

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক টেলিফোন আলাপে ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত সংক্রান্ত সংকট নিরসনে যুক্ত্রাষ্ট্রের সহায়তার করতে চান।
বুধবার ওভাল অফিসে সিএনএন-এর কেইটলান কলিন্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একথা বলেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানায়, পুতিন মূলত ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার মাধ্যমে বর্তমান যুদ্ধাবস্থায় ভূমিকা রাখতে আগ্রহী। তবে ট্রাম্প পুতিনকে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ইরানের বিষয়ে কোনো সহায়তা গ্রহণের আগে তিনি ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান চান। ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ—দুই অঞ্চলের যুদ্ধ পরিস্থিতির কূটনৈতিক মোড়কে এক সুতোয় গেঁথে দিয়েছে।
টেলিফোন সংলাপটিকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ হিসেবে বর্ণনা করে ট্রাম্প জানান, ইউক্রেন সংঘাতের একটি সমাধান ‘তুলনামূলক দ্রুতই’ চলে আসবে। পুতিনের প্রস্তাবের প্রসঙ্গ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে চান এবং সেই মজুত সরিয়ে নিতে আমাদের সাহায্য করতে পারেন।
এর আগে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির (জেসিপিওএ) আদলে মস্কো ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের জিম্মায় নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। ট্রাম্প বুধবার এই প্রস্তাবটি সরাসরি নাকচ করে না দিলেও তার মূল মনোযোগ যে বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের দিকে, সেটি তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘদিনের পরিচিত পুতিনের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট অনেক আগেই একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে প্রস্তুত ছিলেন। ট্রাম্পের মতে, কিছু মানুষের কারণে পুতিনের পক্ষে তখন সমঝোতা করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।
এখন সেই বাধা কাটিয়ে দ্রুত একটি সমাধানে পৌঁছানোর ব্যাপারে ট্রাম্প আশাবাদী। ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে, ইরান যাতে ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেজন্য তাদের ইউরেনিয়াম মজুত তৃতীয় কোনো দেশে সরিয়ে নেওয়া একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে, আর রাশিয়া এই ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হতে চায়।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই কৌশলটি একই সঙ্গে দুটি বড় বৈশ্বিক যুদ্ধের লাগাম টেনে ধরার একটি প্রয়াস। একদিকে পুতিনের সহায়তা নিয়ে ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণ করা এবং অন্যদিকে সেই সহায়তার বিনিময়ে ইউক্রেন যুদ্ধের একটি সম্মানজনক সমাপ্তি নিশ্চিত করা।
যদিও ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি, তবে পুতিনের সঙ্গে তার এই কথোপকথন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ১ মে’র সময়সীমার আগে ট্রাম্পের এই কূটনৈতিক তৎপরতা ইরান ও ইউক্রেন—উভয় সীমান্তের উত্তেজনা প্রশমনে কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে বিশ্ববাসী।
তথ্যসূত্র: সিএনএন
মন্তব্য করুন


যুদ্ধবিরতি ভেঙে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। দক্ষিণ রাফায় পাল্টাপাল্টি গোলাগুলিতে এক ইসরায়েলি সেনা আহতের ঘটনায় গাজায় শক্তিশালী হামলার নির্দেশ দেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আলজাজিরা।
এদিকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে হামাসের সশস্ত্র শাখা কাসাম ব্রিগেডস।
সেইসঙ্গে নিখোঁজ এক জিম্মির মরদেহ হস্তান্তর প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার কথা জানিয়েছে হামাস। এক বিবৃতিতে তাঁরা সতর্ক করে বলেছে, ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বড়সড় কোনও উস্কানি দেওয়া হলে গাজায় মৃতদেহ উদ্ধারের কার্যক্রম ব্যাহত হবে এবং বাকী ১৩ জন জিম্মির মরদেহ উদ্ধার বিলম্বিত হবে।
গাজার চিকিৎসা সূত্রের বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানিয়েছে, মঙ্গলবার উত্তর গাজা শহরের সাবরা পাড়ায় একটি আবাসিক ভবনে চালানো ইসরায়েলি হামলায় ৪ জন নিহত হন। অন্যদিকে দক্ষিণ খান ইউনিসে আরো ৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
সূত্র জানিয়েছে, এসব হামলায় অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। গাজা শহরের আল-শিফা হাসপাতালের পাশে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। গাজার আকাশে ইসরায়েলের বড় ধরনের কার্যক্রম চলছে; সেখানে ড্রোন উড়ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা এই হামলাকে 'বিশাল' বলে জানিয়েছেন। এই হামলা নিরীহ ফিলিস্তিনিদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
এদিকে ইসরায়েলের এই হামলা সত্ত্বেও যুদ্ধবিরতি এখনও টিকে আছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্স । তিনি বলেন, “তার মানে এই নয় যে এখানে-ওখানে ছোটখাটো সংঘর্ষ হবে না।আমরা জানি গাজায় হামাস বা অন্য কেউ একজন (ইসরায়েলি) সৈন্যর ওপর হামলা করেছে। আমরা আশা করি ইসরায়েল জবাব দেবে, তবুও আমি মনে করি শান্তি স্থিতিশীল থাকবে।”
অন্যদিকে রাফাহতে সংঘটিত ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছে হামাস। হামাস এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের সর্বশেষ এই হামলাকে যুদ্ধবিরতির “স্পষ্ট লঙ্ঘন” বলে অভিহিত করে আগ্রাসন বন্ধের দাবি জানিয়েছে এবং বলেছে, তারা চুক্তি মেনে চলছে।
মন্তব্য করুন


পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, ভারত গত বুধবার তাদের কিছু শহরে দুই থেকে তিনবার হামলা চালানোর চেষ্টা করেছে এবং এখনও ভারতের আক্রমণের ঝুঁকি অব্যাহত রয়েছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, "যদি ভারত কোনো কারণ বা প্রমাণ ছাড়াই কোনো পদক্ষেপ নেয়, তাহলে আমরা জবাব দেব। পাকিস্তানকে এর উত্তর দিতেই হবে। আমরা যদি এখনই ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিই, তাহলে আমাদের যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকবে। তবে আমরা ভারতে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করব না।"
পাকিস্তানের বেসরকারি চ্যানেল জিও টিভি-এর অনুষ্ঠান 'আজ শাহজাইব খানজাদা কে সাথ'-এ বক্তব্য রাখার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
খাজা আসিফ বলেন, "ভারত কিছু শহরকে দুই থেকে তিনবার টার্গেট করার চেষ্টা করেছে, অন্তত রাডারের মাধ্যমে, যাতে প্রয়োজনে সেখানে হামলা চালানো যায়।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, "আক্রমণ প্রতিহত করতে কিছু শহরে আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে আমরা এর জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং এর চরম মূল্য দিতে হবে।"
তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, "ভারত যা করছে, আমরা তা সহ্য করব না, বরং কঠোর জবাব দেব।" এছাড়াও, তিনি বলেন যে দুই সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া সংকট এখনও শেষ হয়নি।
মন্তব্য করুন


ফ্রান্স ও ব্রিটেন শুক্রবার প্রায় ৪০টি দেশের সঙ্গে একটি বৈঠক করবে। এই বৈঠকের উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো যে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে হরমুজ প্রণালিতে আবার নিরাপদে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে তার মিত্র দেশগুলো সাহায্য করতে প্রস্তুত।
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর ইরান প্রায় সব বিদেশি জাহাজের জন্য এই প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। এখন মূলত শুধু নিজেদের জাহাজ চলাচল করতে দিচ্ছে। এরই মধ্যে সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরে আসা-যাওয়া করা জাহাজের ওপরও অবরোধ আরোপ করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবরোধ কার্যকর করতে সাহায্য করার জন্য অন্যান্য দেশগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন এবং তা না করার জন্য ন্যাটো মিত্রদের সমালোচনা করেছেন। ব্রিটেন, ফ্রান্স ও অন্যরা বলছে, এই অবরোধে যোগ দেওয়া মানে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া, কিন্তু তারা বলেছে যে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি হলে বা সংঘাতের অবসান ঘটলে তারা প্রণালিটি খোলা রাখতে সাহায্য করতে ইচ্ছুক থাকবে।
আলোচিত এই উদ্যোগে আপাতত যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান অন্তর্ভুক্ত নয়, যদিও ইউরোপীয় কূটনীতিকরা বলেছেন যে কোনো বাস্তবসম্মত মিশনকে শেষ পর্যন্ত উভয়ের সঙ্গেই সমন্বয় করতে হবে। আলোচনার ফলাফল সম্পর্কে ওয়াশিংটনকে অবহিত করা হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবরোধ কার্যকর করতে সাহায্য করার জন্য অন্যান্য দেশগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন এবং তা না করার জন্য ন্যাটো মিত্রদের সমালোচনা করেছেন। ব্রিটেন, ফ্রান্স ও অন্যান্যরা বলছে, এই অবরোধে যোগ দেওয়া মানে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া। তবে তারা জানিয়েছে, একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি হলে বা সংঘাতের অবসান ঘটলে তারা প্রণালিটি খোলা রাখতে সাহায্য করতে ইচ্ছুক।
আলোচিত এই উদ্যোগে আপাতত যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান অন্তর্ভুক্ত নয়। যদিও ইউরোপীয় কূটনীতিকরা বলেছেন, কোনো বাস্তবসম্মত মিশনকে শেষ পর্যন্ত উভয়ের সঙ্গেই সমন্বয় করতে হবে। আলোচনার ফলাফল সম্পর্কে ওয়াশিংটনকে অবহিত করা হবে।
আমন্ত্রিত দেশগুলোকে পাঠানো এক নোট অনুসারে, এই বৈঠকের উদ্দেশ্য হলো প্রণালিটির মধ্য দিয়ে অবাধ নৌচলাচলের স্বাধীনতার প্রতি পূর্ণ কূটনৈতিক সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা। যে প্রণালি দিয়ে সাধারণত বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয় এবং আন্তর্জাতিক আইনকে সম্মান করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা।
এই বৈঠকে জাহাজ চলাচলে যে অর্থনৈতিক সমস্যা তৈরি হয়েছে এবং প্রায় ২০ হাজারের বেশি আটকে পড়া নাবিক ও বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হবে। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে একটি প্রতিরক্ষামূলক বহুজাতিক সামরিক মিশন গঠনের পরিকল্পনাও তুলে ধরা হবে।
বৈঠক শেষে একটি বিবৃতি দেওয়া হতে পারে, যেখানে এই ধরনের মিশনে কী থাকতে পারে তা কিছুটা পরিষ্কার করা হবে। তবে কোন দেশ কিভাবে অংশ নেবে, তা বিস্তারিতভাবে বলা হবে না। ইউরোপীয় কূটনীতিকদের মতে, একটি অপারেশনাল কেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণা আসতে পারে, যা সম্ভবত ওমানে হবে। তবে ভবিষ্যতের এই মিশনের জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন দরকার হবে কি না, তা নিয়ে দেশগুলোর মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
কূটনীতিকদের মতে, বৈঠকের শেষে দেওয়া বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের টোল বা ফি আরোপের বিরোধিতা জানানো হবে। পাশাপাশি যেসব দেশ সামরিক, কূটনৈতিক, রাজনৈতিক বা আর্থিকভাবে সহায়তা দিতে চায়, তাদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হবে।
এই বৈঠকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁ, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেস এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি সরাসরি উপস্থিত থাকবেন। ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের আরো অনেক দেশের কর্মকর্তারা ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেবেন। জার্মান চ্যান্সেলর মেস বলেছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি শেষ হলে জার্মানি সমুদ্রপথ নিরাপদ রাখতে সহায়তা করতে প্রস্তুত। তবে তিনি চান, এটি জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে হোক এবং যুক্তরাষ্ট্রও এতে যুক্ত থাকুক। চীনকেও এই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তবে তারা অংশ নেবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
মন্তব্য করুন


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ডেমোক্রেট দলের প্রার্থী এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন জনপ্রিয় গায়িকা বিয়ন্সে নোলস। শুক্রবার স্থানীয় সময়ে হিউস্টনের একটি জনসমাবেশে এ সমর্থন জানান তিনি।
বিয়ন্সে তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, "আমি এখানে একজন সেলিব্রিটি হিসেবে আসিনি, এবং একজন রাজনীতিবিদ হিসেবেও আসিনি। আমি এখানে এসেছি একজন মা হিসেবে।" তিনি বলেন, "একজন মা হিসেবে আমি চাই আমাদের সন্তানরা এমন একটি বিশ্বে বেড়ে উঠুক, যেখানে তাদের নিজেদের স্বত্বার ওপর নিয়ন্ত্রণের স্বাধীনতা থাকবে, যেখানে আমরা বিভক্ত নই—আমাদের অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যতের জন্য।"
হিউস্টনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে, বিয়ন্সে উপস্থিত সবাইকে আহ্বান জানান কমলা হ্যারিসকে নির্বাচিত করার জন্য এবং বলেন, “এবার আমেরিকার জন্য একটি নতুন গান গাওয়ার সময়।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করেন।
এসমাবেশে বিয়ন্সের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার সঙ্গী এবং অভিনেত্রী কেলি রাউল্যান্ডও। বিয়ন্সে তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, “এটি এমনই একটি গান, যা ২৪৮ বছর আগে শুরু হয়েছিল।”
ডেমোক্রেট প্রার্থী কমলা হ্যারিসের সমর্থনে বিয়ন্সের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের সংযুক্তি রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে আশাবাদী মনোভাব সৃষ্টি করেছে। তারা মনে করছেন, এটি কমলা হ্যারিসের প্রচারণাকে আরও শক্তিশালী করবে।
এদিকে, রিপাবলিকান প্রার্থী এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও টেক্সাসে তার দলের জন্য প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন, যা এই অঙ্গরাজ্যকে তার দলের জন্য একটি শক্তিশালী অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
প্রসঙ্গত, বিয়ন্সের মতো সেলিব্রিটিদের রাজনৈতিক সমর্থন নির্বাচনী প্রচারে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে। এর ফলে আগামী নির্বাচনে ডেমোক্রেট দলের জন্য পরিস্থিতি আরও সুবিধাজনক হতে পারে।
মন্তব্য করুন


সৌদি আরব গত তিন দিনে ১৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। গতকাল সোমবার দুই সৌদি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে ‘সন্ত্রাসবাদ-সম্পর্কিত অপরাধের’ দায়ে। এর আগে শনিবার ও রবিবার ১৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। যাদের বেশিরভাগই ছিলেন বিদেশি এবং মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সৌদি প্রেস এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে। গত তিন দিনে মোট ১৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এই ঘটনা ২০২২ সালের মার্চের পর সবচেয়ে দ্রুত গতির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ঘটনা। ওই সময় এক দিনে ৮১ জনকে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিকভাবে তীব্র নিন্দার মুখে পড়ে।
শনিবার ও রবিবার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৫ জনের মধ্যে ১৩ জনকে হাশিশ পাচারের দায়ে এবং একজনকে কোকেন পাচারের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।
সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগকারী দেশ। ২০২৫ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে ২৩৯টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। যা গত বছরের মোট ৩৩৮টি মৃত্যুদণ্ডকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং এটি ১৯৯০-এর দশকে মৃত্যুদণ্ডের তথ্য প্রথম প্রকাশের পর সর্বোচ্চ রেকর্ড।
এএফপির বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে, এ বছরের মৃত্যুদণ্ডগুলোর মধ্যে ১৬১টি ছিল মাদকসংক্রান্ত অপরাধে এবং ১৩৬ জন ছিলেন বিদেশি নাগরিক।
মানবাধিকার সংস্থা রিপ্রিভ-এর প্রতিনিধি জিদ বাসিউনি সম্প্রতি সতর্ক করে বলেন, ‘হাশিশ-সম্পর্কিত অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে এবং এসবের মধ্যে বিদেশিদের সংখ্যাই বেশি।’ তিনি বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে হাশিশ ব্যবহারের অপরাধীকরণ ধীরে ধীরে বাতিলের পথে, সেখানে সৌদি আরবের এই প্রবণতা গভীর উদ্বেগের।’
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৩ সালে সৌদি আরব যে ‘মাদকবিরোধী যুদ্ধ’ শুরু করে, বর্তমান মৃত্যুদণ্ডের উল্লম্ফন তারই ফল। কারণ তখন আটক হওয়া অনেক ব্যক্তির এখন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হচ্ছে।
২০১৯ সালে সৌদি সরকার মাদকসংক্রান্ত অপরাধে মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করলেও ২০২২ সালের শেষ দিকে তা পুনরায় চালু করা হয়।
সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, মৃত্যুদণ্ড শুধুমাত্র সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরেই কার্যকর করা হয় এবং এটি সমাজে নিরাপত্তা ও মাদক প্রতিরোধে সহায়ক। তবে মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’ সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে সৌদি আরবকে একটি ‘উন্মুক্ত ও সহনশীল সমাজ’ হিসেবে তুলে ধরার যে প্রচেষ্টা চলছে, তাতে এই মৃত্যুদণ্ডের অব্যাহত ব্যবহার বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সূত্র : এএফপি
মন্তব্য করুন


চীনা এক যাত্রীর কাছ থেকে চুরি করা নগদ অর্থ গিলে ফেলেছেন ফিলিপাইনের বিমানবন্দরের এক কর্মী। এই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পর ফিলিপাইনের কর্তৃপক্ষ ওই কর্মীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে।
সংবাদমাধ্যম সিএনএন ফিলিপাইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৮ সেপ্টেম্বর ম্যানিলার নিনয় অ্যাকুইনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ১ নম্বর টার্মিনালে ওই ঘটনা ঘটেছে।
বিমানবন্দরের পরিবহন নিরাপত্তা কার্যালয় (ওটিএস) মঙ্গলবার ফেসবুকে এই ঘটনা সম্পর্কে একটি বিবৃতি পোস্ট করেছে। এতে বলা হয়েছে, চীনা এক পর্যটকের ব্যাগ থেকে চুরি করা ৩০০ মার্কিন ডলার নগদ অর্থ গিলে ফেলার ঘটনায় জড়িত নিরাপত্তা কর্মকর্তার পরিচয় পাওয়া গেছে এবং ইতিমধ্যে প্রমাণ সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে।
অনলাইনে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওই নিরাপত্তা কর্মকর্তা তার মুখে নগদ অর্থ ভরছেন। হাতের একটি আঙুল ব্যবহার করে মুখের মধ্যে অর্থ ঢুকিয়ে দিচ্ছেন তিনি। এক পর্যায়ে পানি দিয়ে তা গিলেও ফেলেন। এ সময় রুমাল দিয়ে মুখ আড়াল করতেও দেখা যায় তাকে।
মন্তব্য করুন


যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে ভিসা বন্ড বা জামানত দেওয়ার শর্তযুক্ত দেশের তালিকা প্রায় তিন গুণ বাড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। সর্বশেষ বাংলাদেশসহ আরও ২৫টি দেশকে এই তালিকায় যুক্ত করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
এর আগে এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে সাতটি দেশকে ভিসা বন্ডের আওতায় আনা হয়েছিল। নতুন সংযোজনের ফলে মঙ্গলবার পর্যন্ত তালিকাভুক্ত দেশের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮টি। পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই নিয়ম আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর বেশিরভাগই আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার। বাংলাদেশের পাশাপাশি এতে রয়েছে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, নেপাল ও উগান্ডাসহ একাধিক দেশ। দেশভেদে এই নীতির কার্যকর হওয়ার তারিখ ভিন্ন হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর পাসপোর্টধারীরা যদি বি-১/বি-২ (ব্যবসা ও পর্যটন) ভিসার জন্য যোগ্য হন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের সময় তাদের ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় সর্বোচ্চ বন্ডের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা (প্রতি ডলার ১২২.৩১ টাকা হিসাবে)।
ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও ইন্টারভিউয়ের ভিত্তিতে কনস্যুলার অফিসার বন্ডের অঙ্ক নির্ধারণ করবেন। আবেদনকারীদের মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বন্ড প্রদানে সম্মতি জানাতে হবে। তবে কনস্যুলার অফিসারের নির্দেশনা ছাড়া আগাম কোনো অর্থ জমা না দিতে সতর্ক করেছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট।
এই ভিসা বন্ড নীতি একটি পাইলট কর্মসূচির আওতায় গত আগস্টে প্রথম চালু করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, যেসব দেশের নাগরিকদের মধ্যে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে থেকে যাওয়ার হার বেশি, মূলত সেসব দেশকেই এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বেনিনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সেমে-পোাজির একটি পেট্রোলের ডিপোতে আগুন লেগে এক শিশুসহ ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন ১ ডজনেরও বেশি সংখ্যক মানুষ।
সেমে-পোজি শহরটি নাইজেরিয়ার সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত। শনিবার স্থানীয় সময় সকালে ৯টার দিকে ওই ডিপোতে আগুন লাগে বলে এক বিবৃতি জানিয়েছে বেনিনের বিচার বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
বেনিনের সরকারি প্রসিকিউট আবদৌবাকি আদম বোংলে জানান, যে ডিপোতে আগুন লেগেছে— সেখানে নাইজেরিয়া থেকে চোরাইপথে পেট্রোল আসতো। শনিবার সকালে এমন একটি চালান যখন আনলোড হচ্ছিল, সেসময় বিস্ফোরণ ঘটে এবং তার জেরেই আগুনের সূত্রপাত।
এ ঘটনায় নিহতদের সবাই ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন বলে বিবৃতেতে উল্লেখ করেছেন বোংলে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, একটি বাজার এলাকার দোকানে আগুন লেগেছে এবং বিরাট কালো ধোঁয়ার কুন্ডলি উঠছে। অনেক লোকজন নিরাপদ দূরত্বে থেকে দেখছেন সেই আগুন পরিস্থিতি।
তবে এই ভিডিওটি সত্যিই ঘটনাস্থলের কি না— যাচাই করতে পারে নি রয়টার্স।
মন্তব্য করুন


যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের জন্য ৫০০ মিলিয়ন ডলারের নতুন একটি সামরিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেন।
গত নভেম্বরে রাশিয়ায় হামলার জন্য ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এর ঠিক একদিন পরেই ইউক্রেনকে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অ্যান্টি-পার্সোনেল ল্যান্ড মাইন বা স্থলমাইন দেওয়ার জন্যও রাজি হন বাইডেন।
ধারণা করা হচ্ছে, নতুন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের আগেই যত দ্রুত সম্ভব এই সহায়তা পাঠানোর চেষ্টা করছেন জো বাইডেন। সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের বিজয়ের সম্ভাবনা ইউক্রেনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সহায়তা নিয়ে শঙ্কা সৃষ্টি করেছে। এজন্য বাইডেন প্রশাসন আরও বেশি সময় পাবে না ইউক্রেনকে সহায়তা করার জন্য।
মাত্র এক সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের জন্য ১২৫ মিলিয়ন ডলারের নতুন সামরিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল। এর আগে ১০ দিন আগে ওয়াশিংটন ইউক্রেনকে ৭২৫ মিলিয়ন ডলারের ক্ষেপণাস্ত্র, গোলাবারুদ, অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন এবং অন্যান্য অস্ত্র পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছিল। এবার আবারও একটি নতুন প্যাকেজ ঘোষণা করেছে বাইডেন প্রশাসন।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জন কিরবি এর আগে বলেছিলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসন শেষ পর্যন্ত ইউক্রেনের জন্য অতিরিক্ত সামরিক প্যাকেজ প্রদান অব্যাহত রাখবে।
এদিকে, ইউক্রেনকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার জন্য নব নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কড়া সমালোচনা করেছেন। বৃহস্পতিবার টাইম ম্যাগাজিনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, বাইডেন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত যুদ্ধের মাত্রা বাড়িয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, "যা ঘটছে তা এক ধরনের পাগলামি। এটা মূর্খতা। রাশিয়ায় কয়েকশ মাইল দূর থেকে ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানোর ব্যাপারে আমি একেবারে একমত নই। আমাদের এটা করার কারণ কী! আমরা শুধু এই যুদ্ধটিকে আরও মারাত্মক করে তুলছি এবং পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছি। এটা অনুমোদন দেওয়া উচিত হয়নি।"
মন্তব্য করুন


বর্তমান পরিস্থিতিতে সিরিয়ার দ্রুত সহায়তার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে দেশটির জন্য ৫০ মিলিয়ন ইউরো সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জার্মানি। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবক জানান, সিরিয়াকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি।
রবিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে পৌঁছেছেন জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবক। তিনি একটি আঞ্চলিক সম্মেলনে যোগ দিতে রিয়াদে গেছেন। সম্মেলনে সিরিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শিবানিও উপস্থিত থাকবেন।
সম্মেলনের আগে এক সাক্ষাৎকারে বেয়ারবক সাংবাদিকদের বলেন, সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের মিত্রদের ওপর, যারা মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে জার্মানি নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখবে।
তিনি আরও বলেন, "ক্ষমতার এই পরিবর্তনকালে সিরিয়াকে দ্রুত অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সিরিয়ার জনগণের পাশে দাঁড়াবো, যাদের এখনও মৌলিক সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে। আমরা খাদ্য, জরুরি আশ্রয়, এবং স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা দিতে আরও ৫০ মিলিয়ন ইউরো দেব।"
এর আগে দামেস্ক সফরের সময় বেয়ারবক বলেছিলেন, সিরিয়ার ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টি নির্ভর করবে সেখানে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়া বা না হওয়ার উপর।
উল্লেখ্য, ৭ জানুয়ারি দ্য ফাইনান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সিরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে আহ্বান জানাচ্ছে জার্মানি।
মন্তব্য করুন