

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ পরামর্শক টবি ক্যাডম্যান আশা প্রকাশ করে বলেছেন, ভারত একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, এবং গণতান্ত্রিক দেশের দাবিদার হিসেবে ভারতের উচিত হবে আইন মেনে চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া।
বুধবার (১১ ডিসেম্বর) ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর ও তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে একথা বলেন তিনি।
টবি ক্যাডম্যান বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধিত অধ্যাদেশ আন্তর্জাতিক মানের হয়েছে, তবে কিছু বিষয়ে আরও সংশোধন প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য বিচার প্রক্রিয়ায় ট্রাইব্যুনালকে পূর্ণ সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।
তিনি আরও বলেন, তবে শেখ হাসিনাকে যদি ফেরত না দেওয়া হয়, তাহলে তার (শেখ হাসিনার) অবর্তমানেই সরকার বিচার প্রক্রিয়া (ট্রায়াল) নিয়ে বিবেচনা করবে এবং যদি প্রয়োজন হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সহযোগিতা নেওয়া যায় কি না, সে ব্যাপারে সরকার পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের যে সংশোধন করা হয়েছে, তার প্রশংসা করে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী টবি ক্যাডম্যান বলেন, আইনের আরও কয়েকটি জায়গায় সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে। সম্মিলিতভাবে পরামর্শ করে সে বিষয়ে প্রস্তাব দেওয়া হবে।
সর্বোপরি, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান বিচার যাতে আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্য হয়, সে ব্যাপারে সহযোগিতা করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আইনজীবী টবি ক্যাডম্যান। এসময় উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ, আবদুল্লাহ আল মামুন, শাইখ মাহদী এবং এস এম মইনুল করিম।
লন্ডনভিত্তিক গার্নিকা থার্টি সেভেন ল ফার্মের যুগ্ম প্রধান ব্রিটিশ আইনজীবী টবি ক্যাডম্যানকে সম্প্রতি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় গ্রেপ্তার ইসকনের সাবেক নেতা ও সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন শুনানি পিছিয়ে আগামী ২ জানুয়ারি ধার্য করেছেন আদালত। শুনানির জন্য আসামি পক্ষের কোনো আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ মো. সাইফুল ইসলামের আদালত এই সিদ্ধান্ত দেন।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল থেকে শুনানিকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম আদালতপাড়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কড়া নিরাপত্তা দিতে দেখা গেছে।এ ছাড়া প্রবেশমুখগুলোতে জনসাধারণের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।
এদিকে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার প্রতিবাদে আজও বিক্ষোভ হয়েছে চট্টগ্রামের আদালতপাড়ায়। মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টায় একদল আইনজীবী আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তারা আলিফ হত্যার বিচার চান। আইনজীবীরা আলিফ হত্যাকাণ্ড ও আদালত প্রাঙ্গণে হামলা ভাঙচুরের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় চিন্ময়কে আসামি করার দাবি জানান।
উল্লেখ্য, গত ২৬ নভেম্বর চিন্ময়ের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন আদালত। তাকে কারাগারে নেওয়ার সময় মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভরত হাজারখানেক অনুসারীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয় পুলিশের। পরে ত্রিমুখী সংঘর্ষে কুপিয়ে হত্যা করা হয় সাইফুল ইসলাম আলিফ নামে এক আইনজীবীকে। সম্প্রতি যিনি সরকারি কৌঁসুলি হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন।
আইনজীবী আলিফ খুন এবং আদালত প্রাঙ্গণে পুলিশের ওপর হামলা-গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা করেন তার বাবা ও ভাই। বাবার করা হত্যা মামলায় ৩১ জনকে আসামি করা হলেও ভাইয়ের করা মামলায় এজাহারনামীয় আসামি করা হয় ১১৬ জনকে। সেই মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণের আইনজীবী শুভাশিস শর্মাও ৩৩ নম্বর আসামি।
এ ছাড়া তার অনুসারী আরও ৫০ জনের অধিক আইনজীবীকে আসামি করা হয়েছে। মোট পাঁচটি মামলায় এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার ৩৯ জন। এর মধ্যে গতকাল সোমবার আইনজীবী সাইফুল হত্যায় ৯ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আদালত।
মন্তব্য করুন


দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব সৃষ্টিকারী ও সাম্প্রদায়িক উসকানির বিরুদ্ধে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
রোববার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, আপনারা জানেন এ বছর সারাদেশে পূজা মণ্ডপের সংখ্যা ৩৩ হাজার ৩৫৫টি। এটা গতবারের চেয়ে প্রায় এক হাজার বেশি। পূজার নিরাপত্তার স্বার্থে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। তারা দুই অক্টোবর পর্যন্ত মোট নয় দিন এ দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি বলেন, দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সারাদেশে প্রায় এক লাখ সেনা সদস্য নিয়োজিত থাকবে। সারাদেশে প্রায় ২৪টি বেস ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সারাদেশে বিজিবির ৪৩০ প্লাটুন কাজ করছে। ২ লক্ষ ৩ হাজার ৫৬৪ জন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি পূজা মণ্ডপে কমিটির সাতজন সদস্য পালাক্রমে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া নিরাপত্তায় স্বেচ্ছাসেবীদের এনটিএমসির অ্যাপের মাধ্যমে সংযুক্ত করা হয়েছে। দুর্গাপূজা উপলক্ষে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রায় ৮০ হাজার স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। পূজায় সারাদেশে ৭০ হাজারের মতো পুলিশ সদস্য কাজ করছেন। পুলিশ এবং আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গতবারের ন্যায় দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ পূজা মণ্ডপে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব সৃষ্টিকারী ও সাম্প্রদায়িক উসকানির বিরুদ্ধে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনেক জায়গাতেই গুজব ছড়ানো হচ্ছে। সেদিন কালিমন্দির পরিদর্শন করতে গিয়ে কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, তারাও এরকম গুজবের খবর পেয়েছেন।
পূজা উপলক্ষ্যে কোনো ধরনের নাশকতার শঙ্কা রয়েছে কিনা জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, কোনো ধরনের ঝুঁকি নেই। এবার যেহেতু পূজা মণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে, সেহেতু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংখ্যা বেড়েছে। এবার পূজা অবশ্যই ভালো হবে। আমি ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জের পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেছি, কোথাও কারও মধ্যে কোনো শঙ্কা দেখিনি। কিছুসংখ্যক ফ্যাসিস্টের দোসর আছে, তারাই এসব প্রচার করে।
মন্তব্য করুন


উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাজে কোনো ব্যত্যয় হয়নি বলে দাবি করেছেন শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার।
তাই নিজ থেকে পদত্যাগ করার কোনো ইচ্ছা তার নেই। তবে সরকার (প্রধান উপদেষ্টা) বললে চলে যাবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা।
আজ বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা জানান। এর আগে তিনি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের সঙ্গে বৈঠক করেন।
রাষ্ট্রীয় শোক পালনের দিনে মঙ্গলবার শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছে। তারা সচিবালয়ে ঢুকে পড়েছিল। শিক্ষার্থীরা আপনার এবং শিক্ষা সচিবের পদত্যাগ দাবি করেছেন। ইতিমধ্যে শিক্ষা সচিবকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
উপদেষ্টার বিষয়ে কি সিদ্ধান্ত- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উপদেষ্টা বলেন, সেটা সরকার বিবেচনা করবে। আমার ওপর যে দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।
যে অব্যস্থাপনা হয়েছে এরপর আপনার আর দায়িত্বে থাকা উচিত কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমার মনে হয় রায় আপনারাই দিয়ে দিচ্ছেন। আমার এখানে দেওয়ার তেমন কিছু নেই। কোনো রকমের অব্যবস্থাপনা এখানে হয়নি। সেটাই বোঝাতে চেষ্টা করছি।'
তিনি বলেন, সচিবকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। সেটা উচ্চতর একটা কমিটির সিদ্ধান্ত। সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমি জড়িত ছিলাম না। কেন দেওয়া হয়েছে সে উত্তর আমি দিতে পারবো না। নিজে থেকে (পদত্যাগ) করার কোন অভিপ্রায় নেই। এখানে আমার কাজের কোন ব্যত্যয় হয়েছে বলে আমি মনে করি না।
'আমাকে নিয়ে কথা হয়েছে। তাও যদি মনে করা হয় এখানে ব্যত্যয় হয়েছিল। আমাকে যেতে বললে আমি অবশ্যই চলে যাব। এখানে আঁকড়ে ধরার, নিজেকে জাস্টিফাই করার কোনো কিছু নেই' বলেন সি আর আবরার।
মন্তব্য করুন


নির্বাচনের জন্য সার্বিক প্রস্তুতি চলমান। উৎসবমুখর, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য ভোটের প্রেক্ষাপটে সব ধরনের পূর্ব প্রস্তুতিই এগোচ্ছে— এমনটাই জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
সোমবার আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক শেষে সচিবালয়ে এ কথা বলেন উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি খুবই ভালো। সব বাহিনী তাদের প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে, যা জানুয়ারির মধ্যেই শেষ হবে। সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচনের জন্য সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভোটের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বডি ক্যামেরা থাকবে। যাতে প্রতিটি কেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবারহ থাকে, তা নিশ্চিত করা হবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের আগে খুন-অপরাধ বন্ধ হয়ে যাবে না। আমার কাছে তো ম্যাজিক নেই, বলবো যে লাইট অফ বন্ধ হয়ে যাবে আর তা হয়ে গেল। ব্যাপারটা এমন না।
জাতীয় পার্টি ইস্যুতে উপদেষ্টা বলেন, সব রাজনৈতিক দল এখন মাঠে। অনেকে বের হতে চায় না, ঘরে বসে রাজনীতি করতে চায়। তাদের পার্টি অফিস নিয়ে সমস্যা আছে।
এ সময় রংপুরে মুক্তিযোদ্ধা ও তার স্ত্রীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করতে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্তব্য করুন


কাতারের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (২৩ এপ্রিল) দোহায় অনুষ্ঠিত 'কাতার-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগের সুযোগ' শীর্ষক এক সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।
ড. ইউনূস তার বক্তব্যে বলেন, "বাংলাদেশ বর্তমানে নতুন উদ্যমে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড শুরু করেছে এবং তা ব্যাপক পরিসরে সম্প্রসারিত হচ্ছে।" তিনি উল্লেখ করেন যে বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে এবং একটি দুর্নীতিমুক্ত 'নতুন বাংলাদেশ' গঠনের অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করছে।
তিনি নরওয়ের টেলিনর কোম্পানির সাফল্যের উদাহরণ টেনে বলেন, "এটি বাংলাদেশে তাদের সবচেয়ে লাভজনক বিনিয়োগে পরিণত হয়েছিল। বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য এটাই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।"
অনুষ্ঠানে জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ফওজুল কবির খান জানান, বর্তমান সরকার গত বছরের নভেম্বর মাসে দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের মোট বিদেশি ঋণের পরিমাণ ছিল ৩.২ বিলিয়ন ডলার, যা এখন কমে ৬০০ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে কাতার এনার্জির ২৫৪ মিলিয়ন ডলার বকেয়া সম্পূর্ণ পরিশোধ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী কাতারি বিনিয়োগকারী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সামনে দেশে বিনিয়োগের সুযোগ ও সরকারের সংস্কার কর্মসূচি উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনসহ বিভিন্ন উচ্চপদস্থ ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। সমাপনী বক্তব্য দেন কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নজরুল ইসলাম।
মন্তব্য করুন


সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ও তদুর্ধ্ব সমপদমর্যাদার কমিশন্ড কর্মকর্তাদের (কোস্টগার্ড ও বিজিবিতে প্রেষণে নিয়োজিত সমপদমর্যাদার কর্মকর্তাগণসহ) বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা আরো সাড়ে চার মাস বাড়িয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১২ নভেম্বর থেকে আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তারা সারা দেশে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।
গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর সারা দেশে মোতায়েন করা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দুই মাস বা ৬০ দিনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে এই মেয়াদ একাধিকবার বাড়ানো হয়।
মন্তব্য করুন


আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ পরামর্শক টবি ক্যাডম্যান আশা প্রকাশ করে বলেছেন, ভারত একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, এবং গণতান্ত্রিক দেশের দাবিদার হিসেবে ভারতের উচিত হবে আইন মেনে চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া।
বুধবার (১১ ডিসেম্বর) ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর ও তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে একথা বলেন তিনি।
টবি ক্যাডম্যান বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধিত অধ্যাদেশ আন্তর্জাতিক মানের হয়েছে, তবে কিছু বিষয়ে আরও সংশোধন প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য বিচার প্রক্রিয়ায় ট্রাইব্যুনালকে পূর্ণ সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।
তিনি আরও বলেন, তবে শেখ হাসিনাকে যদি ফেরত না দেওয়া হয়, তাহলে তার (শেখ হাসিনার) অবর্তমানেই সরকার বিচার প্রক্রিয়া (ট্রায়াল) নিয়ে বিবেচনা করবে এবং যদি প্রয়োজন হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সহযোগিতা নেওয়া যায় কি না, সে ব্যাপারে সরকার পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের যে সংশোধন করা হয়েছে, তার প্রশংসা করে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী টবি ক্যাডম্যান বলেন, আইনের আরও কয়েকটি জায়গায় সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে। সম্মিলিতভাবে পরামর্শ করে সে বিষয়ে প্রস্তাব দেওয়া হবে।
সর্বোপরি, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান বিচার যাতে আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্য হয়, সে ব্যাপারে সহযোগিতা করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আইনজীবী টবি ক্যাডম্যান। এসময় উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ, আবদুল্লাহ আল মামুন, শাইখ মাহদী এবং এস এম মইনুল করিম।
লন্ডনভিত্তিক গার্নিকা থার্টি সেভেন ল ফার্মের যুগ্ম প্রধান ব্রিটিশ আইনজীবী টবি ক্যাডম্যানকে সম্প্রতি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিকে স্মরণীয় করতে গণভবনে দ্রুত একটি জাদুঘর নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ সোমবার প্রধান উপদেষ্টা গণভবন পরিদর্শন করেন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ। এছাড়া প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলমও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “জাদুঘরে শেখ হাসিনার শাসনামলের বিভিন্ন দুঃসহ স্মৃতি এবং তাকে উৎখাতের সময় জনগণের ক্ষোভের নিদর্শনগুলো সংরক্ষিত থাকা উচিত।”
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিকে স্মরণীয় করতে গণভবনে দ্রুত একটি জাদুঘর নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ সোমবার প্রধান উপদেষ্টা গণভবন পরিদর্শন করেন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ। এছাড়া প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলমও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “জাদুঘরে শেখ হাসিনার শাসনামলের বিভিন্ন দুঃসহ স্মৃতি এবং তাকে উৎখাতের সময় জনগণের ক্ষোভের নিদর্শনগুলো সংরক্ষিত থাকা উচিত।”
গত ৫ আগস্ট ছাত্র ও সাধারণ জনগণের অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর লাখো জনতা গণভবনে প্রবেশ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। তারা গণভবনের দেয়াল এবং বিভিন্ন কক্ষে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে নানা ক্ষোভ প্রকাশ করে গ্রাফিতি আঁকে।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, “গণভবনের এই জাদুঘরে একটি 'আয়নাঘর' পুনর্নির্মাণ করা উচিত, যেখানে শেখ হাসিনার কুখ্যাত নিরাপত্তা সংস্থাগুলো গোপনে বিরোধী ও ভিন্নমত পোষণকারীদের আটক করে নির্যাতন চালাতো। জাদুঘরে পরিদর্শনকারী দর্শনার্থীরা এই আয়নাঘর দেখে নির্যাতনের সেই দুঃসহ স্মৃতিগুলো স্মরণ করতে পারবে।”
অধ্যাপক ইউনূস উপদেষ্টা দলকে জাদুঘর বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করতে বলেন এবং চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে জাদুঘরের জন্য একটি চূড়ান্ত প্রস্তাব প্রস্তুত করতে নির্দেশ দেন।
উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, “শেখ হাসিনার শাসনের ২০০৯ সাল থেকে ঘটে যাওয়া সকল অপকর্মের স্মৃতিগুলো এই জাদুঘরে সংরক্ষিত থাকবে।” এছাড়া অন্যান্য দেশে বিপ্লব ও বিদ্রোহের স্মৃতিকে সংরক্ষণে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সে সম্পর্কে জানার জন্যও বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
মন্তব্য করুন


ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভের সময় দেশের বিভিন্নস্থানে দোকান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় অন্তত ৪৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব সচিব শফিকুল আলম এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, সোমবার বিভিন্ন শহরে গাজাবিরোধী বিক্ষোভের সময় সংঘটিত হিংস্র ও অবৈধ ঘটনার ওপর বাংলাদেশ পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। এই হামলা এবং ভাঙচুর কাজ জন নিরাপত্তা এবং আইনের শাসনের প্রতি অপমানজনক।
এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্তত ৪৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আরো তদন্ত চলছে এবং এই নিন্দনীয় কাজের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত মামলা দায়ের করা চলছে।
তিনি আরো বলেন, যারা বিচারের আওতায় আসবে তাদের দৃঢ়প্রতিজ্ঞ প্রচেষ্টায়, পুলিশ গত রাতে অপরাধীদের লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছিল।
এ ছাড়া আমাদের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আরো ব্যক্তি জড়িত শনাক্ত করার জন্য বিক্ষোভের সময় তোলা ভিডিও ফুটেজ কঠোরভাবে পর্যালোচনা করছে। যতক্ষণ পর্যন্ত এই সহিংসতা ও ধ্বংসের জন্য দায়ী তাদের গ্রেপ্তার না করা হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। আমরা এমন কাউকে অনুরোধ করছি যে তথ্য নিয়ে তদন্ত করতে সাহায্য করতে পারে। আমরা নিশ্চিত করতে পারি যে, যারা আমাদের সমাজের শান্তি ও স্থায়িত্বকে দুর্বল করতে চায় তাদের জবাবদিহি করা হবে।
মন্তব্য করুন


জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের মধ্যে বর্তমানে প্রায় ৭০০ জন এখনও পলাতক অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
রোববার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে জরুরি সেবা (হটলাইন) উদ্বোধন উপলক্ষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, "৭০০ জনের মতো বন্দি কারাগার থেকে বের হয়ে গেছে, তবে তারা এখনও ধরা পড়েনি। যারা ছিল, তারা এখন কারাগারে রয়েছে।"
একই সময়, তিনি চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, "ছিনতাই ও চাঁদাবাজি অস্বীকার করছি না, তবে যারা এসব করছে, তারা ধরা পড়ছে। আবার, যারা পালিয়ে যাচ্ছে, তারা এসব কাজ করছে, যা সত্যি কথা। আমরা চেষ্টা করছি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি কমিয়ে আনার জন্য।"
পুলিশের স্বল্পতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "পুলিশের সংখ্যা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই, তবে আগের মতো কাজের উদ্যম নেই। তাদের উদ্যম বাড়ানোর জন্য আমরা সর্বদা চেষ্টা করে যাচ্ছি।"
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, জামিনে বেরিয়ে আসা শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, "তাদের দ্রুত ধরা হয়ে আইনের আওতায় আনা হবে।"
৫ আগস্টের পর অনেক দাগী আসামিকে ক্ষমা করা হয়েছে, এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, "সাধারণ ক্ষমায় কেউ বের হয়নি, তারা জামিনে বের হয়েছে।"
এছাড়া, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, এখন থেকে ০৯৬১২০২১৬৯০ নম্বরের মাধ্যমে বন্দিদের অবস্থান, প্যারোলে মুক্তি, শারীরিক অবস্থা, হাজিরা, সাক্ষাৎকার ও কথা বলার তারিখের তথ্য পাওয়া যাবে। বন্দির স্বজনরা এই নম্বরে ফোন করে সমস্ত তথ্য জানতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থীদের জরুরি সেবা সার্ভিসে নিয়োগ দিয়ে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
মন্তব্য করুন