

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় মেহেরাজ হোসেন ওরফে জিসান (৭) নামে এক শিশুকে অপহরণ করে হত্যার দায়ে ২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে আসামিদের দুটি ধারায় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।
সাজা পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন, বেগমগঞ্জ উপজেলার জিরতলী ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের নুরুল আমিনের ছেলে আবদুর রহিম ওরফে রনি (২১) ও একই গ্রামের সহিদ উল্যার ছেলে মো.সালমান হোসেন শিবলু (২২)।
বুধবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের-১ এর মোহাম্মদ আবদুর রহিম এ রায় দেন।
মামলা ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, হতার শিকার জিসান স্থানীয় জিরতলী বাজারের কাসেম উলুম মাদরাসার মাদরাসার দ্বিতীয় জামাতের ছাত্র ছিল। ২০১৯ সালের ২১ মার্চ দুপুর ১টার দিকে মাদরাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে ভিকটিমের মায়ের অসুস্থতার কথা বলে অপরহরণ করে নিয়ে যায় আসামি রনি ও তার বন্ধু শিবলু। পরে তাকে জেলার সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের শাহাদাতপুর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে। একই দিন সন্ধ্যার পরে তার পরনের জামা কাপড় দিয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। একপর্যায়ে তার শরীরের অর্ধেক মাটিতে পুঁতে রেখে নিহতের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে। ঘটনার দুদিন পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহত শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার অজ্ঞাত আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশ তদন্ত করে ২ আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র জমা দেয়। আদালত ২২জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামিদের যাবজ্জীবন করাদন্ড দেন।
রাষ্ট্রপক্ষে সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মামুনুর রশীদ লাভলু মামলাটি পরিচালনা করেন। তিনি বলেন, ভিকটিমের পিতা প্রবাসী ছিল। আসামি রনি ভিকটিম জিসানের একই বাড়ির দূর সম্পর্কের কাকা হয়। মূলত অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল কিনতে রনি তার বন্ধু লাভলুসহ অপহরণের ঘটনা ঘটায়। পরে তারা জিনাসকে হত্যা করে মুঠোফোনে চাঁদা দাবি করে। আদালত দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আসামিদের উপস্থিতিতে রায় দেন।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় অভিযান পরিচালনা করে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদক জব্দ করেছে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী।
মঙ্গলবার ( ২০ জানুয়ারি) ভোররাতে কুমিল্লার তিতাস উপজেলার মৌটুপি এলাকায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের নিমিত্তে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উক্ত অভিযানে মৌটুপি এলাকা হতে ১টি ৯ মিঃমিঃ পিস্তল, ২ রাউন্ড গোলাবারুদ, ১টি দেশীয় অস্ত্র এবং ২৩ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদক তিতাস থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা নগরীতে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে উজিরপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মোঃ নাঈমুর রহমান মজুমদার মাছুমকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী।
১৫ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে নগরীর দক্ষিণ চর্থার ইপিজেড এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার হওয়া মাছুম চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ঘাসি গ্রামের মৃত. মোখলেসুর রহমান মজুমদাের ছেলে । তিনি দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চিহ্নিত আসামি এবং চৌদ্দগ্রামে সংঘটিত এইট মার্ডার হত্যাকাণ্ডের মামলার ৮৮ নং আসামি।
সূত্রে জানা যায়, নাঈমুর রহমানের কাছ থেকে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নাশকতা পরিকল্পনার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। তার স্বীকারোক্তিতে উঠে এসেছে যে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ ঢাকা শহরের ৮/৯টি স্থানে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে সকাল ৬ টা থেকে ৭টার মধ্যে ভয়াবহ নাশকতা চালানো হবে।
অভিযুক্ত নাঈমুর রহমান আরও জানায়, এবার শুধু মহাসড়ক অবরোধেই সীমাবদ্ধ নয়, তারা এক্সকাভেটর ব্যবহার করে রাস্তাঘাট কেটে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।এর পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি করে দেশের অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করার কৌশলও হাতে নেওয়া হয়েছে।
সেনা অভিযানে গ্রেফতারের পর নাঈমুর রহমানকে ডাক্তারি পরীক্ষার মাধ্যমে কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে কুমিল্লা সিআইডিকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে।
এই গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা জুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও নাশকতার যেকোনো পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা মহানগর জাসাস কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক পদে স্থান পেলেন ডা: আফসান আনিস ও শহীদুল হক সোহেল এবং সদস্য করা হয়েছে ইফতেখার উদ্দিন রাজেস, মো: মাহবুব হোসেন, মো: মাসুদ, জসিম উদ্দিনকে।
বুধবার (৫ নভেম্বর) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য (দফতরের দায়িত্বে) মো: মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিকে এ তথ্য জানা যায়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ্য করা হয়, চলতি বছরের ১ নভেম্বর কুমিল্লা মহানগর জাসাসের আহ্বায়ক/সদস্য সচিবের স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে এই কমিটিতে তাদের অর্ন্তভুক্ত করা হল।
মন্তব্য করুন


বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ধামতী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ মিঠু চিকিৎসা ও ব্যবসার জন্য চীনে অবস্থান করেছিলেন। গত ১৮ জুলাই থেকে তিনি চীনে অবস্থান করছেন। এছাড়াও চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদের লোকজনের হুমকি-ধমকির জন্য এলাকায় সব সময় অবস্থান করতে পারেননি এই ইউপি চেয়ারম্যান। অথচ তাকে ৫ আগষ্ট সকাল ১০ টায় উপজেলার নিউ মার্কেট চত্ত্বরের মারধরের একটি মামলায় ৮১ নম্বর আসামি করা হয়েছে। চীনে অবস্থান করে কিভাবে মারধরের মামলার আসামি হলেন , এ বিষয়টি বেশ সমালোচনার জন্ম দিয়েছে এলাকায়।
দেবিদ্বার উপজেলার দক্ষিণ ভিংলা বাড়ির মো: নাজমুল হক বাদি হয়ে কুমিল্লার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ৪ নং আমলী আদালতে এ মামলাটি দায়ের করেন।
তবে স্থানীয় একাধিক সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দেবিদ্বার উপজেলায় আওয়ামী লীগের মত বিএনপির মধ্যেও গ্রুপিং রয়েছে। আওয়ামী লীগে যেমন রাজী মোহাম্মদ ফখরুল ও আবুল কালাম আজাদের দুই গ্রুপ ছিল, তেমনি বিএনপিতেও সাবেক সংসদ সদস্য মনজুরুল আহসান মুন্সি ও কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব তারেক মুন্সির আলাদা আলাদা গ্রুপ রয়েছে। ফলে আওয়ামী লীগের একটা অংশ অপর অংশকে বিপদে ফেলার জন্য বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে সর্ম্পক উন্নয়ন করে বিভিন্ন মামলায় নাম জড়িয়ে দিচ্ছে। এতে করে কোন প্রকার সংঘর্ষে না থেকেও মামলার আসামি হচ্ছেন অনেকে। ফলে প্রকৃত ভুক্তভোগির ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে জটিলতা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মহিউদ্দিন আহমেদ মিঠু স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে ধামতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বিগত সংসদ নির্বাচনে সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ এবং উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এমপি আজাদের ভাই মামুনের পক্ষে কাজ না করায় প্রতিপক্ষের হুমকি-ধমকির ফলে ইউপি কার্যালয়েও যেতে পারতেন না চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মিঠু। চেয়ারম্যান মিঠুর বসতজমিতে হামলা-ভাংচুর হয়েছে। তাঁর জমি দখলের পায়তারাও হচ্ছে। যার ফলে বছরজুড়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এই চেয়ারম্যান। ফলে জুলাই মাসে অসুস্থ্য হয়ে চীনে যান চেয়ারম্যান মিঠু। সেখানেই বর্তমানে অবস্থান করছেন। সেই চীনে থেকে রাজনৈতিক কারনে মামলার আসামি হয়েছেন চেয়ারম্যান মিঠু।
এই বিষয়ে জানতে মামলার বাদি মো: নাজমুল হকের মুঠোফোনে কল দিলে তিনি কল রিসিভ করেন নি।
এই বিষয়ে ধামতী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ মিঠু জানান, আমি বেশ কয়েক মাস ধরে অসুস্থ্য। তাই চিকিৎসার জন্য বিদেশে অবস্থান করছি। আমাকে অন্যায়ভাবেই মামলার আসামি করা হয়েছে। আশা করি প্রশাসন সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এ বিষয়টির সমাধান করবেন।
এই বিষয়ে জানতে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) মুঠোফোনে কল দিলে তিনি কল রিসিভ করেন নি।
মন্তব্য করুন


জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট হৃদরোগ, বাতজ্বর ও ডায়াবেটিকস এর মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মো: রুহুল আমিনকে ফাঁসাতে নানা অপবাদ দিয়ে মিথ্যা অপপ্রচারে নেমেছে কিশোরগঞ্জ জেলার একটি মহল। এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে ডাক্তার রুহুল আমিন জানান, কিশোরগঞ্জের নিকলী ও বাজিতপুর এলাকায় আমি ১২ বছর যাবত চেম্বার করি।এ এলাকার হাজার হাজার রোগী আমার চিকিৎসায় উপকৃত হয়েছেন এবং হচ্ছেন। নিকলী হেল্থকেয়ার ডায়াগনস্টিক এর মালিক ওমর ফারুক চৌধুরী ও তার স্ত্রী বিলকিস বিভিন্ন সময় রিপোর্ট জালিয়াতি ও ভুয়া রিপোর্ট করে আমার কাছে ধরা পড়ে। এসব কারনে বিভিন্ন সময় আমি চেম্বার ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেই।তারা আর এসব ভুল করবেনা মর্মে ক্ষমা চায় এবং আমাকে বিভিন্নজনকে দিয়ে সুপারিশ করিয়ে চেম্বার করার অনুরোধ করে। আমি ভুল ও জালিয়াতি না করার প্রতিশ্রুতি পেয়ে চেম্বার অব্যাহত রাখি। উল্লেখ্য আমি নিকলী ও পাশ্ববর্তী সরারচর বাজারে দুইটি চেম্বার করি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সরারচর, শুক্রবার সকালে নিকলী ও শুক্রবার বিকেলে পুনরায় সরারচর চেম্বার করি। বৃহস্পতিবার রাতে আমি নিকলী চেম্বার মালিকের বাসায় একটি রুমে থাকি। আমার পরিবার ২০১৭ সালে বাজিতপুর থেকে ঢাকায় চলে আসার পর থেকে আমি ওদের বাসায় প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে অবস্থান করতে হয়। চলতি বছরের ২৩ মার্চ সেহরির সময় চেম্বার মালিক ওমর ফারুক চৌধুরীর মাদকাসক্ত ছেলে ওমর বেলায়েত (পূণ্য)আমার কক্ষে মাদকাসক্ত অবস্থায় প্রবেশ করে আমার মানিব্যাগ ও মোবাইল নিয়ে যায় এবং আমাকে শারীরিকভাবে আহত করে।
তখন ওর বাবা-মা ৯৯৯ এ কল দিলে মাদকাসক্ত ও উন্মাদ ছেলেকে ফায়ার সার্ভিসের সহযোগীতায় পুলিশ দেশীয় অস্ত্রসহ ও আমার লুন্ঠিত মালামালসহ আটক করে।ছেলে পুলিশের হাতে আটক অবস্থায় বের হওয়ার পর আমাকে হত্যার হুমকি দেয়।আমি চেম্বার মালিককে জানাই ছেলেকে জেল থেকে বের করলে আমাকে জানাতে এবং জেল থেকে রিহ্যাবে দিতে।কিন্তু তারা তা না করে আমাকে না জানিয়ে ছেলেকে জেল থেকে মুক্ত করে। আমি বিষয়টি জেনে আমার নিরাপত্তা ইস্যুটিতে দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে ওদেরকে নিকলী চেম্বার ছেড়ে দেয়ার মৌখিক নোটিশ দেই। তারা আমাকে বিভিন্নভাবে ম্যানেজের চেষ্টা করে।তারপরও আমি ১৮ এপ্রিল চেম্বারে না বসলে আমাকে নারীঘটিত ব্যাপারে ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। ঐদিন সন্ধ্যার পর কয়েকজন ব্যাক্তি সাংবাদিক পরিচয়ে আমার সরারচর চেম্বারে এসে জানায় - নিকলীর ফারুক চৌধুরী ও তার স্ত্রী বিলকিস আমার বিরুদ্ধে তাদের মেয়েকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করেছেন।
এর মধ্যে তারা বিভিন্নভাবে আমাকে ও আমার পরিবারকে নানাভাবে হুমকি দিতে থাকে এবং সাংবাদিক পরিচয়ে কিছু ব্যাক্তি আমার কাছে নিউজ করার হুমকি দিয়ে টাকা দাবি করতে থাকে। এতে আমি ১৯ এপ্রিল টঙ্গী থানায় একটি সাধারণ ডায়রি দায়ের করি। আমি কাউকে টাকা না দেয়ায় ২২ এপ্রিল কিছু ব্যাক্তি আমার বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর ফেসবুকে পোস্ট করতে থাকে। ২৩ এপ্রিল তারা ঠিক একমাস আগে যে মামলায় তাদের নিজের ছেলের বিরুদ্ধে আমার ও তার নিজের বাবা-মায়ের উপর হামলার করেছিলো সেই ঘটনাকেই ভিন্নখাতে সাজিয়ে আমার বিরুদ্ধে তাদের মেয়েকে শ্লীলতাহানির মামলা করে। আমি মাত্র একটি চেম্বার না করার পরপরই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমুলক মামলা করে। অথচ আমি ১২ বছর তাদের চেম্বারে রোগী দেখার পরও তারা কোনদিন আমার বিরুদ্ধে ন্যুনতম অভিযোগ করেনি।
এমতাবস্থায় বিভিন্ন ফেসবুক প্রোফাইল ও সংবাদপত্র আমার বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও মুখরোচক ভুয়া নিউজ করে আমার ও আমার পরিবারের জীবনকে দূর্বিসহ করে তুলেছে। তাছাড়া আমার বিরুদ্ধে নিকলী থানায় ভুয়া অভিযোগ দায়ের করে আমাকে প্রচন্ড হয়রানি করছে। এমতাবস্থায় দেশের বিবেকবান মানুষ, ছাত্রজনতা, ডাক্তার সমাজ, বিবেকবান সাংবাদিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আমার অনুরোধ একজন ডাক্তারকে ভয়াবহ হয়রানি থেকে রক্ষা করুন।
মন্তব্য করুন


৫ আগস্টের পরে কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলার আওয়ামীপন্থী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা আত্মগোপনে চলে গেলেও কিছু জনপ্রতিনিধি এখনো স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সহযোগিতায় স্বপদে বহাল রয়েছেন। তেমনি একজন ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শিদলাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম আলাউল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাইফুল ইসলাম পূর্বে ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন এবং বর্তমানে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী। তিনি ২০২২ সালে বিএনপি নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে ইউএনওর কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছিলেন। এমনকি সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগও উঠেছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তার ফেসবুক আইডিতে সরকার বিরোধী বিভিন্ন স্ট্যাটাস দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ এখনো তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি। অথচ তিনি প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
একাধিক স্থানীয় সূত্র জানান, জুলাই আন্দোলন চলাকালে ছাত্র-জনতার তালিকা করে প্রশাসন ও আওয়ামী লীগ নেতাদের হাতে পৌঁছে দিতেন এই ইউপি চেয়ারম্যান। অভিযোগ রয়েছে তিনি নিজেই অস্ত্র হাতে মহড়া দিতেন । এছাড়া মাদক ও ভূমি দখলেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সর্বশেষ নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় এফ আই আর ভুক্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও কেন তাকে এখনো গ্রেফতার করা হচ্ছে না, তা কারোরই বোধগম্য নয়।
৩১ অক্টোবর শিদলাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে পিটিয়ে হাত ভাঙার অভিযোগ উঠে। অভিযোগে বলা হয়, ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি পূরণ না করায় তিনি চেয়ার দিয়ে স্ত্রী মারিয়া আক্তারকে মারধর করেন।
যদিও ওই সময় স্ত্রী নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করে সাইফুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি মিথ্যা।
ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি সাজিদুর রহমান জানান, শুনেছি কোতোয়ালি বা সদর দক্ষিণ থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা থাকতে পারে। আমার এখানে ২০২২ সালের একটি মামলা ছিল, এটার বর্তমান অবস্থা কি জানিনা? আদালত ভালো বলতে পারে। আর ৫ আগস্টের পরে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কোন মামলা হয়নি এখানে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা সদর উপজেলার ২নং দূর্গাপুর (উঃ) ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোনিয়া আক্তারের প্রতি অনাস্থা প্রদান ও অত্র ইউনিয়নে বিধি মোতাবেক প্রশাসক নিয়োগ প্রদানের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সদস্যরা। এরই প্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার (৯ আগষ্ট) সকালে উপজেলা সমবায় অফিসার মোঃ শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া ২ নং দুর্গাপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় পরিদর্শনে যান এবং এবং কার্যালয়ের বিভিন্নজনের সাথে কথা বলেন। তবে অভিযোগকারী ওয়ার্ড সদস্য কেউই ওইদিন ইউনিয়ন পরিষদে যাননি।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সুত্র জানায়, এখানে বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী ইউনিয়ন সদস্যদের ঐদিন ইউনিয়ন পরিষদে আসতে বাধা প্রদান করে।
লিখিত অভিযোগে ইউপি সদস্য মোঃ আব্দুল মতিন, আব্দুল জলিল, মোহাম্মদ আবুল হোসাইন, মোঃ আসলাম খান, মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম, মোঃ জাহের, রোছমত আলী, নাজমুল হাসান, খোরশেদ আলমসহ আরো অনেকে উল্লেখ করেছেন, আমরা আদর্শ সদর উপজেলার ২নং দূর্গাপুর (উঃ) ইউনিয়নের নির্বাচিত সদস্য। ৫ আগষ্ট প্রেক্ষাপটে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এর দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে অত্র ইউনিয়নের ৩নং প্যানেল চেয়ারম্যান সোনিয়া আক্তারকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়া হয়। এক্ষেত্রে ১নং প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল ও ২নং প্যানেল চেয়ারম্যান নাজমুল হাসানকে উপেক্ষা করা হয়, যাহা বিধি সম্মত নয়। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোনিয়া আক্তার দায়িত্ব পাওয়ার পর হতে বিভিন্ন রকম অনিয়ম ও দূর্নীতির সাথে জড়িয়ে পরেন। ইউনিয়নের বিভিন্ন রকম ট্যাক্স টোল বৃদ্ধি করে দেয়। বিভিন্ন সরকারি অনুদানের বিষয় আমাদেরকে অবগত না করে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেন নিজের ইচ্ছামত। পরবর্তীতে আমাদেরকে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন। আমাদেরকে বিভিন্ন প্রকার ভয় ভীতি প্রদর্শন করেন। জনগণের সামনে আমাদের কে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। ইউনিয়নের রিলিফ বন্টনে নানা অনিয়ম করেন। নিয়মিত অফিস করেন না, ফলে জনসাধারণ বিভিন্ন রকম ভোগান্তিতে পরেন। উল্লেখ্য যে, ইউনিয়নের হতদরিদ্র চাউলের ডিলারশীপ তার মায়ের নামে নিয়ে নিজে পরিচালনা করেন এবং বিতরণে নানা রকম অনিয়ম করেন। এহেন অবস্থায় আমরা নিম্ন স্বাক্ষরকারীগণ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোনিয়া আক্তারের প্রতি অনাস্থা প্রদান করিলাম এবং বিধি মোতাবেক একজন প্রশাসক নিয়োগ করার জন্য মহোদয়ের নিকট সদয় আবেদন করছি।
সমবায় অফিসার মোঃ শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, যারা অভিযোগ করেছে তারা আমার পরি পরিদর্শনের দিন ইউনিয়ন পরিষদে আসেনি। ফলে আমি কথা বলতে পারিনি তাদের সাথে । তদন্ত চলছে। পরে বিস্তারিত জানাবো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন ইউপি সদস্য জানান, আমাদেরকে পথে পথে বাঁধা প্রদান করা হয়েছে, হুমকি দেয়া হয়েছে। তাই আমরা আতঙ্কে ঐদিন ইউনিয়ন পরিষদে যেতে পারিনি। বিএনপি'র একটি শক্তিশালী মহল এর যুবলীগ নেত্রী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কে এই পদে বহাল রাখতে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করছে।
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার মুঠো ফোনে কল দিলে সংযোগ পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা- ৭ (চান্দিনা) সংসদীয় আসনে ২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এ আসনে ৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করে দুজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোঃ রেজা হাসান।
মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া দুজন প্রার্থী হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মাওলানা সালেহ সিদ্দিক ও বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের প্রার্থী সজল কুমার কর।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
কক্সবাজারের পেকুয়ায় আসছেন জনপ্রিয় ইসলামী আলোচক মিজানুর রহমান আজহারী। তার আসার খবরে মাহফিল শুরু হওয়ার আগেই মানুষের ঢল নেমেছে।
পেকুয়ায় মরহুম মাওলানা শহিদ উল্লাহ স্মৃতি সংসদ ও সমাজ উন্নয়ন পরিষদের যৌথ উদ্যোগে এ মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে আলোচনা করার কথা রয়েছে তার।
আয়োজক কমিটি ও প্রশাসন তাফসির ময়দানস্থলে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
মিজানুর রহমান আজহারী আজ শুক্রবার রাত ৮টার দিকে হেলিকপ্টারে চড়ে পেকুয়া আসার কথা রয়েছে এবং তিনি রাত ১০টায় আলোচনা করবেন।
পেকুয়া সমাজ উন্নয়ন পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা নিয়ামত উল্লাহ নিজামী বলেন, ‘আজহারী হুজুরসহ জনপ্রিয় ইসলামী আলোচকদের আগমনে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ঢল নেমেছে। মানুষ সামাল দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে যৌথ বাহিনী আমাদের সহযোগিতা করছে। আজহারী হুজুর রাত ১০টায় আলোচনা করবেন।’
মাহফিলে আসা কয়েকজন যুবক বলেন, হুজুরকে দেখতে এসেছি। এত পরিমাণ মানুষ হয়েছে যে প্যান্ডেলে পর্যন্ত যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সিরাজুল মোস্তফা বলেন, বৃহত্তর ঐতিহাসিক তাফসির মাহফিল ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এরই মধ্যে চকরিয়া-পেকুয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো.রাকিব-উর রাজা মাহফিলের স্থান পরিদর্শন করেছেন। আমাদের ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন


ঝটিকা মিছিলের মাধমে জন নিরাপত্তা বিঘ্ন ও রাষ্ট্র বিরোধী কর্মকান্ডের অভিযোগে কুমিল্লা জেলা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৫০ জনকে গ্রেফতার করেছে ।
শুক্রবার রাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গ্রেফতারকৃত কয়েকজনের কাছ জানা যায়, বিদেশে পলাতক আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার,রওশন আলী মাষ্টার সহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কয়েকজন নেতা তাদের নিজ এলাকায় অর্থ পাঠিয়ে সরকার পতনের জন্য ঝটিকা মিছিল করাচ্ছে। ক্ষেত্র বিশেষ জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয় ৫০ সেকেন্ড স্থায়ী মিছিলকারীকে। একেবারে সংক্ষিপ্ত সময়ের এই মিছিলের অধিকাংশ সদস্য নিজেকে গোপন করতে রুমাল কিংবা মাস্ক দিয়ে মুখ ঢাকতে দেখা যায় । টাকার বিনিময়ে করা মিছিলে কিছু কিছু নির্দলীয় ভাড়াটে লোকও রয়েছে, যারা মাইক্রোবাস ও সিএনজি যোগে নিজ এলাকার বাইরে গিয়ে এই কাজ করে। আবার সোস্যাল মিডিয়ায় উস্কানি কিংবা প্ররোচনা দিয়ে আত্ম গোপনে থাকা কেউ কেউ মিছিল করতে ইন্দন দিচ্ছে।
রাষ্ট্র বিরোধী অপরাধমুলক কার্যকলাপের মাধ্যমে জননিরাপত্তা বিঘ্ন ও এলাকায় বিশৃংখলা সৃষ্টি করা এসব সদস্যের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কুমিল্লা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আব্দুল্লাহ অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মন্তব্য করুন