

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপি ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। নির্বাচনে তিনি ঢাকার একটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
রোববার রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা ৩০০ আসন ধরে এগোচ্ছি। প্রার্থীর তালিকা এই মাসেই দিতে পারি।
এনসিপি দ্রুত নির্বাচন চায় জানিয়ে তিনি বলেন, যদিও আমরা নতুন রাজনৈতিক দল। এই এক বছরে আমাদের অনেক কিছু কাঁধে নিতে হয়েছে। আমরা দল গঠনে সেই সময় পাইনি। কিন্তু আমাদের প্রস্তুতি কম থাকুক, বেশি থাকুক সেই জন্য আমরা কখনো নির্বাচন পেছানোর কথা ভাবি না।
নাহিদ বলেন, দ্রুত নির্বাচন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন প্রয়োজন, দেশের স্থিতিশীলতার জন্য। ফলে ফেব্রুয়ারিকে ধরে আমরা আমাদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেবো।
এনসিপি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের সমস্ত পরিকল্পনা নয়। আমরা নতুন গঠিত হয়েছি। আমরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েই মাঠে নেমেছি। এই নির্বাচন আমাদের সামনে একটা প্রথম চ্যালেঞ্জ, প্রথম টেস্ট হবে আমরা এটাতে অংশগ্রহণ করবো। ভালো করি, মন্দ করি এটা জনগণ বিবেচনা করবে।
মন্তব্য করুন


দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিম্নমানের জন্য রাজনীতিবিদরা দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার সকালে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে ‘বিশ্ববিদ্যালয় পরিক্রমা’ নামের শিক্ষাবিষয়ক ম্যাগাজিনের আয়োজনে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, শুধু অতি মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের জন্য উচ্চশিক্ষা রাখা উচিত আর সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের বেশির ভাগের জন্য ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল ট্রেনিং ব্যবস্থা করতে পারলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যাবে।
তিনি বলেন, বিএ বা এমএ পাস করার পর ছাত্রছাত্রীরা কাজ পান না, কারণ, এই ডিগ্রিগুলো চাকরি দিতে পারে না। কিন্তু যদি কেউ বিএসসি পাস করতেন বা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা নিতে পারতেন, তবে তার চাকরি কেউ আটকাতে পারত না। বর্তমানে কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা, ইনস্টিটিউট বা ভোকেশনাল সেন্টারগুলোর অভাব রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, রাজনীতিবিদরাই একটি দেশের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করেন। একজন রাজনৈতিক নেতা যেমন জাতিকে উচ্চ শিখরে নিয়ে যান বা পথ তৈরি করেন, আবার কেউ নিচে নিয়ে যান বা পথ নষ্ট করেন। দেখার বিষয় কে জ্ঞানে গরিমায় রাজনীতিকে সমৃদ্ধ করতে চায় আর কে কেবল নিজের স্বার্থে রাজনীতিকে ব্যবহার করতে চায়।
মির্জা ফখরুল বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পরে দেশকে সুন্দর করে গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হতে যাচ্ছে, কিন্তু রাজনীতিবিদদের বিভাজনে সেটি নষ্ট হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকারের কিছু লোক বলছেন যে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করা কঠিন। কিন্তু কেনো কঠিন হবে? নির্বাচন করতে এতো সময় কেনো লাগবে? যদি নির্বাচন কমিশন সঠিকভাবে কাজ করে, তাহলে জুন-জুলাই মাসের মধ্যে নির্বাচন সম্ভব।
শুক্রবার (৭ মার্চ) রাজশাহীতে চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ও ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে আহত ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের শহিদ পরিবারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দোয়া কামনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে আমরা বিএনপি পরিবার।
রিজভী বলেন, নির্বাচন নিয়ে গড়িমসি হলে অন্তবর্তী সরকারের বিষয়ে সন্দেহ তৈরি হবে। আমাদের একটি সংবিধান আছে, তারপরও গণপরিষদ নির্বাচন কেনো? এ ধরনের কথাগুলো মানুষের মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি কারও কাছে মাথা নত করে না, এটাই বিএনপির অপরাধ, এটাই খালেদা জিয়ার অপরাধ। শেখ হাসিনা তার ব্যক্তিগত আক্রোশ আদালতের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে শাস্তি দিয়ে মিটিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা একটি লুটেরা দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি হবু চন্দ্র রাজা ও গবু চন্দ্র মন্ত্রীর মতো একটি শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছিলেন। শিক্ষার্থীদের হত্যা করে রক্তাক্ত হাত নিয়ে তিনি বাংলাদেশ থেকে পালিয়েছেন। শহিদদের রক্তের সঙ্গে তিনি বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।
বাংলাদেশ বিষয়ে ভারতের আগ্রহ নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের এত মাথাব্যথা কেনো? যারা লুটেরা, যারা খুনি, তাদেরকে ভারত আশ্রয় দেয়। শেখ হাসিনার মাধ্যমে ভারত বাংলাদেশকে একটি তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছে।
অনুষ্ঠানে গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেয়া আহত ও নিহত ১৫ জনকে অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়। এসময় আমরা বিএনপি পরিবারের আহবায়ক ও উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য এহসানুল হক সমাজী উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ (পেকুয়া-চকরিয়া) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আমরা বাংলাদেশের পক্ষের শক্তি। আপনারা ধানের শীষে ভোট দিলে এবার বাংলাদেশে এমন একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে; যাতে আর কোনোদিন আমাদের অধিকার কেউ হরণ করতে পারবে না। ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার ও মানবাধিকার হরণ করতে পারবে না।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) নির্বাচনি প্রচারণার ৮ম দিনে চকরিয়া পৌরসভার কাজী পাড়ায় গণসংযোগকালে তিনি এ কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, একটি বৈষম্যহীন সমাজ ও প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য আমাদের সন্তানরা রক্ত দিয়ে ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে মুক্ত করেছে। ভবিষ্যতে যেন আর কখনো ভোটাধিকার আদায়ে রক্ত দিতে না হয়, সেজন্য আমাদের এবার সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বাংলাদেশের এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে জয়যুক্ত করতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বহুদলীয় গণতন্ত্রের এবং উন্নয়নের পরীক্ষিত দল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে শিক্ষা, নারী উন্নয়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপি গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রেখেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদিন ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমরা শান্তি, নিরাপত্তা, সুশাসন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলব, ইনশাআল্লাহ।
দিনের শুরুতেই চকরিয়া পৌরসভা এলাকার প্রখ্যাত আলেম মরহুম মাওলানা মাহমুদুর রহমানের কবর জিয়ারত করেন। এরপর তিনি পৌরসভার বিমানবন্দর পাড়া, জালিয়া পাড়া, হিন্দু পাড়া, আমাইন্নারচর হালকাকারা, তরচপাড়া, সিকদার পাড়াসহ বেশকয়েকটি ওয়ার্ডে গণসংযোগ চালান।
এ সময় চকরিয়া পৌরসভা বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম হায়দার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মু ফখরুদ্দীন ফরায়জী, পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম আব্দুর রহিম, সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল আমিন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এম আলী আকবরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতার উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


গণতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে থাকা এবং জুলাই-আগস্টের বিপ্লবের পক্ষের শক্তি না থাকা মহলই নির্বাচন বিলম্বে পায়তারা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ রোববার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জুলাই সনদের বিরোধিতা বিএনপি কখনো করেনি। অথচ আমাদের সংস্কারবিরোধী বলার অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘সংস্কার কমিশনের নামে নানা প্রস্তাব এনে সময় নষ্ট করা হচ্ছে। রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করার মতো প্রস্তাব সংস্কারের মূল আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’
বিএনপি মহাসচিব আরও জানান, পুলিশ সংস্কার নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচনী আসনের সীমানা নির্ধারণে বিএনপি কমিশনের সঙ্গে একমত।
এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সাংবিধানিক বিষয়ে ঐক্যমত কমিশনের সঙ্গে একমত হওয়া সহজ হবে। তবে এ বিষয়ে বেশি সময় নেয়া উচিত না।’
অপর সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘পিআর (প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) একটি অস্পষ্ট ধারণা। এটি বাস্তবসম্মত নয়, শুধুই আলোচনার খোরাক।’
নির্বাচন সংস্কার কমিশনের দেওয়া ২৪৩টি সুপারিশের মধ্যে ১৪১টিতে আংশিকভাবে একমত হয়েছে বিএনপি। ৬৪টি সুপারিশে ভিন্নমত রয়েছে দলটির।
মন্তব্য করুন


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন অনির্বাচিত সরকারের স্বৈরাচারী হয়ে ওঠার লক্ষণ প্রকাশ হতে শুরু করেছে। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে নির্বাচনের রোডম্যাপ দেওয়ার আহ্বান জানান।
মঙ্গলবার (২৭ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিষদের আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
খসরু বলেন, দেশের জনগণ সাংঘর্ষিক রাজনীতি বা মবোক্রেসি চায় না। নির্বাচনের সঙ্গে বিচার, সংস্কার সাংঘর্ষিক নয়। সবগুলো চলমান প্রক্রিয়া।
তিনি বলেন, ভিন্নমত হলেও আমরা সম্মান করতে শিখব। ছাত্র-জনতা, রাজনৈতিক দল, সেনাবাহিনী- তিনটি শক্তি শেখ হাসিনার পতনে কাজ করেছে।
নতুন সরকারকে সাপোর্ট দিয়েছে। শেখ হাসিনা পলায়ন করেছেন। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ দেশের মালিকানা ফিরে পাবে, এমন আশায় আমরা বুক বেঁধেছি। জনগণের অধিকারহীন অবস্থায় আসার কথা ছিল না।
অনির্বাচিত সরকার যদি বেশিদিন ক্ষমতায় থাকে, তবে ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য গণমাধ্যমের ওপর চাপ বাড়বে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে নির্বাচনের রোডম্যাপ দিক। রাজনীতিবিদদের অনুধাবন করতে হবে, আগামীর রাজনীতি আগের মতো হবে না।
সূত্র: কালেরকন্ঠ
মন্তব্য করুন


জুলাই সনদের বাইরে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তা মানতে স্বাক্ষরকারী দলগুলো বাধ্য নয় বলে মন্তব্য করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।
সালাহউদ্দিন বলেন, সনদে বিভিন্ন দলের কিছু নোট অফ ডিসেন্ট আছে। সনদে উল্লেখ আছে ইশতেহারে উল্লেখ করে রায় পেলে সেভাবে বাস্তবায়ন করবে, অথচ সুপারিশমালায় নেই। গণভোট জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনে হবে, সেই অবস্থানে আছি।
তিনি বলেন, নতুন নতুন ইস্যু তৈরি করে যারা আন্দোলন করছেন, তাদের সঙ্গে আলাপ করতে হবে। সনদের বাইরে যদি সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, সেটা মানতে স্বাক্ষরকারী দলগুলো বাধ্য নয়।
সালাহউদ্দিন বলেন, ‘এখন কোনো প্রজ্ঞাপনকে যদি আদেশ হিসেবে নামকরণ করতে চায় এবং সেটার আইনি মর্যাদা না থাকে, তাহলে সেটা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকার প্রকাশ করতে পারে। কিন্তু সেটা আইন হবে না।’
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিএনপির অভিযোগকে ব্যক্তিগতভাবে নেয় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কৌশলে প্রতিশোধও নেওয়ার চেষ্টা করে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সোমবার নয়াপল্টনে বিএনপির মহিলা দলের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন। মাগুরাসহ দেশজুড়ে সাম্প্রতিক ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি।
রিজভী বলেন, দেশে ধর্ষণের পরিমাণ বেড়ে গেছে। কোথাও নারীদের নিরাপত্তা নেই। শেখ হাসিনার আমল থেকেই নারীরা নির্যাতিত হচ্ছেন। এখন তো ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেই, তাহলে কারা এই হিংস্রতার সঙ্গে জড়িত? আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে তা জানতে চাই।
প্রশাসন ঠিক থাকলে দেশে এমন বিশৃঙ্খলা হতো না মন্তব্য করে রিজভী বলেন, আইনের প্রয়োগ সঠিকভাবে করলে এমনটি হতো না।
তিনি আরও বলেন, আমরা সরকারের কাছে বলতে চাই, দ্রুততম সময়ে আছিয়ার ধর্ষণকারীদের বিচার করতে হবে, যেন অন্য অপরাধীরা ভয় পায়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সব সময় আছিয়ার বিষয়ে খোঁজখবর রাখছেন।
রিজভী আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় ডিসি-এসপিদের কক্ষে গিয়ে তাদের কাজ তদারকি করছেন বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীরা। অথচ তাদের থাকার কথা ক্লাসে ও লাইব্রেরিতে। বিগত দিনে ফ্যাসিস্ট পতনের আন্দোলনে তাদেরও অনেক অবদান রয়েছে। তাই তাদের উচিত ক্যাম্পাসে ফিরে গিয়ে সব ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো।
মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস বলেন, শেখ হাসিনার সময়ে ধর্ষণকারীদের পুরস্কৃত করা হতো। আর বিএনপির সময়ে ধর্ষণের ঘটনায় উপযুক্ত বিচার হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে নারী ও শিশু ধর্ষণের হার দিন দিন বাড়ছে। তিনি মাগুরার ৮ বছরের শিশু ধর্ষণকারীদের জনসম্মুখে বিচারের দাবি জানান।
ধর্ষিতা শিশুটির বোনের শাশুড়িরও ফাঁসি দাবি করে মহিলা দলের সভানেত্রী বলেন, ১৮০ দিনে নয়, এক সপ্তাহের মধ্যেই ধর্ষণ মামলার আসামিদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর নার্গিসের পরিচালনায় এতে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সহ-সভাপতি নেওয়াজ হালিমা আর্নি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাম্মি আক্তার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভানেত্রী রুমা আক্তার, ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট রুনা লায়লা প্রমুখ।
মিছিলে ধর্ষক ও নিপীড়নকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
মন্তব্য করুন


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘সংকটকালে মায়ের স্নেহ স্পর্শ পাবার তীব্র আকাঙ্ক্ষা যেকোনো সন্তানের মতো আমারও রয়েছে। কিন্তু অন্য আর সবার মতো এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়।’
নিজের মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অবস্থার সর্বশেষ জানিয়ে শনিবার (২৯ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া স্ট্যাটাসে একথা জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ ও সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যায় রয়েছেন।
তার রোগমুক্তির জন্য দলমত নির্বিশেষে দেশের সব স্তরের নাগরিক আন্তরিকভাবে দোয়া অব্যাহত রেখেছেন। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা তার রোগমুক্তির জন্য দোয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসার সর্বত সহায়তার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। দেশ বিদেশের চিকিৎসকদল বরাবরের মতো তাদের উচ্চ মানের পেশাদারিত্ব ছাড়াও সর্বোচ্চ আন্তরিকতা সেবা প্রদান অব্যাহত রেখেছেন। বন্ধুপ্রতিম একাধিক রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও উন্নত চিকিৎসাসহ সম্ভাব্য সব প্রকার সহযোগিতার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করা হয়েছে।
’
বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তির জন্য সবার প্রতি দোয়া অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানিয়ে তারেক রহমান লিখেছেন, ‘সর্বজন শ্রদ্ধেয়া বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সবার আন্তরিক দোয়া ও ভালোবাসা প্রদর্শন করায় জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে সবার প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।’
দেশে ফেরার প্রসঙ্গে তারেক রহমান লিখেছেন, ‘এমন সংকটকালে মায়ের স্নেহ স্পর্শ পাবার তীব্র আকাঙ্ক্ষা যেকোনো সন্তানের মতো আমারও রয়েছে। কিন্তু অন্য আর সবার মতো এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। স্পর্শকাতর এই বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনার অবকাশও সীমিত।
রাজনৈতিক বাস্তবতার এই পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে উপনীত হওয়া মাত্রই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আমার সুদীর্ঘ উদ্বিগ্ন প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে বলেই আমাদের পরিবার আশাবাদী।’
মন্তব্য করুন


বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা যারা রাজনৈতিক দলগুলো আছি, নির্বাচন নিয়ে আমাদের কোনো রকমের সংশয় নেই। উই আর কনভিন্সড যে ২৬-এর ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে।
শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বক্তব্যের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচন নিয়ে জাতিসংঘে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য যথেষ্ট জোরালো ছিল।
নির্বাচনের ব্যাপারে গত কিছুদিন ধরে তিনি যে কথাগুলো বলে আসছেন, এই ব্যাপারে, আমাদের অন্তত কোনো সংশয় নেই। আমরা যারা রাজনৈতিক দলগুলো আছি, আমাদের কোনো রকমের সংশয় নেই। উই আর কনভিন্সড যে ২৬-এর ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের জন্য জামায়াতে ইসলামী প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের।
শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের বিষয় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, ‘ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের একটি সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা সবাই এরসঙ্গে একমত।
আমরাও ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। কিন্তু তার আগে কিছু বিষয় আছে গুরুত্বপূর্ণ, যেগুলোকে সমাধান করা দরকার। যেমন-জুলাই সনদ, এটির বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। কিন্তু সেটি বাস্তবায়ন না হলে সেখানে একমত হওয়ার কোনো বাস্তবতা নেই।’
তিনি বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা জাতিসংঘে যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেখানে নির্বাচনের বিষয়ে তিনি যা বলেছেন সেটার সঙ্গে দ্বিমত করার কোনো কারণ আমরা দেখছি না। কিন্তু উনি তো বিস্তারিত কথা বলেননি।’
এ সময় জামায়াত নেতা নকিবুর রহমান তারেক উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


জাতীয় নির্বাচন নিয়ে যারা শঙ্কা প্রকাশ করেছ, তারা গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি নয়- এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, যারা নির্বাচনের বিপক্ষে বক্তব্য দেবে, তাদের বাংলাদেশের জনগণ রুখে দেবে।
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ। বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের জন্য, ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য সংকল্পবদ্ধ। এর বিপক্ষে যারাই ইনিয়ে-বিনিয়ে কোনো ধরনের বক্তব্য দেবে, যারাই বিভিন্ন রকমের কু-যুক্তি উত্থাপন করে গণতন্ত্রের এই যাত্রাপথকে কণ্টকাকীর্ণ করতে চাইবে, তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণ রুখে দাঁড়াবে। আমরা বিশ্বাস করি, আশা করি- বাংলাদেশের জনগণ ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে যেকোনো রকমের বাধাকে অতিক্রম করতে সংকল্পবদ্ধ।’
আজ শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় দোয়া মাহফিল ও সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মদিন উপলক্ষে এই কর্মসূচির আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী যুবদল।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আজকে যারা গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকমের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে নির্বাচনের বিষয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছে, তারা গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি নয়। তারা বাংলাদেশের মানুষের পক্ষের শক্তি নয়। তারা হয়ত কোনো না কোনো কারণে নিজের কথাগুলোই ইনিয়ে-বিনিয়ে বলছেন। যাতে করে নির্বাচনকে বিলম্বিত করা যায় অথবা বানচাল করা যায়। কিংবা নির্বাচন অনুষ্ঠান না হোক সেটা চায়।’
রাজনৈতিক দল ও শক্তির উদ্দেশ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘আপনারা যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামে, সেই একই রকমের ঐক্য নিয়ে আসুন- আগামী নির্বাচনের জন্য সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে যেভাবে আমরা নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে পারি, সেইভাবে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকি, আলাপ-আলোচনা করি এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণকে সহজতর করি।’
তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া চড়াই-উতরাই পেরিয়ে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করতে করতে আজও বাংলাদেশের মানুষের জন্য আলোর দিশারি হয়ে বেঁচে আছেন। তার ৮১তম জন্মদিন। আমরা মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রার্থনা করি, বাংলাদেশের মানুষের সামনে আলোর দিশারি হিসেবে পথপ্রদর্শক হিসেবে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা কবজ হিসেবে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাকে আরও দীর্ঘায়ু করুন, শতায়ু করুন।’
সালাহউদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের সমসমায়িক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে আমরা সমস্ত বিষয়ে দিক-নির্দেশনা পাচ্ছি বেগম খালেদা জিয়ার কাছ থেকে। তিনি নির্দেশনা দিয়েছিলেন আলাপ-আলোচনার মধ্যদিয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে গণতন্ত্রের উত্তরণের পথকে সহজতর করতে হবে। তার সেই নির্দেশনা মোতাবেক আমরা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেছি অনেকবার, সমস্ত গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর সঙ্গে আমরা আলোচনা অব্যাহত রাখছি।
তিনি বলেন, ‘আমরা জাতীয় ঐকমত্যের মধ্য দিয়ে একটি সুষ্ঠু সুন্দর শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য অপেক্ষমাণ, সারা জাতি অপেক্ষমাণ। আমরা সেই গণতন্ত্রের জন্য অপেক্ষমাণ, যেই গণতন্ত্রের জন্য আমাদের সন্তানেরা শহীদ হয়েছেন, রক্ত দিয়েছেন, পঙ্গুত্ববরণ করেছেন, অন্ধত্ববরণ করেছেন। আমরা অবিরাম ১৬-১৭ বছরের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম করেছি, সেই গণতন্ত্রের জন্য আমরা অপেক্ষমাণ।’
সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ‘এই গণতন্ত্রকে যদি আমরা বিনির্মাণ করতে চাই অত্যন্ত শক্তিশালী হিসেবে, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণ করতে চাই সাম্যের ভিত্তিতে, তাহলে এই গণতন্ত্রের জন্য আমাদেরকে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে হবে। ফ্যাসিবাদবিরোধী যে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেই জাতীয় ঐক্যকে শক্তিতে পরিণত করতে হবে।’
যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের সঞ্চালনায় দোয়া মাহফিলে সংগঠনের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নীরব বক্তব্য দেন। এছাড়া দোয়া মাহফিলে যুবদলের রেজাউল কবির পল, বেলাল হোসেন তারেক, মহানগরের খন্দকার এনামুল হক এনাম, শরীফ উদ্দিন জুয়েল, রবিউল ইসলাম নয়ন, সাজ্জাদুল মিরাজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন