

পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটি বলছে, বিপুল অর্থ ব্যয়ে পোশাক পরিবর্তন না করে বাহিনীর আধুনিকায়ন, থানা পর্যায়ে যানবাহন সরবরাহ ও লজিস্টিকস সাপোর্ট বৃদ্ধি করাই যুক্তিযুক্ত হবে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এবং কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২০০৩-২০০৪ সালে তৎকালীন সরকার গঠিত একটি কমিটির মাধ্যমে দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে পুলিশের ইউনিফর্ম নির্ধারণ করেছিল। সে সময় পুলিশ সদস্যদের গায়ের রং, দেশের আবহাওয়া, দিন ও রাতের ডিউটিতে সহজে চিহ্নিত হওয়ার বিষয় এবং অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সাদৃশ্য এড়ানোর দিকগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল।
বিবৃতিতে দাবি করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার সম্প্রতি যে নতুন পোশাক নির্বাচন করেছে, সেখানে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মতামত, গায়ের রং ও আবহাওয়াগত বিষয় যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। পাশাপাশি অন্যান্য ইউনিফর্মধারী সংস্থার সঙ্গে সাদৃশ্য থাকায় পুলিশ সদস্যদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করা কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আরও দাবি করেন, বাহিনীর অধিকাংশ সদস্য তড়িঘড়ি করে নেওয়া এ সিদ্ধান্তের পক্ষে নন। তাদের মতে, বর্তমান পোশাক বাংলাদেশ পুলিশের ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা ও পেশাদারত্বের প্রতীক।
সাম্প্রতিক নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর প্রায় সব সদস্য এই পোশাক পরিহিত অবস্থায় অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের এই ভূমিকা দেশ ও বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে।
এছাড়া ইউনিফর্ম পরিবর্তনকে ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া উল্লেখ করে সংগঠনটি বলেছে, বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এ খাতে বিপুল অর্থ ব্যয় না করে বাহিনীর আধুনিকায়ন, থানা পর্যায়ে যানবাহন সরবরাহ এবং লজিস্টিক সহায়তা বাড়ানো বেশি যৌক্তিক হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, পোশাকের রং বা নকশা নয় বরং পুলিশ সদস্যদের মনোবল, মানসিকতা ও পেশাদারিত্বের উন্নয়নই এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণা ও জনমত যাচাই করে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত এবং পুলিশ সদস্যদের আবেগ ও বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
মন্তব্য করুন


সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।
বুধবার (১ জানুয়ারি) নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে গিয়ে তিনি শোক বইতে নিজের বার্তা লেখেন ও স্বাক্ষর করেন।
শোকবার্তায় রাজনাথ সিং লেখেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক সমবেদনা জানাই। ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক জোরদারে তার উল্লেখযোগ্য অবদান সব সময় স্মরণ করা হবে।
এর আগে, রাজনাথ সিং যখন হাইকমিশনে পৌঁছান, তখন হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ তাকে স্বাগত জানান। একে একে সেখানে নিযুক্ত অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কুশল বিনিময় করেন।
এরপর তিনি পাশেই এক টেবিলে খালেদা জিয়ার জন্য রাখা শোক বইতে স্বাক্ষর করেন। শেষে উঠে দাঁড়িয়ে খালেদা জিয়ার ছবির দিকে তাকিয়ে দু'হাত তুলে শ্রদ্ধা জানান।
বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্র জানায়, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী স্মরণে হাইকমিশনে একটি শোক বই খোলা হয়েছে। এতে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্টজনেরা শোকবার্তা লিখছেন।
ভারতের একজন শীর্ষ মন্ত্রীর এমন শোক প্রকাশকে কূটনৈতিক অঙ্গনে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, মাঠ পর্যায়ের পুলিশের কাছে রাইফেলের মতো অস্ত্র থাকলেও ভারী মারণাস্ত্র থাকবে না। তিনি জানান, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) মতো বিশেষায়িত ইউনিটের কাছে থাকবে ভারী অস্ত্র।
শনিবার সকাল ১১টায় রাজধানীতে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদর দপ্তর পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। এরপর র্যাব-১ কার্যালয় পরিদর্শনে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, এপিবিএন, থানা পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সার্বিক উন্নয়ন কাজ করছে সরকার। তিনি আরো বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের বিগত ১১ মাসে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। দু-একটি ছোটখাটো ঘটনা ছাড়া এবারের ঈদ শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন করেছেন দেশবাসী।
মন্তব্য করুন


জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেশের সাতজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে ২০২৫ সালের স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই পদক বিতরণ করা হয়।
এবছর সাতজন বিশিষ্ট ব্যক্তি দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক এই পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এরমধ্যে ছয়জনকে মরণোত্তর এই পুরস্কার দেওয়া হয়, তাদের পক্ষে পরিবারের সদস্যরা পুরস্কার গ্রহণ করেন।
এবার যারা স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন তারা হলেন- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম (মরণোত্তর), সাহিত্যে মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ (মরণোত্তর), সংস্কৃতিতে নভেরা আহমেদ (মরণোত্তর), সমাজসেবায় স্যার ফজলে হাসান আবেদ (মরণোত্তর), মুক্তিযুদ্ধ ও সংস্কৃতিতে মোহাম্মদ মাহবুবুল হক খান ওরফে আজম খান (মরণোত্তর), শিক্ষা ও গবেষণায় বদরুদ্দীন মোহাম্মদ উমর এবং প্রতিবাদী তারুণ্যে আবরার ফাহাদ (মরণোত্তর)।
পুরস্কারের জন্য মনোনীত একমাত্র জীবিত বিশিষ্ট ব্যক্তি বদরুদ্দীন মোহাম্মদ উমর পুরস্কার নেবেন না বলে আগেই জানিয়েছিলেন। শতাধিক গ্রন্থের এই লেখক আজীবন কোনো পুরস্কার গ্রহণ করেননি। তার ব্যক্তিগত এই ভাবনাকে সরকার সম্মান জানায়, তবে তার পুরস্কারের একটি রেপ্লিকা জাতীয় জাদুঘরে রাখা হবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।
মন্তব্য করুন


পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. শফিকুল ইসলাম। আজ বুধবার (২৭ আগস্ট) ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই পদায়ন করা হয়।
জানা গেছে, শফিকুল ইসলাম ১৮তম বিসিএস ব্যাচের একজন সদস্য। এর আগে তিনি ডিআইজি হিসেবে হাইওয়ে পুলিশে কর্মরত ছিলেন।
শফিকুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি বগুড়ার সারিয়াকান্দি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে তিনি ১৯৯৯ সালে ১৮তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে যোগ দেন। পেশাগত জীবনের শুরুতে তিনি লক্ষ্মীপুরে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) হন। ২০০২ সালে তিনি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে বদলি হয়ে প্রায় পাঁচ বছর কাজ করেন।
পরে সারদা পুলিশ একাডেমিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রেনিং) হিসেবে যোগ দেন। ২০০৭ সালের জুনে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নিতে লাইবেরিয়ায় পাঠানো হয় তাকে। মিশন শেষে ২০১০ সালে চট্টগ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের দায়িত্ব পান। এরপর দ্বিতীয় দফায় লাইবেরিয়া মিশনে যান তিনি।
২০১৩ সালে শফিকুল ইসলাম পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি পান এবং সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হন। এক বছর পরই আবার জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যোগ দেন আইভরি কোস্টে। দেশে ফিরে তিনি হাইওয়ে পুলিশের এসপি হন। ২০১৯ সালে তাকে নৌ পুলিশের এসপির দায়িত্ব দেওয়া হয়।
২০২১ সালে পদোন্নতি পেয়ে একই সংস্থার অতিরিক্ত ডিআইজি (অ্যাডমিন অ্যান্ড অপারেশন্স) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে ডিআইজি পদে পদোন্নতি পেয়ে হাইওয়ে পুলিশে যোগ দেন।
প্রসঙ্গত, ডিবিপ্রধানের পদটি প্রায় সাড়ে চার মাস ধরে শূন্য। গত ১২ এপ্রিল ডিবির তৎকালীন প্রধান রেজাউল করিম মল্লিককে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে তাকে ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি করা হয়। তার পর থেকে যুগ্ম কমিশনার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা ডিবির এ ইউনিটের দায়িত্বে ছিলেন।
মন্তব্য করুন


হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কোনো অব্যবস্থাপনা ছিল কি-না তা তদন্তের জন্য চার দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো.জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় কোনো অব্যবস্থাপনা ছিল কিনা সেটি তদন্তের জন্য আমরা চার দেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। প্রথমে ইংল্যান্ডকে পরে আরও তিনটি দেশ—অস্ট্রেলিয়া, তুরস্ক ও চীনকে তদন্তের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সেসব দেশ থেকে বিশেষজ্ঞ দল আসবে এবং তারা তদন্ত করবে কী কারণে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।’
শনিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ক্ষতিগ্রস্ত কার্গো ভিলেজ ও ই-গেট পরিদর্শন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
এক প্রশ্নের জবাবে মো.জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আগুন নেভাতে বিমানবন্দরের ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ব্যর্থ হননি। তারা যদি ব্যর্থ হতেন তাহলে আগুন নেভালো কী করে। তারা আগুন না নেভালে তো সব জায়গায় ছড়াতো।
বিমানবন্দরের ভেতরে ফায়ার সার্ভিসের টিম থাকার পরও পাঁচ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে আসতে পারলো না কেন—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দুর্ঘটনা দুর্ঘটনাই। বিমানবন্দরের ভেতরে ফায়ার সার্ভিসের যে ইউনিটগুলো রয়েছে সেগুলো ৪ মিনিটের মাথায় সেখানে এসেছে। ফায়ার ব্রিগেডের অন্যান্য ইউনিটগুলো পর্যায়ক্রমে ২০ মিনিটে চলে এসেছে। অন্য টিমগুলো একটু দেরিতে আসায় হয়তো আগুন ছড়িয়ে গেছে। এজন্য আগুন নিয়ন্ত্রণে সময় লেগেছে। গুদামগুলোতে কেমিক্যাল থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লেগেছে বলেও জানান তিনি।
এ সময় প্রবাসীদের পাসপোর্ট ফি নিয়ে তিনি বলেন, আপনারা জানেন, আমাদের যারা রেমিটেন্স যোদ্ধা তাদের পদে পদে কষ্ট হয়। রেমিটেন্স যোদ্ধাদের পাসপোর্ট ফি কীভাবে কমানো যায় সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আলোচনা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির জানাজায় অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ইতোমধ্যে তার জন্য নির্ধারিত স্থানে পৌঁছেছেন ড. ইউনূস। জানাজা প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়েছেন উপদেষ্টা পরিষদের কিছু সদস্য এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দও।
শনিবার দুপুর সাড়ে ১টার দিকে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজার উদ্দেশ্যে ওসমান হাদির মরদেহ আনা হয়। এর আগে, সকালে ময়নাতদন্তের জন্য তার লাশ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নেয়া হয়। এরপর গোসলের জন্য সেখান থেকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে পৌঁছানো হয়।
এদিকে, ভোর থেকেই হাদিকে শেষবারের মতো দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে অনেক মানুষ হাসপাতালের সামনে জড়ো হন। দেশে শনিবার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে। সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে শনিবার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে দুর্বৃত্তের গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। এরপর ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে তার সার্জারি করা হয়। পরে পরিবারের ইচ্ছায় তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর গত ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
মন্তব্য করুন


‘যত বড় মাস্টারপ্ল্যানই হোক, রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছাড়া সেন্ট মার্টিন রক্ষা সম্ভব নয়’ বলে জানিয়েছেন তথ্য ও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেছেন, ‘ট্যুরিজম আর সেন্ট মার্টিন এক জিনিস নয়, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, দ্বীপটিকে আগের প্রাকৃতিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা।’
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে আয়োজিত এক কর্মশালায় এসব কথা বলেন তথ্য ও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
দ্বীপটিকে ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া হিসেবে ঘোষণার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিশ্বের অনেক দেশে এমন দ্বীপে রাতযাপন নিষিদ্ধ। ট্যুরিজম আর সেন্ট মার্টিন এক জিনিস নয়, লক্ষ্য হচ্ছে দ্বীপটিকে আগের প্রাকৃতিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা।’
এ সময় সেন্ট মার্টিন রক্ষায় প্রস্তাবিত পাঁচটি মাস্টারপ্ল্যান ধাপে ধাপে বাস্তবায়নে সরকার কাজ করবে বলে জানান পরিবেশ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘সেন্ট মার্টিনে প্রস্তাবিত পাঁচটি মাস্টারপ্ল্যানের লক্ষ্য হচ্ছে দ্বীপটিকে আগের প্রাকৃতিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা। যত বড় মাস্টারপ্ল্যানই হোক, রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছাড়া সেন্ট মার্টিন রক্ষা সম্ভব নয়।
পর্যটন হতে হবে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেন্দ্রিক। বহিরাগত নিয়ন্ত্রিত বাণিজ্যিক কার্যক্রমই দ্বীপের পরিবেশ ধ্বংসের মূল কারণ।’
তিনি আরো বলেন, ‘দ্বীপবাসীর বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা জরুরি, যেখানে কৃষি, মৎস্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর ভূমিকা প্রয়োজন। মাস্টারপ্ল্যানের প্রথম অগ্রাধিকার হবে সংরক্ষণ, অর্থনীতি ও পর্যটন পরে।
সেন্ট মার্টিন কোনো বারবিকিউ বা লাউডস্পিকারের জায়গা নয়, এটি প্রকৃতির কাছে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি এলাকা।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘স্থানীয়দের ঘরে পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা গড়ে তুললে সেটিই হবে হোটেল-রিসোর্ট নির্ভরতার বিকল্প ও টেকসই পর্যটনের পথ। দ্বীপের ভাঙন, সংরক্ষণ ও কর্মসংস্থান—এই তিনটি বিষয় সরকারিভাবেই নজরদারিতে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্তব্য করুন


আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে কোনো কার্পণ্য করা হবে না বলে জানান অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
আজ মঙ্গলবার সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অর্থ বরাদ্দের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনের জন্য অর্থের যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, সেখানে আমরা কোনো কার্পণ্য করব না।
বৈঠকের সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। ডিএপি, ইউরিয়া সার কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এলএনজির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এলএনজি এলে আমরা হয়তো সারের সরবরাহ বাড়াতে পারবো। রংপুরে ৩০টি স্কুল রিনভেন্ট করার বিষয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেনের কাছে এনবিআরকে অত্যাবশ্যকীয় সেবা ঘোষণা করে জারি করা প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যে প্রজ্ঞাপন আপনারা দেখেছেন দ্যাট ইজ ফাইনাল। এর পরেও কোনো প্রজ্ঞাপন নেই, আগেও প্রজ্ঞাপন নেই। আমি প্রজ্ঞাপন জারি করার লোক। আই এম নট এ ডিসিশন মেকার (আমি কোনো সিদ্ধান্তদাতা নই)। ওনারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আমি প্রজ্ঞাপন জারি করেছি।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আলোচনার দরকার আছে কি নেই, সে বিষয়ে কথা বলার আগেই ওনারা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এখন ওনাদের দাবি-দাওয়া আছে কি না সেটা বুঝলে পরে আমরা বসবো।
বন্দরের স্থবিরতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুরোপুরি বন্ধ ছিল না। পণ্য যা বন্দরে ঢুকেছে সেগুলো এখন জাহাজিকরণ হবে। ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা হয়নি। তবে খুব বেশি একটা ক্ষতি হয়নি।
আন্দোলনকারীদের ইঙ্গিত করে শ্রম উপদেষ্টা বলেন, আপনি নেই বলে কোনো কাজ থেমে থাকবে এটা বাংলাদেশে হবে না, পৃথিবীর কোনো দেশে হয় না।
মন্তব্য করুন


স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম ক্যান্সারে আক্রান্ত। তিনি উপদেষ্টা হওয়ার আগ থেকেই সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। ক্যান্সার চিকিৎসা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হওয়ায় সেখানে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন ছিল। এটি মানবিক দৃষ্টিতে দেখা উচিত বলে মনে করেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, ক্যান্সার আক্রান্ত স্বাস্থ্য উপদেষ্টার বিদেশে চিকিৎসার বিষয়টি নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন। কিন্তু তিনি উপদেষ্টা হওয়ার আগ থেকেই সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। ক্যান্সার চিকিৎসা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হওয়ায় সেখানে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন ছিল। এটি মানবিক দৃষ্টিতে দেখা উচিত।
তিনি আরো বলেন, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সংকটের কারণে কারো দায়িত্ব পালনে প্রশ্ন তোলা ঠিক নয়। বরং আমরা এমন স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যাতে ভবিষ্যতে কাউকে চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখী হতে না হয়।
স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ অন্য দেশের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এ অবস্থার পরিবর্তনে উদ্যোগ নিয়েছে। চীনের সহযোগিতায় দেশে আধুনিক ও উন্নত মানের হাসপাতাল নির্মাণ করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে জটিল রোগের চিকিৎসা দেশেই নিশ্চিত করবে।
মন্তব্য করুন


নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল বা সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো যদি কোনো ধরনের বিক্ষোভের চেষ্টা করে, তাহলে আইন তার সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
সোমবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, “বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ (বিএএল), তাদের সহযোগী এবং গণহত্যাকারী নেত্রী সম্ভবত ভাবছেন, এটি আবারও ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের মতো সময়। তারা কল্পনা করছে—দুপুরবেলা ডজনখানেক মানুষকে হত্যা করে হাজার হাজার সন্ত্রাসীকে ঢাকার কেন্দ্রে পাঠিয়ে রাস্তাগুলো দখল করবে। দুঃখিত, এখন এটি নতুন বাংলাদেশ।”
তিনি আরও লেখেন, “জুলাই বিপ্লবীদের ধৈর্য পরীক্ষা করবেন না এবং মনে রাখবেন—এটি ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর নয়। এটি জুলাই—চিরদিনের জুলাই।”
মন্তব্য করুন