

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সাত বছরের কারাদণ্ড থেকে খালাস দেওয়ার বিরুদ্ধে লিভ টু আপিলের শুনানি আগামীকাল সোমবার অনুষ্ঠিত হবে। রোববার দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর করা এক আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের করা লিভ টু আপিলের শুনানি একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে।
গত বছরের ২৭ নভেম্বর হাইকোর্ট খালেদা জিয়াকে সাত বছরের কারাদণ্ড থেকে খালাস দেন। পরবর্তীতে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি এ রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদক আপিল বিভাগে আবেদন করে।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের আগস্ট মাসে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এ মামলাটি দায়ের করে দুদক। মামলায় অভিযোগ করা হয়, প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি তার ক্ষমতা অপব্যবহার করে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের জন্য অবৈধভাবে অর্থ সংগ্রহ করেছেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ট্রাস্টের নামে তিন কোটি ১৫ লাখ টাকা অবৈধভাবে লেনদেন করা হয়েছে।
২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর বিশেষ জজ আদালত খালেদা জিয়াকে সাত বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা জরিমানা করে রায় ঘোষণা করে।
মন্তব্য করুন


নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে ইউএনডিপির মাধ্যমে কয়েক ’শ কোটি টাকায় পুলিশের জন্য ৪০ হাজার বডি ক্যামেরা কেনা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের সময় পুলিশের জন্য ৪০ হাজার বডি ক্যামেরা দেওয়া হবে। এ প্রস্তাব আমরা অনুমোদন করেছি।
দ্রুত এটা আনতে হবে। এতে কয়েক ’শ কোটি টাকা খরচ হবে। বাংলাদেশ সরকারের টাকায় কেনা হবে এসব ক্যামেরা। অর্থ মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা করবে।
নির্বাচন খাতের ব্যয় থেকে এটা মেটানো হবে। এগুলো পুলিশকে দিচ্ছি, নির্বাচন কমিশনকে না।
তিনি জানান, এসব ক্যামেরা আনা হবে ইউএনডিপির মাধ্যমে।
ইউএনডিপি কেন—জানতে চাইলে এই উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা টিকা আনি ইউনিসেফ-এর মাধ্যমে।
কারণ হলো টেন্ডার করে আনতে গেলে মানের বিষয় থাকে, দামের বিষয় থাকে। এজন্য ইউএনডিপি মান ও দামের নিশ্চয়তা দেবে। এতে আমরা কারো সঙ্গে নেগোসিয়েশন করব না।’
মন্তব্য করুন


স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছে না বলে জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজের ফেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ তথ্য জানায় তিনি।
আসিফ মাহমুদ জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে থাকছে না দলীয় প্রতীক। আজ উপদেষ্টা পরিষদ বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক উত্থাপিত এ সংক্রান্ত ৪টি আইনের সংশোধনী অনুমোদন করা হয়েছে।
২০১৫ সালে স্থানীয় সরকারের আইন সংশোধন করে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে প্রার্থী দেওয়ার বিধান যুক্ত করা হয়। ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচন হয়।
মন্তব্য করুন


মানবতাবিরোধী মামলায় যারা অভিযুক্ত হবেন তারা আর কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিটি) আইনের সংশোধনীতে এমন বিধান যুক্ত করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আইসিটি আইনের সংশোধনী আনা হয়।
এদিন বিকালে রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।
প্রেস সচিব আরও জানায়, অধ্যাদেশটির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্ট ১৯৭৩-এ নতুন সেকশন ২০ (সি) যুক্ত করা হয়েছে। নতুন সংযোজিত ধারা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওই আইনে সেকশন ৯ (১) এর অধীনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল হলে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়া বা বহাল থাকার অযোগ্য হবেন। একইভাবে, তিনি স্থানীয় সরকার পরিষদ বা প্রতিষ্ঠানের সদস্য কমিশনার, চেয়ারম্যান, মেয়র বা প্রশাসক হিসেবে নির্বাচিত হওয়া বা বহাল থাকার অযোগ্য হবেন।
এমনকি প্রজাতন্ত্রের চাকরিতে নিয়োগ পাওয়া বা অন্য কোনো পাবলিক অফিসে অধিষ্ঠিত হওয়ারও অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন তিনি।
মন্তব্য করুন


ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে দেশ থেকে ‘আটক’ এবং 'তুলে আনা হয়েছে’ বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেইসঙ্গে একটি বড় সামরিক অভিযান চালিয়ে মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের কথাও জানান তিনি।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর বলছে, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার শুরু ৩ জানুয়ারি, প্রথম প্রহরে। ঘড়ির কাটায় সময়টা রাত ২টা, পুরো কারাকাস তখন গভীর ঘুমে। গুমট অন্ধকার আর নিস্তব্ধতা ভেঙে আকস্মিক বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে রাজধানীসহ আশপাশের এলাকা। পরের ১ ঘণ্টার মধ্যে শহরজুড়ে অন্তত সাত থেকে নয়টি বিস্ফোরণ ঘটে, যেগুলোর লক্ষ্য ছিল দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে বিভিন্ন গণমাধ্যম জানায়, এ হামলায় কারাকাসের ফুয়ের্তে তিউনা সামরিক ঘাঁটি, লা কার্লোটা এয়ারবেস, এমনকি সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজের সমাধি থাকা কুয়ের্তেল দে লা মনতানিয়াও আঘাতপ্রাপ্ত হয়। মাটির খুব কাছ দিয়ে উড়ে যাওয়া হেলিকপ্টারের রোটরের শব্দ, বিস্ফোরণ, ধোঁয়ার কুণ্ডলী আর দক্ষিণ ও পশ্চিম কারাকাসের একাংশে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীজুড়ে।
বিভিন্ন গণমাধ্যম দাবি করেছে, হামলায় অন্তত নয়টি সামরিক হেলিকপ্টার ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে এএইচ–৬৪ অ্যাপাচি, এএইচ–১জেড ভাইপার ঘরানার হেলিকপ্টারও থাকতে পারে, যেগুলো মূলত বিভিন্ন লক্ষ্যে রকেট হামলার পাশাপাশি ভারী গোলাবর্ষণ করেছে।
সিবিএস নিউজ–কে উদ্ধৃত করে কিছু গণমাধ্যম বলছে, কয়েক দিন আগেই এ অভিযানের জন্য সবুজ সংকেত বা সম্মতি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বড়দিন বা ২৫ ডিসেম্বর থেকেই এ হামলার জন্য সামরিক প্রস্তুতি ছিল; তবে তখন অগ্রাধিকার পেয়েছিল নাইজেরিয়ায় বিমান হামলা।
ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে এ সামরিক পদক্ষেপ কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি গোয়েন্দা ও কূটনৈতিক অভিযানের শেষ ধাপ ছিল এটি। দেশটিতে গোপনে প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে সিআইএ, ব্রিটিশ এমআই–৬ এবং ইসরায়েলের মোসাদ যৌথভাবে স্থানীয় নেটওয়ার্ক, ‘কাট–আউট’ ও বিভিন্ন প্রকার চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে ‘গ্রাউন্ড সফটেনিং’–এর কাজ করেছে। সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে প্রথম যে বিদেশী রাষ্ট্রনেতাকে ব্রিফ করা হয়, তিনি ছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ওয়াশিংটন সফরের সময় তাকে আসন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, বৃহৎ আকারের এ বিমান ও হেলিকপ্টার অভিযানের মধ্য দিয়েই মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে দ্রুত আটক করে ভেনেজুয়েলা থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। যেখানে প্রচলিত স্থল অভিযান বা দীর্ঘ দখল নয়, বরং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক আঘাতের মাধ্যমে এক ধরনের ‘ডেকাপিটেশন স্ট্রাইক’ পরিচালনা করা হয়েছে, যার লক্ষ্য রাষ্ট্রব্যবস্থার শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়ে দেয়া।
শুধু লাতিন আমেরিকা নয়, এ অভিযানের প্রভাব পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও।
বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের নামে পরিকল্পিত এমন ‘ড্রামাটিক’ সামরিক পদক্ষেপে একদিকে ট্রাম্প যেমন নিজেকে শক্তিশালী নেতা হিসেবে হাজির করতে চাইবেন, অন্যদিকে প্রশাসনের ভেতরে আইনি প্রশ্ন, নির্দেশের চেইন অব কমান্ড, কংগ্রেসের অনুমোদন ও আন্তর্জাতিক আইনভঙ্গের বিতর্ক নতুন করে মাথাচাড়া দিতে পারে।
মন্তব্য করুন


অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, জাতীয় পে কমিশনের প্রতিবেদন দাখিলের পর তা বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে নাটোরে গুরুদাসপুর উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘ ১০-১২ বছর পর জাতীয় পে কমিশন গঠন করা হয়েছে। কমিশন আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তাদের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর বাস্তবায়নের ব্যাপারে সরকার প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে। এ ক্ষেত্রে অনেক বিষয় বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো অর্থের যোগান। তাই সবাইকে হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।
গণভোট বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকার গণভোটে সংস্কারের পক্ষে। জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে গণভোটে অংশ নিতে হবে। আমরা সংস্কার কার্যক্রম অনেকটা এগিয়ে দিয়েছি। পরবর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রমকে সহায়তা করতেই গণভোটের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, এবারের নির্বাচন হবে ‘লাইনচ্যুত ট্রেনকে’ লাইনে ফিরিয়ে আনার নির্বাচন।
বুধবার আগারগাঁওয়ে এনজিও ব্যুরো কার্যালয়ে ৮১টি সংস্থার মোর্চা এলায়েন্স ফর ফেয়ার ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি– এএফইডির একটি প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন ।
দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা ও সংস্কার কার্যক্রমের প্রসঙ্গ টেনে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ‘২০২৬ সালের নির্বাচনকে আমি যদি একটু রূপকভাবে বলি–এটা অনেকটা লাইনচ্যুত একটি ট্রেনকে আবার লাইনে ফিরিয়ে এনে চালু করার মত।
ন্যূনতম রিপেয়ার করে, কিছু যন্ত্রাংশ বদলে অন্তত গতি দেওয়ার চেষ্টা। যদি আমরা এটা করতে পারি, তাহলে এটাকেই আমরা প্রথম বড় সাফল্য হিসেবে ধরতে পারি।’
এরপর ‘পরবর্তী দিকনির্দেশনায়’ আরও উন্নতির দিকে এগোনোর ওপর জোর দেন এই নির্বাচন কমিশনার।
তিনি আরও বলেন, ‘পর্যবেক্ষকরা ইসির তৃতীয় নয়ন। চাই, তাদের পর্যবেক্ষণ মানসম্মত হোক। মৌলিক বিষয়াদির যেন ব্যত্যয় না হয়। নীতিমালার মধ্যে থেকে সব ধরণের সহযোগিতা করা হবে।’
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।
ডেমোক্রেসি ওয়াচের চেয়ারপারসন তালেয়া রহমান, খান ফাউন্ডেশন এর কো-চেয়ার রোকসানা খন্দকারসহ বিভিন্ন সরকারি ও ও বেসরকারি সংস্থা ও দূতাবাসের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) এক কোটি ফ্যামিলি কার্ডধারীর মধ্যে ৩৭ লাখ ভুয়া, এমন তথ্য জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা এস কে বশির উদ্দিন।
শনিবার রাজধানীর আগারগাঁও বিআইসিসিতে শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি ২০২৪-এর সিম্পোজিয়াম, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, সংস্কার ও জাতীয় বাজেট নিয়ে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা জানান।
বশির উদ্দিন বলেন, "সমাজে বৈষম্য তৈরি হওয়ায় আন্দোলন হয়েছে, যা দূর করা সম্ভব নীতি পরিবর্তনের মাধ্যমে।"
করের বিষয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা জানান, "প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ উভয় করই গুরুত্বপূর্ণ। তবে, এর যথাযথ প্রয়োগ আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।"
অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও গত ডিসেম্বরে ব্যাংকগুলো অনৈতিকভাবে লাভ করেছে, যা খতিয়ে দেখা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
একই সভায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর সম্মানীয় ফেলো এবং শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ভ্যাট বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন।
এ অর্থনীতিবিদ বলেন, "আমরা অবাক হয়ে দেখেছি কীভাবে অবিবেচকভাবে ভ্যাট বাড়ানো হয়েছে। কর সংগ্রহ করতে হলে ক্রমান্বয়ে প্রত্যক্ষ কর প্রদানকারীর কাছে যেতে হয়, কিন্তু আমরা প্রত্যক্ষ কর আহরণে কোনো পরিকল্পনা দেখছি না। যারা কর দেয় না, তাদের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেটা স্পষ্ট নয়। আমাদের এ বিষয়টি চিন্তিত করেছে। আগামী গরমে জ্বালানি পরিস্থিতি আরও জটিল হবে, এই আশঙ্কা করছি।"
এছাড়া, রেকর্ড পরিমাণ আমন উৎপাদন করলেও সংগ্রহ অভিযানে সাফল্য নেই জানিয়ে দেবপ্রিয় বলেন, "সংগ্রহ অভিযানে আগে যেমন দুর্নীতি ছিল, তা এখনো বিদ্যমান। কৃষক তার ফসলের সঠিক মূল্য পাচ্ছে না। সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা বিশৃঙ্খল অবস্থায় রয়েছে।"
এ সরকার কী ধরনের অর্থনৈতিক উত্তরাধিকার রেখে যাবে, এ প্রশ্ন তুলেন দেবপ্রিয়। তিনি বলেন, "সুষম, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং টেকসই অর্থনীতি গড়ে তুলতে যে ধরনের প্রশাসনিক কাঠামো বা সংস্কার প্রয়োজন, সে ধরনের কোনো রূপরেখা আমরা দেখলাম না।"
মন্তব্য করুন


সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের দেশত্যাগের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ইমিগ্রেশন পুলিশের সদস্যসহ তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
বৃহস্পতিবার (৮ মে) পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) ইনামুল হক সাগর এ তথ্য জানায়।
তিনি জানান, সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের দেশত্যাগের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ইমিগ্রেশন পুলিশের একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এছাড়া আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জের সদর থানায় দায়েরকৃত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এবং পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) একজন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের নয় মাস পর বুধবার (৭ মে) দিনগত রাত ৩টা ৫ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে দেশ ছাড়েন সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।
বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন সূত্র জাগো নিউজকে জানায়, আবদুল হামিদ শারীরিকভাবে খুবই অসুস্থ। নিরাপত্তার অভাবের অজুহাতে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নেননি। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য গতকাল রাত ১১টার দিকে সাধারণ যাত্রীবেশে শাহজালাল বিমানবন্দরে যান আবদুল হামিদ। এ সময় তার মুখে মাস্ক ও মাথায় ক্যাপ ছিল। পরে ইমিগ্রেশনের প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে তাকে দেশ ছাড়ার সবুজ সংকেত দেওয়া হয়।
পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) ইমিগ্রেশন বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, আজ সকালে কর্মস্থলে এসে আবদুল হামিদের দেশত্যাগের বিষয়টি জানতে পেরেছি। তিনি বিদেশ যাওয়ার কারণ হিসেবে চিকিৎসার অজুহাত দেখিয়েছেন।
গত ১৪ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জ সদর থানায় আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের আরও অনেকে আসামি হয়েছেন।
কিন্তু তারপরও কেন আবদুল হামিদকে দেশ ত্যাগের অনুমতি দেওয়া হলো- এমন প্রশ্নের জবাবে ইমিগ্রেশন পুলিশের ওই কর্মকর্তা জানান, আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জের মামলার বিষয়টি ইমিগ্রেশন বিভাগ অবগত ছিল। কিন্তু তার বিদেশ সফরের বিষয়ে আদালত বা দুদক থেকে কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না। তাই তার বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়া হয়নি। আর এমনিতেই আবদুল হামিদ শারীরিকভাবে অসুস্থ।
সূত্র: জাগো নিউজ২৪
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, শ্রমিক ও মালিক একে অপরের পরিপূরক। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই শক্তিশালী, আত্মনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠন সম্ভব।
আজ বৃহস্পতিবার (১ মে) ‘মহান মে দিবস’ ও ‘জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা দিবস’ উপলক্ষে প্রদত্ত এক বাণীতে তিনি এ মত প্রকাশ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, "দেশজুড়ে যথাযথ মর্যাদায় মহান মে দিবস-২০২৫ পালনের খবর জানতে পেরে আমি আনন্দিত। ১৮৮৬ সালের ১ মে শিকাগোর হে মার্কেটে শ্রমিকরা দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজ, ন্যায্য মজুরি ও শ্রমের মর্যাদা আদায়ের জন্য রক্তঝরা সংগ্রাম করেছিলেন। সেই সংগ্রামের ফলেই আজ বিশ্বজুড়ে শ্রমিক অধিকার স্বীকৃত। এই দিনটি কেবল একটি সাধারণ দিবস নয়, বরং এটি শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের প্রেরণা। শ্রমিক অধিকারের জন্য আত্মদানকারীদের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।"
তিনি আরও বলেন, "দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে শ্রমিক-মালিক সুসম্পর্কের গুরুত্ব অপরিসীম। এবারের মে দিবসের প্রতিপাদ্য— ‘শ্রমিক-মালিক এক হয়ে, গড়বো এদেশ নতুন করে’— আমাদের টেকসই উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, শ্রমিক ও মালিকের সমন্বিত প্রচেষ্টাই বাংলাদেশকে শক্তিশালী, আত্মনির্ভর ও সমৃদ্ধ করে তুলতে পারে।"
ড. ইউনূস উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের পোশাক শিল্প, কৃষি, নির্মাণ, পরিবহন ও প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে শ্রমিক ও মালিকদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও মেধা কাজ করছে। তিনি বলেন, "জুলাই-আগস্টের ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণআন্দোলনের মাধ্যমে বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।"
এছাড়াও তিনি বলেন, "মে দিবসের পাশাপাশি আমরা জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা দিবস পালন করছি। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একটি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর কাজের পরিবেশ শুধু শ্রমিকদের অধিকারই নয়, এটি শিল্প ও অর্থনৈতিক উন্নয়নেরও পূর্বশর্ত। শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন ও কল্যাণ শিল্প ও জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।"
প্রধান উপদেষ্টা বিশ্বাস করেন, শ্রমিক ও মালিকের অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের উন্নয়নকে আরও গতিশীল করবে।
মন্তব্য করুন


আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে মাগুরার নবগঙ্গা নদী সংলগ্ন পার্কে ‘জুলাই ৩৬’ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে এ কথা বলেন তিনি।
প্রেস সচিব বলেন, শেখ হাসিনা পুরো বাংলাদেশকে বানিয়েছিল শেখ পরিবারের জমিদারি। জুলাইয়ে যারা আত্মত্যাগ করলেন, তারা আবার দেশকে নতুন একটি গণতান্ত্রিক দেশে পরিণত করেছেন। প্রতি বছর ৫ আগস্ট আমরা জুলাই শহিদদের স্মরণ করবো। সেখানে তাদের আত্মত্যাগের কথা বলবো।
তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন হবে। এবারের নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সুষ্ঠু সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে। বাংলাদেশের জনসাধারণ সবাই ভোট দিতে আসবেন।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ এতো মানুষকে খুন করেছে তবুও তাদের মধ্যে কোনো অনুতপ্ত নেই। গণভোট হবে তবে কখন হবে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ন্যাশনাল কনসেসিয়াস কমিশন বসে এটা ঠিক করবে।
মন্তব্য করুন