

ভারতের আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে গত মাসের পাঁচ তারিখে ২০১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালের পুনরাবৃত্তি দিয়ে শুরু হয়েছিল বিশ্বকাপের ১৩তম আসর। দশ দল নিয়ে শুরু হওয়া এই বৈশ্বিক আসর এসে ঠেকেছে দুই দলে। আহমেদাবাদেই স্বাগতিক ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার ফাইনাল দিয়ে পর্দা নামবে এই বিশ্বকাপের। চরম উত্তেজনাকর এই ম্যাচে আসরের সেরা দলের মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সেরা দল।
এবারের আসরে এখন পর্যন্ত দুইদলের সার্বিক পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা একটি ফাইনাল দেখতে যাচ্ছে ক্রিকেটপ্রেমীরা। এখন পর্যন্ত মোট পাঁচবার বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। আগামীকাল তাদের হেক্সা মিশনের চূড়ান্ত লড়াই। অপরদিকে দুইবার বিশ্বজয় করেছে ভারত। তাদের সামনে তৃতীয় শিরোপা হাতে নেওয়ার সুযোগ।
এই ফাইনালের মঞ্চ ভারত বা অস্ট্রেলিয়া কোন দলের জন্যই অপরিচিত নয়। নিশ্চতভাবে অস্ট্রেলিয়ার জন্য তো নয়ই, অষ্টমবারের মতো তারা ফাইনালের মঞ্চ মাতাবে। কলকাতা, লন্ডন, জোহানেসবার্গ, বার্বাডোস এবং মেলবোর্নে তারা বিশ্বকাপ তুলেছে এমনভাবে যেভাবে বাচ্চারা তাদের খেলনা সংগ্রহ করে। অনেক দলের জন্য বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা একটি উপলক্ষ। অস্ট্রেলিয়ার জন্য, এটি জীবন ধারণের একটি উপায়। তবে এবার এই বিন্দুতে তাদের যাত্রা অনিশ্চয়তার মধ্যেই ছিল।
বিশ্বকাপে তারা তাদের প্রথম দুটি ম্যাচই হেরেছে, ৩৮৮ রান করার পরেও প্রায় হারতে বসেছিল, ২৯২ রান তাড়া করতে যেয়ে ৯১ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে হারতে বসছিল এবং সেমিফাইনালের প্রথম ঘন্টার মধ্যে তাদের প্রতিপক্ষকে ২৪/৪ করার পরও প্রায় হারতে বসছিল। তবুও তারা সব বাধা অতিক্রম করে ফাইনালে প্রায় চ্যাম্পিয়নও তারা। এটি এমন এক বছরে যে বছরে তারা ইতিমধ্যেই অ্যাশেজ ধরে রেখেছে এবং বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপও ঘরে তুলেছে, ক্রিকেট খেলার প্রতিটি ফরম্যাটে তিন বছরের বিশ্ব শিরোপা পূর্ণ করতে তাদের দরকার শুধু আগামীকালের ফাইনাল জয়। পারবে তো কামিন্সরা?
তবে বিশ্বকাপের সাথে অজিদের এতো ইতিহাস থাকার পরেও প্যাট কামিন্স এবং তার দল স্বীকার করবে যে তাদের প্রতিপক্ষ ফাইনালে ফেভারিট হিসাবে শুরু করবে এবং শুধুমাত্র এই কারণে নয় যে তারা স্বদেশী দর্শকদের সামনে ঘরের মাঠে খেলবে। এমনকি যারা সাধারণত ভারতীয় দলের বিরুদ্ধে থাকেন তারাও ভারতের এই দলের ক্রিকেটের এই সংস্করণে যে নির্ভুলতা এবং আগ্রাসণের সাথে কাজ করেছে তার প্রশংসা করবে। এই ভারতীয় দলের সাথে অনেকেই ২০০০ সালের পরের সব জয় করা বিখ্যাত অস্ট্রেলিয়া দলের সাথে মিল পাবেন।
এখানেই রোহিত শর্মা-রাহুল দ্রাবিড়ের কৃতিত্ব। এই ক্যাপ্টেন-কোচ জুটি একটি দলের সাফল্যের জন্য আক্রমণাত্মক ব্র্যান্ডের খেলা কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা লুকানোর কোনও চেষ্টা করেনি ,একটি দলে সবার সুনির্দিষ্ট ভূমিকা এবং অসামান্য ব্যক্তিগত প্রতিভা দিয়ে ভারতকে অজেয়তার আভাস দিয়ে রেখেছেন।
তবে দ্রাবিড় এবং রোহিত কথা নয় কাজে দেখাও মনোভাবে বিশ্বাসী। বলিউডের সিনেমায় দেখানো হয় যোগ্যতার পিছনে ছুটতে কিন্তু বাস্তব জীবনে এখনও সাফল্য মাপা হয় সার্টিফিকেট এবং ট্রফি দিয়ে এটি দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি। ভারতের সর্বকালের সেরা ওয়ানডে দল হিসেবে স্বীকৃতি পেতে হলে, রোহিতকে কপিল দেব এবং মহেন্দ্র সিং ধোনির মতো অধিনায়কদের সারিতে রাখার জন্য শুধু স্কোরকার্ড এবং পরিসংখ্যান দিয়ে হবে না।
সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে রোহিতের অসাধারণ অধিনায়কত্বের গল্প, শামির প্রথম বলে উইকেট, কোহলির দুর্দান্ত শতক, রোহিতের প্রায় ১০০ এবং বুমরাহর জাদুকরী বোলিংকে ইতিহাসের পাতায় ভালোভাবে স্মরণ করা হবে যদি আগামীকাল ট্রফিটি রোহিতের হাতে উঠে। ভারতের অবশ্যই সাফল্যের কোন ঐশ্বরিক অধিকার নেই এবং অধিনায়ক এবং কোচ একমত হবেন যে তারা কেবল পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করতে পারেন। তবে এখন ভারতের এই দলের নিখুঁত সমাপ্তির স্ক্রিপ্ট করার সর্বোত্তম উপায় হল মাঠে জবাব দেয়া।
এই দুই হেভিওয়েটের চেন্নাইতে তাদের ম্যাচ শুরু না করার আগ পর্যন্ত এই বিশ্বকাপটি খুব একটা দৌড়াতে পারেনি। এই দুইদলের তাদের চূড়ান্ত বক্তব্য না পাওয়া পর্যন্ত এটি শেষ হবে না। মোতেরা থেকে খালি হাতে ফিরে আসা অধিনায়কের কীর্তি হতাশায় আবদ্ধ হবে আর অপর অধিনায়ক একটি ১১ কিলো ভরের সোনা এবং রৌপ্যর প্রলেপ দেওয়ায় ট্রফি দিয়ে লোকগাঁথায় অমরত্ব পাবে।
মন্তব্য করুন


পুরো সিরিজে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ব্যাটারদের ব্যর্থতা ছিল একবারে চোখে পড়ার মতো। হাতেগোনা কয়েকটা ইনিংস ছাড়া ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে ভালো খেলতে পারেননি বাংলাদেশের যুবারা। ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচেও চোখে পড়েছে ব্যাটারদের দৈন্যদশা। ব্যাটিং ব্যর্থতায় ৮০ রানে হেরে পাকিস্তানের কাছে ৪-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ হারল বাংলাদেশের যুবারা।
রাজশাহীর শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে জয়ের জন্য ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। সাজ্জাদ আলীর বলে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে পড়ে সাজঘরে ফেরেন ৫ রান করা আশিকুর রহমান শিবলি। আরেক ওপেনার মইনুল ইসলাম তন্ময় আউট হয়েছেন পরের ওভারেই।
রানের খাতা খোলার আগেই আলী আসফান্দের বলে লেগ বিফোর হন তন্ময়। পরের ওভারে বোলিংয়ে এসে বিপদজনক হয়ে উঠার আগেই জিসান আলমকে প্যাভিলিয়নে পাঠান সাজ্জাদ। ডানহাতি এই পেসারের বলে বোল্ড হয়েছেন দুই চার ও এক ছক্কায় ৬ বলে ১৪ রান করা জিসান।
পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগে আরিফুল ইসলামকে বিদায় করেছেন আরাফাত মানহাজ। স্ট্রেইট ড্রাইভ করতে গিয়ে উইকেট দিয়েছেন ২৪ বলে ৯ রান করা আরিফুল। ৩৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। সেখান থেকে টাইগারদের টেনে তোলেন আহরার আমিন পিয়ান ও শিহাব জেমস।
বিপদ সামলানোর পাশাপাশি দারুণ ব্যাটিংয়ে ৫২ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন আহরার আমিন। যদিও হাফ সেঞ্চুরির পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তিনি। আরাফাতের বলে টপ এজ হয়ে থার্ডম্যানে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন ৫৩ রান করা এই ব্যাটার। এদিকে তাকে সঙ্গ দেয়া শিহাব হাফ সেঞ্চুরি পেয়েছেন ৬৮ বলে।
এরপর দ্রুতই জাকারিয়া ইসলাম শান্ত, মাহফুজুর রাব্বি, শিহাব, একান্ত শেখ, ওয়াসি সিদ্দিকীকে হারায় বাংলাদেশ। ফলে ১৩ ওভার বাকি থাকতেই ১৬৪ রানে অল আউট হয় স্বাগতিকরা। পাকিস্তানের যুবাদের হয়ে আলী আসফান্দ ও আরাফাত তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৪৪ রান তোলে পাকিস্তান। সফরকারীদের হয়ে হামজা নওয়াজ ৭২, শাহজাইব খান ৬৭, আজান আওয়াইজ ৪১ এবং আরাফাত ৪০ রান করেছেন। বাংলাদেশের হয়ে চারটি উইকেট নিয়েছেন মাহফুজুর রাব্বি।
মন্তব্য করুন


ফিফা কর্তৃক আনীত অভিযোগের ওপর বাফুফে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। সেই তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে তিনটি সভা করেছে। আজ তৃতীয় সভায় বাফুফের চার জন স্টাফকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
বাফুফের নির্বাহী সভায় তদন্ত কমিটির প্রথম সভার পর ৩০ কার্যদিবসের সময়সীমা দিয়েছে। বাফুফের অন্যতম সহ-সভাপতি ও তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই তাদের কাজ সম্পন্ন করার আশাপোষন করলেন, ‘৩০ কার্যদিবস জুনের মাঝামাঝি হয়। আমরা এই সময়ের মধ্যে তদন্ত কাজ শেষ করতে পারব। হয়তো ২/১ দিন বেশি লাগতে পারে।’
প্রথম সভায় কমিটি তাদের কর্মপরিধি ও পন্থা নিয়ে আলোচনা করেছে। দ্বিতীয় সভা থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে তলব করেছে। দ্বিতীয় সভা তিন জনের পর আজ তৃতীয় সভায় চারজনকে তলব করেছে। বাফুফে স্টাফদের কাছ থেকে তদন্ত কাজে আন্তরিকতা পাচ্ছেন বলে জানান আহ্বায়ক, ‘যারা তদন্তে আসছেন তারা আমাদের আন্তরিকতা দিয়ে তথ্য দিচ্ছেন’।
ফিফার ৫১ পাতার রিপোর্টে ক্রয় প্রক্রিয়া নিয়ে অসঙ্গতি ছিল অনেক। বাফুফে যে সকল প্রতিষ্ঠান থেকে সামগ্রী ক্রয় করা হয়েছে। তাদেরকে তদন্তে আনা হবে কিনা এই প্রসঙ্গে নাবিল বলেন, ‘এই বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে। প্রয়োজনে তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হবে’।
তদন্ত কমিটি এক সপ্তাহের মধ্যে তিনটি সভা করেছে। চতুর্থ সভাটিও আগামী সপ্তাহের শুরুতে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মন্তব্য করুন


যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সাফজয়ী নারী ফুটবল দলকে ১ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।
আজ সন্ধ্যায় (৩১ অক্টোবর) যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বাংলাদেশ জাতীয় নারী দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুনের হাতে ১ কোটি টাকার চেক তুলে দেন। এসময় সেখানে আরো উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় দলের কোচ পিটার বাটলার।
এর আগে দুপুরে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা বাসে রওয়ানা দিয়ে তিন ঘন্টা শহরের বিভিন্ন স্থান প্রদক্ষিন করে সন্ধ্যায় বাফুফে ভবনে এসে উপস্থিত হন সাবিনা, মনিকা, রুপনারা। তার আগেই অবশ্য সেখানে সাবিনাদের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন ক্রীড়া উপদেষ্টা।
পরে বাফুফে ভবনের তিন তলায় কনফারেন্স রুমে বাংলাদেশ দলের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এরপর সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান আগামী শনিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সাফজয়ী নারী ফুটবল দলকে সংবর্ধনা দিবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নারীদের এক কোটি টাকা প্রদান করা হচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টা নারী দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন শনিবার। আমরা নারী ফুটবলের উন্নয়নের সঙ্গী হিসেবে রয়েছি। আমরা বিশেষভাবে নারী দলকে পুরো জাতি ও একইসাথে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। নেপালের মাটিতে স্বাগতিক সমর্থকদের বিপক্ষে বাংলাদেশের মেয়েরা যেভাবে জয় ছিনিয়ে এনেছে তার জন্য তারা ধন্যবাদ পাবার যোগ্য। শুধু নারী ফুটবল নয়, ক্রিকেটেও এই সমস্যা রয়েছে। এই বিষয় নিয়ে ইতোমধ্যে বিসিবির সাথে কথা হয়েছে। বাফুফের সাথে আলোচনা হবে। অবশ্যই এই বৈষম্য দূর করতে হবে।
এ সময় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গতকাল কাঠমান্ডুর দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে স্বাগতিক নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে সাফের শিরোপা অক্ষুন্ন রাখে বাংলাদেশ।
মন্তব্য করুন


৮৫
বছর বয়সে চলে গেলেন আর্জেন্টিনাকে ১৯৭৮ সালে প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা জেতানো
ক্যারিশম্যাটিক কোচ সেজার লুইস মেনোত্তি।
এক্স
হ্যান্ডেলে মেনোত্তির মৃত্যুর খবর জানিয়ে এএফএ লিখেছে, আর্জেন্টিনা
ফুটবল ফেডারেশন অত্যন্ত শোকের সঙ্গে বর্তমান জাতীয় দলের পরিচালক ও আর্জেন্টিনার
বিশ্বকাপজয়ী কোচ লুইস সিজার মেনোত্তির মৃত্যুর খবর জানাচ্ছে। বিদায় প্রিয় ফ্লাকো!
স্থানীয়
গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে,
মেনোত্তিকে মার্চ মাসে গুরুতর রক্তাস্বল্পতা নিয়ে একটি
ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছিল। তিনি এপ্রিল মাসে ফ্লেবিটিসের জন্য অস্ত্রোপচার
করেছিলেন এবং পরে দেশে ফিরে আসেন বলে জানা গেছে। আর্জেন্টিনার ফুটবলে তাকে সবচেয়ে
প্রভাবশালী কোচ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
মেনোত্তি
একজন রাজনৈতিক কর্মী এবং আর্জেন্টিনার কমিউনিস্ট পার্টির সহযোগী সদস্য হবার
পাশাপাশি বক্সিং অনুরাগী ছিলেন। তিনি রোজারিও সেন্ট্রাল (১৯৬০-৬৩ এবং ১৯৬৭) এর
একজন তরুণ খেলোয়াড় হিসাবে তার ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন, তারপরে রেসিং
ক্লাব (১৯৬৪) এবং বোকা জুনিয়র্স (১৯৬৫-১৯৬৬)সহ একাধিক ক্লাবের হয়ে খেলেন।
মেনোত্তি
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিউ ইয়র্ক জেনারেলদের হয়ে খেলেছেন (১৯৬৭), তারপরে ব্রাজিলের
সান্তোস (১৯৬৮) এবং ইতালির জুভেন্টাসের (১৯৬৯-১৯৭০) হয়েও তাকে খেলতে দেখা গেছে।
মেনোত্তি
১৯৭৪ থেকে ১৯৮৩ সালের মধ্যে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের কোচ ছিলেন। বিশ্বকাপের
প্রাক্কালে, মেনোত্তি
১৭ বছর বয়সী ম্যারাডোনাকে স্কোয়াড থেকে বাদ দিয়েছিলেন-যে সিদ্ধান্তের জন্য
উভয়ের মধ্যে সম্পর্কের বেশ অবনতি নয়। পরবর্তীতে মেনোত্তি ১৯৯১-৯২ সালে মেক্সিকো
জাতীয় দলের কোচ ছিলেন। তিনি বার্সেলোনাকেও নেতৃত্ব দেন, যেখানে তার
স্কোয়াডে ম্যারাডোনা ছিলেন। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ, উরুগুয়ের পেনারোল,
ইতালির সাম্পডোরিয়া এবং মেক্সিকোর টেকোসে ছিল তার শেষ কোচিং জীবন। মেনোত্তি
সিগারেটে আসক্ত ছিলেন। কিন্তু ২০১১ সালে তার তামাক আসক্তির কারণে তিন দিনের জন্য
হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরে তিনি এই অভ্যাস ছেড়ে দেন।
মেনোত্তি একজায়গায় রসিকতা করে বলেছিলেন, আমাকে না
হারানো পর্যন্ত আমি আমার চুল কাটব না। মেনোত্তির হাত ধরেই সহিংসতাপূর্ণ খেলার
কুখ্যাতি থেকে সরে এসে রোমান্টিক ধাঁচের ফুটবল খেলে সমর্থকদের মন জিতেছে
আর্জেন্টিনা।
মেনোত্তির
মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের
অধিনায়ক লিওনেল মেসি লিখেছেন,
আর্জেন্টিনার ফুটবলের অন্যতম গ্রেট আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তার পরিবার এবং
প্রিয়জনদের প্রতি সমবেদনা। শান্তিতে ঘুমান।
মন্তব্য করুন


রংপুর রাইডার্সকে ৬ উইকেটে হারিয়ে বিপিএলের ফাইনালে উঠেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।
১৮৫ রানের জবাবে খেলতে নেমে ৯ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় কুমিল্লা ।
তবে
ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের। সুনীল নারিন শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন। এরপর তিনে নামা তাওহিদ হৃদয় লিটন দাসকে নিয়ে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন। তাদের অসাধারণ এক জুটিতে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় রংপুর। পরে ৪৩ বলে ৬৪ রানে আউট হন হৃদয়। চারে নামা জনসন চার্লস ৩ বলে ১০ রানে ফেরেন। এর পরের ওভারে ৫৭ বলে ৮৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে আউট হন লিটন। ততক্ষণে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।
এর আগে, সোমবার মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৮৫ রান তোলে সাকিব আল হাসানের দল।
ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি রংপুরের। মাত্র ২৭ রান তুলতেই প্রথম ৩ ব্যাটার রনি তালুকদার (১৩), শামিম হোসেন (০) ও সাকিব আল হাসান (৫) ফিরেছেন দ্রুতই। পরে ঘুরে দাঁড়ায় নিশামের ব্যাটে। প্রথমে তাকে সঙ্গে দেন মাহেদী হাসান। ব্যাটিং অর্ডারের উপরে উঠে আসা মাহেদী ১৭ বলে ২২ রান করে ফেরেন ক্যারিবীয় স্পিনার সুনীল নারিনের বলে।
মাহেদীর পর নিশামের সঙ্গে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন পুরান। কিন্তু তিনিও ব্যর্থ হন। তবে নিশাম একপ্রান্ত আগলে রেখে ব্যাট হাতে ঝড় তুলতে শুরু করেন। ৩১ বল খেলে ফিফটি তুলে নেন। এরপরও চলতে থাকে তার আগ্রাসী ব্যাটিং। রংপুরের অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান ২৪ বলে ৩০ রান করে তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন। তবে ১৯তম ওভারে তাকে ফেরান ক্যারিবীয় পেস অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেল।
অপরপ্রান্তে উইকেট পতন হলেও নিশাম থামেননি। শেষ ওভারে মুশফিক হাসানের ওভারে ৩ ছক্কা ও ২ চারে তুলে নেন ২৮ রান। শেষ পর্যন্ত ৪৯ বলে ৯৭ রানে অপরাজিত থাকেন নিশাম।
মন্তব্য করুন


সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটে হট টপিক সাত নম্বর পজিশন। আসন্ন বিশ্বকাপ দলে কে খেলবেন এই পজিশন? এই নিয়েই যেন যতসব যত জল্পনা-কল্পনা। এই পজিশন নিয়ে এবার কথা সাকিব আল হাসানও।
সাম্প্রতিক সময়ে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে এই জায়গার দাবিদার বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার। তাই এই সমস্যা সমাধনে মধুর সমস্যায় পড়তে হচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্টকে। তাই সাকিবও বলছেন এমন পরিস্থিতিতে একজন ক্রিকেটারকে বেছে নেওয়া খুব একটা সহজ কাজ হবে না।
সোমবার ইংল্যান্ডে একটি অনুষ্ঠানে এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার বলেন, 'একটা জায়গার জন্য ৬-৭ জনের অপশন। সিদ্ধান্তটা খুবই সহজ না। আমি নিশ্চিত বিশ্বকাপের জন্য কন্ডিশন, প্রতিপক্ষ মাথায় রেখে নির্বাচক, অধিনায়ক, কোচ সঠিক সিদ্ধান্তই নেবে।'
'আমি আসলে নির্বাচক না, ডিসিশন মেকিংয়ের অংশও না। আমার জন্য বলা মুশকিল। কিন্তু দল নিয়ে আমি খুশি এবং আমি নিশ্চিত যারাই এই দলে থাকবে তারা তাদের জায়গা থেকে ১৭ কোটি মানুষকে প্রতিনিধিত্ব করবে এবং বাংলাদেশের জন্য সেরাটাই দেয়ার চেষ্টা করবে।'-আরও যোগ করেন সাকিব।
মন্তব্য করুন


আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য
বাংলাদেশের স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ মে) মিরপুরে প্রধান নির্বাচক
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু ১৫ সদস্যের এই স্কোয়াড ঘোষণা করেন।
প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
খেলতে যাচ্ছেন রিশাদ হোসেন, জাকের আলী, তানজিদ হাসান তামিম, তানজিম হাসান সাকিব, তানভীর
ইসলাম ও তাওহীদ হৃদয়।
বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ স্কোয়াড-
নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), তাসকিন আহমেদ (সহ-অধিনায়ক), লিটন কুমার দাস, সৌম্য সরকার,
তানজিদ হাসান তামিম, সাকিব আল হাসান, তাওহীদ হৃদয়, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, জাকের আলী অনিক,
রিশাদ হোসেন, শেখ মাহেদী হাসান, তানজিম হাসান সাকিব, মোস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম,
তানভীর ইসলাম।
রিজার্ভ: হাসান মাহমুদ, আফিফ হোসেন।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দশম আসর শুরু হবে আগামী বছরের ১৯ জানুয়ারি থেকে। আজ (১১ ডিসেম্বর) সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিপিএলের প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
এই টুর্নামেন্ট শেষ হবে আগামী ১ মার্চ।
গতবারের মতো এবারও খেলা হবে তিনটি ভেন্যু- ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে। আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ও দুর্দান্ত ঢাকা। দিনের অপর ম্যাচে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে লড়বে গতবারের রানার্সআপ সিলেট স্ট্রাইকার্স। আগামী ১৯ থেকে ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে ঢাকার প্রথম পর্ব। ২৬ জানুয়ারি থেকে ০৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে সিলেট পর্ব। এরপর দলগুলো ফের ঢাকায় ফিরবে। ৬ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে ঢাকার দ্বিতীয় পর্ব। ১৩ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে খেলার পর বাকি অংশের জন্য আবার ঢাকায় ফিরবে দলগুলো।
মন্তব্য করুন


দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ভারত নারী দলকে একশর নিচে আটকে দিয়ে সিরিজে ফেরার সম্ভাবনা জাগিয়েছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। তবে ব্যাটিং ব্যর্থতায় তা আর হয়নি। এবার সিরিজের শেষ ম্যাচে আরও একবার লেটার মার্ক তুললেন বাংলাদেশের বোলাররা। ছোট লক্ষ্য তাড়ায় এবার আর ভুল করলেন না ব্যাটাররা। তাতে শেষ ম্যাচ জিতে মান বাঁচালো বাংলাদেশ।
মিরপুরের শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে আগে ব্যাটিং করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে ১০২ রান সংগ্রহ করেছিল ভারত। যেখানে সর্বোচ্চ ৪০ রান এসেছে হারমানপ্রীতের ব্যাট থেকে। জবাবে ১৮ ওভার ২ বলে ৬ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশের মেয়েরা।
১০৩ রানের লক্ষ্যমাত্রায় ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি বাংলাদেশ।
অধিনায়ক ফিরলেও শামিমা এক প্রান্ত আগলে রেখে ব্যাটিং করছিলেন। কিন্তু ৪২ রান করে এই ওপেনার রান আউটে কাটা পড়লে হারের শঙ্কায় পড়ে দল। তবে সুলতানা খাতুন ও নাহিদা আক্তারের ব্যাটে সেই শঙ্কার মেঘ উড়ে গেছে।
১৬ রান তুলতেই সাজঘরে ফেরেন টপ অর্ডারের দুই ব্যাটার। তবে তৃতীয় উইকেট জুটিতে নিগার সুলতানা জ্যোতিকে নিয়ে দলকে জয়ের পথে রাখেন শামিমা সুলতানা। তবে অধিনায়ক এদিন খুব বেশি দূর এগোতে পারলেন না। ১৪ রান করে জ্যোতি সাজঘরে ফিরলে ভাঙ্গে ৪৬ রানের জুটি।
এর আগে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই ফেরেন স্মৃতি মান্দানা। এরপর শেফালিও দ্রুত ফিরেছেন। তবে জেমিমা রদ্রিগেজ ও হারমানপ্রীত কৌরের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় সফরকারীরা। তবে অধিনায়ক ৪০ রান করে ফিরলে আর কেউই বলার মতো তেমন কোনো ইনিংস খেলতে পারেননি। ফলে কোনোরকমে একশ রান পার করে ভারত নারী দল।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশের বোলাররা অবিশ্বাস্য কিছু করে দেখালেন। ছোট্ট পুঁজি নিয়েও তারা হারিয়ে দিলেন ভারতের মতো শক্তিশালী দলকে। এই জয়ে গড়া হয়ে গেছে নতুন ইতিহাস।
মিরপুর শেরে বাংলায় সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বৃষ্টি আইনে ভারতকে ৪০ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা।৩ ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল।
ওয়ানডে ফরম্যাটে প্রথমবারের মতো ভারতের বিপক্ষে জয় বাংলাদেশের মেয়েদের। ওয়ানডেতে ষষ্ঠ দেখায় ভারতের বিপক্ষে প্রথম জয় পেল বাংলাদেশ নারী দল।
বৃষ্টির কারণে ৪৪ ওভার বেঁধে দেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশের ইনিংসে। এক ওভার বাকি থাকতেই ১৫২ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিক দল।
বৃষ্টি আইনে ভারতের সামনে ৪৪ ওভারে বেঁধে দেওয়া ১৫৪ রানের লক্ষ্য। শুরু থেকেই ভারতকে চাপে রাখেন বাংলাদেশি বোলাররা। ৬১ রানের মধ্যে ৫ শীর্ষ ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরান তারা।
শেষ পর্যন্ত ৩৫.৫ ওভার খেলে ১১৩ রানে অলআউট হয় হারমিনপ্রিত কউরের দল।
মন্তব্য করুন