

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৫ টি বোয়িং বিমান কেনার অর্ডার দিয়েছে বাংলাদেশ। আজ রোববার সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুবুর রহমান।
মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরকার ২৫টি বোয়িংয়ের অর্ডার দিয়েছে। এর আগেও ১৪টি বোয়িং অর্ডার ছিল। এবার রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ ইস্যুকে মাথায় রেখে অর্ডার বাড়ানো হয়েছে।’
বানিজ্য সচিব বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক কমাতে তৃতীয় দফা আলোচনার জন্য চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সোমবার (২৮ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা দেবে। বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে থাকছেন নিরাপত্তা উপদেষ্টা, বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানসহ গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা।
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক হার কমানোর লক্ষ্যে এই আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওয়াশিংটনে ২৯ ও ৩০ জুলাই ইউএসটিআরের (যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর) অফিসে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সম্ভব হলে ৩১ জুলাই আরেকটি বৈঠক হতে পারে।’
শুল্ক আলোচনার অগ্রগতি প্রসঙ্গে সচিব বলেন, ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ চুক্তির খসড়া পাওয়ার পর আমরা কয়েক দফায় কাজ করেছি। ওয়াশিংটনে দুই দফা সরাসরি বৈঠক হয়েছে, অনলাইনে সভা হয়েছে, আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকও করেছি। সব পক্ষের মতামত নিয়েই ২৩ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রকে চূড়ান্ত অবস্থান জানানো হয়েছে। সব খসড়ার জবাব দিয়ে আমরা আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছি।’
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘এই আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর শুল্ক হার কমবে এবং ভারতের কিংবা ভিয়েতনামের তুলনায় বাংলাদেশের পণ্যের ওপর তুলনামূলক কম শুল্ক বসবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে দেশটি থেকে গম, তুলা এবং বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার কথাও বলেন বাণিজ্য সচিব।
তিনি আরও বলেন, ‘বোয়িং কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্র সরকার নয়, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। ভারত ও ভিয়েতনাম ১০০টি করে অর্ডার দিয়েছে, ইন্দোনেশিয়া দিয়েছে ৫০টি। তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী সরবরাহ করবে কোম্পানি। অর্ডার অনুযায়ী যাদের আগে দেয়া হয়েছে, তারা আগে পাবে। আমাদের কিছু বোয়িং অতিদ্রুত দরকার। হয়তো আগামী দুই এক বছরের মধ্যে কিছু বিমান হাতে পাওয়া যাবে।’
মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সরকারি ও বেসরকারি খাত মিলিয়ে দেশে ৯ মিলিয়ন টন গম আমদানি হয়। আগে কখনও এককভাবে কোনো দেশ থেকে তা আনা হতো না। কিন্তু এখন রেড সি সংকটে সরবরাহ চেইনে পরিবর্তন এসেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ওপর নির্ভরতা বাড়াতে হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানির চুক্তি ইতিমধ্যেই হয়েছে। তুলার ক্ষেত্রেও তাদের কাছ থেকেই আমদানি চলছে, যদিও সেটা কিছুটা কমেছে। বেসরকারি খাত সয়াবিন তেল আমদানির পরিকল্পনা করছে, এ নিয়েও তারা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসবে।’
বাংলাদেশের মার্কিন নির্ভরতা বাড়লে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হবে কি না এমন প্রশ্নে বাণিজ্য সচিব বলেন, ‘আমরা যদি আরেকটি দেশ থেকে সুবিধাজনক পণ্য আমদানি করি, তাতে চীন বা অন্য কোনো দেশের সঙ্গে টানাপোড়েন হবে না। ব্যবসায়িক বাস্তবতা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতির কারণে চীনের ওপর সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ছে। উৎপাদন স্থানান্তর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর কিছু অংশ আমরা বাংলাদেশে টানতে পারি।’
বাণিজ্য সচিব বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেসব আলোচনা চলছে, সেখানে বিনিয়োগ ইস্যু থাকলেও সেটা মুখ্য নয়। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সঙ্গে ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতিতে রয়েছে। সেটি কমানোর লক্ষ্যেই তারা রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ নীতিতে যাচ্ছে।’
তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য কেনার কারণে দেশের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। ব্যবসায়ীরা সুযোগ-সুবিধা বিবেচনা করেই আমদানি করছেন। সরকার কাউকে চাপ দিচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে ব্যবসায়িক স্বার্থই প্রধান বিবেচনা।’
মন্তব্য করুন




ডেস্ক রিপোর্টঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ চায় মন্তব্য করে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক আব্দুল হালিম বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ চায়। আশা করি অন্তর্বর্তী সরকার যত দ্রুত সম্ভব মৌলিক সংস্কার শেষ করে নির্বাচন দেবে।
শনিবার (২৬ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এ তথ্য জানান।
আব্দুল হালিম বলেন, বিগত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগের আমলে জামায়াতের ১১ জন শীর্ষ নেতাকে হত্যা করা হয়েছে, ৩০ জন ক্রসফায়ারের শিকার হয়েছেন, ১ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পতিত আওয়ামী লীগ একেক দিন একের রূপে ষড়যন্ত্র করছে। তাদের সব ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে দলটির পতন হয়েছে। এখন জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নির্বাচন জরুরি বলে দাবি করে তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব মৌলিক সংস্কার শেষে অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন দেবে বলে প্রত্যাশা জামায়াতের।
আলোচনাসভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না প্রমুখ।
মন্তব্য করুন


সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মহার্ঘ ভাতা প্রদানের যে সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে, তা খুব দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোখলেসুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (আজ) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
সচিব ড. মোখলেসুর রহমান বলেন, “মহার্ঘ ভাতা সংক্রান্ত বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে। তবে আমি এই কমিটির একজন সদস্য। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে দুইটি বৈঠক হয়েছে। আশা করছি, মহার্ঘ ভাতা খুব শিগগিরই কার্যকর হবে। তবে এবার কিছু পরিবর্তন আসছে। আগে পেনশনভোগীরা মহার্ঘ ভাতা পেতেন না, এবার তারাও এ সুবিধা পাবেন। তারা একটি যৌক্তিক পরিমাণ ভাতা পাবেন। আগামী বছর ইনক্রিমেন্টের সময় এই ভাতা মূল বেতনের সঙ্গে যোগ হবে।”
এই অর্থবছরের মধ্যেই মহার্ঘ ভাতা কার্যকর হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, আমি নিশ্চিত, এই বাজেটের মধ্যেই এটি কার্যকর হবে। ৩০ জুনের আগেই এটি বাস্তবায়িত হবে, ইনশাআল্লাহ।”
মহার্ঘ ভাতার হার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা বলা ঠিক হবে না। অর্থ উপদেষ্টা ও অর্থসচিব এ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা দিতে পারবেন।”
ভাতা কার্যকর হওয়ার নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি আরও যোগ করেন, “কোনো নির্দিষ্ট তারিখ অনুমান করা সঠিক হবে না। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ বিষয়ে সঠিকভাবে জানাবেন।”
মন্তব্য করুন


নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির কিংস পার্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে মন্তব্য করেছেন বন ও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘নতুন রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে রাজনীতিতে একটি ইতিবাচক ধারার সৃষ্টি হচ্ছে। তবে শুধু নতুন দল গঠন করলেই যে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, ব্যাপারটি এমন নয়। আমাদের জাতিগতভাবে পরিবর্তন হতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক দলের সমালোচনা থাকাটা স্বাভাবিক, না থাকাটাই অস্বাভাবিক। অন্তর্বর্তী সরকারের সরাসরি রাজনীতি করার আকাঙ্ক্ষা আমরা দেখি না। বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন দরকার।’
যে শক্তি দেশের জন্য ইতিবাচকভাবে কাজ করবে, তাদের সবাইকে শুভকামনা জানান সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
মন্তব্য করুন


দেশের প্রথম মনোরেল নির্মিত হতে যাচ্ছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। নগরীর যানজট নিরসনে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)।
রোববার (১ জুন) সকালে নগরীর ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সঙ্গে জার্মানি প্রতিষ্ঠান ওরাসকম ও মিশরের প্রতিষ্ঠান আরব কন্ট্রাক্টর গ্রুপের এ সংক্রান্ত সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়। প্রতিষ্ঠান দুটি নগরীতে ফিজিবিলিটি স্টাডি করবে।
চুক্তি অনুযায়ী ওরাসকম ও আরব কন্ট্রাক্টর গ্রুপ মনোরেল নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের (ফিজিবিলিটি স্টাডি) কাজ শুরু করার কথা রয়েছে।
মনোরেল প্রকল্পের অর্থায়ন, প্রযুক্তি ও বাস্তবায়ন কাঠামো তুলে ধরেন আরব কন্ট্রাক্টরস ও ওরাসকম পেনিনসুলা কনসোর্টিয়ামের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ কাউসার আলম চৌধুরী।
তিনি জানান, ‘চট্টগ্রাম বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী। এখানে যানজট ও পরিবহণ সংকট ক্রমবর্ধমান। মনোরেল একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব সমাধান। আমরা এই প্রকল্পে পূর্ণাঙ্গ বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।’
তিনি জানায়, প্রকল্পটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পের সম্ভাব্য তিনটি রুট হচ্ছে : লাইন-১ (২৬.৫ কি.মি.) কালুরঘাট থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত (বহদ্দারহাট, চকবাজার, লালখান বাজার, দেওয়ানহাট ও পতেঙ্গা হয়ে), লাইন-২ (১৩.৫ কি.মি.): সিটি গেট থেকে শহীদ বাশিরুজ্জামান স্কয়ার (এ.কে. খান, নিমতলী, সদরঘাট ও ফিরিঙ্গি বাজার হয়ে) পর্যন্ত লাইন-৩ (১৪.৫ কি.মি.): অক্সিজেন থেকে ফিরিঙ্গি বাজার (মুরাদপুর, পাঁচলাইশ, আন্দরকিল্লা ও কোতোয়ালি হয়ে) পর্যন্ত।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মনোরেল প্রকল্প চট্টগ্রাম নগরীর গণপরিবহন খাতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে চলেছে উল্লেখ করে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, এই প্রকল্পের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামকে দক্ষিণ এশিয়ার গেটওয়ে হিসেবে গড়ে তোলা হবে। প্রস্তাবিত মনোরেল প্রকল্পটির মোট দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৫৪ কিলোমিটার এবং এতে বিনিয়োগ হবে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা। পুরো অর্থায়ন আনবে বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান-ওরাসকম কনস্ট্রাকশন ও আরব কন্ট্রাক্টরস।
তিনি বলেন, ‘এই বিনিয়োগের জন্য চসিকের কোনো আর্থিক দায় থাকবে না। কেবল আমরা প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট ও ভূমি বরাদ্দ দেব। এই মনোরেল শুধু যানজট নিরসনে নয়, বরং চট্টগ্রামকে একটি পরিবেশবান্ধব, পর্যটন ও ব্যবসাবান্ধব নগরীতে রূপান্তর করার দিকেও এগিয়ে নেবে। এটি দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে সংযোগের একটি আধুনিক সেতুবন্ধন তৈরি করবে। মনোরেল থেকে রাজস্ব আসবে শুধু টিকিট নয়, বরং বিজ্ঞাপন, স্টেশনে দোকানপাট, আশপাশের সম্পত্তিমূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমেও। একটি ভাল গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে ৫-৭ গুণ পর্যন্ত অর্থনৈতিক রিটার্ন পাওয়া যায়।’
অনুষ্ঠানে গ্রেটার চিটাগাং ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘চট্টগ্রামকে একটি স্মার্ট ও টেকসই নগরীতে রূপান্তরের অংশ হিসেবে মনোরেল প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও নগরবাসীকে নিয়ে একটি ইকোনমিক ফোরাম গঠন করে এই প্রকল্পকে বাস্তবায়নে কাজ করবো।’
চসিক কর্মকর্তারা জানান, মনোরেল একটি আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা, যা একক রেলপথ দিয়ে চলে। এটি সাধারণত উঁচু পিলারের ওপর স্থাপন করা হয়। মনোরেল প্রযুক্তি মেট্রোরেলের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ খরচ সাশ্রয়ী। এটি কম জায়গায় স্থাপন করা সম্ভব, ফলে ঘনবসতিপূর্ণ শহর বা স্থাপনার মধ্য দিয়েও সহজে চলাচল করতে পারে। মনোরেলের যাত্রী ধারণক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কিছুটা কম হলেও এটি দ্রুত নির্মাণযোগ্য এবং শহরের যানজট কমাতে কার্যকর। বর্তমানে জাপান, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া ও ভারতের কিছু শহরে মনোরেল সফলভাবে চালু রয়েছে।
কর্মকর্তারা আরও জানান, এর আগে ২০২১ সাল থেকে বিদেশি আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান মনোরেল নির্মাণে চসিককে প্রস্তাব দিয়েছিল। এ বিষয়ে তারা কয়েকবার তৎকালীন সিটি মেয়রের সঙ্গে বৈঠক করেছিল। কিন্তু নানা কারণে এটি আর আলোর মুখ দেখেনি।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে চারটি কমিশন তাদের সংস্কার প্রস্তাব জমা দিয়েছে। আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে কমিশন প্রধানরা প্রতিবেদনগুলো জমা দেন।
এর আগে, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চারটি সংস্কার কমিশনের প্রধান তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফেসবুকে সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জমা দেওয়া কমিশনগুলো হলো: ড. বদিউল আলম মজুমদারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন, সরফরাজ হোসেনের নেতৃত্বাধীন পুলিশ প্রশাসন সংস্কার কমিশন, টিআইবির ড. ইফতেখারুজ্জামানের নেতৃত্বে দুর্নীতি দমন কমিশন এবং ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির বিশিষ্ট অধ্যাপক ড. আলী রিয়াজের নেতৃত্বে সংবিধান সংস্কার কমিশন।
এখন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে চারটি সংস্কার কমিশনের প্রধানদের বৈঠক চলছে বলে জানানো হয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে। আজ বিকেল তিনটায় সংবাদ সম্মেলনে সরকার এই বিষয়ে বিস্তারিত জানাবে।
এটি হলো গত ৩ অক্টোবর কমিশন গঠনের পর প্রজ্ঞাপন জারি করা অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগের পরবর্তী ধাপ।
মন্তব্য করুন


জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সদস্যসচিব মো. মোখলেস উর রহমান জানিয়েছেন, ফরিদপুর ও কুমিল্লাকে আলাদা বিভাগ করার সুপারিশ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সচিবালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ তথ্য জানান।
এ সময় জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরীসহ কমিশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বলেন, আমরা সারা দেশের মানচিত্র দেখে ফরিদপুর ও কুমিল্লাকে আলাদা বিভাগ করার সুপারিশ করেছি। যদি সরকার মনে করে, তারা ১০টি বিভাগ করে দেবে।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
যুক্তরাজ্যের ইন্দো-প্যাসিফিক বিষয়ক মন্ত্রী ক্যাথরিন ওয়েস্ট বলেছেন, তার সরকার বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ফেরত আনার প্রচেষ্টায় ঢাকা সরকারকে পূর্ণ সহায়তা প্রদান করবে।
রবিবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে একথা বলেন ক্যাথরিন ওয়েস্ট। তিনি বলেন, "এটা আপনাকে জানানো গুরুত্বপূর্ণ যে আপনি আমাদের সমর্থন পেয়েছেন।"
ব্রিটিশ মন্ত্রী আরও বলেন, শেখ হাসিনার প্রায় ষোল বছরের শাসনামলে বিদেশে পাচার হওয়া কয়েক বিলিয়ন ডলার ফেরত আনার জন্য ঢাকা যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, তাতে যুক্তরাজ্য তার সহায়তা প্রদান করবে।
ইউনূস তার প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ, অলিগার্ক ও আমলাদের পাচার করা অর্থ ফেরত আনা অন্তর্বর্তী সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর ১২ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিদেশে পাচার হচ্ছে।
বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস তার সরকারের সংস্কার উদ্যোগের বর্ণনা দেন, যার মধ্যে দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করার কথা বলা হয়েছে। তিনি বলেন, দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা এবং পূর্ববর্তী শাসনামলে ঘটে যাওয়া ব্যাপক ভোট কারচুপি থেকে বিরত থাকা এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য।
পশ্চিমা দেশগুলো সরকারের সংস্কার উদ্যোগগুলোকে সমর্থন করে উল্লেখ করে ক্যাথরিন ওয়েস্ট বলেন, ব্রিটেন নির্বাচনী, বিচার বিভাগীয় ও সাংবিধানিক সংস্কারের মূল দিকগুলোতে প্রাণবন্ত বিতর্ক দেখতে চায়। "বিতর্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ," তিনি বলেন।
মন্ত্রী রোহিঙ্গা শরণার্থী, স্থানীয় জনগণ ও বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ১০.৩ মিলিয়ন পাউন্ড অনুদান সহায়তা ঘোষণা করেছেন।
ড. ইউনূস মিয়ানমারের সহিংসতা-জর্জরিত রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগণের জন্য একটি "জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নিরাপদ অঞ্চল" প্রতিষ্ঠার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন, যাতে তারা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে না আসে এবং দাতব্য সংস্থা ও সাহায্য গোষ্ঠীগুলো নির্বিঘ্নে বাস্তুচ্যুত মানুষের কাছে খাদ্য ও সহায়তা পৌঁছে দিতে পারে।
বৈঠকে তারা ভূ-রাজনৈতিক সমস্যা, সংখ্যালঘুদের অধিকার, দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক এবং নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ৪০ মেগাওয়াট জ্বালানি চুক্তি নিয়েও আলোচনা করেন।
ইউনূস বলেন, তার সরকার জলবিদ্যুৎ সমৃদ্ধ নেপাল ও ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আনার জন্য দক্ষিণ এশিয়ার বিদ্যুৎ গ্রিড তৈরিতে পুরোপুরি সমর্থন করেছে। তিনি বলেন, হিমালয়ের পাদদেশের দুই দেশ থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি আমদানি করলে বাংলাদেশ জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে পারবে। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা প্রয়োজন।
বৈঠকে ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে গুরুতর আহত ছাত্র ও অন্যান্য বিক্ষোভকারীদের চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের একটি মেডিকেল টিম চলতি মাসে দেশে এসেছে।
মন্তব্য করুন


আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশে দুর্নীতিবাজরা নেই। ফলে এবারের কোরবানির গরুর দাম কম বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ এখন ক্ষমতায় নেই, আর দুর্নীতিবাজরাও নেই বলেই অনেকের হাতে গরু কেনার মতো অর্থ নেই। এ ছাড়া গরুর সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় এবার কোরবানির পশুর বাজারে দামও কিছুটা কমেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ জুন) দুপুরে রাজধানীর গাবতলী কোরবানির পশুর হাট পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
পরিদর্শনের সময় উপদেষ্টা হাটের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি হাটে আসা ক্রেতা, বিক্রেতা এবং সেবা–সংক্রান্ত কাজে নিয়োজিত লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন।
উপদেষ্টা জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও নিয়ন্ত্রণে আছে। সবাই সহযোগিতা করলে ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা আরও স্বস্তিদায়ক হবে।
ঈদ যাত্রায় যাত্রীদের কাছ থেকে টিকিটের অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে— এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, এখন পর্যন্ত কেউ এ বিষয়ে আমার কাছে কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ এলে অবশ্যই তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।
মন্তব্য করুন


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবি কোনো লেথাল ওয়েপন বা মারণাস্ত্র ব্যবহার করবে না বলে জানিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ঢাকা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এস এম আবুল এহসান।
শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় মিরপুর জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সের অস্থায়ী বেস ক্যাম্পে সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, এবারের নির্বাচনে দেশব্যাপী ৩৭ হাজারেরও বেশি বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে।
কর্নেল এস এম আবুল এহসান বলেন, দেশের ৪,৪২৭ কিলোমিটার সীমান্ত সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রেখেই সারা দেশে ৩৭ হাজারেরও অধিক বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে। দেশের ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৮৯টি উপজেলায় বিজিবি নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী ৬১টি উপজেলায় বিজিবি এককভাবে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে। ঝুঁকি বিবেচনায় সারাদেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনেই বিজিবি মোবাইল ও স্ট্যাটিক ফোর্স হিসেবে দায়িত্বে থাকবে। উপজেলাভেদে ২ থেকে ৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকার কথা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, নির্বাচনকালীন যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির র্যাপিড অ্যাকশন টিম (আরএটি) এবং হেলিকপ্টারসহ কুইক রেসপন্স ফোর্স (কিউআরএফ) প্রস্তুত থাকবে, যারা প্রয়োজন হলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করতে বিশেষায়িত কে-৯ ডগ স্কোয়াড ইউনিটও মোতায়েন থাকবে।
নির্বাচনকে সামনে রেখে কোনো শঙ্কা আছে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আবুল এহসান বলেন, নির্বাচনে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের শঙ্কা দেখছি না। আমাদের বিজিবি মহাপরিচালকের নির্দেশ- আমরা নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কোনো ধরনের লেথাল ওয়েপন ব্যবহার করব না।
মন্তব্য করুন