

স্মার্ট লাইসেন্সিং অ্যাপ চালু করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। সোমবার (৮ মে) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এ অ্যাপ উদ্বোধন করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. সামসুল আরেফিন।
জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রামকে দেশের প্রথম স্মার্ট জেলা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে সোমবার উদ্বোধন করা হয় স্মার্ট লাইসেন্সিং পোর্টাল। এ পোর্টালের মাধ্যমে জেলা প্রশাসন কার্যালয় থেকে যেসব লাইসেন্স প্রদান করা হয় সেগুলো আরও সহজে এবং কম সময়ে পাওয়া যাবে। ঘরে বসেই লাইসেন্স আবেদন, নবায়ন ও বিভিন্ন ধরনের ফি দিতে পারবেন সেবাগ্রহীতারা।
এছাড়া লাইসেন্স গ্রহীতারা মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আগে এবং পরে সরাসরি এসএমএসের মাধ্যমে নোটিফিকেশন পাবেন। ফলে সেবাগ্রহীতার ভোগান্তি হবে কম এবং দালালদের দৌরাত্ম্য কমবে। এছাড়া গ্রাহক নিজেই নিজের লাইসেন্সের কপি অনলাইন থেকে প্রিন্ট দিয়ে নিতে পারবেন।
মতবিনিময় সভায় স্মার্ট চট্টগ্রাম বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন গৃহীত পদক্ষেপ নিয়ে একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্মার্ট বাংলাদেশ ভিশন ২০৪১-কে সামনে রেখে চট্টগ্রামকে দেশের প্রথম স্মার্ট জেলা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। যার মধ্যে স্মার্ট চট্টগ্রাম বাস্তবায়ন সেল গঠন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ফোকাল পারসন নিযুক্তি, ওয়াবসাইটে স্মার্ট চট্টগ্রাম ডেডিকেটেড কর্নার সংযোজন, স্মার্ট চট্টগ্রাম বেস্ট আইডিয়া অ্যাওয়ার্ড ঘোষণা, আইডিয়াসমূহের উপর বুটক্যাম্প আয়োজন, আইডিয়া শোকেসিং ও স্মার্ট বাংলাদেশ উৎসব আয়োজন, বিশেষজ্ঞ প্যানেল তৈরি, স্মার্ট চট্টগ্রাম ২০৪১ এর রোডম্যাপ তৈরি অন্যতম।
মন্তব্য করুন


মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের জাতিগত নিধন থেকে রক্ষায় আন্তর্জাতিক উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে ৭ দফা প্রস্তাবও দিয়েছেন।
আজ সোমবার (২৫ আগস্ট) কক্সবাজারের ‘হোটেল বে ওয়াচে’ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে শুরু হওয়া তিন দিনের অংশীজন সংলাপের মূল অধিবেশনে তিনি এসব প্রস্তাব দেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ২০১৭ সালে এবং তারও আগে থেকে সম্পদ এবং সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও রোহিঙ্গাদের জীবন বাঁচাতে মানবিক কারণে বাংলাদেশ তার সীমান্ত খুলে দিয়েছিল। রোহিঙ্গাদের জাতিগত নির্মূলের ভয়াবহ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন থেকে সশস্ত্র ঘাতকদের থামানো নৈতিক দায়িত্ব।
তিনি বলেন, মিয়ানমার সরকার এবং আরকান আর্মিকে নিশ্চিত করতে হবে যেন আর কোনো রোহিঙ্গা বাংলাদশে না প্রবেশ করে।
এ সময় রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনে অবদান রাখার সংকল্প ঘোষণা করে, ন্যায়বিচার এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিতে ৭ দফা প্রস্তাব দেন ড. ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সমস্যা মিয়ানমারের সৃষ্টি এবং সমাধান সেখানেই আছে।
নির্বাচন নিয়ে সরকার প্রধান বলেন, দেশ এখন স্থিতিশীল এবং নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষণ ঘোষণা করা হচ্ছে।
উলেখ্য, উখিয়ার ইনানীতে অবস্থিত ‘হোটেল বে ওয়াচে’ রোববার (২৪ আগস্ট) ‘টেক অ্যাওয়ে টু দ্যা হাই-লেভেল কনফারেন্স অন দ্য রোহিঙ্গা সিচুয়েশন’ শীর্ষক তিন দিনের এ সম্মেলন শুরু হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও রোহিঙ্গা ইস্যু বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভের দফতর যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে।
২৪ আগস্ট সম্মেলনের প্রথম দিন বিকালে বিদেশি অংশীজনদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন রোহিঙ্গা প্রতিনিধিরা। এতে যোগ দেন ৪০টি দেশের প্রতিনিধি। ছিলেন জাতিসংঘসহ রোহিঙ্গা নিয়ে কাজ করা সব অংশীজন।
তিন দিনের এ সম্মেলন থেকে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের পথ খুঁজবেন তারা।
সম্মেলনের শেষ দিনে (২৬ আগস্ট) রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন বিদেশি অতিথিরা। তিন দিনের সম্মেলনে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ছাড়াও আন্তর্জাতিক ফান্ড, গণহত্যার বিচার, খাদ্য সহায়তা ও রোহিঙ্গাদের মনোবল বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুর ব্যাপারে জোর দেওয়া হবে।
এছাড়াও সম্মেলন থেকে আসা প্রস্তাব এবং বক্তব্যগুলো আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে অনুষ্ঠেয় সম্মেলনে তুলে ধরবে সরকার।
মন্তব্য করুন


বিদেশে বাংলাদেশের সকল কূটনৈতিক মিশন, কনস্যুলেট, কূটনীতিকদের অফিস এবং বাসভবন থেকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ছবি সরানোর নির্দেশনা দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অঞ্চলভিত্তিক কয়েকজন রাষ্ট্রদূত/হাইকমিশনারকে টেলিফোনে এই নির্দেশনার কথা জানানো হয় বলে বিদেশের কয়েকটি মিশন সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
জানা গেছে, টেলিফোন কলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশনার তথ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত দূতদের অন্য মিশনে জানিয়ে দিতে বলা হয়েছে।
তবে রাষ্ট্রপতির ছবি সরানোর এ নির্দেশনা দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপের কয়েকটি মিশনের দূতরা পাননি। তবে সরকারের এমন নির্দেশনা পাওয়ার কথা জানিয়েছে বিদেশের দুটি মিশন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দায়িত্বশীল এক কূটনীতিক জানায়, ঢাকা থেকে কূটনৈতিক মিশন, কনস্যুলেট, কূটনীতিকদের কার্যালয় ও বাসভবন থেকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ছবি সরানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এটি আনুষ্ঠানিক চিঠি বা ই-মেইলের মাধ্যমে জানানো হয়নি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে টেলিফোনে সরকারের এই নির্দেশনার কথা অঞ্চলভিত্তিক কয়েকজন দূতকে জানানো হয়েছে। তারা অন্য মিশনে জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে ছবি সরিয়ে ফেলার বিষয়টিও তদারকি করবেন তারা।
আরেক কূটনীতিক বলেন, আমাদের অঞ্চলে যে রাষ্ট্রদূতকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তিনি সরাসরি আমাদের জানাননি।
ওনার পক্ষে কাছাকাছি একটি মিশন থেকে একজন রাষ্ট্রদূত আমাদের এই নির্দেশনার ব্যাপারে জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন


দেশে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও দুই-তিন মাস অপেক্ষা করতে হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থ উপদেষ্টা জানান, চালসহ বিভিন্ন পণ্যের মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকার কারণেই মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে আসতে আরও তিন মাস সময় লাগবে। এজন্য আগামী মার্চে সংশোধিত বাজেটে ভ্যাট পর্যালোচনা করা হবে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, চালসহ বিভিন্ন দরকারি পণ্যের সরবরাহ এখন থেকে আর কমতে দেয়া হবে না। চাল, ডাল, সারসহ অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের আমদানি অব্যাহত রয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেন যে, রমজানে প্রয়োজনীয় পণ্যের কোনো সংকট হবে না।
এছাড়া, অনেকেই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থার সঙ্গে শ্রীলঙ্কার তুলনা করেন, তবে এটি সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন অর্থ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, দেশের ৬০টি ব্যাংকের মধ্যে মাত্র ১২টি পুরোপুরি কার্যকর, বাকিগুলো খুঁড়িয়ে চলছে। এটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মন্তব্য করুন


গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত ফেরত না দিলে সেটি প্রত্যর্পণ চুক্তির লঙ্ঘন হবে, এমন মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ আইনসহ অন্যান্য সমসাময়িক বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফেরত আনার বিষয়ে অগ্রগতি কতদূর জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আমরা প্রত্যর্পণের জন্য চিঠি পাঠিয়েছি। এরপর ভারত যদি শেখ হাসিনাকে ফেরত না নেয়, তবে সেটি বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের প্রত্যর্পণ চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হবে। এই ব্যাপারে আমরা কী পদক্ষেপ নেবো, তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।"
তিনি আরও বলেন, "ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। আমরা যা কিছু করণীয়, তা করেছি এবং আরও কিছু পদক্ষেপ নিতে হলে আমরা তা প্রয়োজনে গ্রহণ করবো।"
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পদত্যাগ করে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। এরপর তার বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের হয়। এদিকে, তাকে দেশে ফিরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার উদ্যোগী হয়ে রয়েছে।
গত ২৩ ডিসেম্বর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, শেখ হাসিনাকে ফেরত আনার বিষয়ে ভারতকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ওইদিনই কূটনৈতিক চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে, শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে গত ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার মহেশ সাচদেব বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সরকার কর্তৃক প্রত্যর্পণ অনুরোধের বিরুদ্ধে আদালতে যেতে পারেন।
তিনি আরো বলেন, "যেমন ইউরোপীয় কয়েকটি দেশ ভারতের প্রত্যর্পণ অনুরোধ বিভিন্ন শর্তে প্রত্যাখ্যান করেছে, শেখ হাসিনাও একইভাবে বলতে পারেন যে, তিনি তার দেশের সরকারের ওপর আস্থা রাখেন না এবং তার বিরুদ্ধে অবিচারের আশঙ্কা রয়েছে।"
মন্তব্য করুন


এখনই পে কমিশন বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। বুধবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে এ কথা বলেন অর্থ উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘এখনই পে কমিশন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। আরো একটু সময় লাগবে। অন্তর্বর্তী সরকার একটা কাঠামো তৈরি করে যাবে। নির্বাচিত সরকার পে কমিশন বাস্তবায়ন করবে।’
এর আগে দেওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি বলেছি আমাদের সময়ে (অন্তর্বর্তীকালীন সরকার) এটা করতে পারবে কিনা এটা কিছুটা অনিশ্চিত। কারণ তিনটা রিপোর্ট দেখে ওটাকে রিকনসাইল করতে হবে।
রিকনসাইল করার পর প্রশাসনিক কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে। এজন্য আমি বলেছি যে আমাদের সময় এটা করতে পারব কিনা এটা কিছুটা আনসার্টেনটি (অনিশ্চয়তা) তৈরি হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘রিপোর্ট দেখে ওটাকে আবার রিকনসাইল করতে হবে। এর পর এডমিনিস্ট্রেট কতগুলো প্রসেস আছে, সচিব কমিটি আছে ওরা দেখবে, তারপর মোপা (জনপ্রশাসন) আছে ওরা দেখবে।
তখন ফাইনান্স দেখে কত সম্পৃক্ত ওটার পরে ওটা ইমপ্লিমেন্ট করা যাবে। অতএব একেবারে আমাদের সময়ে ইমপ্লিমেন্ট করা যেতে নাও পারে। সেজন্য আমি বলেছি যে রিপোর্ট হওয়ার পর একটা মোটামুটি একটা ফ্রেমওয়ার্ক দিয়ে যাব। আমরা যদি সেই সময়ের মধ্যে এটা রিকনসাল করতে পারি, তবে করব।’
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘তিনটি রিপোর্ট পাওয়ার পর সেগুলো যাচাই-বাছাই করে তারপরই কমিশন দিতে হবে। বর্তমান সরকার একটি ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করবে, আর পরবর্তী সরকার সেটি বাস্তবায়ন করবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘গত ৮ বছরে এ বিষয়ে কিছু হয়নি, তাই আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। তবে এখানে বাজেটের বিষয়ও আছে এবং সরকারের অন্যান্য সামাজিক খাতকেও বিবেচনায় নিতে হবে। পরবর্তী সরকার পে কমিশন দেবে না কেন? এটা তো যৌক্তিক।’
সংশোধিত বাজেটের আকার কিছুটা কমছে। তবে টাকার অংকে খুব বেশি নয় বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘বাজেট যখন দেয়া হয়েছিল তখনকার বাস্তবতা অনুযায়ী ঠিক ছিল, কিন্তু বাজেট কার্যকর করতে গিয়ে নানা ইস্যু চলে এসেছে। তাই বাজেট কিছুটা কমানো হবে।’
সভায়, রোজার আগে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সয়াবিন তেল ও চিনি আমদানির সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ও ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় ৪০ হাজার ‘বডি অর্ন ক্যামেরা’ কেনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু ইউএনডিপির মাধ্যমে নাকি কোন মাধ্যমে কেনা হবে তা সিদ্ধান্ত হয়নি।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
রাষ্ট্রীয় প্রশাসনে কাঠামোগত পরিবর্তনের সুপারিশ করতে যাচ্ছে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন। কমিশন ক্যাডার এবং জেলাপ্রশাসক এসব শব্দগুলো বাদ দেওয়ার সুপারিশ করবে। এর পাশাপাশি, সরকারি চাকরিজীবীরা যাতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত না হন, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করবে কমিশন।
রোববার (১ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে কমিশনের প্রধান আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী এসব কথা জানান।
কমিশন প্রধান বলেন, "আমলারাই আমলাদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে।" তিনি আরও বলেন, সরকারি চাকরিজীবীরা যেন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত না হন কিংবা রাজনৈতিক কথা না বলেন, সে জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করবে কমিশন। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, "কাক কিন্তু কাকের মাংস খায় না।"
জনপ্রশাসন সচিব ড. মোখলেস উর রহমান জানান, এসি ল্যান্ড এবং রেজিস্ট্রি অফিসে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয়। এসব অফিসে এখনও ঘুষ দেওয়া-নেওয়া চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, কমিশন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা জানার জন্য গণশুনানি করেছে এবং জনগণের মতামত ও চাহিদার ভিত্তিতে প্রশাসনের পরিবর্তনের সুপারিশ করা হবে। কমিশন নির্ধারিত সময়, ডিসেম্বরের মধ্যে এসব সুপারিশ জমা দেবে।
ড. মোখলেস উর রহমান আরও জানান, প্রশাসনে 'ক্যাডার' শব্দটি বাদ দিয়ে 'সিভিল সার্ভিস' ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হবে। এসি ল্যান্ড এবং রেজিস্ট্রি অফিসের দুর্নীতি দূর করার জন্য কিছু প্রস্তাবনা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে সাংবাদিক, ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আলোচনা হবে। তিনি বলেন, "মানুষ যে পরিবর্তন চায়, তা করতেই এই সরকার এসেছে। এতদিনের অনিয়মের পেছনে সরকারি কর্মকর্তাদেরও কিছু দোষ রয়েছে। সামনের দিনগুলোতে আরও পরিবর্তন দেখা যাবে।
মন্তব্য করুন


দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনকে সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
মুক্তিযোদ্ধাদের দেখানো পথ অনুসরণ করে দেশের স্বার্থে ও মানুষের কল্যাণে সেনাবাহিনী কাজ করে যাবে বলেও জানান সেনাপ্রধান।
এর আগে, বীরত্বপূর্ণ কাজ ও বাহিনীতে অসামান্য অবদানের জন্য ৬৪ সেনাসদস্যকে পদক এবং ৭৫ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে সম্মাননা দেওয়া হয়। এ সময় ২০২৪-২০২৫ ও ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বিভিন্ন অবদানের জন্য ৯ জনকে ‘সেনাবাহিনী পদক’, ১৭ জনকে ‘অসামান্য সেবা পদক’ এবং ৩৮ সেনাসদস্যকে 'বিশিষ্ট সেবা পদক' প্রদান করা হয়।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
সরকারি কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব জমা দেওয়ার সময়সীমা আরও এক মাস বাড়ানো হয়েছে। চলতি বছরের সম্পদ বিবরণী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তা আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে, বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোখলেস উর রহমান।
রোববার (২৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়র সচিব এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, "সরকারি কর্মচারীদের সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার সময় এক মাস বাড়ানো হচ্ছে। আমরা এ বিষয়ে একটি সার্কুলার ইস্যু করবো।"
মো. মোখলেস উর রহমান আরও বলেন, "গত ১৬ বছরে কেউ সম্পদের হিসাব জমা দেয়নি। কিভাবে এটি জমা দিতে হবে, তা অনেকেই বুঝতে পারছেন না। তাই সময় ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হবে।"
প্রতিবছর সরকারি কর্মচারীদের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পদের হিসাব বিবরণী জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে চলতি বছরের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৩০ নভেম্বরের মধ্যে এটি জমা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিল।
মন্তব্য করুন


বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলনে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বাংলাদেশের ‘টোন’ (কণ্ঠস্বর) ভিন্ন হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
বুধবার (২৯ জানুয়ারি) সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে আগামী ১৭ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভারতের নয়াদিল্লিতে ৫৫তম বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলনে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত সংক্রান্ত বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয় আলোচনার লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। সভা শেষে তিনি সীমান্ত সম্মেলনের আলোচ্যসূচি তুলে ধরেন।
এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনি নতুনত্ব কী চাচ্ছেন? নতুনত্ব হলো, আগে যেভাবে কথা বলা হতো, এবার কথার টোন আলাদা হবে।’ তিনি আরও বলেন, সীমান্ত সম্মেলনে কী বিষয়ে আলোচনা হবে এবং বাংলাদেশের অবস্থান কী হবে, সে বিষয়ে আজ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মূল আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে বিএসএফ এবং ভারতীয় নাগরিক ও দুষ্কৃতকারীদের দ্বারা সীমান্তে নিরস্ত্র বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর গুলি চালানো বন্ধ করা। এছাড়াও সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে হবে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, অনেক সময় দেখা যায় বিএসএফ এবং তাদের দেশের দুষ্কৃতকারীরা সীমান্তে বাংলাদেশিদের ধরে নিয়ে যায়, এটাও যাতে তারা না করেন, সেজন্য তাদের বলা হবে। অনেক সময় তারা সীমানা লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে পারাপারের চেষ্টা করে, এগুলো যাতে না হয়, সে বিষয়েও আলোচনা হবে।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আরও বলেন, ‘ভারতীয়রা অনেক সময় সীমান্তের কাছে মাদক বা ফেনসিডিলের কারখানা তৈরি করে সেগুলো বাংলাদেশে পাঠায়। এ বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হবে। সীমান্তে ১৫০ গজের মধ্যে অনেক কাজ আছে যেগুলো করার নিয়ম নেই, সেগুলো অনেক সময় তারা করতে চায়। কিছু কাজ আছে যেগুলো করতে হলে দুই দেশের অনুমোদন লাগে।’
আগরতলা দিয়ে ভারতের শিল্প বর্জ্য বাংলাদেশে আসার বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি আছে। তবে চুক্তিতে ইটিপি/এসটিপি লেখা আছে, যা উচিত ছিল ইটিপি ও এসটিপি। এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের নদীগুলোর পানি যাতে সুষম বণ্টন হয়, সে বিষয়েও আলোচনা হবে। ছোটখাটো নদীগুলোর ক্ষেত্রে আলোচনা করা হবে, কারণ বড় নদীগুলোর বিষয়ে আলাদা নদী কমিশন রয়েছে। ফেনীর মুহুরির চরে বর্ডার পিলার স্থাপন নিয়ে সমস্যা আছে, সেটা নিয়েও আলোচনা হবে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করে জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সেটা তারা কীভাবে বন্ধ করতে পারে, সে বিষয়েও আলোচনা হবে। এছাড়াও কো-অর্ডিনেটর বর্ডার ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান নামে একটি বড় বিষয় আছে, এটা নিয়েও আলোচনা হবে।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, কীভাবে দুই দেশের সম্পর্ক আরও ভালো হয়, আস্থা আরও বাড়ে, সে বিষয়গুলো নিয়েও কথা বলা হবে। গত সরকার ভারতের সঙ্গে কয়েকটি অসম চুক্তি করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। এগুলো যাতে বাতিল হয়, সেজন্য আমরা বলব। বলব চুক্তি এভাবে নয়, ওইভাবে হওয়া দরকার ছিল। এই চুক্তিগুলোর বিষয়ে আমরা এর আগেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাদের (ভারত) জানিয়েছি।’
ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বাংলাদেশে অবস্থানকারীদের শাস্তি ও জরিমানা বাড়ানো হয়েছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ভিসা ছাড়া যারা বাংলাদেশে আছে, তারা ধীরে ধীরে চলে যাচ্ছে। আমরা তাদের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দিয়েছি। তারা জরিমানা দিয়ে চলে যেতে পারবে। এরপরও যদি তারা থাকে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেন, ‘সীমান্ত হত্যা, ১৫০ জায়গায় বেড়া নির্মাণ, চাঁপাইনবাবগঞ্জে আঙ্গরপোতা-দহগ্রামের সমস্যা, নদীগুলো নিয়ে সমস্যা—এসব আমাদের মূল এজেন্ডা। এসব বিষয়ে আমরা ছাড় দেব না।’
মন্তব্য করুন


বিশ্বে শক্তিশালী পাসপোর্টের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১০০তম। বাংলাদেশের সঙ্গে একই অবস্থানে আছে উত্তর কোরিয়া। এ দুটি দেশের নাগরিকেরা বিশ্বের মাত্র ৩৮টি দেশে ভিসা ছাড়া প্রবেশ করতে পারেন।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।
হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের পাসপোর্ট সূচকে ১ নম্বর অবস্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুর। দেশটির নাগরিকরা ১৯৩টি দেশে ভিসামুক্ত প্রবেশের সুবিধা পেয়ে থাকেন।
এর পরই রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া (১৯০ দেশ) ও জাপান (১৮৯ দেশ)। সূচকের সব শেষে রয়েছে আফগানিস্তান।
দেশটি রয়েছে ১০৬তম অবস্থানে। আফগানিস্তানের নাগরিকরা মাত্র ২৪টি দেশে ভিসামুক্ত সুবিধা পান।
আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইএটিএ) তথ্যের ভিত্তিতে কোনো দেশের পাসপোর্ট দিয়ে আগাম ভিসা ছাড়া কিংবা ভিসামুক্ত সুবিধা নিয়ে কয়টি দেশে যাওয়া যায়, এর ওপর ভিত্তি করে শক্তিশালী পাসপোর্টের এ সূচক তৈরি করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বিশ্বের ১৯৯টি দেশের পাসপোর্ট ও ২২৭টি ভ্রমণ গন্তব্য।
মন্তব্য করুন