

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আয়নাঘর সারা বাংলাদেশজুড়ে বিদ্যমান। এর সঠিক সংখ্যা এখনও নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।
বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমকর্মী ও ভুক্তভোগীদের নিয়ে আয়নাঘর পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা জানান।
জানা গেছে, এর আগে তিনি প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) যৌথ জিজ্ঞাসাবাদ সেল এবং র্যাব-২ এর সিপিসি-৩ এর ভেতরের সেলগুলো পরিদর্শন করেছেন। এরপর তারা র্যাব সদর দপ্তরের টাস্কফোর্স ইন্টেলিজেন্স সেন্টারে যান।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘এ ধরনের ইন্টারোগেশন সেল, টর্চার সেল সারা বাংলাদেশজুড়ে ছড়িয়ে আছে; আজকে সেগুলো সম্পর্কে শুনলাম। আগে আমার ধারণা ছিল যে, এখানে আয়নাঘর বলতে কয়েকটি স্থানকেই বোঝায়। কিন্তু এখন জানলাম, আয়নাঘরের মতো স্থান সারা দেশজুড়ে বিদ্যমান। কেউ বলছে ৭০০, কেউ বলছে ৮০০। সঠিক সংখ্যা এখনও নিরূপণ করা যায়নি। কতটা জানা আছে, কতটা অজানা রয়ে গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখানে যা ঘটেছে তা নৃশংস। প্রতিটি ঘটনা শুনে অবিশ্বাস্য মনে হয়। এটা কি আমাদেরই জগত, আমাদেরই সমাজ? আমরা কি এটা করলাম? যারা নিগৃহীত হয়েছে, যারা এটার শিকার হয়েছে তারাও আমাদের সঙ্গে আছে। তাদের মুখ থেকে শুনলাম- এটা কীভাবে হয়েছে।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আইয়ামে জাহেলিয়াত বলে একটা কথা আছে। গত সরকার সর্বক্ষেত্রে আইয়ামে জাহেলিয়াতকে প্রতিষ্ঠিত করে গেছে। এটা (আয়নাঘর) এর একটি নমুনা।’
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার আয়নাঘর পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে ‘বিশেষ’ স্থানে রাখা হতো। এ নিয়ে সুইডেনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নেত্র নিউজে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে এসব স্থান ‘আয়নাঘর’ নামে প্রকাশ্যে আসে। গুম হওয়া ব্যক্তিদের অনেকে শেখ হাসিনা সরকারের ক্ষমতাচ্যুতির পর আয়নাঘর থেকে ফিরে আসেন পরিবারের কাছে। তাদের বয়ানে উঠে এসেছে আয়নাঘরের ভয়াবহতা।
১৯ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে একটি বৈঠক করেছে। সে বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টাকে গুমের ঘটনায় তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানানো হয়। গুম করে বন্দিদের যেখানে রাখা হতো তা জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল বা আয়নাঘর নামে পরিচিত। কমিশনের সদস্যদের আহ্বানেই সেসব স্থাপনা পরিদর্শনে গেছেন অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান।
অভিযোগ রয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনকালে ২০০৯ থেকে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬০৫ জনকে গোপনে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। অন্য আরেকটি তথ্যে বলা হয়েছে, ২০১৪ থেকে ২০১৯ সালের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশে ৩৪৪ ব্যক্তি গুমের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় ৪০ জনকে। আর ৬৬ জনকে সরকারি হেফাজতে গ্রেপ্তার অবস্থায় পাওয়া গেছে।
যেসব ব্যক্তি দীর্ঘদিন গুম থাকার পর ফিরে এসেছেন, তারা গুমের ব্যাপারে মৌনতা অবলম্বন করেছেন। ধারণা করা হয়, এসব মানুষদের গুম করে রাখা হয় আয়নাঘরে। অভিযোগ রয়েছে, আয়নাঘরেই বন্দি ছিলেন- অধ্যাপক মোবাশার হাসন, সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান, ব্যবসায়ী অনিরুদ্ধ কুমার রায়, মাইকেল চাকমা ও মীর আহমদ বিন কাসেমসহ অনেকে।
মন্তব্য করুন


আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশকে রেড, ইয়েলো ও গ্রিন—এই তিন জোনে ভাগ করা হচ্ছে বলে জানিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, সে অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
রোববার নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বাংলাদেশ সফররত কমনওয়েলথ মহাসচিব শার্লি আয়োরকর বচওয়ের বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান ইসি সচিব।
তিনি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে সার্বিক সহযোগিতা করতে চায় কমনওয়েলথ। এ জন্য ৫৬ সদস্য দেশের সংগঠন হিসেবে তারা পর্যবেক্ষক পাঠানোর জন্য প্রস্তুত।
ইসি সচিব বলেন, সিইসির সঙ্গে বৈঠকে কমনওয়েলথ মহাসচিবের কাছে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি, অগ্রগতি, বিদেশে ভোট প্রদান, গণভোটসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।
সচিব জানান, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ব্যাপারেও আলোচনা হয়েছে। ইসি জানিয়েছে, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের স্বাগত জানানো হবে। মহাসচিব আশা প্রকাশ করেন, তারা এসে নির্বাচনকে আরও গ্রহণযোগ্য করতে ভূমিকা রাখবেন। এখনো পর্যবেক্ষক দলের সংখ্যা বা পাঠানোর সময় বিষয়ে কিছু নির্দিষ্ট হয়নি। প্রবাসী পর্যবেক্ষকেরাও নির্বাচন পর্যালোচনা করে তাদের অবস্থান জানাবেন।
আখতার আহমেদ বলেন, ‘কমনওয়েলথ জিজ্ঞেস করেছে—আপনারা কী ধরনের সহযোগিতা চান? আমরা এখনো নির্দিষ্ট করে কিছু বলিনি। নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে কোথায় সহযোগিতা প্রয়োজন হতে পারে, তা নির্ধারণ করতে কিছু সময় লাগবে।’
ইসি সচিব জানান, আলোচনার শেষাংশে মহাসচিব নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতির ওপর আস্থা ও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশ একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করবে।
তিনি বলেন, ‘আলোচনাটি অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে হয়েছে এবং মহাসচিব আমাদের প্রস্তুতিকে সমর্থন ও আস্থা জানিয়েছেন। আমরা তাকে ধন্যবাদ জানাই। শেষে কমনওয়েলথ মহাসচিব জানান, তারা আশা করছেন, এবারের নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক হবে।’
ইসি সচিব আরও বলেন, কমনওয়েলথ মহাসচিব বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পর্কে সিইসির কাছে জানতে চেয়েছেন। জানানো হয়েছে যে, ভোটের জন্য প্রয়োজনীয় সব নির্বাচন সামগ্রী প্রস্তুত করা হচ্ছে। বিদেশে বসবাসকারী ভোটারদের জন্য ওসিভি (আউট অব কান্ট্রি ভোটিং)–এর প্রক্রিয়াও চলছে। ৫৩ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম প্রবাসীদের এই অন্তর্ভুক্তি হচ্ছে—এটি জেনে মহাসচিব সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এটি সফলভাবে সম্পন্ন হবে।
সচিব জানান, আইসিপিভির (ইন কান্ট্রি পোস্টাল ভোট) আওতায় দেশের ভেতরে প্রায় ১০ লাখ ভোটার, যারা বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ দায়িত্বে নিয়োজিত—তাঁদেরও ভোটদানের সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। এটিও মহাসচিবের কাছে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে।
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কমনওয়েলথ মহাসচিব বলেছেন যে একই দিনে গণভোট আয়োজন নির্বাচন কমিশনের জন্য বাড়তি দায়িত্ব। তবে ইসি যে প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছে, তা দেখে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
১৭ বছর পর কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম পিন্টু। মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) সকালে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি বের হন।
আবদুস সালাম পিন্টুর কারামুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিএনপির মিডিয়া সেল।
বেলা পৌনে ১২টার দিকে ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বিএনপির মিডিয়া সেল জানায়, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় ১৭ বছর কারাগারে বন্দি ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম পিন্টু।
অবশেষে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পেয়েছেন।
পোস্টে বেশ কিছু ছবিও দেয়া হয়েছে যাতে দেখা যাচ্ছে, নেতাকর্মীদের ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হচ্ছেন পিন্টু। এসময় ছাদ খোলা গাড়িতে মাথা বের করে শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন তিনি।
মন্তব্য করুন


গত বছরের জুলাই-আগস্টে চলমান কোটাবিরোধী আন্দোলনে গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া একটি অডিও রেকর্ডিং এর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি।
ফাঁস হওয়া রেকর্ডিংটি যাচাই করে বিবিসি জানিয়েছে, শেখ হাসিনা তার নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ‘প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার’ করার অনুমতি দিয়েছেন এবং ‘তারা (এসব বাহিনীর সদস্যরা) যেখানেই তাদের (আন্দোলনকারী) পাবে, তারা গুলি করবে’।
অজ্ঞাত একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে শেখ হাসিনার কথোপকথনের ফাঁস হওয়া অডিওটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ যে, তিনি সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের গুলি করার জন্য সরাসরি অনুমতি দিয়েছিলেন।
ফাঁস হওয়া অডিওটি সম্পর্কে জানেন এমন একটি সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে, গত ১৮ জুলাই নিজের সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে শেখ হাসিনা ওই ফোনালাপটি করেন। রেকর্ডিংয়ের কণ্ঠের সঙ্গে শেখ হাসিনার কণ্ঠস্বরের মিল শনাক্ত করেছে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ।
বিবিসি আলাদাভাবে ইয়ারশটের অডিও ফরেনসিক এক্সপার্টদের দিয়ে এই রেকর্ডিংয়ের সত্যতা যাচাই করেছে এবং তারা এটিতে এডিট করার বা কোনো রকম পরিবর্তন করার কোনো প্রমাণ পায়নি। অডিওটি কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছে এমন সম্ভাবনাও খুবই কম বলে তারা জানিয়েছে।
মানবাধিকার বা পরিবেশ রক্ষার ইস্যুতে অডিও সংক্রান্ত তদন্তের কাজ করে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ইয়ারশট। তারা বলছে, ফাঁস হওয়া রেকর্ডিংটি সম্ভবত এমন একটি ঘরে ধারণ করা হয়েছিল যেখানে ফোন কলটি স্পিকারে বাজানো হয়েছিল। কারণ এতে স্বতন্ত্র টেলিফোনিক ফ্রিকোয়েন্সি এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে কিছু শব্দ ছিল।
ইয়ারশটের বিশেষজ্ঞরা রেকর্ডিংজুড়ে ইলেকট্রিক নেটওয়ার্ক ফ্রিকোয়েন্সি বা ইএনএফ শনাক্ত করেছে, যে ফ্রিকোয়েন্সি অন্য একটি ডিভাইস থেকে অডিও রেকর্ডিংয়ের ক্ষেত্রে প্রায়ই উপস্থিত থাকে।
এটি এমন এক সূচক যার মানে হলো অডিওটিতে হেরফের করা হয়নি।
তারা শেখ হাসিনার বক্তব্যে ছন্দ, স্বর এবং শ্বাসের শব্দ বিশ্লেষণ করেছে এবং ধারাবাহিক নয়েজের স্তরও শনাক্ত করেছে। অডিওতে কৃত্রিম কোনো পরিবর্তন আনার প্রমাণও খুঁজে পায়নি।
ব্রিটিশ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনজীবী টবি ক্যাডম্যান বিবিসিকে বলেছেন, ‘রেকর্ডিংগুলো তার (শেখ হাসিনার) ভূমিকা প্রমাণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এগুলো স্পষ্ট এবং সঠিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে এবং অন্যান্য প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত।’
তিনি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন যেখানে শেখ হাসিনাসহ অন্যদের বিরুদ্ধে মামলা চলছে।
আওয়ামী লীগের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘বিবিসির উল্লেখ করা টেপ রেকর্ডিংটি সত্য কিনা তা আমরা নিশ্চিত করতে পারছি না’।
মন্তব্য করুন


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্য পদের সমর্থনে একটি প্রস্তাব পাস করার ঠিক আগে জাতিসংঘের সনদটি ছিড়ে টুকরো টুকরো করে ফেললেন ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত গিলাদ এরদান।
সাধারণ সভায় ভোটাভুটিতে ফিলিস্তিনের পক্ষে ভোট দেয় ১৪৩টি দেশ। যার মধ্যে ছিল ইসরাইলের ‘বন্ধু’ ভারতও। অন্যদিকে ২৫টি দেশ এই ভোটদান থেকে বিরত থাকে। আমেরিকা ও ইসরাইলসহ ৯টি দেশ বিপক্ষে ভোট দেয়। কিন্তু অধিকাংশ ভোট নিয়ে প্রস্তাবটি পাস হয়ে যায়।
যার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত গিলাদ এরদান বলেন, আজকের এই দিনটা অন্যতম কালো দিন হিসাবে লেখা থাকবে। ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত এরদান এই প্রস্তাবটিকে জাতিসংঘ সনদের একটি ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছেন। বলেছেন, এটি গত মাসে নিরাপত্তা পরিষদে মার্কিন ভেটোকে নস্যাৎ করেছে। এখানেই থেমে থাকেননি ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত। আমি একটা আয়না দেখাতে চাই আপনাদের।
জাতিসংঘে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অনেক বড় বড় কথা বলা হয়। আজ এমন একটা দেশকে সদস্যপদের জন্য সমর্থন জানানো হল যারা সন্ত্রাসবাদকে মদত দেয়। জঙ্গিদের আশ্রয় দেয়। সন্ত্রাসবাদ নিয়ে যে সনদ তা আপনারাই আজকে ছিড়ে ফেললেন। আমি তারই প্রতিচ্ছবি।
ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরাইল কাটজও রেজ্যুলেশন পাসের নিন্দা করেছেন। একে একটি ‘অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত’ বলে বর্ণনা করেছেন, যা ‘জাতিসংঘের পক্ষপাতের দিকটি তুলে ধরেছে। জাতিসংঘে ফিলিস্তিনিদের মর্যাদা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হামাস সন্ত্রাসীদের জন্য একটি পুরষ্কার। কারণ তারা হলোকাস্টের পর থেকে ইহুদিদের ওপর সবচেয়ে বড় গণহত্যা চালিয়েছে।
ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর বলেছেন, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এখন নিরাপত্তা পরিষদের পূর্ণ সদস্যপদ পাওয়ার জন্য অনুরোধ করবে। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে সতর্ক করেছে, তারা সম্ভবত নিরাপত্তা পরিষদে এই ধরনের একটি অনুরোধে ভেটো দেবে। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার বিষয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাবকে বাধা দিতে তার ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করে।
জাতিসংঘের নথি অনুযায়ী, একটি খসড়া রেজ্যুলুশন পাস করার জন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের পক্ষে কমপক্ষে নয়জন সদস্য থাকতে হবে এবং ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করে এর স্থায়ী সদস্যদের মধ্যে কেউ নেই। তারা হল চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য এবং আমেরিকা।
মন্তব্য করুন


অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, দেশের বর্তমান খাদ্য পরিস্থিতি যথেষ্ট সন্তোষজনক। তবে বাজারে এর প্রভাব পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়েছে কি না, তা ভিন্ন বিষয়। সরকারের খাদ্য মজুদের পরিস্থিতি ভালো অবস্থানে রয়েছে। বুধবার (২২ জানুয়ারি) খাদ্যপরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভা শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. সালেহউদ্দিন বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করা। এর পাশাপাশি বাফার স্টক গড়ে তোলাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি গুদামে খাদ্য মজুদ না থাকলে বেসরকারি খাত এই সুযোগ নিয়ে বাজারে নানা ধরনের কারসাজি করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ভ্যাট বাড়ানোর বিষয়টি মহার্ঘ ভাতা বা আইএমএফের কোনো পরামর্শের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। বরং বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যেখানে তুলনামূলকভাবে খুব কম ভ্যাট দিতে হয়। এত কম কর দিয়ে ভালো মানের সেবা প্রত্যাশা করা সঠিক নয়।
অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের ওপর ভ্যাট বাড়ানো হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “১২৫ টাকায় চশমা পাওয়া কি সম্ভব? ৬০০-৭০০ টাকার খাবার খাচ্ছেন, কিন্তু ভ্যাট দিতে চাইছেন না। আবার গ্লোরিয়া জিন্সে গিয়ে কফি খাচ্ছেন, সেখানে ১৫ টাকার ভ্যাট দিতে সমস্যা হয়। এমন প্রবণতা থাকলে অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়া কঠিন।”
তিনি আরও জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় ১৩৫ মিলিয়ন ডলার এলএনজির বিল বকেয়া ছিল। তা পরিশোধ করা হয়েছে। রাশিয়াও গমের টাকার জন্য চাপ দিচ্ছিল। বিগত সরকারের সময় পরিস্থিতি কেমন ছিল, তা এ থেকেই অনুমান করা যায়।
মন্তব্য করুন


নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, এবারের নির্বাচন হবে ‘লাইনচ্যুত ট্রেনকে’ লাইনে ফিরিয়ে আনার নির্বাচন।
বুধবার আগারগাঁওয়ে এনজিও ব্যুরো কার্যালয়ে ৮১টি সংস্থার মোর্চা এলায়েন্স ফর ফেয়ার ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি– এএফইডির একটি প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন ।
দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা ও সংস্কার কার্যক্রমের প্রসঙ্গ টেনে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ‘২০২৬ সালের নির্বাচনকে আমি যদি একটু রূপকভাবে বলি–এটা অনেকটা লাইনচ্যুত একটি ট্রেনকে আবার লাইনে ফিরিয়ে এনে চালু করার মত।
ন্যূনতম রিপেয়ার করে, কিছু যন্ত্রাংশ বদলে অন্তত গতি দেওয়ার চেষ্টা। যদি আমরা এটা করতে পারি, তাহলে এটাকেই আমরা প্রথম বড় সাফল্য হিসেবে ধরতে পারি।’
এরপর ‘পরবর্তী দিকনির্দেশনায়’ আরও উন্নতির দিকে এগোনোর ওপর জোর দেন এই নির্বাচন কমিশনার।
তিনি আরও বলেন, ‘পর্যবেক্ষকরা ইসির তৃতীয় নয়ন। চাই, তাদের পর্যবেক্ষণ মানসম্মত হোক। মৌলিক বিষয়াদির যেন ব্যত্যয় না হয়। নীতিমালার মধ্যে থেকে সব ধরণের সহযোগিতা করা হবে।’
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।
ডেমোক্রেসি ওয়াচের চেয়ারপারসন তালেয়া রহমান, খান ফাউন্ডেশন এর কো-চেয়ার রোকসানা খন্দকারসহ বিভিন্ন সরকারি ও ও বেসরকারি সংস্থা ও দূতাবাসের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


জুলাই–আগস্টের গণ-আন্দোলনে অংশ নেওয়া যোদ্ধাদের ‘মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাদের দেখভালের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একটি পৃথক বিভাগ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের দায়িত্ব নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার ও গুরুতর আহতদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তারেক রহমান।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া যোদ্ধারাও মুক্তিযোদ্ধা। একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধারা যেমন দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবন ও ত্যাগ দিয়েছেন, ঠিক একইভাবে চব্বিশে যারা লড়াই করেছেন, তারাও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্যই যুদ্ধ করেছেন।’ তিনি বলেন, ‘একাত্তরে যুদ্ধ হয়েছিল স্বাধীনতা রক্ষার জন্য, আর সেই স্বাধীনতা রক্ষাতেই আবার চব্বিশে যুদ্ধ হয়েছে।’
জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারগুলোর বিষয়ে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি জনগণের সমর্থনে সরকার গঠনের সক্ষমতা অর্জন করলে জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের কষ্ট লাঘবে রাষ্ট্রীয়ভাবে উদ্যোগ নেওয়া হবে। ‘যারা হারিয়ে গেছেন, তাদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তবে তাদের পরিবারের কষ্ট, সুযোগ-সুবিধা ও দেখভালের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে। এ জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি নতুন বিভাগ গঠন করা হবে, যার মূল দায়িত্ব থাকবে এই মানুষগুলোর দেখভাল করা,’ বলেন তিনি।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বিএনপি অতীতে সরকারে থাকাকালীন মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করেছিল। একই ধারাবাহিকতায় আগামীতে জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারগুলোকেও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
গণ-আন্দোলনে হতাহতদের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই এক বা দুই চোখ হারিয়েছেন, কেউ কেউ স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ে যেভাবে দেড় হাজারের মতো মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, সেটিকে আমরা গণহত্যা বলতে পারি।’
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের সাহসিকতার কারণেই ফ্যাসিবাদী শক্তি শুধু ক্ষমতা থেকেই নয়, দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। তার ভাষায়, ‘২০২৪ সালের আন্দোলন কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলের নয়। এটি অধিকারহারা মানুষের গণ-আন্দোলন।’
গণ-আন্দোলনে আহতদের ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দুইভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। এক—রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা। দুই—আহতদের যোগ্যতা অনুযায়ী অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, ‘হতাহতদের প্রতি রাষ্ট্রের অবশ্যই দায়িত্ব রয়েছে। জনগণের রায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে বিএনপি পর্যায়ক্রমে সেই দায়িত্ব পালন করবে।’
নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হলে শোক সমাবেশ ও শোকগাঁথাই চলতে থাকবে। তবে গণতন্ত্রকামী মানুষ আগামী বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বিজয়গাঁথা রচনা করবে।
মন্তব্য করুন


পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, গত ১৫ বছরে পুলিশকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে, যা পুলিশের পেশাদারিত্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে পুলিশের কর্মস্পৃহা পুনরুদ্ধার করা।
শনিবার (২১ ডিসেম্বর) সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে বিভাগীয় সকল ইউনিটের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আইজিপি আরও বলেন, দলীয় স্বার্থে পুলিশকে ব্যবহার করে বড় ধরনের অন্যায় করা হয়েছে, যা আমাদের জন্য লজ্জার বিষয়। পুলিশ যেন ভবিষ্যতে রাজনৈতিক প্রভাবের শিকার না হয়, সেজন্য পুলিশের সংস্কারে কাজ চলছে। ইতোমধ্যে সারাদেশে লুট হওয়া ৬ হাজার অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো ২ হাজার অস্ত্র উদ্ধার বাকি রয়েছে। এই অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, মামলার ক্ষেত্রে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অসাধু ব্যক্তিরা সুবিধা নিয়েছে। যেসব নিরীহ মানুষকে ভুলক্রমে আসামি করা হয়েছে, তাদের গ্রেপ্তার করা হবে না। হয়রানি এড়াতে পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের আশ্বস্ত করা হবে।
মন্তব্য করুন


গণভোটে ‘হ্যাঁ’তে সিল দিলে নতুন বাংলাদশ গড়ার দরজা খুলে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পাওয়া রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কারের সুযোগকে লুফে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান জাতির ইতিহাসের এক অসাধারণ অর্জন। এটি অপ্রত্যাশিতভাবে জাতির জীবনে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ এনে দিয়েছে। এ লক্ষ্যে আমরা এর মধ্যে বেশকিছু সংস্কার করেছি।’
গণভোটে সংস্কারের পক্ষে রায় দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আরও গভীর ও সুদূরপ্রসারী সংস্কারের জন্য দেশের সকল রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ প্রণয়ন করেছি। এই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আপনাদের সম্মতি প্রয়োজন। এর জন্য গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। এই গণভোটে অংশ নিন। সনদে আপনার সম্মতি দিন।’
জাতীয় নির্বাচনের দিনই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস যোগ করেন, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিলে বৈষম্য, শোষণ আর নিপীড়নমুক্ত হবে বাংলাদেশ।’
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ৬ জুন জাতির উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস জানান, ২০২৫ সালে জুলাই মাসের সকল রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি ‘জুলাই সনদ’ প্রস্তুত করে জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে। ২৮ জুলাই জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি আলী রিয়াজ জানান, জুলাই সনদের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এটির ভাষা এবং পটভূমি পর্যালোচনার জন্য রাজনৈতিক দলসমূহের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।
পরে ৪ আগস্ট থেকে সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে দলসমূহের সঙ্গে কমিশনের আলোচনা শুরু হয়। মতামতের ভিত্তিতে সমন্বিত খসড়া প্রস্তুত করা হয় এবং ১১ সেপ্টেম্বর খসড়াটি চূড়ান্ত করা হয়। পরে ১৪ অক্টোবর দলসমূহের কাছে চূড়ান্ত অনুলিপি পাঠানো হয়; ১৭ অক্টোবর স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আগে বাস্তবায়ন রূপরেখা নিয়ে আলাপ চলতে থাকে। বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আনুষ্ঠানিকভাবে সনদে স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়। এখন সেই সনদের ওপর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গেই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
মন্তব্য করুন


অমাবস্যা ও নিম্নচাপের কারণে বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী ১৫ জেলা ও আশপাশের দ্বীপ-চরাঞ্চলে ১-৩ ফুটের বেশি জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কা করা হচ্ছে।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে উত্তর বঙ্গোপসাগর অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
শনিবার (২৬ জুলাই) এক সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সতর্কবার্তায় বলা হয়, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে গতকাল মধ্যরাতে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন ঝাড়খন্ডে অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।
এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্র বন্দরসমূহের উপর দিয়ে দমকা/ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
ফলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
এছাড়া আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, অমাবস্যা ও নিম্নচাপের কারণে উপকূলীয় ১৫ জেলা ও এর আশপাশের দ্বীপ-চরাঞ্চল ১-৩ ফুটের বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। জেলাগুলো হলো- সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার।
এমন অবস্থায় উত্তর বঙ্গোপসাগর অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
মন্তব্য করুন