

রাজধানীর পরিবাগ সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, "নববর্ষে জাতির প্রধান আকাঙ্ক্ষা হলো ভোটাধিকার ফিরে পাওয়া। কারণ, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা দেশবাসীর ভোটাধিকারসহ সকল মৌলিক অধিকার কেড়ে নিয়ে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন।"
সতীর্থ স্বজনের আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রিজভী জুলাই মাসে ছাত্রদলের আন্দোলনের কথা স্মরণ করে বলেন, "আমি কারাগারে থাকা অবস্থায় শুনেছি, তরুণদের আন্দোলন কতটা তীব্র ছিল। পুলিশ বলছে, 'একজনকে গুলি করলে আরেকজন এসে দাঁড়ায়।' এই সাহস ও প্রেরণা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামসহ অন্যান্য কবি-সাহিত্যিকদের রচনা থেকে এসেছে।"
তিনি আরও বলেন, "গত ১৫ বছর ধরে একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে দেশের সংস্কৃতিকে বিকৃত করার চেষ্টা করেছে। এমনকি পহেলা বৈশাখের মতো উৎসবেও মুখোশ পরে আমাদের নেত্রীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। দাড়ি-টুপি পরা মানুষদের নিয়ে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। কিন্তু দাড়ি-টুপি পরা মানুষরা কি খারাপ? না।"
রিজভী গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংকল্প ব্যক্ত করে বলেন, "আমরা ১৬ বছর ধরে যে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছি, তা নিশ্চিত করতে হবে। এই নববর্ষে আমাদের দাবি—দ্রুত ভোটাধিকার ফিরে পাওয়া। শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসন জনগণের অধিকার হরণ করেছে, কিন্তু আমরা তা ফিরে পাবই।"
সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "ভোটাধিকার ও সংস্কারকে এক করে দেখা উচিত নয়। গণতন্ত্র হলো প্রবাহমান নদীর মতো, যেখানে কর্তৃত্ববাদের স্থান নেই। অনেক উপদেষ্টা এখন বিএনপিকে শত্রু ভাবছেন। তারা ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র বাদ দিয়ে শুধু সংস্কারের কথা বলছেন—এটি আমাদের বোধগম্য নয়।"
অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল বলেন, "ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনমুক্ত দেশই ছাত্রদলের জন্য ঈদের মতো আনন্দের দিন বয়ে আনবে। এই নববর্ষে সবার মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সম্প্রীতির প্রত্যাশা করি।"
এই আলোচনা সভায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়, যেখানে বিভিন্ন শিল্পী দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরেন।
মন্তব্য করুন


ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর গত বছরের ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠন হয় অন্তর্বর্তী সরকার। আগামী ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর পূর্ণ হচ্ছে। এই ১২ মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের ১২টি বড় সাফল্যের তথ্য জানালেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) নিজের ফেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি সাফল্যের বিষয়গুলো উল্লেখ করেন।
১. শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা
জুলাই বিপ্লবের পর দেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরেছে, যার ফলে নৈরাজ্য ও প্রতিশোধের চক্র বন্ধ হয়েছে। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নৈতিক নেতৃত্ব ছিল এই স্থিতিশীলতার মূল চালিকাশক্তি, যা জাতিকে সহিংসতা নয়; বরং পুনর্মিলন ও গণতন্ত্রের পথে পরিচালিত করেছে।
২. অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার
ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বড় ভূমিকা রেখেছে এই সরকার। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৪ শতাংশ থেকে প্রায় অর্ধেকে নামানো হয়েছে।
সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ৮.৪৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে (যা ৩৫ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন), রেমিট্যান্সে রেকর্ড ৩০.৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, রপ্তানি ৯ শতাংশ বৃদ্ধি, বহু বছর পর টাকার মান ডলারের বিপরীতে বেড়েছে এবং ব্যাংক খাত স্থিতিশীল হয়েছে।
৩. বাণিজ্য ও বিনিয়োগে অগ্রগতি
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সফল শুল্ক আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞ বলেছিলেন, দুর্বল সরকার এটি পারবে না। কিন্তু এই সকার সেটি করে দেখিয়েছে।
উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ অর্জন (যেমন হানদা গ্রুপের ২৫ কোটি ডলারের টেক্সটাইল বিনিয়োগে ২৫ হাজার কর্মসংস্থান), এবং আগের সরকারের চেয়ে দ্বিগুণ এফডিআই প্রবাহ। চীনা বিনিয়োগকারীরাও বাংলাদেশে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
৪. গণতান্ত্রিক সংস্কার ও জুলাই সনদ
সংস্কার কমিশন গঠন, ৩০টির বেশি রাজনৈতিক দলের মধ্যে জাতীয় ঐক্য তৈরি এবং ঐতিহাসিক জুলাই সনদ চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা ও ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদের ফিরে আসা রোধে সুরক্ষা দিচ্ছে। জুলাই সনদ গণতন্ত্রের নতুন যুগের সূচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
৫. জুলাই হত্যাযজ্ঞের বিচার
জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের স্বচ্ছ বিচার শুরু হয়েছে, যাতে দোষীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে।
এখন পর্যন্ত চারটি প্রধান বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শেখ হাসিনার বিচারও শুরু হয়েছে।
৬. নির্বাচন পরিকল্পনা ও সংস্কার
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রবাসী, নতুন ভোটার এবং নারীদের অন্তর্ভুক্তির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। নাগরিক মতামতের জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু হচ্ছে। প্রায় ৮ লাখ পুলিশ, আনসার ও সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হয়েছে যাতে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা যায়।
৭. প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত সংস্কার
বিচার বিভাগ: সংস্কারমুখী নিয়োগের মাধ্যমে স্বাধীনতা নিশ্চিত।
পুলিশ: মানবাধিকার সেল, বডিক্যাম, স্বচ্ছ জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ এবং জাতিসংঘ মানদণ্ডের প্রতিবাদ ব্যবস্থা।
আইন: দেওয়ানি ও ফৌজদারি কার্যবিধিতে ব্যাপক পরিবর্তন, গ্রেপ্তারের ১২ ঘণ্টার মধ্যে পরিবারকে জানানো বাধ্যতামূলক, আইনজীবী ও চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত, অনলাইন জিডি চালু।
৮. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও ইন্টারনেট অধিকার
দমনমূলক সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল, সব সাংবাদিক মামলা প্রত্যাহার, সমালোচনার স্বাধীনতা নিশ্চিত এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের অধিকারকে প্রথমবারের মতো মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
৯. পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন
একক দেশের ওপর নির্ভরতা থেকে সরে এসে বহুমাত্রিক ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গড়ে তোলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, চিকিৎসা সহায়তা ও সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। সার্ক পুনরুজ্জীবন ও আসিয়ান সদস্যপদ অর্জনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
১০. প্রবাসী ও শ্রমিক অধিকার
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভিসা পুনরায় চালু, মালয়েশিয়ার মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা চালু, উপসাগরীয় দেশে অনিয়মিত কর্মীদের বৈধতা প্রদান, জাপানে ১ লাখ তরুণ পাঠানোর পরিকল্পনা এবং ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়া, সার্বিয়া-তে শ্রমিক পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
১১. শহীদ ও আহত বিপ্লবীদের সহায়তা
জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের তালিকা প্রণয়ন। ৭৭৫টি শহীদ পরিবারের মাঝে প্রায় ১০০ কোটি টাকা সঞ্চয়পত্র ও ভাতা প্রদান, ১৩ হাজার ৮০০ জন আহত বিপ্লবীর জন্য ১৫৩ কোটি টাকার সহায়তা। গুরুতর আহতদের বিদেশে উন্নত চিকিৎসা ও পুনর্বাসন।
১২. সামুদ্রিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন
বঙ্গোপসাগরকে ‘জলভিত্তিক অর্থনীতির’ মূল সম্পদ ঘোষণা, চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষতা বৃদ্ধি (+২২৫ কনটেইনার দৈনিক হ্যান্ডলিং), উপকূলীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্প্রসারণ এবং গভীর সমুদ্র মৎস্য আহরণ ও শিল্প প্রকল্পে বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব।
মন্তব্য করুন


সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অব্যাহতভাবে বাড়ছে। বিশেষত, বরিশাল ও ঢাকায় এর প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২১২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে এসময়ে কোনো ডেঙ্গুরোগী মারা যায়নি।
আজ বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১১০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৬ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৭ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৩৩ জন, খুলনা বিভাগ ১২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজন রয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৮৯ ডেঙ্গুরোগী। এ নিয়ে চলতি বছরে মোট ছাড়পত্র পেয়েছেন পাঁচ হাজার ৬৯৮ জন।
গত ১ জানুয়ারি থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছয় হাজার ৬৭৮ জন। তাদের মধ্যে ৫৯ দশমিক ৩ শতাংশ পুরুষ এবং ৪০ দশমিক ৭ শতাংশ নারী। এসময়ে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ৩০ জন।
২০২৩ সালে সারাদেশে ডেঙ্গুতে এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু ও আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন। গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৫৭৫ জনের এবং আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন।
মন্তব্য করুন


চলতি মাসের সেপ্টেম্বরের প্রথম নয় দিনে দেশে এসেছে ১০১ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১২ হাজার ৪২০ কোটি টাকা।
বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরেক হোসেন খান বলেন, সেপ্টেম্বরের ৯ দিনে ১০১ কোটি ৮০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। যা গত বছরের (২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের ছয় দিন) একই সময়ের চেয়ে ১৮ কোটি ৫০ ডলার বেশি এসেছে। গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স আসার পরিমাণ ছিল ৮৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের ৯ দিন পর্যন্ত ৫৯১ কোটি ৮০ লাখ ডলার। যা গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এসেছিল ৪৯৭ কোটি ১০ লাখ ডলার। অর্থবছর হিসাবে গত অর্থবছরে একই সময়ের চেয়ে ৯৪ কোটি ৭০ ডলার বেশি এসেছে। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৯ দশমিক ১০ শতাংশ।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশে এসেছে ২৪৭ কোটি ৭৯ লাখ ১০ হাজার ডলারের রেমিট্যান্স, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩০ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা। আর গত আগস্টের পুরো সময়ে এসেছিল ২৪২ কোটি ২০ লাখ ডলার বা ২৯ হাজার ৫৪৮ কোটি ৪০ লাখ টাকার রেমিট্যান্স এসেছে।
এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মার্চ মাসে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল। আর পুরো অর্থবছর (২০২৪-২৫) জুড়ে প্রবাসী আয় এসেছে ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২৬ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।
মন্তব্য করুন


স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করলেন সিরাজগঞ্জ, পাবনা, বগুড়া, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী ও টাঙ্গাইলের ৩১৫ জন চরমপন্থী। রোববার (২১ মে) দুপুর দেড়টায় সিরাজগঞ্জ র্যাব-১২ সদর দপ্তরে পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল) লাল পাতা ও সর্বহারাসহ বেশ কয়েকটি চরমপন্থী দলের ৩১৫ সদস্য আত্মসমর্পণ করেন।
আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, আপনারা জানেন ৮০'র দশক থেকে এই এলাকার কয়েকটি জেলায় যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ থাকায় সর্বহারা ও চরমপন্থীরা ঘাঁটি তৈরি করে। পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে ‘সন্ত্রাসের জীবন ছাড়ি, আলোকিত জীবন গড়ি’ স্লোগানে চরমপন্থীরা আলোর পথে ফিরে আসে। প্রধানমন্ত্রী তখন যেমন সবাইকে পুনর্বাসন করেছিলেন, তেমনই প্রধানমন্ত্রী আজকেও আমাকে আসার আগে বলেছেন, আপনারা যারা আত্মসমর্পণ করেছেন তাদের আর্থিক সহযোগিতা থেকে শুরু করে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।
তিনি বলেন, র্যাব নানাবিধ ভালো কাজ করে যাচ্ছে, আস্থা অর্জন করেছে। এ জন্যই চরমপন্থীরা আত্মসমর্পণের জন্য র্যাবের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। র্যাব আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি নানা মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
মন্তব্য করুন


নারীর এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি কোনো নারী আত্মবিশ্বাস ও নিজের উপর আস্থা রেখে সামনে এগিয়ে যেতে চায়, তাহলে তাকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারে না। নারীর পিছিয়ে থাকার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে আমি তার মধ্যে আস্থা ও আত্মবিশ্বাসের অভাবকেই দায়ী মনে করি।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে জাতীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।
তিনি বলেন, নারীর একটি ইতিবাচক দিক হলো—সে সামান্য সুযোগ পেলেই তা কাজে লাগিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চায়। নারীর আত্মবিশ্বাস, নিজের উপর আস্থা রাখা এবং কাজের ক্ষেত্রগুলো প্রস্তুত করে সমাজে নিজের অবস্থান তৈরি করতে হয়।
কোনো কোনো ক্ষেত্রে নারীর এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় তার পরিবার ও কর্মপরিবেশ। ফরিদা আখতার বলেন, পরিবার বা কর্মক্ষেত্রে নারীর প্রতি সম্মান ও সহযোগিতার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিলে নারীর এগিয়ে যাওয়া সহজ হয়।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবস সারাবিশ্বের পাশাপাশি আমাদের দেশের নারীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। একটি দেশের উন্নয়নের মানদণ্ড অনেকটাই নির্ভর করে সেদেশে নারীর অবস্থান ও অবস্থার উপর।
গত ৫ আগস্ট নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও নেতৃত্ব দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে সময় থেকে একটি প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী মাথাচাড়া দিয়ে উঠার চেষ্টা করছে। কারণ তারা দেখছে, নারীরা যেভাবে এগিয়ে আসছে, তাদের দমাতে হবে। এসব বিষয় আমাদের কারও চোখ এড়ায়নি।
তিনি বলেন, ‘এখানে ধর্মীয় কথাটা না এনে আমি বলছি—একটি প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী মেয়েদের পিছিয়ে দিতে ধর্মের অপব্যবহার করছে। এটা আমার কাছে সঠিক বলে মনে হয়েছে। সম্প্রতি মেয়েদের ফুটবল খেলায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। নারীদের পিছিয়ে দিতে নানাভাবে দমিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে আমি একদিকে নারী নির্যাতন হিসেবে দেখি, অন্যদিকে এটাকে সন্ত্রাস হিসেবেও দেখি। আইনিভাবে সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই এটাকে দেখতে হবে এবং অপরাধীদের সঙ্গে কোনো আপস না করে দ্রুত শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
ফরিদা আখতার বলেন, অধিকারের জায়গায় নারীকে নিজের উদ্যোগেই সচেতন হতে হবে। নারীকে তার প্রতিবন্ধকতাগুলো সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে।
নিজের মন্ত্রণালয়ে কর্মরত নারীদের কাজ অনেকটাই অদৃশ্য থেকে যায় উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধিকাংশ কাজ নারীরাই করে থাকে। মাঠপর্যায়ে যেসব খাদ্য উৎপাদন হয়, শাকসবজি চাষ, পশুপাখি ও মৎস্য উৎপাদনের পেছনে নারীর শ্রম রয়ে যায় অনুল্লেখ্য। মাঠ পর্যায়ে অনেক প্রান্তিক নারী নিরলসভাবে কাজ করছে, কিন্তু তাদের কাজের কেউ মূল্যায়ন করছে না। এখন আমার দায়িত্ব হলো এসব নারীদের স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা করা এবং তাদের কর্মকাণ্ড সমাজের কাছে তুলে ধরা।
তিনি বলেন, ইতিমধ্যে স্থানীয়ভাবে নারী মৎস্যজীবীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছি, যেন পরিসংখ্যানে এসব লড়াকু নারীদের অংশগ্রহণ দেখতে পাওয়া যায়। শুধু মুখে বা কাগজে-কলমে নারীর উন্নয়নের কথা বললে হবে না। বিভিন্ন সেক্টরে কর্মরত নারীদের কাজের বিষয়টিকে সামনে আনতে হবে। অন্যদিকে, তাদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হলে তারা আরও বেশি কাজে মনোযোগী হবে।
তিনি আরও বলেন, আমি আসলে বদ্ধ ঘরে বসে বক্তৃতার মধ্যে থাকতে চাই না। তাদের নিয়ে কাজ করতে চাই। ৮ মার্চ নারীর জন্য এ দিবসটি নারীর অধিকার ও সংগ্রামের স্বীকৃতি হিসেবে জাতিসংঘ একটি বিশেষ দিন হিসেবে রেখেছে। সুতরাং, এ দিবসটিকে সঠিকভাবে উদযাপন করা উচিত।
ফরিদা আখতার বলেন, ‘নিজের কাজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, নারী কোথাও কোথাও অনেক পিছিয়ে রয়েছে।’
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
গত ১৫ বছরে পুলিশ বাহিনীতে ৮০ থেকে ৯০ হাজার সদস্যকে রাজনৈতিক পরিচয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।
সোমবার (৯ ডিসেম্বর) মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, গত ১৫ বছরে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগের আগে নানাভাবে তাদের তথ্য যাচাই করা হয়েছে। নিয়োগ পার্থী কোন দলের, তার বাবা কোন দলের, দাদা কোন দলের এবং আরও পূর্বপুরুষ কোন দলের তা খবর নেওয়া হয়েছে। দুই লাখ পুলিশের মধ্যে ৮০ থেকে ৯০ হাজার পুলিশ সদস্য এভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন।
তিনি বলেন, এই ৮০ থেকে ৯০ হাজার পুলিশ সদস্যকে তো বলতে পারি না ‘গো হোম’ (বাসায় ফিরে যাও)। তবে যারা দুষ্টু, যারা পেশাদারত্বের বাইরে গিয়ে নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়েছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সাজ্জাত আলী আরও বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে যখন পুলিশ ইনঅ্যাক্টিভ হয়ে পড়ে, তখন ঢাকা শহরে ডাকাতি, লুটপাট শুরু হয়। তখন ৮০ বছরের বৃদ্ধও লাঠি নিয়ে পাহাড়া দিয়েছেন। তখন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ট্রমার মধ্যে পড়ে যায়। এরপর সদ্যবিদায়ী ডিএমপি কমিশনারসহ অন্যরা পুলিশকে সক্রিয় করতে কাজ শুরু করেন।
তিনি বলেন, ঢাকা শহরের প্রধান সমস্যা ট্রাফিক। এই শহরে বিপুল সংখ্যক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে। অটোরিকশা যদি বন্ধ না হয় তাহলে ঢাকা শহরের ঘর থেকে বের হলে আর হাঁটার জায়গা থাকবে না। মানুষের মুভমেন্ট বন্ধ হয়ে যাবে।
এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ঢাকা শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত বিশৃঙ্খল অবস্থায় রয়েছে। ট্রাফিক আইন কেউ মানতে চান না। হকাররা ফুটপাত দখল করে নিয়েছেন। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কাজ শুরু করেছি। ট্রাফিক আইনে দ্বিগুণ হারে মামলা করা হচ্ছে। ঢাকাবাসীর সহযোগিতা ছাড়া ট্রাফিক ব্যবস্থা উন্নত হবে না।
ইদানিং ছিনতাইয়ের ঘটনা অহরহ হচ্ছে জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, বিভিন্নভাবে আমাকে জানানো হয়েছে ছিনতাই বেড়েছে। ছিনতাই প্রতিরোধে ডিবি ও থানা পুলিশকে সক্রিয় করা হয়েছে।
তিনি বলেন, চাঁদাবাজি হচ্ছে, কিন্তু সমাজ থেকে প্রতিরোধ করা না গেলে চাঁদাবাজি বন্ধ করা কঠিন। আপনারা কেউ চাঁদা দেবেন না। আমরা পুলিশ জনগণের পাশে থাকবো।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ঢাকা মহানগর পুলিশ পেশাদারিত্বের বাইরে গিয়ে কাজ করেছে বলে মন্তব্য করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এ ঘটনায় আমি ঢাকাসহ দেশবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
তিনি বলেন, ডিএমপির ওই সময়ের অপেশাদার আচরণের কারণে বদলি ও দোষী সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আগামী সাধারণ নির্বাচনের জন্য দুটি সম্ভাব্য সময়সীমা রয়েছে—একটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বর এবং অন্যটি ২০২৬ সালের মাঝামাঝি। তবে চূড়ান্ত তারিখ নির্ভর করবে জনগণের চাওয়া সংস্কারের মাত্রার ওপর।
শনিবার ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য রূপা হকের সঙ্গে আলোচনার সময় ড. ইউনূস এ মন্তব্য করেন। আলোচনায় নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ ও আগাম সংস্কারমূলক উদ্যোগ নিয়ে কথা হয়।
ড. ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে। গত তিনটি নির্বাচনে দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। সেই সময় ভুয়া সংসদ, ভুয়া এমপি এবং ভুয়া স্পিকারের মাধ্যমে দেশ পরিচালিত হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “দেশের জনগণ তাদের কণ্ঠ ফিরে পেয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তাদের কণ্ঠস্বর জোরপূর্বক দমন করা হয়েছিল। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই এই অন্তর্বর্তী সরকার কাজ করছে।”
ব্রিটিশ এমপি রূপা হক বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচন, অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা সম্পর্কে জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “নতুন বাংলাদেশের ইতিবাচক পরিবর্তন দেখে আমি খুবই উৎসাহিত।”
রূপা হক আলোচনায় উল্লেখ করেন, কেন গত জুলাই মাসে জনগণের বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছিল এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে ঘটে যাওয়া নিপীড়নের ঘটনাগুলোও উঠে আসে। তিনি বলেন, “ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভই গণঅভ্যুত্থানের মূল কারণ।”
আলোচনার শেষে রূপা হক বলেন, “আমি আগামী সাধারণ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশে আবারও আসতে আগ্রহী।” সাক্ষাৎকালে ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার ও ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর জেমস গোল্ডম্যান উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও তার বড় মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীরের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন। আজ সোমবার আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন গালিব এ আদেশ দেন।
দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম পৃথক আবেদনে আয়কর নথি জব্দের জন্য আবেদন করেন। দুদকের পক্ষে প্রসিকিউটর মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর শুনানি করেন।
এর আগে ৮ জানুয়ারি আদালত বেনজীর আহমেদের স্ত্রী জিশান মির্জা ও ছোট মেয়ে তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছিলেন।
এছাড়া, গত ১৫ ডিসেম্বর দুদক সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবার সদস্যদের বিরুদ্ধে চারটি মামলা দায়ের করেছিল।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বেনজীর আহমেদ ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন এবং ২ কোটি ৬২ লাখ টাকা সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। তার স্ত্রী জিশান মির্জা ৩১ কোটি ৬৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন এবং ১৬ কোটি ১ লাখ টাকার তথ্য গোপন করেছেন। তাদের বড় মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর ৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকার এবং মেজ মেয়ে তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীর ৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু চাকরিপ্রার্থী হিসেবে নয়, বরং চাকরি সৃষ্টিকারী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, ‘উদ্যোক্তা মানসিকতা, কল্পনাশক্তি ও নতুন কিছু তৈরির সাহস এই গুণগুলো শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে বিকশিত হওয়া জরুরি।’
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলে ‘উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা-২০২৬’ শীর্ষক দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘শিক্ষা ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য কেবল চাকরির উপযোগী জনশক্তি তৈরি করা নয় বরং সৃজনশীল, স্বাধীন চিন্তাশীল ও উদ্ভাবনী মানুষ গড়ে তোলা।
মানুষ জন্মগতভাবেই সৃজনশীল। কিন্তু প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা অনেক সময় সেই সৃজনশীলতাকে দমন করে কেবল চাকরির প্রস্তুতিতে সীমাবদ্ধ করে ফেলে।’
তিনি বলেন, ‘শিক্ষা শুধু চাকরি পাওয়ার হাতিয়ার হিসেবে দেখলে তার প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। শিক্ষার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের সৃজনশীলতা জাগ্রত করা এবং তাকে স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে শেখানো।’
প্রধান উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়া একটি সম্ভাবনাময় অঞ্চল। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামাজিক বিভাজন ও ভুল নীতির কারণে এই অঞ্চলের সম্ভাবনাগুলো অনেক সময় কাজে লাগানো যায় না।’ শিক্ষা হতে পারে সেই শক্তি, যা এই অঞ্চলের তরুণদের পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে সক্ষম করে তুলবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণ দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাও কর্মসূচি পালন করছে ছাত্র-জনতা। কর্মসূচি থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টায় বঙ্গভবনের সামনে থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
আন্দোলনকারীরা বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতি আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার দোসর। আমরা চাই না তিনি রাষ্ট্রপতি পদে থাকুন। তাই আমরা তাকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছি তিনি যেন রাষ্ট্রপতির পথ থেকে পদত্যাগ করেন। তিনি যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ না করেন তাহলে আমরা জানি তাকে কীভাবে পথ থেকে সরাতে হবে। ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটামে কাজ না হলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলব।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিজে আহত হয়েছেন জানিয়ে বাহার উদ্দিন নামে একজন বলেন, রাষ্ট্রপতি চুপ্পু যে পর্যন্ত তার পদ থেকে পদত্যাগ না করবেন সে পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছেড়ে যাব না। চুপ্পু একজন মিথ্যাবাদী। সে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার দোসর। আমরা চাই না কোনো স্বৈরাচারের দোসর এই পদে থাকুক।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিজে আহত হয়েছেন জানিয়ে মো.সোহাগ বলেন, আমরা দেখতে চাই চুপ্পু কতদিন বঙ্গভবনে থাকতে পারে। ছাত্র আন্দোলনের আহতরা পথে পথে আর দুর্নীতিবাজ ও স্বৈরাচারের দোসর রাষ্ট্রপতি চুপ্পু কেন বঙ্গভবনে আরাম-আয়েশ করবে। এই রাষ্ট্রপতি ভারতের দালাল এবং সে শেখ হাসিনার দোসর।
ইনকিলাবের মঞ্চ নামে ব্যানারে আরেকটি সংগঠনের অর্ধশত লোকজন বঙ্গভবনের সামনে হাজির হয়ে বলেন, আমরা চাই বর্তমান রাষ্ট্রপতি যেন দ্রুত পদত্যাগ করেন।
বঙ্গভবন এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মো. ফারুক হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, বঙ্গভবন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য ডিএমপি থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ সদস্যরা কাজ করছেন। অপ্রীতিকর কিছু যাতে না ঘটে সেজন্য স্থানীয় থানা পুলিশের পাশাপাশি সেখানে সহযোগিতায় রয়েছেন সেনাবাহিনী ও র্যাবের সদস্যরা।
প্রসঙ্গত, ছাত্র-জনতার তোপের মুখে গত ৫ আগস্ট পালিয়ে যান ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি পালিয়ে যাওয়ার পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং আমি তা গ্রহণ করেছি।’
তবে সম্প্রতি মানজমিন পত্রিকার সম্পাদক মতিউর রহমানের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি জানান, তিনি শুনেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন, কিন্তু তার কাছে এ সংক্রান্ত কোনো দালিলিক প্রমাণ বা নথিপত্র নেই। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বহু চেষ্টা করেও আমি ব্যর্থ হয়েছি। তিনি হয়ত সময় পাননি।’
এরপর নতুন করে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে সরকার পতনে নেতৃত্বদানকারী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সমাজ।
মন্তব্য করুন