ারের উদ্দেশে রওনা হন তারা।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারের বিজি-২০২ ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাজধানীর পূর্বাচল ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
একপর্যায়ে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে সংবর্ধনাস্থলে পৌঁছান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এরপর সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। পরবর্তীতে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এভারকেয়ার হাসপাতালের পথে রওনা হন।
উল্লেখ্য, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বহনকারী বিমানটি বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর কিছুক্ষণ আগে তারেক রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে আবেগঘন বার্তায় লেখেন, দীর্ঘ ৬ হাজার ৩১৪ দিন পর বাংলাদেশের আকাশে!
তারও আগে বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত সোয়া ১২টায় লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে ফ্লাইটটি। একই দিন বাংলাদেশ সময় রাত সোয়া ৮টায় লন্ডনের নিজ বাসা ত্যাগ করেন তারেক রহমান। পরবর্তীতে তিনি স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে রাত সোয়া ১০টায় হিথ্রো বিমানবন্দরে পৌঁছান।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে যৌথ বিবৃতি দিয়ে নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। বিদেশের মাটিতে একটি দলের শীর্ষ নেতার সঙ্গে সরকার প্রধানের এমন বৈঠক পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন। এতে আমরাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল কিছুটা বিব্রত। এ কারণেই ঐকমত্য কমিশনের গতকালের (মঙ্গলবার) বৈঠকে আমরা অংশগ্রহণ করিনি। তবে প্রধান উপদেষ্টাসহ কমিশনের অনুরোধে আজকে এসেছি।
আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কমিশনের দ্বিতীয় ধাপের তৃতীয় দিনের সংলাপের মধ্যাহ্নে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
গত ১৩ জুন লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, সংস্কার ও বিচারের অগ্রগতি সাপেক্ষে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হতে পারে। একটি দলের সঙ্গে যৌথ বিবৃতি দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন অভিযোগ করে প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার সংলাপ বয়কট করে জামায়াত।
বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের নেতৃত্বে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান ও হামিদুর রহমান আজাদ সংলাপে অংশ নিতে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আসেন।
মধ্যাহ্নের বিরতিতে ডা. তাহের সাংবাদিকদের জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ফোনালাপ হয়েছে জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের। প্রধান উপদেষ্টা সরকারের নিরপেক্ষতার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন।
সরকার ও বিএনপির বৈঠকের যৌথ বিবৃতিকে পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল আখ্যা দিয়ে ডা. তাহের জানান, বিভিন্ন দেশে সরকারের সঙ্গে প্রধান বিরোধী দল বা সংসদের প্রতিনিধিত্বকারীদের সঙ্গে যৌথ বিবৃতি হয়। দেশে শতাধিক দল আছে। তাহলে তো এমন একটি সংস্কৃতি তৈরি হবে, প্রধান উপদেষ্টা যার সঙ্গে কথা বলবেন, একটা যৌথ বিবৃতি দিতে হবে। এতে অন্যান্য দল বিব্রত হয়েছে। তবে বিএনপির ব্যাপারে জামায়াতের বক্তব্য নেই।
তিনি জানান, প্রথমত সাংবিধানিক কাউন্সিলের পক্ষে জামায়াত। তবে এর সঙ্গে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতির সম্পৃক্ততা চাই না। কারণ তারা দুই জনই স্ব-স্ব ক্ষেত্রে ব্যস্ত থাকেন। তাছাড়াও কোনও বিষয়ে বিরোধ হলে সমাধান করবেন কে? তাই সেখানে প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা ও স্পিকার থাকবেন।
নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে অনিশ্চয়তা নেই- স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর এ বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছে জামায়াত।
এছাড়া মেয়র পদের জন্য নগর ভবন তালাবদ্ধ করে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের আন্দোলনের প্রতি ইঙ্গিত করে ডা. তাহের বলেন, যিনি একমাসেও একটি ভবনের তালা খুলতে পারেন না, ৩০০ সংসদীয় আসনের কিভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করবেন, সেটাও বিস্ময়ের ব্যাপার। আমি উনাকে সংযতভাবে কথা বলার অনুরোধ করছি। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কী হবে, এটা বুঝার জন্য অনুরোধ করছি।
মন্তব্য করুন


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-১০ আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সোমবার ধানমন্ডি থানা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়ন ফরম তোলেন তিনি।
এ সময় গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এবং প্রার্থী ও ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। নানা গোষ্ঠী দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা, সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য গণতান্ত্রিক রূপান্তর অন্তত গুরুত্বপূর্ণ।
শহীদ শরিফ ওসমান হাদির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ওসমান হাদি একজন প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচনের কার্যক্রম দুই মাস আগে থেকেই শুরু করে দিয়েছিলেন। প্রতিদিন তিনি প্রচারণা করতেন। গণতান্ত্রিক উত্তরণের পক্ষ ছিলেন।
আসিফ আরো বলেন, বিগত দেড় বছরে সরকারে কাজ করতে গিয়ে যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, সেটা নির্বাচনী আসনে জনগণের জন্য কাজে লাগাব।
মন্তব্য করুন


বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশ গণতন্ত্র উত্তরণের পথে যাচ্ছে, সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি হয়ে গেছে, কোনোরকম ঝামেলা ছাড়াই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় ঠাকুরগাঁও জেলা আইনজীবী সমিতির আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় জেলার বিভিন্ন স্তরের আইনজীবীরা অংশ নেন। তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইন-আদালতের স্বাধীনতা, মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধার এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীদের ভূমিকা নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন, সাধারণ সম্পাদক মো. মকদুম সাব্বির মৃদুল সহ সিনিয়র আইনজীবীরা।
মন্তব্য করুন


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, অতীতে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতা বারবার অপব্যবহারের শিকার হয়েছে, যার মাধ্যমে বরং হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা উৎসাহ পেয়েছে।
তিনি বলেন, 'বিএনপি নীতিগতভাবে একমত যে ক্ষমা প্রদর্শনের বিষয়টি আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হওয়া উচিত এবং তা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা দরকার।'
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অনুমতির বিষয়টি আলোচনায় আসাকে তিনি ‘সন্তোষজনক অগ্রগতি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
হাইকোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ বিভাগীয় পর্যায়ে স্থাপনের বিষয়ে বিএনপি সম্মত বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমেদ। তবে তিনি বলেন, 'এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট এবং প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে বিচার ব্যবস্থাকে জনগণের আরও কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'জনগণের কাছে আমাদের দায় অনেক বেশি। এখানে মতামত দলীয় নয়, বরং জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্যের ভিত্তিতে আলোচনা চলছে। কে কতটা সহযোগিতা করছে, তা জনগণ বিবেচনা করবে।'
সালাহউদ্দিন আহমেদ দ্রুত জাতীয় সনদ প্রণয়নের পক্ষে বিএনপির অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য করুন


জুলাই সনদের বাইরে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তা মানতে স্বাক্ষরকারী দলগুলো বাধ্য নয় বলে মন্তব্য করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।
সালাহউদ্দিন বলেন, সনদে বিভিন্ন দলের কিছু নোট অফ ডিসেন্ট আছে। সনদে উল্লেখ আছে ইশতেহারে উল্লেখ করে রায় পেলে সেভাবে বাস্তবায়ন করবে, অথচ সুপারিশমালায় নেই। গণভোট জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনে হবে, সেই অবস্থানে আছি।
তিনি বলেন, নতুন নতুন ইস্যু তৈরি করে যারা আন্দোলন করছেন, তাদের সঙ্গে আলাপ করতে হবে। সনদের বাইরে যদি সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, সেটা মানতে স্বাক্ষরকারী দলগুলো বাধ্য নয়।
সালাহউদ্দিন বলেন, ‘এখন কোনো প্রজ্ঞাপনকে যদি আদেশ হিসেবে নামকরণ করতে চায় এবং সেটার আইনি মর্যাদা না থাকে, তাহলে সেটা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকার প্রকাশ করতে পারে। কিন্তু সেটা আইন হবে না।’
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের আরোপ করা পাল্টা শুল্কের হার ৩৫ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশে আনাকে রপ্তানি খাতের জন্য একটি ‘সন্তোষজনক অবস্থা’ হিসেবে দেখেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আজ শুক্রবার দুপুরে গুলশানে নিজের বাসায় সাংবাদিকদের কাছে এক প্রতিক্রিয়ায় এই অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি বলেন, এটা জয়-পরাজয়ের কোনো বিষয় না। যে শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে সে হিসেবে প্রতিযোগিতায় আমরা তুলনামূলকভাবে একটা সন্তোষজনক অবস্থানে আছি। আমরা ২০ শতাংশ, পাকিস্তান ১৯ শতাংশ, ভিয়েতনামে ২০ শতাংশ আর ভারতে ২৫ শতাংশ। সেই ক্ষেত্রে আমি মনে করি, সার্বিকভাবে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে ট্যারিফের ফিগারটা সন্তোষজনক। ট্যারিফ বিষয়ে আমাদের প্রতিযোগীতাদের সঙ্গে সেটা হয়েছে সেটা ঠিকই আছে। এটা সন্তাষজনক।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের নতুন এই হারের পেছনে কী আছে সে প্রসঙ্গ টেনে সাবেক বানিজ্যমন্ত্রী বলেন, পুরো নেগোসিয়েশনের সার্বিক বিষয়টা তো আমাদের জানা নেই। আমরা শুধু ট্যারিফের বিষয়টা জানি। সার্বিক বিষয়টা জানার পরে এই বিষয়ে মন্তব্য করতে পারব। এর (ট্যারিফ) বিপরীতে আর কী দিতে হয়েছে সেটা না জানা পর্যন্ত তো এর ইমপ্যাক্টটা কী হবে সেটা আমরা বলতে পারছি না।
এক প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু বলেন, নেগোসিয়েশনের পেছনের যে বিষয়গুলো, এটা তো একটা প্যাকেজ। এখানে অনেকগুলো সিদ্ধান্ত হয়েছে। শুধু ট্যারিফের কত পারসেন্ট কমানো হলো সেটা তো সিদ্ধান্ত হয়নি। এই সিদ্ধান্তের পেছনে অনেক আলাপ-আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের কী দাবি-দাওয়া ছিলো এই বিষয়গুলো প্রকাশ হলে আমরা বুঝতে পারব।
বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্ক নির্ধারণে একটা অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন, এখন কী তারা স্বস্তির মধ্যে এসেছেন কি না জানতে চাইলে বিএনপির এই নেতা বলেন, আমি তো বলছি, আপাতত ২০ শতাংশ ট্যারিফ নির্ধারণ অন্তত এই মুহুর্তে আমাদের রপ্তানি বাজার বাধাগ্রস্থ করবে না। সুতরাং এই মুহুর্তে এটা সন্তোষজনক সিদ্ধান্ত।
সম্প্রতি বানিজ্য সচিব যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৫টি বোয়িং বিমান কেনার একটা কথা বলেছেন। এটার সঙ্গে ট্যারিফের কোনো সম্পর্কের ইঙ্গিত করছেন কি না প্রশ্ন করা হলে আমীর খসরু বলেন, কিছু তো করতেই হবে। কারণ আমেরিকানদের পুরো ট্যারিফের বিষয়টা হচ্ছে তাদের পণ্য রপ্তান্তির স্বার্থে। সেজন্য তো এই অতিরিক্ত ট্যারিফ আরোপ করা হয়েছে। কিন্তু সেটা করতে গিয়ে বাংলাদেশ কতটুকু অ্যাবজর্ব করতে পারবে, আমাদের অর্থনীতি কতটুকু এবজর্ব করতে পারবে, আমাদের ব্যবসায়ীরা কতটুকু এভজর্ব করতে পারবেন, আমাদের ইকোনমি কতটুকু এবজর্ব করতে পারবে সেই বিষয়গুলো আলোচনার বিষয়। আমরা বিস্তারিত জানলে সেটার ওপর মন্তব্য করতে পারব।
একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পুরো বিষয়টা খোলাসা করা উচিত।
আমীর খসরু বলেন, বাণিজ্য শুধু আমাদের আমেরিকার সঙ্গে নয়, অন্যান্য দেশেও আমাদের পণ্য রপ্তানি হয়। সেই জায়গাগুলো বিবেচনায় নিয়ে সম্মিলিতভাবে আমরা কোথায় দাঁড়াচ্ছি সেটা বুঝতে হবে, পর্যালোচনা করতে হবে। একই সঙ্গে রপ্তানিটা আমাদের আরো বেশি ডাইভারসিফাই করতে হবে। বিদেশে ডাইভারসিফাই করতে হবে। দেশেও ডাইভারসিফাই দরকার। আমাদের শুধু আমেরিকা নির্ভরশীল অর্থনীতি হতে পারে না। সেটাই হচ্ছে আমাদের আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেন, সেজন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগ পরিবেশ, অর্থনীতিতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহন এবং আমাদের যে ক্যাপাসিটি বিল্ডিং ইউজ অব ড্রিম বিজনেস যেটা অত্যন্ত নিচে এখন, সেটাকে এই ডিরেগুলেশনের মাধ্যমে, রিভেলুয়েশনের মাধ্যমে আমাদের পরিবর্তন আনতে হবে। বড় ধরনের পরিবর্তন আমাদের আনতে হবে।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, শেখ হাসিনাকে কোনো দেশ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না; আমাদের নিয়ন্ত্রণ করে মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ, দেশের জনগণ ও সংবিধান।
শুক্রবার বিকালে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে মুক্তিযুদ্ধের হারিয়ে যাওয়া মূল্যবোধের প্রত্যাবর্তন মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশের গত ৪৪ বছরে সবচেয়ে সাহসী রাজনীতিকের নাম শেখ হাসিনা, সবচেয়ে বিচক্ষণ নেতার নাম শেখ হাসিনা, সবচেয়ে দক্ষ প্রশাসকের নাম শেখ হাসিনা, সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতার নাম শেখ হাসিনা, সবচেয়ে সফল কূটনীতিকের নাম শেখ হাসিনা।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর থেকে যে পরিবর্তন হয়েছে সেই পরিবর্তনের রূপান্তরের রূপকার শেখ হাসিনা। আজকে বাংলাদেশের যে উন্নয়ন দৃশ্যমান তা শেখ হাসিনার ম্যাজিক।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় আরও বক্তব্য দেন- সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, মাহবুবউল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বেনজির আহমেদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী ও উত্তরের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান।
অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন শহিদ আলতাফ মাহমুদের কন্যা শাওন মাহমুদ, শহিদ বুদ্ধিজীবী ডা. আলিমের কন্যা ডা. নুজহাত প্রমুখ।
মন্তব্য করুন


গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন তিনি। তাকে তাৎক্ষণিক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে কথা বলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রে রাজনৈতিক সহিংসতার কোনো জায়গা নেই। কোনো সময়ই না। আমাদের মতাদর্শ যাই হোক, যে কেউ ভয়ভীতি বা শক্তির আশ্রয় নিলে তাকে একসঙ্গে প্রত্যাখ্যান করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে যে খবর পাওয়া যাচ্ছে, তাতে বলা হচ্ছে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
আমি তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। আমি আশা করি অন্তর্বর্তী সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দৃঢ়ভাবে ব্যবস্থা নেবে।’
এর আগে এ নিয়ে কথা বলেছেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, ওসমান হাদিকে গুলি করা হলো।
চাঁদাবাজ ও গ্যাংস্টারদের কবল থেকে ঢাকা সিটিকে মুক্ত করতে অচিরেই আমাদের অভ্যুত্থান শুরু হবে। রাজধানীর ছাত্র-জনতাকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।
মন্তব্য করুন


আওয়ামী লীগকে ভোটে আনা নিয়ে চলমান আলোচনা প্রসঙ্গে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, আওয়ামী লীগ নিজেরাই রাজনীতিতে ফেরার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। অথচ আমরা কেউ কেউ, যারা খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, তাদের নিয়ে ঝগড়া করে ফোকাস তৈরি করছি এবং তাদের সবার সামনে নিয়ে আসছি।
সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনা নিয়ে শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মান্না বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক পথ থাকতে হবে এবং একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের বিচার হতে হবে।
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মান্না বলেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করছি না। এটা রাজনৈতিক প্রস্তাব। তবে সরকার ও সরকারপ্রধান জনগণকে আহ্বান জানাবেন, সিদ্ধান্ত জনগণই নেবে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সাড়ে সাত মাসে সাড়ে সাত সেন্টিমিটারও অগ্রগতি করতে পারেনি। নতুন কোনো রাজনৈতিক বয়ান দিতে পারেনি, মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারে ও মানুষের সহানুভূতি পাবে এমন কোনো বক্তব্য দিতে পারেনি। এ রকম পরিস্থিতিতে তারা রাজনীতি করে জনগণের সামনে এসে দাঁড়াতে পারবে, সে সম্ভাবনা দেখি না।
নাগরিক ঐক্যের নেতা বলেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা যাবে কি না, সে ব্যাপারে সমঝোতার প্রস্তাব নাকি দেওয়া হয়েছে এবং ছাত্ররা বলছে, এ রকম সমঝোতা কারো কারো সঙ্গে নাকি হয়েছে। এ জন্য কোনো কোনো দল কথা বলেনি এবং এখনো বলছে না। সমঝোতা করেই যদি নির্বাচন হয়, তবে এগুলো করার দরকার কি। সংস্কার তো কোনো কাজই করবে না। যে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এত বছর লড়াই করে গণতন্ত্রের পথ এসেছে।
সরকারকে এ ব্যাপারে সন্তোষজনক ব্যবস্থা নিতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নাগরিক ঐক্যের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনজুর কাদের। তিনি বলেন, সংস্কার কমিশনগুলো জাতির এ ক্রান্তিলগ্নে এখন সবচেয়ে বেশি যা প্রয়োজন, সেদিকে পূর্ণ মনোযোগ না দিয়ে সংস্কারের নামে কিছু অযৌক্তিক ও অপ্রাসঙ্গিক প্রস্তাবের দিকে মনোযোগ দিয়েছে। উদাহরণ হিসেবে চারটি প্রদেশে দেশকে ভাগ করা, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা ও সংসদের উচ্চকক্ষ সৃষ্টি, ৫০৫ আসনের আইনসভা ইত্যাদি প্রস্তাবনা নিয়ে অহেতুক সময় এবং সম্পদের অপব্যবহার করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নাগরিক ঐক্য ধরে নিচ্ছে, ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশন’ যে ধরনের সংস্কার করবে, তার একধরনের সিদ্ধান্ত তারা আগেই নিয়ে রেখেছে। এখন রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে জানতে চাচ্ছে, তাদের সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে দলগুলো একমত কি না। যারা একমত, তারা কিসে কিসে একমত ও যারা একমত নয়, তারা কোথায় কোথায় একমত নয়।
নাগরিক ঐক্য ১০৪টি প্রশ্নে একমত, ৫১টি প্রশ্নে একমত নয় ও ১১টি প্রশ্নে আংশিক একমত হয়েছে।
কমিশনের প্রশ্ন তৈরিতে অমনোযোগিতার ছাপ রয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
নাগরিক ঐক্য বলেছে, নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী সরকার সম্পর্কে পক্ষপাতের গুঞ্জন আছে। এ পক্ষপাত দেশের জন্য কতটা মঙ্গল বয়ে আনবে তা বলা মুশকিল, তবে গণতান্ত্রিক উত্তরণ যে ঘটাবে না, তার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন