

৩৩ পদাতিক ডিভিশনের অধীনস্থ ৪৪ পদাতিক ব্রিগেডের ২৩ বীর-এর আওতায় কুমিল্লা সদর উপজেলার রাণীরবাজার এলাকায় এক বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের চার সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়। অভিযানে সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত ৩ গজ ইউনিফর্ম কাপড়সহ বিভিন্ন অবৈধ ও সন্দেহজনক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযান শেষে আটককৃতদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর কুমিল্লা কোতয়ালি মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।
উদ্ধারকৃত মালামালসমূহ হল, ইয়াবা ৭৮ পিস, মোবাইল ফোন ৯ টি,পাওয়ার ব্যাংক ১ টি, চাপাতি ১ টি, কুড়াল ১ টি, বড় ছুরি ১ টি
কাঁচি ২ টি, কাটিং প্লাস ১ টি, সিসিটিভি ডিভিআর ১ টি, সেলাই রেঞ্জ ১ টি, বাটুল (লোহার বস্তু) ১ টি, স্ক্রু ড্রাইভার ২ টি, গাঁজা ২৫০ গ্রাম ও ছুরি ১ টি এবং
সেনাবাহিনীর ইউনিফর্ম কাপড় ৩ গজ।
আটককৃত গ্যাং সদস্যরা হলেন, কুমিল্লা বুড়িচং উপজেলার কোরপাই এলাকার দিলীপ চন্দ্র শীলের ছেলে চয়ন চন্দ্র শীল, সদরের দুর্গাপুর ইউনিয়নের চম্পকনগর এলাকার হানিফের ছেলে মোহাম্মদ ফরিদ, দেবিদার উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের কাজল মিয়ার ছেলে নাসির উদ্দিন
এবং একই গ্রামের কবির উদ্দিনের ছেলে তুহিন।
উদ্ধারকৃত সেনাবাহিনীর ইউনিফর্ম কাপড় একটি স্পর্শকাতর নিরাপত্তাজনক উপাদান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি নিয়ে গভীর অনুসন্ধান ও নিরাপত্তা বিশ্লেষণে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কিশোর গ্যাং সদস্যদের এই ধরনের তৎপরতা ভবিষ্যতে বড় ধরণের নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টি করতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মনে করছেন।
৩৩ পদাতিক ডিভিশনের ২৩ বীর-এর এমন সঠিক ও কৌশলী অভিযানে এলাকাবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা হয়ে থাকবে।
মন্তব্য করুন


চাঁদপুর নৌরুটে শরিয়তপুর, ভোলা, বরিশাল, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকাগামী লঞ্চ চলাচল প্রায় ৬০ ঘণ্টা ধরে বন্ধ থাকার পর স্বাভাবিক হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় মোখার প্রভাবে সৃষ্ট বৈরী আবহাওয়ার কারণে শুক্রবার রাত ১০টা ১৫ মিনিট থেকে বন্ধ থাকার পর সোমবার (১৫ মে) সকাল ৯টার দিকে পুনরায় লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন চাঁদপুর নদী বন্দরের নৌনিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং বন্দর ও পরিবহন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক শাহাদাত হোসেন।
তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণিঝড় মোখা বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করে যাওয়া এবং আবহাওয়া সংক্রান্ত প্রতিকূল পরিস্থিতি পূর্বের তুলনায় স্বাভাবিক হওয়ায় বিআইডব্লিউটিএ এর চেয়ারম্যানের নির্দেশনা মোতাবেক প্রায় ৬০ ঘণ্টা পর আজ সোমবার সকাল ৯টা ১৫ মিনিট থেকে পুনরায় ঢাকা-চাঁদপুর, চাঁদপুর-নারায়ণগঞ্জসহ চাঁদপুর নৌপথের লঞ্চসহ সকল ধরনের নৌযান চলাচল পুনরায় শুরু করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
আনোয়ারুল হক/এবিএস
মন্তব্য করুন


চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (সিইপিজেড) আল হামিদ টেক্সটাইল নামে একটি কারখানায় আগুন লেগেছে। নয়তলা ভবনটিতে পাঁচ শতাধিক শ্রমিক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়।
চট্টগ্রামের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, দুপুর পৌনে ২টার দিকে কারখানায় আগুনের সংবাদ পেয়েছি।
আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট কাজ করছে। কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এর আগে গত মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর মিরপুর রূপনগর শিয়ালবাড়ি এলাকায় প্রিন্টিং কারখানা এবং কেমিক্যাল গোডাউনে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। এই আগুনে ১৬ জন পুড়ে মারা যায়।
তাদের মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জনের মরদেহ গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত শনাক্ত করেন স্বজনরা। ডিএনএ পরীক্ষার পর স্বজনদের কাছে এসব মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ নার্গিছ আক্তারকে স্বপদে বহালের দাবীতে বিবৃতি দিয়েছে বিশিষ্ট নাগরিকরা। লিখিত এক বিবৃতিতে তারা জানান, আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লা কালেক্টরেট স্কুল, বর্তমানে স্কুল এন্ড কলেজটি প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই ভালো পড়াশুনা এবং ভালো ফলাফল করে আসছিল। ৫ই আগস্ট ২০২৪ এর পর স্কুলটিতে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতির কারণে অধ্যক্ষ নার্গিছ আক্তারকে তাঁর দায়িত্ব পালন করতে দিচ্ছে না। আমরা মনে করি এটা অন্যায় ।
অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ থাকে তাহলে আইন-আদালতের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অধিকার করো আছে বলে আমরা মনে করি না । আর যেহেতু এটি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং এটি জেলা প্রশাসকের নিয়ন্ত্রণে, তাই জেলা প্রশাসকের কাছে অধ্যক্ষকে পূর্ণ নিরাপত্তাসহ কর্মস্থলে যোগদান করানোর দাবী জানাচ্ছি। ইতোমধ্যে অনেক দিন হয়ে গেছে, অধ্যক্ষবিহীন বা অধ্যক্ষের অনুপস্থিতে পড়াশুনা চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। তাই অবিলম্বে অধ্যক্ষ মহোদয়কে সম্পূর্ণ নিরাপত্তাসহ যোগদান করানোর জন্য জেলাপ্রশাসককে আহ্বান জানাই ।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন- সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জহিরুল হক দুলাল, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান , কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ , মুক্তিযোদ্ধা হাজী মো. ফরিদ উদ্দীন, রাজনীতিবিদ আবদুর রাজ্জাক , সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আবুল কাশেম , রাজনীতিবিদ শেখ আবদুল মান্নান , লেখক ও গবেষক আহসানুল কবীর, কবি ও কথাশিল্পী সফিকুল বোরহান , কবি ও প্রকাশক হালিম আবদুল্লাহ, কবি ও গীতিকার শিহাব উদ্দিন, চিত্রশিল্পী মো. শাহ আলম, নাট্যকর্মী নন্দন ভৌমিক, কবি ও কথাশিল্পী গাজী মোহাম্মদ ইউনুস , সাংস্কৃতিক কর্মী জসীম উদ্দিন আহমেদ, সংগীত শিল্পী নির্মল সূত্রধর , আইনজীবী স্বর্ণকমল নন্দী পলাশ ।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মানবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের উদ্যোগে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগরে একটি বিনামূল্যের মেডিকেল ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়।
এ মেডিকেল ক্যাম্পে নবীনগর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মোট ১,৩৯৩ জন রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন, যার মধ্যে পুরুষ ৩২৪ জন, নারী ৭০৬ জন এবং শিশু ৩৬৩ জন। পাশাপাশি স্থানীয় অ্যানেস্থেশিয়ার মাধ্যমে ৫টি সফল অপারেশন সম্পন্ন করা হয়।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও মেডিকেল স্টাফরা বিনামূল্যে চিকিৎসা, বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ও ওষুধ প্রদান করেন।
এ মানবিক উদ্যোগে স্থানীয় জনগণ সন্তোষ প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় ঘারমোড়া বাজার গরুর হাটের ইজারাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। তবে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি যাতে অবনতি না হয় সেজন্য উপজেলা প্রশাসন নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।
গত সোমবার সকালে ঘারমোড়ার গরুর হাটে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় আতংকে আছে দূর দুরান্ত থেকে আসা ক্রেতা, বিক্রেতাসহ স্থানীয় এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘারমোড়ার গরুর হাট এক বছরের জন্য ইজারা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ইজারাদার হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন হোমনা উপজেলা ঘারমোড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা শাহজাহান মোল্লা ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু মুসা । ১ কোটি ১১ লাখ টাকায় ইজারা নেন ঘারমোড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু মুসা। পরে হোমনা উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান ইজারা না পেয়ে আবু মুসার কাছে ২০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দেওয়ায় তার লোকজন গরুর হাটে ভাংচুর করে ক্যাশ বাক্স নিয়ে যায়। ওই হামলায় হোমনা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো: ফয়সাল, ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মো:জালাল, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের মো মুকুল মেম্বার, ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো:মোসলেম আহত হন। এ বিষয়ে গরুর হাটের ইজারাদার আবু মুসা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।
এ বিষয়ে ইজারাদার ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু মুসা জানান, সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে গত ৩ মার্চ ঘারমোড়া গরু বাজারের ডাক পেয়েছি । কিন্তু ঘারমোড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাজাহান মোল্লা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের লোকবল নিয়ে আমার কাছে বাজারের শেয়ার দাবি করেন, আমি শেয়ার দিতে না বলায় পরবর্তীতে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে বলেন চেয়ারম্যান শাজাহান। চাদার টাকা না পেয়ে তার লোকবল দিয়ে বাজার ভাঙচুর এবং ক্যাশ থেকে ইজারার টাকা লুট করে নিয়ে যায় তার বাহিনীরা এবং আমার ছেলে ফয়সাল মিয়াকে কুপিয়ে জখম করে, এছাড়া অনেকে আহত হয়। পরবর্তীতে থানায় মামলা হয়, এখন পর্যন্ত কোন আসামি গ্রেফতার করা হয়নি বলে জানান তিনি।
স্থানীয় সূত্রমতে, নানা অনিয়মের অভিযোগ ও বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সাথে শাহজাহান মোল্লার সখ্যতা রয়েছে বলে জানা যায়। সরকারি খাল দখল করে দোকান ভাড়া দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঘারমোড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান মোল্লার বিরুদ্ধে। কুমিল্লা-১ (হোমনা) সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদকে ফুলের শুভেচ্ছা বিনিময় করার ছবি রয়েছে ফেসবুকে। এছাড়াও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সময় তিনি উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এছাড়াও চেয়ারম্যান শাহজাহান মোল্লার বিরুদ্ধে সরকারের ১নং খাস খতিয়ানের নদীর অংশ এবং রাস্তার পাশের জমি দখল করে দোকান ভাড়া দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান মোল্লা মুঠোফোনে জানান, তিন বারের মতো চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি । ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা।
হোমনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে সে বিষয়ে প্রশাসন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে । আশা করি অপ্রীতিকর কোন ঘটনা ঘটবে না।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাবুটিপাড়া ইউনিয়নের বাবুটিপাড়া (ভৈষখোলা) গ্রামে দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে করে অন্তত সাত থেকে আটটি পরিবার চরম ভোগান্তিতে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী বাবুটিপাড়া (ভৈষখোলা) গ্রামের ইদ্রিস মিয়ার ছেলে আবুল হাশেম জানান, একই গ্রামের ইসমত আলীর ছেলে আলী আহাম্মদ আলামিন এবং শামসুল হকের ছেলে সুমন, সোহাগ ও সাইফুলের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এরই মধ্যে কিছুদিন আগে অভিযুক্তরা আবুল হাশেম ও তার পরিবারের লোকজনকে মারধর করে। এ ঘটনায় তিনি মুরাদনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর থেকে অভিযুক্তরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আবুল হাশেম গংদের বিভিন্নভাবে হুমকি ও ধমকি দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে মামলা তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানালে সম্প্রতি আলী আহাম্মদ আলামিন, সুমন, সোহাগ ও সাইফুল মিলে আবুল হাশেমদের দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তায় কাটা দিয়ে বন্ধ করে দেন।
এতে করে আবুল হাশেম ও তার পরিবারের সদস্যসহ আশপাশের সাত থেকে আটটি পরিবার তাদের ফসলি জমিতে যেতে পারছেন না। ফলে কৃষি কাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় চরম অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন তারা।
এ বিষয়ে সরেজমিনে গিয়ে অভিযুক্ত আলী আহাম্মদ আলামিন, সুমন, সোহাগ ও সাইফুলকে পাওয়া যায়নি। তবে তাদের বক্তব্য জানতে চাইলে সুমন, সোহাগ ও সাইফুলের মা, শামসুল হকের স্ত্রী ছাফিয়া বেগম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমাদের বাড়িতে কোনো পুরুষ মানুষ থাকেন না। আমরা শুধু মহিলারা থাকি। আবুল হাশেম যে অভিযোগ করেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। বরং আমাদের অনুমতি না নিয়ে তারা আমাদের জায়গা থেকে মাটি কেটে ড্রেন নির্মাণ করেছেন।”
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং চলাচলের রাস্তা পুনরায় উন্মুক্ত করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন


শারদীয় দুর্গাপূজা যথাযথভাবে ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর সক্রিয় ভূমিকার অংশ হিসেবে বুধবার কুমিল্লা নগরীর মহেশাঙ্গন পূজামন্ডপ পরিদর্শন করেন ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মোঃ নাজিম-উদ-দৌলা, এসপিপি, এনডিসি, পিএসসি, পিএইচডি।
তিনি বুধবার (১ অক্টোবর) বেলা পৌনে ১২ টায় পূজামন্ডপে পৌঁছে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জনগণ ও সাংবাদিকদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং পূজামন্ডপ প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করেন।
সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ শ্যামল কৃষ্ণ সাহা (আহ্বায়ক, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট, কুমিল্লা মহানগর), সনজিৎ দেবনাথ (সদস্য সচিব), রাজীব সাহা (যুগ্ম আহ্বায়ক) ও প্রদীপসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাদের সাথে মুক্ত আলোচনা করে সেনাবাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সিভিল প্রশাসনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের বিষয়টি জিওসি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন।
তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের সার্বিক নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পূজা উদযাপনে সেনাবাহিনীর সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং সমাজের সকল ধর্মাবলম্বীর নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী সবসময় পাশে থাকবে বলে মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি ঈশ্বর পাঠশালার ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ছেলেদের ও মেয়েদের হোস্টেলে দুটি ফ্রিজ উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন।
পরিদর্শনকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সাইফুল মালিক এবং কোতয়ালি থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহিনুল ইসলাম। সিভিল প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি )তানজিনা জাহান।
পরিদর্শনকালে জিওসির সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন ৪৪ পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এনামুল হক এবং ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের কর্নেল স্টাফ কর্নেল মেহেদী হাসান। পরিদর্শনের সার্বিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে ছিলেন ২৩ বীর এর কমান্ডিং অফিসার ও ইউনিট সদস্যবৃন্দ।
মহেশাঙ্গন পূজামন্ডপে জিওসি মহোদয়ের এ সফর হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা, নিরাপত্তাবোধ ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ মন্তব্য করেন।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই ভূঁইয়া কানুকে জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্চিতের একটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ইতোমধ্যেই এ ঘটনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুছ সরকার অভিযুক্তদের গ্রেফতারে বিবৃতি দিয়েছেন। পাশাপাশি বলেছেন কানুর বিরুদ্ধে ৮-৯টি মামলা রয়েছে।
চৌদ্দগ্রাম থানা সূত্রেও জানা যায়, আব্দুল হাই কানুর বিরুদ্ধে ১টি হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল ১ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, রবিবার দুপুরে স্থানীয় বাতিসা ইউনিয়নের কুলিয়ারা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মুক্তিযোদ্ধা ও কেন্দ্রীয় কৃষকলীগ নেতা আব্দুল হাই কানুকে জুতার মালা পড়ায় স্থানীয় প্রবাসী আবুল হাশেমসহ এলাকাবাসী।
এসময় স্থানীয়দের বলতে শোনা যায়, আব্দুল হাই কানুর কারণে তারা গত ১৫ বছর এলাকায় থাকতে পারেনি।
২০১৬ সালের আবু বক্কর ছিদ্দিক প্রকাশ রানা হত্যার প্রতিবাদে এবং কানু ও তার ছেলে বিপ্লবকে গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবীতে স্থানীয় আ’লীগ সমাবেশ করে।
সমাবেশে উপজেলা আ’লীগের প্রচার সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন বলেন, আব্দুল হাই কানুর কারণে স্থানীয় আ’লীগ নেতাকর্মীরাও এলাকাছাড়া।
সোমবার সকালে সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে স্থানীয় জসিম উদ্দিন বলেন, আবদুল হাই কানুর সাথে আ’লীগ ব্যতিত আর কোন রাজনৈতিক দ্বন্ধ নেই।
ভাইরাল ভিডিওটি রাজনৈতিক নয়। এলাকার ভুক্তভোগীরা ঘটনা করেছে। এসময় আমিও সাথে ছিলাম। হত্যাকান্ডের শিকার রানা হত্যা মামলায় ১নং আসামী কানু। আওয়ামী লীগ নেতা শাহীন হত্যার ঘটনাও অন্যতম নির্দেশদাতা কানু মেম্বার। কুলিয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধী এক প্রার্থী আবদুল হালিম মজুমদারকে লাথি মেরে পুকুরে ফেলে দেয়। ঐ নির্বাচনে আমাকেও লাঞ্চিত করে।
স্থানীয় ট্রাক্টর চালক আনোয়ার হোসেন বলেন, পারিবারিক দ্বন্ধে এ ঘটনা ঘটেছে। এর সাথে রাজনীতির সম্পৃক্ততা নাই। গত ২০১৬ সালের ৩ই সেপ্টেম্বর যুবলীগ নেতা আবু বক্কর ছিদ্দিক প্রকাশ রানাকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে কানু মেম্বার। ঐদিন আমি নিজেও গুলির শব্দে ব্রীজ থেকে লাফ দিয়ে আহত হই। কানু মেম্বার আমার চাচা নুরুল ইসলাম মিনারকে রাতের আধাঁরে মারধর করে।
আবদুল হালিম মজুমদারের ভাই আবদুর রহমান (৮০) বলেন, কানু আমার ভাইকে বিদ্যালয়ের নির্বাচনের সময়ে লাথি মেরে পুকুরে ফেলে দেয়। আ’লীগ সরকারের সময়ে আমার ভাইয়ের থেকে ২৬লাখ টাকা চাঁদাবাজী করে। এমনকি আমার ঘর নির্মাণের সময় আমার থেকেও ৭ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। এসময় তিনি সাংবাদিকদের আরও বলেন, বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির নির্বাচনের দ্বন্ধেই রবিবার দুপুরে কানুকে আটক করে এলাকাবাসী।
সাবেক ইউপি মেম্বার ও অবঃ সেনাসদস্য আবদুল হক বলেন, কানু এই এলাকায় গত ১৭ বছরে সন্ত্রাসের রাজনীতি কায়েম করেছে। একাধিক হত্যা, বাড়িঘর ভাংচুর এবং চাঁদাবাজীর সাথেও সে জড়িত। স্থানীয়রা পূর্বের ক্ষোভ থেকে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী বেলাল হোসাইন বলেন, আ’লীগ নেতা আব্দুল হাই কানু হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামী। পূর্বের বিভিন্ন বিরোধ থেকে এলাকাবাসী এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এর সাথে রাজনৈতিক কোন সম্পৃক্ততা নাই। এমনটি ভাইরাল ভিডিওকে উল্লেখিত ব্যক্তিগত জামায়াতের কোন পদ-পদবীতে নাই।
চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এটিএম আক্তারুজ্জামান সোমবার দুপুরে বলেন, আব্দুল হাই কানুর বিরুদ্ধে ৮-৯টি মামলার বিষয়ে পুরনো অপারেটরের মাধ্যমে জেনেছি। তবে আমার কাছে একটি হত্যা মামলা এবং একটি ভাংচুরের মামলার তথ্য রয়েছে। ভাইরাল ভিডিওতে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ বলেন, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই কানুকে লাঞ্ছিতের ঘটনা অপ্রত্যাশিত। মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছি আমরা। পরিবার থেকে এখনো লিখিত কোন অভিযোগ দেয়া হয়নি। এ ঘটনায় একটা মামলার প্রস্তুতি চলছে।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আরাফাতুল ইসলাম বলেন, সকলের সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। তিনি যদি কোন অপরাধ করে থাকেন আইন অনুযায়ী বিচার হবে। অপরাধীকে জুতার মালা পড়ানো সম্মানহানীর কোন সুযোগ আইনে নাই।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার উনকুট পশ্চিমপাড়া এলাকায় যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে যুবলীগ নেতা অপুর বাড়ি থেকে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করা হয়েছে।কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার উনকুট পশ্চিমপাড়া এলাকায় যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে যুবলীগ নেতা অপুর বাড়ি থেকে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করা হয়েছে।
যুবলীগ নেতা রবিউল হোসেন অপু চৌদ্দগ্রাম উপজেলার উনকুট পশ্চিমপাড়ার আবুল বাশার মুহুরির ছেলে। সে শুভপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৩০ জানুয়ারি মধ্যরাতে অভিযানের সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি বাড়িতে উপস্থিত না থাকায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশি পাইপ গান ও একটি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও মালামাল পরবর্তীতে আইনানুগ প্রক্রিয়ার জন্য চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমনে এ ধরনের যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন


চাঁদপুর জেলার হাইমচর উপজেলার হাওলাদার বাজার এলাকা হতে ১১টি দেশীয় অস্ত্র এবং ২টি মোবাইলফোনসহ একজনকে করা হয়।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে চাঁদপুর জেলায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আটক হওয়া সৈয়দ আহমেদ বেপারী (৪৫) হাইমচর উপজেলার আলগী দক্ষিণ ইউনিয়নের মৃত. নূর মোহাম্মদ বেপারীর ছেলে।
আটক হওয়া ব্যক্তি এবং উদ্ধারকৃত সরঞ্জামাদি হাইমচর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, দেশব্যাপী আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাস দমন এবং মাদক নির্মূলের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করে আসছে। দেশের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার্থে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা বদ্ধপরিকর।
মন্তব্য করুন