

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আমরা যদি বলি যে আগামীকাল রাস্তায় নামবো, তাহলে মনে হয় ড. ইউনূস ২৪ ঘণ্টাও থাকতে পারবেন না। কিন্তু আমরা চাই ড. মুহাম্মদ ইউনূস সফল হোন। ওনার সাফল্য মানেই হলো, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সফলতা। আজকে যারা জুলাই আন্দোলনের মুকুট চায়, তাদের তো মুকুট অনেক আগেই দেওয়া হয়েছে। আমরাও দিয়েছি।
রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘দেশ বাঁচাও বন্দর বাঁচাও’ আন্দোলনের উদ্যোগে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
গয়েশ্বর বলেছেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি এবং মন্ত্রী হওয়ার আগ পর্যন্ত সচিবালয়ে প্রবেশ করিনি। কিন্তু ওনারা (বৈষম্যবিরোধী নেতারা) এত ঘন ঘন সচিবালয়ে যায় কেন, ডিসি অফিসে যায় কেন। আজকে যে জাতি তাদের মাথায় তুলেছে, সেই মাথা থেকে যদি পায়ের তলায় পড়ে যায় সেটার জন্য কি জাতি দায়ী?
দেশে দুর্নীতি কমেনি বরং বেড়েছে- এমন মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা। দুর্নীতি বাড়ার কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাসিনার আমলের ওই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা এখনো রয়ে গেছে। এই সরকার তো দুর্নীতি রোধে হাত দেয়নি! কয়জনকে ধরা হয়েছে? ধরার উদ্যোগ নেয়নি। এমনকি বিচারও করেনি।
দেশের বন্দর নিয়ে গয়েশ্বর বলেছেন, বন্দর চালানোর জন্য যদি দেশে লোক না থাকে তাহলে বিদেশ থেকে আমরা এক্সপার্ট আনতে পারি। যেমনটি গার্মেন্টস শিল্প উন্নয়নে বিদেশের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছিল।
বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান ও ১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক সৈয়দ এহসানুল হুদার সভাপতিত্বে এবং বাংলাদেশ এলিডিপির মহাসচিব তমিজ উদ্দিন টিটুর সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সভায় আরও বক্তব্য দেন- জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান ও দেশ বাঁচাও বন্দর বাঁচাও আন্দোলনের মূল সমন্বয়ক শাহাদাত হোসেন সেলিম।
মন্তব্য করুন


বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত যোগ্যতার সঙ্গে কাজ করছে। মনোনয়নপত্র যখন বাছাই হয় তখন কিছু সমস্যা থাকে এটা স্বাভাবিক বিষয়।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে একথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে জিয়াউর রহমানের নাম সবসময় স্মরণ করতে হয়। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, সংবাদপত্র, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন এবং অর্থনীতিতে তলাবিহীন ঝুড়ি অভিহিত হওয়া দেশকে একটি সমৃদ্ধির অর্থনীতিতে পরিণত করেছিলেন। এজন্য আমরা তাকে প্রতি বছর স্মরণ করি এবং তার দেখানো পথে সামনের দিকে এগিয়ে যাই।
তিনি বলেন, ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফেব্রুয়ারি মাসের ১২ তারিখে নির্বাচনের ঘোষণা এসেছে এবং ফ্যাসিস্ট হাসিনা পালিয়ে গেছে। এখন আবার নতুন করে ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতির বাংলাদেশকে গড়ে তোলার জন্য, নতুন করে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার জন্য আমরা এখানে শপথ নিয়েছি। এর মাধ্যমে বিএনপি জিয়াউর রহমানের আদর্শ বাংলাদেশে বাস্তবায়ন করবে।
বিএনপির অনেকের মনোনয়ন বাতিল হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে মহাসচিব বলেন, মনোনয়ন যখন বাছাই হয় তখন কিছু সমস্যা থাকে এটা নতুন কোনও ব্যাপার নয়। আমরা এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনকে দেখেছি মোটামুটিভাবে যোগ্যতার সঙ্গেই কাজ করছে। আমাদের যে সমস্যা আমরা মনে করেছি সেগুলো গতকাল তুলে ধরেছি। আমরা বিশ্বাস করি ইসি যোগ্যতার সঙ্গে এই নির্বাচন পরিচালনা করতে সক্ষম হবে।
মন্তব্য করুন


জুলাই–আগস্টের গণ-আন্দোলনে অংশ নেওয়া যোদ্ধাদের ‘মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাদের দেখভালের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একটি পৃথক বিভাগ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের দায়িত্ব নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার ও গুরুতর আহতদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তারেক রহমান।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া যোদ্ধারাও মুক্তিযোদ্ধা। একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধারা যেমন দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবন ও ত্যাগ দিয়েছেন, ঠিক একইভাবে চব্বিশে যারা লড়াই করেছেন, তারাও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্যই যুদ্ধ করেছেন।’ তিনি বলেন, ‘একাত্তরে যুদ্ধ হয়েছিল স্বাধীনতা রক্ষার জন্য, আর সেই স্বাধীনতা রক্ষাতেই আবার চব্বিশে যুদ্ধ হয়েছে।’
জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারগুলোর বিষয়ে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি জনগণের সমর্থনে সরকার গঠনের সক্ষমতা অর্জন করলে জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের কষ্ট লাঘবে রাষ্ট্রীয়ভাবে উদ্যোগ নেওয়া হবে। ‘যারা হারিয়ে গেছেন, তাদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তবে তাদের পরিবারের কষ্ট, সুযোগ-সুবিধা ও দেখভালের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে। এ জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি নতুন বিভাগ গঠন করা হবে, যার মূল দায়িত্ব থাকবে এই মানুষগুলোর দেখভাল করা,’ বলেন তিনি।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বিএনপি অতীতে সরকারে থাকাকালীন মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করেছিল। একই ধারাবাহিকতায় আগামীতে জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারগুলোকেও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
গণ-আন্দোলনে হতাহতদের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই এক বা দুই চোখ হারিয়েছেন, কেউ কেউ স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ে যেভাবে দেড় হাজারের মতো মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, সেটিকে আমরা গণহত্যা বলতে পারি।’
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের সাহসিকতার কারণেই ফ্যাসিবাদী শক্তি শুধু ক্ষমতা থেকেই নয়, দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। তার ভাষায়, ‘২০২৪ সালের আন্দোলন কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলের নয়। এটি অধিকারহারা মানুষের গণ-আন্দোলন।’
গণ-আন্দোলনে আহতদের ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দুইভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। এক—রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা। দুই—আহতদের যোগ্যতা অনুযায়ী অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, ‘হতাহতদের প্রতি রাষ্ট্রের অবশ্যই দায়িত্ব রয়েছে। জনগণের রায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে বিএনপি পর্যায়ক্রমে সেই দায়িত্ব পালন করবে।’
নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হলে শোক সমাবেশ ও শোকগাঁথাই চলতে থাকবে। তবে গণতন্ত্রকামী মানুষ আগামী বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বিজয়গাঁথা রচনা করবে।
মন্তব্য করুন


গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন তিনি। তাকে তাৎক্ষণিক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে কথা বলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রে রাজনৈতিক সহিংসতার কোনো জায়গা নেই। কোনো সময়ই না। আমাদের মতাদর্শ যাই হোক, যে কেউ ভয়ভীতি বা শক্তির আশ্রয় নিলে তাকে একসঙ্গে প্রত্যাখ্যান করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে যে খবর পাওয়া যাচ্ছে, তাতে বলা হচ্ছে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
আমি তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। আমি আশা করি অন্তর্বর্তী সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দৃঢ়ভাবে ব্যবস্থা নেবে।’
এর আগে এ নিয়ে কথা বলেছেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, ওসমান হাদিকে গুলি করা হলো।
চাঁদাবাজ ও গ্যাংস্টারদের কবল থেকে ঢাকা সিটিকে মুক্ত করতে অচিরেই আমাদের অভ্যুত্থান শুরু হবে। রাজধানীর ছাত্র-জনতাকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।
মন্তব্য করুন


আগামী ১৩ জুন লন্ডনের একটি হোটেলে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
সোমবার (৯ জুন) রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিএনপির নেতারা জানান, বৈঠকটি মূলত সৌজন্য সাক্ষাৎ হলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন। দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনসংক্রান্ত বেশ কিছু প্রস্তাবনা ইতোমধ্যেই তারেক রহমানের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলেও জানা যায়।
এদিকে চার দিনের সরকারি সফরে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তিনি ও তার সফরসঙ্গীরা যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে রওনা হন।
এই সফরে ড. ইউনূসের সঙ্গে রয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ড. আবদুল মোমেন। সফরটি ঘিরে রয়েছে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক নানা তাৎপর্য।
প্রধান উপদেষ্টার সফরসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম। রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, সফরের অংশ হিসেবে বাকিংহাম প্যালেসে ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন ড. ইউনূস। এ সময় তিনি রাজা চার্লসের কাছ থেকে ‘কিংস চার্লস হারমনি অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করবেন।
প্রেস সচিব আরও জানায়, লন্ডনে যাত্রার আগে ঢাকায় ড. ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। ওই বৈঠকে সফরের বিভিন্ন দিক ছাড়াও আলোচনায় উঠে এসেছে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলী। সফরকালে বৈঠক হবে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয় নিয়েও।
চার দিনের এই সফর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের আশাও প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্ট’-এ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বিএনপির ৩ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
আমন্ত্রিত অন্য দুই নেতা হলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং চেয়ারপারসনের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে পাঠানো আমন্ত্রণপত্র পেয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শনিবার (১১ জানুয়ারি) বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, আগামী ৫-৬ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ‘ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্ট’ অনুষ্ঠিত হবে।
মন্তব্য করুন


সংবিধান সংশোধন করতে হলে তা অবশ্যই সংসদে করতে হবে। এর বাইরে সংবিধান সংশোধনের কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর নীলক্ষেতের আইসিএমএবি মিলনায়তনে বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নানের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের ব্যাপারগুলো এখনও আলোচনা হচ্ছে। সংবিধানের যদি কোনো সংশোধন করতে হয় তাহলে সেটা সংসদের মধ্য থেকে করতে হবে। সেটার জন্য ম্যন্ডেট জনগণের থেকে নিতে হবে প্রত্যেকটি দলকে। সেটি হতে হবে সংসদের মধ্যে।
তিনি আরও বলেন, স্বচ্ছতা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যদি কোনো পরিবর্তন আনতে হয়, সংসদের বাইরে সেটা করার কোনো সুযোগ নেই। যারা বাংলাদেশের আগামীর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে চাচ্ছে, নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে চাচ্ছে, তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। তারা সংসদীয় পদ্ধতিতেও বিশ্বাস করে না। তারা কোন পদ্ধতিতে যাবে তারা নিজেরাও জানে না।
রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন জরুরি উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, আমরা যতই সংস্কার করি, কোনো লাভ হবে না। যদি রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলাতে না পারি, কোনো সংস্কার কাজে আসবে না। অপরের মতকে আমাদের সম্মান জানাতে হবে। সহনশীল হতে হবে। এর মাধ্যমেই দেশকে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো। বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থে যেখানে ঐক্য দরকার, সেখানে ঐক্য করতে হবে।
ঐক্য এখনও অটুট আছে জানিয়ে আমীর খসরু বলেন, অনেকেই বলছেন, দলগুলোর মধ্যে যে ঐক্য ছিল ৫ আগস্টের পরে তা অনৈক্য হয়ে গেছে। আমি তো কোনো অনৈক্য দেখতে পাচ্ছি না। প্রত্যেকটি দলের নিজস্ব দর্শন, চিন্তাভাবনা থাকবে। যেখানে আমরা একমত হতে পারবো সেখানে একমত হবো। বাকিটা জনগণের কাছে নিয়ে যেতে হবে। জনগণ হচ্ছে মালিক। তাদের কাছে নিয়ে যেতে হবে। তাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে সংসদে পাস করতে হবে।
মন্তব্য করুন


জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান কেবল একটি দলকে সরিয়ে আরেকটি দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য হয়নি। বরং এটি ছিল জনগণের অধিকার রক্ষা ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম।
শনিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে সংসদ ভবনের এলডি হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে এক বৈঠকে সূচনা বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, "মৌলিক ও গঠনমূলক সংস্কার করে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের লক্ষ্য এমন একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে সংবিধান, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা, বিচারব্যবস্থা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া সবার জন্য সমান ও স্বচ্ছ হবে।"
তিনি আরও যোগ করেন, "জুলাই সনদ জাতির সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে। এটি আমাদের অঙ্গীকার, এবং এ অঙ্গীকার রক্ষা করতে হবে। যাতে দেশে আর কখনও স্বৈরতন্ত্র বা ফ্যাসিবাদের উত্থান না ঘটে, সে জন্য সব ধরনের নিষ্ক্রিয়তা ও পথ বন্ধ করে এগিয়ে যেতে হবে। আমরা একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক সংবিধান চাই।"
এনসিপির পক্ষ থেকে এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী, যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার, মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন প্রমুখ।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের নেতৃত্বে একটি পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, একটা কথা সব সময় মনে রাখতে হবে। বিএনপি হলো সেই রাজনৈতিক দল যে এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেছে।
সোমবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে ঠাকুরগাঁও বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে জেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপি হলো সেই রাজনৈতিক দল যে আমাদের মিডিয়ার স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ২১ দফাকে কেন্দ্র করে বেগম জিয়া নতুন বাংলাদেশের রুপকল্প দিয়েছিলেন। ফ্যাসিস্ট ব্যবস্থা বাংলাদেশ তছনছ হয়ে গেছে, ভেঙ্গে গেছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ভেঙে গেছে সেগুলোকে আবার নতুন করে গড়ে তোলার জন্য, দেশের সব রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার জন্য, নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য তারেক জিয়া ৩১ দফা কর্মসূচি প্রণয়ন করেছে।
বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, আজকে সম্মেলনের মধ্য দিয়ে এ জেলায় নতুন একটি বিএনপি গঠন করবেন। যে বিএনপি একদিকে নতুন পথ দেখাবে। তেমনি অন্যদিকে গণতান্ত্রিক ঠাকুরগাঁও প্রতিষ্ঠিত করবে।
এ সময় তিনি সম্মেলনের সফলতা কামনা করেন এবং সম্মেলনের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
এ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি উপস্থিত থাকবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এছাড়াও কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাসুজ্জামান দুদুসহ স্থানীয় অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
মন্তব্য করুন


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। বিজয় দিবস উপলক্ষে লন্ডনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ আমি আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে যাবো।
বুধবার বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতে অনুষ্ঠিত ওই সভায় তারেক রহমান আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দু’মাস পর দেশে বহুল প্রত্যাশিত জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের সামনে একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরা বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
এ সময় দেশে ফেরার সময় লন্ডনের বিমানবন্দরে কোনো ধরনের হট্টগোল না করার অনুরোধ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, কেউ যেন বিমানবন্দরে না যান। তিনি বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
তারেক রহমান বলেন, আমি কোনো স্বপ্নের মধ্যে নেই, আমি আছি পরিকল্পনার মধ্যে। তিনি দাবি করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়া সংকটময় সময়ে দেশকে খাদ্যসংকটের কিনারা থেকে উদ্ধার করেছিলেন। বিএনপি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, আগামী নির্বাচনে জনগণের সমর্থনে সরকার গঠন করতে পারবে দলটি। তবে সামনে পথ অত্যন্ত কঠিন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, সামনের পথ অসম্ভব কঠিন। এই কঠিন পথ পাড়ি দিতে হলে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
এ সময় তারেক রহমান দলের ৩১ দফা সংস্কার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশের অসচ্ছল পরিবারের জন্য মাইক্রোচিপ সংযুক্ত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে, যা পরিবারের গৃহকর্ত্রীদের হাতে দেয়া হবে। কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর কথাও জানান তিনি।
শিক্ষা খাতে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ, শিক্ষার্থীদের জন্য সহশিক্ষা কার্যক্রম, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড জোরদারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি জানান, সরকার গঠন করলে ‘কুঁড়ি’ টেলিভিশন অনুষ্ঠান নতুনভাবে সাজানো হবে এবং সেখানে খেলাধুলা যুক্ত করা হবে।
প্রবাসীদের জন্য ভাষা শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে রোগ প্রতিরোধে জোর এবং স্বাস্থ্য খাতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে এসব উদ্যোগের সুফল জনগণ পাবে বলে আশ্বাস দেন।
এছাড়া কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয় বাড়াতে সরকারি সহযোগিতা, ছোট ওয়ার্কস্পেস, ফ্রি ওয়াই-ফাই এবং ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে প্রবাসীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ঐক্য বজায় রাখতে পারলেই একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।
যুক্তরাজ্য বিএনপির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব খসরুজ্জামান খসরুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মাহিদুর রহমানসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য রাখেন।
মন্তব্য করুন


দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশে দুর্ভিক্ষের আলামত দেখছে বিএনপি। দেশের চলমান এই সংকট নিরসনে নির্বাচনের কোনও বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন রিজভী। তিনি বলেন, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণ ভোটের অধিকার ফিরে পেলে সব সমস্যার সমাধান হবে। আর দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে মানুষ কাউকে ছেড়ে দেবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বিএনপি সিনিয়রর যুগ্ম মহাসচিব বলেন, বিবিসি হাসিনার খুনের হুকুমের তথ্য প্রমাণ করেছে। এর আগে ৭৫ এর ২৫ জানুয়ারি বাকশালের মাধ্যমে গণতন্ত্র হত্যা করা হয়েছিল। এখন একটি ভিন্ন চক্র ভোট নিয়ে টালবাহানা করছে।
রিজভী বলেন, ১৮-এর নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিএনপি প্রমাণ করেছে হাসিনার অধীনে নির্বাচন সম্ভব নয়। ফ্যাসিবাদ নানা ছিদ্রপথে প্রবেশের চেষ্টা করছে, এখনও সচিবালয়ে প্রশাসনে ফ্যাসিবাদ বহাল আছে তারা মাথাচারা দিতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মন্তব্য করুন