

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত হলেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় উত্তরণের নিজেদের মধ্যে এখনো ঐকমত্য পোষণ করতে পারিনি। নির্বাচন কমিশন যে রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে সে অনুযায়ী কমিশনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু আগামী ফেব্রুয়ারিতে দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা জাতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।’
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তোপখানা রোডে অবস্থিত সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময়সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
‘সুষ্ঠু নির্বাচনে প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ : সফল নির্বাচন আয়োজনে সরকার, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের করণীয়’ শীর্ষক সভার আয়োজন করে ‘নাগরিক কোয়ালিশন’ নামের একটি সংগঠন। এতে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও বিশিষ্ট নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এখনো সময় আছে আশা করি, এর ভেতরে সবাই আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে সেই ঐকমত্যে পৌঁছতে পারব। স্বাধীন নির্বাচন কমিশন, স্বাধীন বিচার বিভাগ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা এবং মুক্ত গণমাধ্যম অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের রক্ষাকবচ।
এগুলো নিশ্চিত হলে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন নিয়ে আগামীতে আর কোনো চ্যালেঞ্জ থাকবে না। যে সংস্কারগুলো আশু বাস্তবায়নযোগ্য, সেগুলো নির্বাহী আদেশ ও অধ্যাদেশ জারির মধ্য দিয়ে বাস্তবায়ন করা যায় তা করা হচ্ছে। যেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য নয়, সরকার যদি সেগুলো পূর্ণাঙ্গ না করতে পারে, তাহলে পরবর্তী সরকার সেটা করবে।’
সংবিধান সংশোধন নিয়ে তিনি বলেন, ‘সংবিধান সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন করার বৈধ ফোরাম হলো জাতীয় সংসদ।
এর বাইরে কোনো বৈধ প্রক্রিয়া আছে কি না, তা নিয়ে ঐকমত্য কমিশনে আলোচনা হচ্ছে। যদি থাকে তাহলে তারা একমত হবেন। কিন্তু এমন কোনো উদাহরণ সৃষ্টি চাই না যেটি পরবর্তী সময়ে আদালতে চ্যালেঞ্জ হবে। প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত হবে।’
একই অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেমন হতে পারে, ডাকসু নির্বাচন তার একটি বড় টেস্ট ছিল।
এই টেস্টে রাজনৈতিক দল, সুধীসমাজ ও শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে উত্তরণ করেছেন। আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত একটি ঘটনাও ডাকসু নির্বাচনে ঘটেনি।’
জাতীয় নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে প্রায় প্রতিদিনই সরকারের সঙ্গে বৈঠক হচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টা বারবার বলেছেন, নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আট লাখ সদস্য মাঠে থাকবেন। তবে ভালো নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের সদিচ্ছা থাকতে হবে। আর জনগণ যদি ভোট দিতে যায়, তাহলে কারো সাধ্য নেই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার।’
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে সেপ্টেম্বর মাস থেকেই সরকারকে কাজ শুরু করতে হবে। সরকার, নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি নির্বাচনী পরিবেশ, পর্যবেক্ষণ সমন্বয় কমিটি গঠন করা উচিত। দেশের কোথাও কোনো দলের সঙ্গে অন্য দলের সংঘাত হলে, অগণতান্ত্রিক আচরণ হলে, সেই প্রশ্নগুলো এখন থেকেই কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং হওয়া দরকার। আসন্ন নির্বাচনে যে দল সরকার গঠন করবে, সেই দলের সঙ্গে প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ হতে চাওয়ার মানসিকতা পরিবর্তনের জন্য এখন থেকেই কাজ করতে হবে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর, নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে কাজ করলে হবে না।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত নির্বাচন ম্যানিপুলেট করার ক্ষেত্রে প্রশাসনকে আমরা গুরুত্বপূর্ণ ক্যাটালিস্ট হিসেবে বিবেচনা করছি। যেটা নিয়ে নাগরিক পরিষদে এবং সিভিল সোসাইটিতে যারা নীতি নির্ধারন করছেন তাদের এ বিষয়টাকে গুরুত্ব দিতে হবে। আমরা পুলিশ সংস্কার কমিশন করার কথা বলেছিলাম, যাতে করে তাদের পোস্টিং-প্রমোশনের ক্ষেত্রে একটা স্বতন্ত্র বোর্ড কাজ করে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রি-ইলেকশন চ্যালেঞ্জের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হচ্ছে রোল অব এজেন্সি এবং আর্মি। এটা কিন্তু এখন পর্যন্ত খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা এখনো দেখছি যে বিভিন্ন সরকারি এজেন্সি বিগত সময় যেভাবে রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছে, এখনো পর্যন্ত করছে। আমরা এটাকে কতটা ডিসঅ্যাসোসিয়েট করতে পারি, এটা আমাদের জন্য কিন্তু একটা চ্যালেঞ্জ।’
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘ইলেকশনের জন্য স্বাধীন নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’ তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ মনে করেন যে জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন চায় না। কিন্তু অত্যন্ত মজার ব্যাপার হচ্ছে, জামায়াতে ইসলামী একমাত্র দল বলতে হবে, যারা ৩০০ আসনের নির্বাচনের প্রার্থী দিয়ে মাঠে কাজ শুরু করছে। নির্বাচন কমিশনের যে দায় দায়িত্বের প্রশ্ন আসে সেগুলো আমাদের সামনে রাখা দরকার। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আমরা এখন যেটা বুঝি, সেটা হলো আপনি যদি প্রভাব থাকে ক্ষমতা থাকে তাহলে থাকবেন। আর না হলে আপনি থাকবেন না। হলে আপনি ভোট দিতে যেতে পারবেন না হলে আপনার ঠ্যাং ভেঙে দেওয়া হবে। না হলে আপনি সুস্থভাবে বাড়ি ফিরতে পারবেন না। আমরা মনে করি, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রশ্নে আমাদের আরো অনেক ঝুঁকির মুখে পড়তে হবে। সেই জায়গাটায় আমাদের নির্বাচন কমিশনকে কাজ করতে হবে।’
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান, বিএনপি নেত্রী শামা ওবায়েদ প্রমুখ।
মন্তব্য করুন


বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে ঐক্যবদ্ধভাবে যেমন তাড়ানো সম্ভব হয়েছে, তেমনি বিশ্বব্যাপী প্রতিরোধ গড়ে তুলে ইসরায়েলের গণহত্যা বন্ধ ও এর বিচার নিশ্চিত করা যাবে।
বুধবার (৯ এপ্রিল) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ইসরায়েলি গণহত্যার বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ বক্তব্য দেন।
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, "সারা বিশ্বের মুসলমানরা আজ একজোট। ইসরায়েলের এই নৃশংসতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষও সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ।"
তিনি জাতিসংঘ, বিশ্ব বিবেক, মুসলিম উম্মাহ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, প্রতিবাদের শক্তি আরও বাড়াতে সমন্বিতভাবে কাজ করার। এছাড়া, তিনি জাতিসংঘে জরুরি প্রস্তাব এনে এই গণহত্যা বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
পাশাপাশি, আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচির মাধ্যমে এই প্রতিবাদকে আরও শক্তিশালী করার ঘোষণা দেন তিনি।
মন্তব্য করুন


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, প্রতিটি কন্যাশিশুর স্বপ্ন পূরণের পথে আমরা রাষ্ট্রকে তার অংশীদার বানাব, বাধা নয়। বাংলাদেশের জন্য আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি এমন, যেখানে প্রতিটি মেয়ের একই স্বাধীনতা, সুযোগ এবং সুরক্ষা থাকবে। যা যেকোনো পিতা-মাতা তাদের নিজের সন্তানের জন্য কামনা করেন।
শনিবার আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতি বছর ১১ অক্টোবর পালিত হয় আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস। দিনটি বিশ্বজুড়ে কন্যাশিশুদের অধিকার, স্বপ্ন ও নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে উদ্যাপিত হয়। জাতিসংঘের নির্ধারিত ২০২৫ সালের আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসের মূল প্রতিপাদ্য হলো, ‘দ্য গার্ল আইএম, দ্য চেঞ্জ আই লিড : গার্ল অন দ্য ফ্রন্টলাইন অব ক্রাইসিস।’
আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে তারেক রহমানের দেওয়া স্ট্যাটাসটি নিচে তুলে ধরা হলো।
আজ আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসে আসুন, আমরা প্রতিটি মেয়ের স্বপ্ন দেখার, শেখার, নেতৃত্ব দেওয়ার, মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার উদযাপন করি। একজন কন্যার বাবা হিসেবে আমি জানি যে, মেয়েদের ক্ষমতায়ন শুধু নীতি নয়- এটি ব্যক্তিগত। বাংলাদেশের জন্য আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি এমন, যেখানে প্রতিটি মেয়ের একই স্বাধীনতা, সুযোগ এবং সুরক্ষা থাকবে। যা যেকোনো পিতা-মাতা তাদের নিজের সন্তানের জন্য কামনা করেন।
বিএনপি সরকারের রয়েছে জীবন পরিবর্তনের এক ঐতিহ্য এবং সুযোগ পেলে আমরা আরো বেশি কিছু করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা দেখেছি কিভাবে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পোশাক খাতের প্রবৃদ্ধিকে একটি শিল্পের চেয়েও বেশি কিছুতে পরিণত করেছিলেন। এটি আশায় পরিণত হয়েছিল। লাখ লাখ নারী কাজে প্রবেশ করেছিলেন। আয়, সম্মান এবং স্বাধীনতা অর্জন করেছিলেন।
তার নেতৃত্বে, বাংলাদেশজুড়ে মেয়েশিশু এবং নারীদের জীবনের উন্নতিকে প্রতিষ্ঠিত করার একক উদ্দেশ্য নিয়ে ‘মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ তৈরি করা হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে মেয়েদের শিক্ষা বিশেষ সুবিধা নয়, বরং একটি অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা বিনা মূল্যে ঘোষণা করা হয়েছিল এবং ‘শিক্ষার জন্য খাদ্য, শিক্ষার জন্য নগদ’ কর্মসূচি লাখ লাখ মেয়েকে স্কুলে পাঠাতে সাহায্য করেছিল, পারিবারিক ভাগ্য পরিবর্তন করেছিল, শক্তিশালী সম্প্রদায় গড়ে তুলেছিল, ক্ষমতায়িত নারীদের একটি প্রজন্ম তৈরি করেছিল।
তার পথপ্রদর্শক উদ্যোগ ‘ফিমেল সেকেন্ডারি স্কুল অ্যাসিস্ট্যান্স প্রজেক্ট’ আমাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মাধ্যমিক শিক্ষায় নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠা করে এবং বাল্যবিবাহের হার কমিয়ে আনে। এই প্রকল্প পরবর্তী সময়ে কন্যাশিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নের এক বৈশ্বিক আদর্শে পরিণত হয়, যা অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশেও অনুসরণ করা হয়েছে। এই সাহসী পদক্ষেপগুলো দেখায়, যা প্রমাণ করে যে যখন প্রশাসন মেয়েদের মর্যাদাকে সম্মান করে এবং তাদের ভবিষ্যতে বিনিয়োগ করে তখন কী সম্ভব। এগুলো সাহসী পদক্ষেপের দৃষ্টান্ত, যা প্রমাণ করে- যখন কোনো সরকার কন্যাশিশুদের মর্যাদা রক্ষা করে এবং তাদের ভবিষ্যতে বিনিয়োগ করে, তখন কত কিছুই সম্ভব হয়ে ওঠে।
বিএনপির ভবিষ্যৎ নীতিমালা সম্মান এবং বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে, যার মাধ্যমে:
১. নারী পরিবারের প্রধানদের নামে ‘পরিবার কার্ড’- প্রতিটি পরিবারের প্রধানকে সরাসরি সাহায্য এবং সহায়তা পৌঁছানো নিশ্চিত করা।
২. নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এসএমই ঋণ, ব্যাবসায়িক প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা- কারণ অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা কোনো আপসের বিষয় নয়।
৩. মেয়েদের জন্য শক্তিশালী শিক্ষাগত এবং বৃত্তিমূলক সুযোগ- যাতে প্রতিটি মেয়ে, গ্রামে হোক বা শহরে, দক্ষতা অর্জন করতে পারে এবং ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে।
৪. নারীরা সিদ্ধান্ত গ্রহণের টেবিলে- রাজনীতি, শাসন ও নীতিনির্ধারণে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি। একটি নিরাপদ জাতি এ থেকে কম আশা করতে পারে না।
৫. মর্যাদা এবং স্বাধীনতার সুরক্ষা - মেয়েদের চলাফেরা, কথা বলতে, ইন্টারনেট অ্যাক্সেস করতে, ভয় ছাড়াই বাঁচতে সক্ষম করা।
৬. পরিবার ও সামাজিক কল্যাণকে মূলনীতি হিসেবে-স্বাস্থ্য, গ্রামীণ ক্ষমতায়ন, সবার জন্য কর্মসংস্থান, বিশেষভাবে নারী ও কন্যাশিশুর ওপর কেন্দ্রিত।
আমরা খালি বাক্যবুলিতে কথা বলি না। আমরা বিশ্বাস এবং অভিজ্ঞতার সঙ্গে, নির্ধারিত লক্ষ্য নিয়ে কথা বলি। প্রতিটি কন্যাশিশুর স্বপ্ন পূরণের পথে আমরা রাষ্ট্রকে তার অংশীদার বানাবো, বাধা নয়।
মন্তব্য করুন


বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বিএনপির ইশতেহার বাংলাদেশে একটি নতুন সূর্যোদয় হবে। এমন আশায় আজ সমগ্র জাতি উন্মুখ।’
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলের বল রুমে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বহু ত্যাগ ও রক্তপাতের বিনিময়ে দেশ আজ একটি নিরপেক্ষ, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।’
বক্তব্য রাখতে গিয়ে মির্জা ফখরুল গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে।
তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার সারাজীবন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছেন। আজকের এই আন্দোলন-সংগ্রামে তার অবদান জাতি চিরদিন স্মরণ রাখবে।’
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থে একটি উদার ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল গড়ে তুলেছিলেন। তিনি সকল গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন।’
বিএনপির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আজ এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। তরুণ, সৃজনশীল ও দূরদর্শী নেতৃত্ব হিসেবে তারেক রহমান আসন্ন নির্বাচনের জন্য দলের ইশতেহার জাতির সামনে উপস্থাপন করবেন।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান জটিল ভূরাজনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় তারেক রহমান নতুন বার্তা নিয়ে আসছেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশে একটি নতুন সূর্যোদয় হবে—এমন আশায় আজ সমগ্র জাতি উন্মুখ।’
শেষে মির্জা ফখরুল দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন, আমরা সবাই এই নব নেতৃত্বের হাত ধরে বাংলাদেশে নতুন ইতিহাস রচনা করি।
মন্তব্য করুন


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো নির্বাচন পরিচালনা। এই বিষয়টি উপেক্ষা করে যদি অন্তর্বর্তী সরকার অন্যান্য কাজে বেশি মনোযোগ দেয়, তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।
শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ‘রোড টু ইলেকশন’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, গণতন্ত্র রক্ষার জন্য সরকারের দায়িত্ব হলো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা। তবে নির্বাচন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো স্বেচ্ছায় সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে আগ্রহী হয়ে উঠলে নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট হয়। তাই সংবিধান প্রদত্ত আইনের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে হবে।
এ সময় তিনি জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণকারী ব্যক্তিদের নির্বাচন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ দেওয়ারও আহ্বান জানান।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর পল্টন মডেল থানায় দায়ের করা নাশকতার এক মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ ১৬৭ নেতাকর্মীকে দায়মুক্তি দিয়েছেন আদালত।
সোমবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ সাব্বির ফয়েজের আদালত পুলিশের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে এ আদেশ দেন।
আদালত অব্যাহতি দেওয়া অন্য নেতাদের মধ্যে রয়েছেন—মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কফিল উদ্দিন, যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুর রশিদ হাবিব, মিডিয়া উইংয়ের শামসুদ্দিন দিদার, নির্বাহী সদস্য নিপুণ রায়, যুবদল সভাপতি রফিকুল ইসলাম মনজু, ছাত্রদল দক্ষিণের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন প্রমুখ।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহি উদ্দিন চৌধুরী বলেন, 'এই মামলায় তদন্ত শেষে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, অভিযোগের কোনও সত্যতা মেলেনি। চূড়ান্ত প্রতিবেদনেই আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।' তিনি বলেন, 'ফ্যাসিস্ট সরকারের করা এই মিথ্যা মামলায় দেরিতে হলেও আমরা আইনের আশ্রয়ে সুবিচার পেয়েছি।'
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১৪ নভেম্বর রাজধানীর ফকিরাপুল থেকে বিএনপি নেত্রী আফরোজা আব্বাসের নেতৃত্বে একটি মিছিল নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আসে। একইভাবে নবী উল্লাহ নবী, কফিল উদ্দিন এবং পরে মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে আরও তিনটি মিছিল ওই এলাকায় জমায়েত হয়।
অভিযোগে বলা হয়, তারা ভিআইপি রোড অবরোধ করে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় এবং পুলিশের অনুরোধে কর্ণপাত না করে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। পরে বিএনপি অফিস থেকে বের হয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে তারা পুলিশের গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয়, ভাঙচুর চালায় এবং পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
এ ঘটনায় পল্টন থানার এসআই মো. আল-আমিন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে সম্প্রতি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
আদালত সেই প্রতিবেদন গ্রহণ করে আসামিদের দায়মুক্তির আদেশ দেন।
মন্তব্য করুন


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘স্বৈরাচার পতনের কয়েক দিন পর আমি জেলা ও থানার বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বসেছিলাম। আপনাদের অনেকে সে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তখন আমি বলেছিলাম—স্বৈরাচার বিদায় নিয়েছে, পালিয়ে গেছে কিন্তু অদৃশ্য এক শক্তি ধীরে ধীরে মাথা তুলছে। এক বছর আগে আপনাদের সামনে আমি এ কথাটি বহুবার বলেছিলাম। আজ সেই কথাই সত্য হয়ে ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।’
শনিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ পুরাতন স্টেডিয়ামে জেলা বিএনপির ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, আজকের এ কাউন্সিলে প্রার্থীরা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বাংলাদেশের জনগণ আমাদের মূল শক্তি। বিএনপির কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জনগণ। জনগণের পাশে থাকতে হবে, জনগণকে আমাদের পাশে রাখতে হবে। যে কোনো মূল্যে এটিই নিশ্চিত করতে হবে। দলের সিদ্ধান্তে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব। কাউকে ব্যক্তি স্বার্থে দল ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি একটি বিশাল পরিবার। নীতি-নির্ধারকেরা এ পরিবারের অভিভাবক। তারা যখন কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন, তখন সবাইকে সেটি মেনে ঐক্যবদ্ধভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। দলের নাম ব্যবহার করে কেউ যেন ব্যক্তি স্বার্থ হাসিল না করতে পারে বা জনগণের কাছে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি করতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।’
দীর্ঘ ৯ বছর পর আয়োজিত এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা স্টেডিয়ামে সমবেত হন। হাজারো কর্মীর উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয় সম্মেলন।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরিফুল আলম। সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম এবং প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব উন-নবী খান সোহেল।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে নস্যাৎ করতে পরিকল্পিত প্রচেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। এখনো প্রশাসেন বিভিন্ন স্তরে আওয়ামী লীগের দোসররা অবস্থান করছে বলেও জানান তিনি।
শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত ছাত্রদলের সাবেক নেতাকে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর পক্ষ থেকে সহায়তা প্রদান শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বিগত সময় চারজনের পরামর্শে শেখ হাসিনা সব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন।
তাদের পরামর্শে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় ছাত্র জনতাকে গুলি করে, বোমা মেরে হত্যা করা হয়েছে।’ এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থাকা সত্ত্বেও অপরাধীরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে ‘আমরা বিএনপি পরিবারের’ প্রতিনিধিদল আহত ভূলতা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি দোলন ভূঁইয়ার স্বাস্থ্যের সার্বিক খোঁজ খবর নেয়। পরে তার হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ‘আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন, সদস্য সচিব মোমিন মিথুনসহ সংগঠনের সদস্যরা। এছাড়া জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনিসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
মন্তব্য করুন


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের অহেতুক প্রলাপে প্রতীয়মান হচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকারের কেউ কেউ সুকৌশলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে নিরাপদ প্রত্যাবর্তনকে অনিরাপদ করে তুলতে চায়। অবিলম্বে তাকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে দেশে-বিদেশে তার অবস্থান সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য দেশের জনগণের সামনে হাজির করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২২ মে) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, আপনি এমন একজন ব্যক্তিকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বানিয়েছেন দেশের জন্য যার কোনো দৃশ্যমান অবদান নেই। তিনি তো বাংলাদেশের জন্য নন, বিদেশের জন্য কাজ করবেন।
গত বুধবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে রিজভী বলেন, খলিলুর রহমান যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত জীবন প্রসঙ্গটি যেভাবে উপস্থাপন করেছেন, তা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিমূলক। ‘ধান ভানতে শিবের গীত’ গাওয়ার মতো ড. খলিলুর রহমান বলেন, কেবল আমি আমেরিকায় থেকেছি বলে আমাকে যদি বলা হয় আপনি বিদেশি নাগরিক, তাহলে কাল তারেক রহমান সাহেবকেও সে কথা বলতে হবে। আমাকে ঢিল নিক্ষেপ করলে সেই ঢিল কিন্তু অন্যের ওপর গিয়েও পড়তে পারে।
রিজভী বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে এহেন বক্তব্য নিঃসন্দেহে আত্মগরিমার প্রদর্শন এবং দুরভিসন্ধিমূলক। খলিলুর রহমান তারেক রহমানের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা বিনষ্ট, জনসাধারণকে বিভ্রান্ত এবং মানুষের মাঝে তার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার হীন উদ্দেশ্য নিয়েই এই বক্তব্য রেখেছেন, যা দুর্ভাগ্যজনক বিভ্রান্তিকর।
মন্তব্য করুন


সরকার চলতি বছরের মাঝপথে ভ্যাট ও শুল্ক বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে জনগণের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘চলমান অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেই সরকার ১০০টিরও বেশি পণ্যের ওপর ভ্যাট ও শুল্ক আরোপ করেছে। এ সিদ্ধান্ত জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’
বর্তমান রাজস্ব আদায় দিয়ে বাজেট মেটানো সম্ভব হচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘দুর্নীতি ও লুটপাটের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার কার্যত অর্থনীতিকে ধ্বংসের পথে নিয়ে গেছে। এখন ভ্যাট ও শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়ে জনগণের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।’
অন্তর্বর্তী সরকারের পদক্ষেপের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকার টাকার অযৌক্তিক মুদ্রণ করে অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এভাবে চলতে থাকলে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে। জ্বালানি খরচসহ দৈনন্দিন খরচও বেড়ে যাবে, যা জনগণের নাভিশ্বাস উঠাবে।’
সরকারের অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘অপ্রয়োজনীয় উন্নয়ন প্রকল্প বাদ দিয়ে বাজেটের খরচ ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। এতে অন্তত ৬০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে বাজেটে আরও ১ কোটি টাকার সাশ্রয় করা যেতে পারে।’
আন্তর্জাতিক মহলে সরকারের ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াবে। তাই আইএমএফসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার কঠিন শর্ত শিথিল করার চেষ্টা করা উচিত।’
সরকারকে ভ্যাট ও শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের উচিত সবার আগে বাজেটের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো এবং সঠিক নীতি গ্রহণের মাধ্যমে জনগণের স্বস্তি নিশ্চিত করা।’
মন্তব্য করুন


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, অতীতে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতা বারবার অপব্যবহারের শিকার হয়েছে, যার মাধ্যমে বরং হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা উৎসাহ পেয়েছে।
তিনি বলেন, 'বিএনপি নীতিগতভাবে একমত যে ক্ষমা প্রদর্শনের বিষয়টি আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হওয়া উচিত এবং তা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা দরকার।'
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অনুমতির বিষয়টি আলোচনায় আসাকে তিনি ‘সন্তোষজনক অগ্রগতি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
হাইকোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ বিভাগীয় পর্যায়ে স্থাপনের বিষয়ে বিএনপি সম্মত বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমেদ। তবে তিনি বলেন, 'এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট এবং প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে বিচার ব্যবস্থাকে জনগণের আরও কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'জনগণের কাছে আমাদের দায় অনেক বেশি। এখানে মতামত দলীয় নয়, বরং জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্যের ভিত্তিতে আলোচনা চলছে। কে কতটা সহযোগিতা করছে, তা জনগণ বিবেচনা করবে।'
সালাহউদ্দিন আহমেদ দ্রুত জাতীয় সনদ প্রণয়নের পক্ষে বিএনপির অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য করুন