

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, সরকারি যত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আছে সেগুলোর ওপর মূল্যায়ন করতে হবে। কী ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, প্রশিক্ষণের ধরন-মান ইত্যাদির মানদণ্ড নির্ধারণ করে ক্যাটাগরিভিত্তিক প্রতিটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে র্যাংকিং করতে হবে এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
আজ বুধবার প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে জাতীয় প্রশিক্ষণ কাউন্সিলের নবম সভায় এই কথা বলেন তিনি।
সভায় অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোখলেস উর রহমান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়াজ আহমেদ খান উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ক্যাডার কর্মকর্তাদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের মেয়াদ ছয় মাস থেকে কমিয়ে চার মাস করা হয়েছে। এর মধ্যে তিন মাস প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে এবং এক মাস মাঠ পর্যায়ে ওরিয়েন্টেশন ও গ্রাম সংযুক্তি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
সভায় আরো সিদ্ধান্ত হয়, কর্মকর্তাদের মাস্টার্স ও পিএইচডি কোর্সে ভর্তির সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৪৭ বছর করা হবে। পিএইচডি কোর্সে অধ্যয়নকালে প্রতি বছর তত্ত্বাবধায়কের অগ্রগতিমূলক প্রত্যয়ন মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে, অন্যথায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বেতন বন্ধ রাখা হবে।
সভায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, একটি স্বাধীন ইউনিট গঠন করতে হবে। তারা সব গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ওপর পদ্ধতিগতভাবে, স্বাধীনভাবে মূল্যায়ন করবে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সামগ্রিক দর্শন জানতে হবে। সেগুলো সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না দেখতে হবে। সরকারি কর্মকর্তারা যারা বিদেশ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছেন তাদের তথ্য সেখানে থাকবে।
সভায় সঞ্জীবনী প্রশিক্ষণের নাম পরিবর্তন করে ‘দক্ষতা নবায়ন প্রশিক্ষণ’ করার সিদ্ধান্ত হয়। এ প্রশিক্ষণ হালনাগাদকৃত কারিকুলামে মাঠ পর্যায়ে সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আয়োজন করা হবে। এ ছাড়া উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে কর্মকর্তারা আংশিক বৃত্তিপ্রাপ্ত হলেও প্রেষণ অনুমোদন করা যাবে।
কর্মচারীদের সততা ও নৈতিকতা বিকাশ এবং দুর্নীতিবিরোধী মনোভাব তৈরিতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্সে সদ্গুণ, নৈতিকতা, আচরণবিজ্ঞান ও আচরণবিধি অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়।
পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক মূল্যায়ন এবং প্রশিক্ষণ বিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে গবেষণা, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদকে সভাপতি করে একটি নির্বাহী কমিটি (ইসিএনটিসি) গঠন করা হয়।
মন্তব্য করুন


ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের গাজীপুরে থাকা ৩৬ বিঘা জমি জব্দের আদেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তার নামে আইএফআইসি ব্যাংকের একটি হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাক হিসাবে ৫৪ কোটি ৬৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা রয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (২৪ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম এ তথ্য দিয়েছেন।
বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সালমান এফ রহমানসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন এদিন তার জমি জব্দ ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ চেয়ে আবেদনটি করেন।
আবেদনে বলা হয়েছে, সালমান এফ ররহমান ক্ষমতার অপব্যবহার করে অন্য আসামিদের সঙ্গে মিলে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে আইএফআইসি ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখায় বন্ধক রাখা সম্পত্তি অতিমূল্যায়ন করে বন্ড ছাড়েন। বন্ডের বিপরীতে বিনিয়োগকারীদের ১ হাজার কোটি টাকা শ্রীপুর টাউনশিপ লিমিটেডের ব্যাংক হিসাবে জমা হয়। সেই হিসাব থেকে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা নিয়মবহির্ভূতভাবে নগদে ও সন্দেহজনক লেনদেনের মাধ্যমে বেক্সিমকো ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডসহ বেক্সিমকো গ্রুপ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের হিসাবে স্থানান্তর করে আসামিরা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে।
দুদক বলেছে, আসামিরা ব্যাংক হিসাবের অর্থ হস্তান্তর, স্থানান্তর এবং স্থাবর সম্পদের অন্যত্র হস্তান্তর বা স্থানান্তরের মাধ্যমে মালিকানা পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন। এ জন্য স্থাবর সম্পদসমূহ জব্দ এবং অস্থাবর সম্পদ/ব্যাংক হিসাবটি অবরুদ্ধ করা একান্ত প্রয়োজন।
গত ২০ এপ্রিল অর্থ আত্মসাতের এই মামলাটি করেছে দুদক। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামও এ মামলার আসামি।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের জলসীমায় অনুপ্রবেশ করে মাছ শিকারের অভিযোগে ৩টি ফিশিং ট্রলারসহ ৪৮ ভারতীয় জেলেকে আটক করা হয়েছে।
মোংলা বন্দরের অদূরে ফেয়ারওয়ে-সংলগ্ন গভীর সাগর থেকে বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে এসব ট্রলার ও জেলেদের আটক করে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী। আজ শুক্রবার তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
জানা গেছে, মা ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের প্রজনন নিশ্চিতে ২২ দিন মৎস্য আহরণ বন্ধ। এ অবস্থায় বঙ্গপোসাগরে দেশের জলসীমায় প্রবেশ করে মাছ শিকার করছে ভারতীয় জেলেরা। এমন অপরাধে ভারতীয় পতাকাবাহী ৩টি ফিশিং ট্রলারসহ ৪৮ জেলেকে আটক করেছে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড।
পুলিশ বলছে, গত ১৭ অক্টোবর বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের নিয়মিত প্যাট্রোলিং চলাকালে জাহাজের রাডারে সন্দেহজনক ফিশিং ট্রলারের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তথ্যাদি বিশ্লেষণ করে বিদেশি পতাকাবাহী ট্রলার হিসেবে শনাক্ত করা হয়। এ সময় দেশীয় প্রশাসনের উপস্থিতি বুঝতে পেরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড সদস্যরা ধাওয়া করে ট্রলার তিনটি বাংলাদেশের জলসীমাতেই আটক করতে সক্ষম হয়।
মোংলা থানার ওসি মো. আনিসুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় থানায় কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে পৃথক দুটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মামলা দায়ের শেষে শুক্রবার বিকালে আটক জেলেদের আদালতে পাঠানো হবে।
মন্তব্য করুন


জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সাত বছরের কারাদণ্ড থেকে খালাস দেওয়ার বিরুদ্ধে লিভ টু আপিলের শুনানি আগামীকাল সোমবার অনুষ্ঠিত হবে। রোববার দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর করা এক আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের করা লিভ টু আপিলের শুনানি একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে।
গত বছরের ২৭ নভেম্বর হাইকোর্ট খালেদা জিয়াকে সাত বছরের কারাদণ্ড থেকে খালাস দেন। পরবর্তীতে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি এ রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদক আপিল বিভাগে আবেদন করে।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের আগস্ট মাসে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এ মামলাটি দায়ের করে দুদক। মামলায় অভিযোগ করা হয়, প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি তার ক্ষমতা অপব্যবহার করে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের জন্য অবৈধভাবে অর্থ সংগ্রহ করেছেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ট্রাস্টের নামে তিন কোটি ১৫ লাখ টাকা অবৈধভাবে লেনদেন করা হয়েছে।
২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর বিশেষ জজ আদালত খালেদা জিয়াকে সাত বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা জরিমানা করে রায় ঘোষণা করে।
মন্তব্য করুন


বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হলেই পরিবারের সদস্যরা তাকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে জানিয়েছেন তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ কথা জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের এই উপদেষ্টা।
মাহদী আমিন লিখেছেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও তার চিকিৎসা পরিচালিত হচ্ছে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে। লন্ডন থেকে সার্বক্ষণিকভাবে চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন তারেক রহমান ও তার স্ত্রী এবং খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমান।’
তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে ডা. জুবাইদা রহমান দেশ-বিদেশের চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। মায়ের চিকিৎসায় যেন কোনো বিলম্ব বা সীমাবদ্ধতা না থাকে সে জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি পদক্ষেপ তদারকি করছেন তারেক রহমান।’
মাহদী আমিন বলেন, ‘হাসপাতালে নেত্রীর শারীরিক অবস্থার খবর নিতে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ভিড় করলেও ইনফেকশনের ঝুঁকির কারণে কাউকে সিসিইউতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। দূর থেকেই মানুষ ভালোবাসা ও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।’
তিনি আরো লিখেছেন, ‘খালেদা জিয়ার কিছুটা শারীরিক উন্নতি হলে তাকে লন্ডনে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে লন্ডনের সেই হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, যাদের তত্ত্বাবধানে চলতি বছরের শুরুতে চার মাস চিকিৎসা নিয়ে খালেদা জিয়া উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নতি লাভ করেছিলেন। পাশাপাশি একটি সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসজ্জিত বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থার উদ্যোগও চলছে।’
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘দেশবাসীর দোয়া ও ভালোবাসায় বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার দ্রুত উন্নতি হবে। আধুনিক চিকিৎসা শেষে তিনি আবারও দেশের মানুষকে অনুপ্রাণিত করবেন, নেতৃত্ব দেবেন এবং জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার ভূমিকা রাখবেন।’
মন্তব্য করুন


এবার আগের মতো কোনো পাতানো নির্বাচন হবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসি সচিবালয় প্রঙ্গণে মনোনয়ন বাতিল ও গ্রহণের বিরুদ্ধে চলমান চতুর্থ দিনের আপিল আবেদনের বুথ পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলেন তিনি।
সিইসি বলেন, যারা মনোনয়নের বৈধতা বা বাতিলের বিরুদ্ধে আবেদন করছেন, আইনি ভিত্তিতে তার সমাধান করা হবে।
নির্বাচন কমিশন ইনসাফে বিশ্বাসী উল্লেখ করে সিইসি বলেন, সবাই ন্যায়বিচার পাবেন। এছাড়া লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করবে কমিশন।
সিইসি আরো আশ্বস্ত করেন যে, আপিল শুনানির পুরো প্রক্রিয়া অত্যন্ত স্বচ্ছ হবে এবং প্রতিটি আবেদন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে আইনি সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।
এদিকে, আজ সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আপিল করতে ইসিতে আসছেন আবেদনকারীরা। ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি বিকেল ৫টা পর্যন্ত আপিল চলবে। আপিল আবেদনের শুনানি আগামী ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে (বেজমেন্ট-২) অনুষ্ঠিত হতে পারে।
এর আগে গত তিন দিনে আপিল আবেদন জমা পড়েছে ২৯৫টি। এর মধ্যে বুধবার ১৩১টি, মঙ্গলবার ১২২টি এবং সোমবার প্রথম দিনে ৪১টি আপিল দায়ের করা হয়।
গত ৪ জানুয়ারি বাছাইয়ের শেষ দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ নির্বাচনী এলাকায় রিটার্নিং কর্মকর্তা বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোট ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৭২৩ জনের প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করেন।
মন্তব্য করুন


প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, যতই আপনি ইসিকে স্বাধীন বলেন না কেন, সরকার ছাড়া নির্বাচন করা সম্ভব না। কারণ সরকারের সহযোগিতা নিয়েই আমাদের নির্বাচন করতে হবে। আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিতে হবে, অফিসার, প্রশাসনের সহায়তা নিতে হবে। সুতরাং সরকার একটা মুখ্য ভূমিকা রাখবে তো নির্বাচনের মধ্যে। এটা ছাড়া তো সম্ভব না।
আজ শনিবার নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে এক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রোডম্যাপ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, সময় হলে আপনারা সবই জানতে পারবেন। এখানে আমরা লুকিয়ে কোনো কাজ করছি না।
আপনারা কেন রোডম্যাপ..., আমরা একটা কর্মপরিকল্পনা, এটাকে রোডম্যাপ বলবো না, আমাদের যে বিভিন্ন অ্যাক্টিভিটিজ করতে হবে, সেগুলো কোনোটা কোনো সময় শুরু করব, কোনো সময় শেষ করব এটাকেই অনেকে রোডম্যাপ বলে, আমরা বলছি না। সেটা অবশ্যই আছে। যে কোনো অফিসের একটা কর্মপরিকল্পনা থাকবে। এত বড় একটা নির্বাচন হবে, একটা কর্মপরিকল্পনা আমাদের নিজস্ব ব্যবহারের জন্য।
নট ফর শেয়ারিং এভরিবডি যে আপনারা জানুন। এটা নিজস্ব, সংশোধন হতে পারে, এদিক-ওদিক হতে পারে। একটা সম্ভাব্য একটা কর্মপরিকল্পনা প্রথম থেকেই করেছি তো।
সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগের যে বিষয়টা প্রতিনিয়ত হচ্ছে বা একদম হচ্ছে না, বিষয়টা এমন না। নির্বাচনের ডেট যথাসময়ে জানতে পারবেন।
আমরা যথাসময়ে নির্বাচনে তফসিল ঘোষণা করব। সরকারের সঙ্গে এ জন্য পরিকল্পনা করে ঘোষণা দিয়ে দেখা করতে হবে এমন না। ফরমালি, ইনফরমালি নানাভাবে যোগাযোগ হতে পারে। আমরা সরকারের ধারে কাছে নেই, একটা দ্বীপে আছি এমন তো না। সংস্কার কমিশনের সুপারিশ আছে, এর মধ্যে ইসি সংস্কার আছে, এর মধ্যে আমরা সম্পৃক্ত তো। এগুলোকে ধারণ করেই এগিয়ে যেতে হবে। সময় হলেই যোগাযোগ হবে।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, পতিত শক্তি গন্ডগোল লাগিয়ে নির্বাচন আয়োজন ভন্ডুল করার চেষ্টা করছে। এ অপচেষ্টাকে প্রতিহত করতে ফ্যাসিবাদবিরোধী সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। অভ্যুত্থানের সব শক্তি মিলে একটি সুন্দর নির্বাচন করতে না পারলে এ সুযোগ আমাদের হাতছাড়া হয়ে যাবে।
শনিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ আহ্বান জানান তিনি।
নির্বাচন ভণ্ডুল করার অপচেষ্টাকে রুখে দিতে হবে: প্রধান উপদেষ্টাপ্রধান উপদেষ্টা বলেন, পরাজিত শক্তি যখনই সুযোগ পাচ্ছে তখনই নানান রকম গন্ডগোল সৃষ্টি করছে। এসব করে তারা দেশের স্বাভাবিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত করছে। যখনই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে আমরা অগ্রসর হচ্ছি তখনই নানান ষড়যন্ত্র সামনে আসছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে কোনো ষড়যন্ত্র করেই গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। কারণ ফ্যাসিবাদ প্রশ্নে সবগুলো গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্য স্পষ্ট।
সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি। উপস্থিত রাজনৈতিক নেতারাও প্রধান উপদেষ্টাকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বৈঠকে জাতীয় গণফ্রন্টের আমিনুল হক টিপু বিশ্বাস, ১২ দলীয় জোটের মোস্তফা জামাল হায়দার, নেজামে ইসলাম পার্টির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বাংলাদেশ জাসদের ড. মুশতাক হোসেন, ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের ববি হাজ্জাজ, ইসলামী ঐক্যজোটের মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজি, ভাসানী জনশক্তি পার্টির রফিকুল ইসলাম বাবলু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) মাসুদ রানা এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের শুরুতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনার নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
মন্তব্য করুন


নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, কোনো দলের কার্যক্রম স্থগিত থাকলে তাদের প্রতীকও স্থগিত থাকবে। তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। কিন্তু প্রতীক ছাড়া স্বতন্ত্র দাঁড়াতে পারবে কিনা সেটা সময় বলে দেবে।
অর্থাৎ আওয়ামী লীগের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার না হলে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসির নিবন্ধিত এ দলটি দলীয় প্রতীক নিয়ে অংশ নিতে পারবে না। আওয়ামী লীগের নাম না নিলেও স্থগিত থাকার দলের বিষয়ে ইসির অবস্থান স্পষ্ট করলেন ইসি সানাউল্লাহ।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন ভবনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন নিয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের সংশোধনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তালিকায় সশস্ত্র বাহিনী যুক্ত করা হয়েছে। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ভোটকেন্দ্র স্থাপন করবেন। এছাড়া আদালত কর্তৃক যারা ফেরারি হবেন, তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। লাভজনক পদে যারা আছেন বলে গণ্য হবেন এবং যারা সরকারি ৫০ শতাংশ বা তার বেশি শেয়ার আছে এমন প্রতিষ্ঠানে কাজ করলে তারা অংশ নিতে পারবেন না। এছাড়া হলফনামায় তথ্য গোপন বা মিথ্যা তথ্য দিলে ইসি পরে ব্যবস্থা নিতে পারবে এবং সেই ব্যক্তি সংসদ সদস্য পদ হারাবেন। পাশাপাশি প্রার্থীর জামানত ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, একক প্রার্থী থাকলে সেই আসনে ‘না’ ভোট থাকবে ব্যালটে। জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করলেও প্রার্থীরা নিজ নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করবেন। ইভিএম সংক্রান্ত সব বিধান বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া মিডিয়ার ব্যক্তিরা ভোট গণনায় থাকতে পারবেন। পাশাপাশি নির্বাচনী পোস্টার বাতিল করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে আচরণবিধি ভঙ্গ হয় তা করা যাবে না। এছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন স্থগিত থাকবে ও প্রতীক সংরক্ষিত থাকবে, ভোট শব্দ কিছু স্থানে ছিল, এগুলো নির্বাচন করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২৪ ঘণ্টার জন্য দর্শনার্থী প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিশেষ অপারেশনাল ও নিরাপত্তাজনিত কারণে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
এতে বলা হয়েছে, যাত্রীসেবা, বিশেষ নিরাপত্তা এবং অপারেশনাল শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে আগামীকাল বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিমানবন্দর এলাকায় নির্ধারিত যাত্রী ছাড়া সব সহযাত্রী/দর্শনার্থী প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।
এদিকে ২৫ ডিসেম্বর দেশে আশার কথা রয়েছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। তার প্রত্যাবর্তন ঘিরে দেশজুড়ে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
তারেক রহমানের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা’ হিসেবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে একজন অভিজ্ঞ সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে এই দায়িত্ব দেয়া হয়।
মন্তব্য করুন


জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখারপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় দেন।
সর্বোচ্চ সাজার আদেশ পাওয়া বাকি দুজন হলেন- ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম।
এই মামলার আট আসামির মধ্যে রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুলকে ৬ বছরের কারাদণ্ড; শাহবাগ থানার সাবেক পুলিশ পরিদর্শক আরশাদ হোসেনকে ৪ বছরের কারাদণ্ড এবং ওই থানার তিন পুলিশ কনস্টেবল মো. সুজন, ইমাজ হোসেন ইমন ও নাসিরুল ইসলামকে ৩ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ মোট আটজন আসামি রয়েছে এই মামলায়। এর মধ্যে শাহবাগ থানার তৎকালীন পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলাম গ্রেপ্তার রয়েছেন। তাদের ট্রাইব্যুনালে আনা হয়েছে। বাকি চারজন পলাতক রয়েছেন।
তারা হলেন, ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম ও রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল।
মন্তব্য করুন