

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, বিএনপির জন্ম হয়েছে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মধ্য দিয়ে আর মৃত্যু হবে ‘না’ ভোটের মধ্য দিয়ে।
বৃহস্পতিবার নাগরিক ঐক্য আয়োজিত ‘রাজনীতির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।
নাসীরুদ্দীন বলেন, বিএনপি আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে সংস্কার কমিশনকে ভিন্নখাতে পরিচালনা করতে চেয়েছে। জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের ব্যাপারে ছাড় নেই।
তিনি বলেন, জুলাই সনদের প্রস্তাবনার পথেই সরকারকে হাঁটতে হবে। জুলাই সনদে ‘বিবেচনা করবে’ বা ‘হবে’ টাইপ কথার স্পষ্ট ব্যাখ্যা চায় জাতীয় নাগরিক পার্টি। কাবিন নামায় সাইন করেছে বিএনপি, ‘হ্যাঁ’ বলেছে জুলাই সনদে, তাদের ‘না’ বলার সুযোগ নেই।
ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন না দিতে পারলে এর দায় অন্তর্বর্তী সরকারকেই নিতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উপদেষ্টাদের অনেক সময় হয়েছে ফ্যামিলি টাইমিংয়ে, এখন কেবল সার্ভিস দিতে হবে। আইন উপদেষ্টার ওপরে আমাদের আস্থা নেই। প্রধান উপদেষ্টাকে শহীদ মিনারে মানুষের মাঝে গিয়ে সংস্কার আদেশ জারি করতে হবে।
মন্তব্য করুন


বিএনপিকে আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সেইফ এক্সিট চাইলে নির্বাচনে আসুন। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সেইফ এক্সিট কারা নেবে জনগণই তা নির্ধারণ করবে।
শনিবার (১৩ মে) বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী শহীদ মিনারে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে এ কথা বলেন। বিএনপির দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র, মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিদেশিরা আমাদের বন্ধু। তারা পরামর্শ দিতে পারে, ক্ষমতায় বসাতে পারে না। ক্ষমতায় বসাবে দেশের জনগণ।
নির্বাচনের মাধ্যমেই ক্ষমতার পরিবর্তন সম্ভব উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা প্রস্তুত আছি, জনগণ যদি আপনাদের (বিএনপি) চায়, আপনারা ক্ষমতায় যান। জনগণ না চাইলে আমরা সেইফ এক্সিট নেব। দ্যাট উইল বি ডিসাইডেড ইন আওয়ার জেনারেল ইলেকশন। তার আগে নয়। ওইটা ডিসাইড করার ক্ষমতা আর কারও নাই, ক্ষমতা আছে জনগণের।
নির্বাচন সবার জন্য সেইফ এক্সিট উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আপনারা (বিএনপি) যদি ক্ষমতায় আসতে চান, পরিবর্তন চান, নির্বাচনে আসতে হবে। নির্বাচনে যদি আসতে চান, তাহলে বিশ্বের অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে নির্বাচন হয়, বাংলাদেশেও সেইভাবে নির্বাচন হবে। যাদের কাছে নালিশ করেন, তাদের দেশে তত্ত্বাবধায়ক আছে?
তিনি বলেন, ফখরুল সাহেবের সেইফ এক্সিট দরকার। যেভাবে লাঠিসোঁটা নিয়ে নেমেছেন। আবারও অগ্নিসন্ত্রাসের আভাস দিচ্ছেন। এটা ভালো নয়। এর পরিণাম শুভ হবে না। আমরা এক্সিট করব না। আমরা ফাইটার। ফাইট করে এসেছি। বন্দুকের নল আমাদের ক্ষমতার উৎস নয়। আমরা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ইতিহাসে ষড়যন্ত্র নেই।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
বিএনপি সংবিধান সংস্কার কমিশনের কাছে উপ-রাষ্ট্রপতি ও উপ-প্রধানমন্ত্রীর পদসহ মোট ৬২টি প্রস্তাবনা জমা দিয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজের হাতে লিখিত প্রস্তাবনা তুলে দেয়।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সালাউদ্দিন আহমেদ। তিনি জানান, বিএনপির পক্ষ থেকে সূচনা থেকে তফসিল পর্যন্ত মোট ৬২টি প্রস্তাবনা জমা দেওয়া হয়েছে। জুলাই-আগস্টের বিপ্লব এবং বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায়, ভবিষ্যতে যেন একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত না হয়, সেসব বিষয় মাথায় রেখে প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, "আমরা বিচার বিভাগের ক্ষেত্রেও সুপারিশ করেছি। উপ-রাষ্ট্রপতি ও উপ-প্রধানমন্ত্রীর পদ সৃষ্টির প্রস্তাব দিয়েছি। নির্বাহী, বিচার বিভাগ এবং আইন বিভাগসহ সব ক্ষেত্রেই এমন প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে, যাতে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় থাকে।"
সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, সংবিধান সংস্কার কমিশন এ প্রস্তাবনাগুলো সরকারের কাছে উপস্থাপন করবে। কোনো বিষয়ে দ্বিমত থাকলে ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকার বিষয়টি দেখবে।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ সাংবাদিকদের জানান, বিএনপির জমা দেওয়া প্রস্তাবনা এখনো পড়ে দেখা হয়নি। তবে সবার সঙ্গে আলোচনা করে যেখানে প্রয়োজন, সেখানে সুপারিশ প্রণয়ন করা হবে।
মন্তব্য করুন


ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে বিএনপি বৃহৎ জোট গঠন করতে চায় বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
সোমবার যুবদলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এমনটা জানান তিনি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য অটুট রাখতে চায় বিএনপি। আর ঐক্য বজায় রাখতে কেউ যেন বিভেদের পথে না যায় সেই বার্তাও দিতে চায় দলটি।
আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশের প্রার্থীদের সঙ্গে দলের হাইকমান্ডের বৈঠক প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দল ও নিজেদের মধ্যে ঐক্য ধরে রাখার বার্তা দিতেই হাইকমান্ডের এই বৈঠক।
তরুণ-যুবকদের রাজনৈতিক ভাবনাকে ধারণ করে সামনের দিনে জাতি বিনির্মাণে কর্মসূচি প্রণয়নের কথা জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, আগামীর বাংলাদেশ হবে তারুণ্যনির্ভর।
মন্তব্য করুন


বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্রকে আবারও ধ্বংস করার চেষ্টা চলছে।
শুক্রবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ফখরুল বলেন, ‘একটি প্রচেষ্টা চলছে, একটি চক্রান্ত চলছে গণতন্ত্রকে আবারও ধ্বংস করার জন্যে। সেই কারণে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আমাদের পথপ্রদর্শক। আমরা সেই পথেই যাবো, যেখানে সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমৃদ্ধ দেশ গঠিত হবে। জনগণের ভোটের অধিকার এবং বিচারের অধিকার নিশ্চিত করতে আমাদের কাজ চলবে।’
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমিরের গণভোট নিয়ে আলোচনার প্রস্তাবের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আমাদের বক্তব্য স্পষ্টভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাই সেই বক্তব্যই আমাদের অবস্থান।’
৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে ফখরুল বলেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশপ্রেমিক সৈনিক ও নাগরিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আধিপত্যবাদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি থেকে উদ্ধার করে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেন। ‘তিনি একদলীয় বাকশাল থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনেন, সংবাদপত্র ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন এবং মাত্র চার বছরের মধ্যে রাষ্ট্র ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার চালু করেন। মুক্তবাজার অর্থনীতি চালু করে উন্নয়নের ভিত্তি স্থাপন করেন, যা পরবর্তীতে দেশের অগ্রগতির পথপ্রদর্শক হয়।’
৭ নভেম্বর সকালে বিএনপি মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্যরা জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এছাড়া দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য, যুগ্ম মহাসচিব, মহানগর ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনগুলি ঢাকাসহ সারা দেশে র্যালি, আলোচনা সভা ও পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদ্যাপন করবে। রাজধানীতে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বিকেল ৩টায় শুরু হয়ে র্যালিটি কাকরাইল, শান্তিনগর, মালিবাগ, মৌচাক, মগবাজার, বাংলামটর হয়ে সোনারগাঁও হোটেল মোড়ে শেষ হবে।
মন্তব্য করুন


জুলাই সনদের বাইরে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তা মানতে স্বাক্ষরকারী দলগুলো বাধ্য নয় বলে মন্তব্য করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।
সালাহউদ্দিন বলেন, সনদে বিভিন্ন দলের কিছু নোট অফ ডিসেন্ট আছে। সনদে উল্লেখ আছে ইশতেহারে উল্লেখ করে রায় পেলে সেভাবে বাস্তবায়ন করবে, অথচ সুপারিশমালায় নেই। গণভোট জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনে হবে, সেই অবস্থানে আছি।
তিনি বলেন, নতুন নতুন ইস্যু তৈরি করে যারা আন্দোলন করছেন, তাদের সঙ্গে আলাপ করতে হবে। সনদের বাইরে যদি সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, সেটা মানতে স্বাক্ষরকারী দলগুলো বাধ্য নয়।
সালাহউদ্দিন বলেন, ‘এখন কোনো প্রজ্ঞাপনকে যদি আদেশ হিসেবে নামকরণ করতে চায় এবং সেটার আইনি মর্যাদা না থাকে, তাহলে সেটা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকার প্রকাশ করতে পারে। কিন্তু সেটা আইন হবে না।’
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের বৈঠকের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত করা হয়েছে। ১ জুলাই ২০২৪ থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও বিভিন্ন মামলায় আটকদের মুক্তি দেওয়া শুরু হয়েছে এবং এরই মধ্যে অনেকে মুক্তি পেয়েছেন।
৬ আগস্ট বঙ্গভবন থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস রিলিজে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে গতকাল সোমবার (৫ আগস্ট) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জানান, কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ সব রাজনৈতিক বন্দিকে শিগগির মুক্তি দেওয়া হবে। এসময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান ও আহতদের সুচিকিৎসার প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কথাও জানান রাষ্ট্রপতি।
তিনি আরও বলেন, জরুরি ভিত্তিতে একটি অন্তর্র্বতীকালীন সরকার গঠন করা হবে। সব দল ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে অন্তর্র্বতীকালীন সরকার যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে।
অন্তর্র্বতীকালীন সরকার গঠনের লক্ষ্যে গতকাল রাতে বঙ্গভবনে সেনাপ্রধান, নৌপ্রধান, বিমান বাহিনীর প্রধান এবং দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন রাষ্ট্রপতি।
বৈঠকে কোটাবিরোধী আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করা হয়। এসময় অনতিবিলম্বে একটি অন্তর্র্বতীকালীন সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে সবাইকে ধৈর্য ও সহনশীল আচরণ করার আহ্বান জানানো হয় বৈঠকে। লুটতরাজ ও হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।
সেই বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে অনতিবিলম্বে মুক্তির সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে এবং সম্প্রতি বিভিন্ন মামলায় আটক সব বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি যেন কোনোভাবেই বিনষ্ট না হয় সে ব্যাপারেও সভায় ঐকমত্য হয়।
মন্তব্য করুন


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘সংকটকালে মায়ের স্নেহ স্পর্শ পাবার তীব্র আকাঙ্ক্ষা যেকোনো সন্তানের মতো আমারও রয়েছে। কিন্তু অন্য আর সবার মতো এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়।’
নিজের মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অবস্থার সর্বশেষ জানিয়ে শনিবার (২৯ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া স্ট্যাটাসে একথা জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ ও সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যায় রয়েছেন।
তার রোগমুক্তির জন্য দলমত নির্বিশেষে দেশের সব স্তরের নাগরিক আন্তরিকভাবে দোয়া অব্যাহত রেখেছেন। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা তার রোগমুক্তির জন্য দোয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসার সর্বত সহায়তার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। দেশ বিদেশের চিকিৎসকদল বরাবরের মতো তাদের উচ্চ মানের পেশাদারিত্ব ছাড়াও সর্বোচ্চ আন্তরিকতা সেবা প্রদান অব্যাহত রেখেছেন। বন্ধুপ্রতিম একাধিক রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও উন্নত চিকিৎসাসহ সম্ভাব্য সব প্রকার সহযোগিতার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করা হয়েছে।
’
বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তির জন্য সবার প্রতি দোয়া অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানিয়ে তারেক রহমান লিখেছেন, ‘সর্বজন শ্রদ্ধেয়া বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সবার আন্তরিক দোয়া ও ভালোবাসা প্রদর্শন করায় জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে সবার প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।’
দেশে ফেরার প্রসঙ্গে তারেক রহমান লিখেছেন, ‘এমন সংকটকালে মায়ের স্নেহ স্পর্শ পাবার তীব্র আকাঙ্ক্ষা যেকোনো সন্তানের মতো আমারও রয়েছে। কিন্তু অন্য আর সবার মতো এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। স্পর্শকাতর এই বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনার অবকাশও সীমিত।
রাজনৈতিক বাস্তবতার এই পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে উপনীত হওয়া মাত্রই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আমার সুদীর্ঘ উদ্বিগ্ন প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে বলেই আমাদের পরিবার আশাবাদী।’
মন্তব্য করুন


সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রশাসন থেকে ‘আওয়ামী ক্যাডারদের’ অপসারণের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
আজ সোমবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে নীলফামারী জেলার বিএনপির নবগঠিত কমিটির উদ্যোগে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ দাবি করেন।
মাঠ পর্যায়ে নিরপেক্ষ কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে নির্বাচন কমিশনকে আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই হবে। কিন্তু আওয়ামী আমলের প্রশাসন দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে না। তাই প্রশাসন থেকে আওয়ামী ক্যাডারদের অপসারণ করতে হবে।
আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির জন্য জনগণ প্রস্তুত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য উপযোগী নয়। যারা পিআর দাবি করে তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ থেকে যায়।
এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তরে আসন্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে সব মতের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হওয়ার আশা প্রকাশ করে রিজভী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র প্রতিনিধিরা থাকলে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকে।
মন্তব্য করুন


সরকারের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র চাওয়ার পরই সচিবালয়ে আগুন লাগার ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) ঢাকার রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ন্যাশনালিস্ট এক্স-স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (রুনেসা) আয়োজিত ‘রক্তাক্ত মতিহার ও রিজভী আহমেদ: ২২ ডিসেম্বর ১৯৮৪ স্মরণে’ এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
রিজভী বলেন, "সরকারের সংস্কারমূলক পদক্ষেপগুলো কেমন হবে, তা আমরা নির্ধারণ করতে পারি না। তবে সাম্প্রতিক সাইবার সংশোধনের দৃষ্টিতে বোঝা যাচ্ছে, এর থেকে ভালো কিছু প্রত্যাশা করা যাচ্ছে না।"
তিনি আরও বলেন, "বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা শঙ্কিত ও ভীত। এটি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত নয়, বরং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিয়ে ভয়। এর আগেও দেখা গেছে, জনগণের প্রতিবাদের মুখে কোনো সচিব বা মন্ত্রীর সংশ্লিষ্ট নথি গায়েব হয়ে যায় কিংবা সচিবালয়ে আগুন লাগে।"
রিজভী আহমেদ বলেন, "গতকাল (বুধবার) মধ্যরাতে সচিবালয়ে যে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, এতে বহু গুরুত্বপূর্ণ নথি পুড়ে গেছে। ঘটনাটি জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি করেছে। মাত্র কিছুক্ষণ আগেই সংবাদপত্রে প্রকাশ হয়েছিল, সরকারের পক্ষ থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নথি চাওয়া হয়েছে। এরপরই এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে জনমনে বিশাল প্রশ্ন উঠেছে।"
তিনি এই অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত দাবি করেন। তিনি বলেন, "শেখ হাসিনা ও তার ঘনিষ্ঠদের কিছু নথি চাওয়ার পরই সচিবালয়ে নথিপত্র পুড়ে যাওয়া এবং ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এই ঘটনা মানুষকে ভাবিয়ে তুলেছে এবং সন্দেহ আরও গভীর হয়েছে।"
রিজভী আরও বলেন, "রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা একটি রাজনৈতিক দল গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে। যদি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নির্ধারণ করে দেয়, তবে মানুষের আত্মত্যাগের কোনো মূল্য থাকবে না।"
ভারতের ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। রিজভী বলেন, "গণতান্ত্রিক দেশ হয়েও ভারত কীভাবে শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছিল? শেখ হাসিনার মাধ্যমে ভারত তার নীতি বাংলাদেশে বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়েছে। তবে শেখ হাসিনার সময়কাল শেষে একটি পরিবর্তিত বাংলাদেশকে বিশ্বের সবাই স্বীকৃতি দিলেও ভারত তা দেয়নি।"
তিনি বলেন, "বিএনপিসহ অন্যান্য দলগুলোর আত্মত্যাগকে কখনো অস্বীকার করা যাবে না। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বিএনপিকে দুর্বল করার চেষ্টা চালাচ্ছে কি না, তা নিয়েও জনগণের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে।"
মন্তব্য করুন


বিএনপি অর্থনীতি ধ্বংস করেছে- এ কথা কেউ বলতে পারেনি দাবি করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিগত ১৫ বছরে যারা লুটপাটে জড়িত তাদের শাস্তি দিন। কিন্তু তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বেকারত্ব তৈরি করা কোনো সমাধান নয়।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে সব সময় দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে ভূমিকা রেখেছে। ওপেন ইকোনমি যুগের সূচনা করেছেন জিয়াউর রহমান। ক্ষমতায় এসে বিএনপি প্রতিবারই অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে কাজ করেছে।’
ব্যবসায়ীদের প্রতি আস্থা রেখে নীতিগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের ব্যাপারে চিন্তাভাবনা পরিবর্তন করা দরকার। তাদের বিশ্বাস করতে হবে। লুটপাটে যারা জড়িত তাদের শাস্তি দিন। কিন্তু প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে কেনো বেকারত্ব তৈরি করছি? এগুলো ভাবতে হবে।’
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘শুধু অর্থনৈতিক পথরেখা নয়, রাজনৈতিক পথরেখাও তৈরি করতে হবে। সংস্কারের যেসব বিষয়ে বিএনপি সই করেছে, তার বহু আগেই দলটি এসব প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল।’
তিনি বলেন, বিএনপি শুধু ‘নতুন বাংলাদেশ’ নয়, বরং একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চায়। যেখানে গণতন্ত্র ও অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে।
মন্তব্য করুন