

নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, কুমিল্লা বিভাগ জনগণের প্রাণের দাবি। কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণা করা হবে। এছাড়া, এই অঞ্চলে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়েও দ্রুততম সময়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শনিবার দুপুরে চাঁদপুর সফরে যাওয়ার পথে কুমিল্লা-চাঁদপুর সড়কের পাশে বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজার খেলার মাঠে বিএনপি আয়োজিত পথসভায় এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, গত ১৬-১৭ বছরে দেশের জনগণের কোনো ভোটের অধিকার ছিল না। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললে মিথ্যা মামলা দেওয়া হতো। দেশ স্বৈরাচারের কবলে পড়েছিল। হত্যা, গুম, লুটপাট করা হয়েছে। তারা দেশের অর্থ লুট করে বিদেশে পাচার করেছে।
২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে বুকের রক্ত দিয়ে দেশের গণতন্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এ স্লোগান তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে আমরা খাল খনন, কৃষক কার্ড, ফ্যামেলি কার্ড ও ইমাম-মোয়াজ্জিনদের সম্মানীর ওয়াদা দিয়েছিলাম। আমরা ওয়াদা রেখেছি। বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা করে কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে পুনর্গঠন করতে হলে কাজ করতে হবে। নারীদের স্বাবলম্বী করতে হবে, তা শিক্ষায় হোক কিংবা অর্থনৈতিকভাবে। দেশের উন্নয়নে নারী-পুরুষ সবাইকে স্বাবলম্বী করতে হবে। বেকার সমস্যা দূর করতে কাজ করতে হবে।
জনগণ দেশের মালিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণ বিএনপিকে দেশের দায়িত্ব দিয়েছেন। বিএনপি অতীতেও সব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করতে চেষ্টা করেছে। এবারের নির্বাচনেও আমরা যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করছি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গণপূর্তমন্ত্রী ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমন এমপি।
পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া, সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, সহসভাপতি আমিরুজ্জামান আমির, মহানগর বিএনপির সভাপতি উৎবাতুল বারী আবুসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ।
এর আগে দাউদকান্দি থেকে পথে পথে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার এমপিদের নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। সোয়া ১টার দিকে সমাবেশস্থলে পৌঁছান তিনি। প্রায় ১৫ মিনিটের বক্তব্যে তিনি দেশের উন্নয়ন ও সরকারের নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
মন্তব্য করুন


টেরিস্ট্রিয়াল ও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বিটিভি চট্টগ্রাম এখন দেশ বিদেশে দেখা যায়। এটি এখন ২৪ ঘণ্টার পূর্ণাঙ্গ টেলিভিশন। এই চ্যানেলের অনুষ্ঠন এবং সংবাদের মান আগের থেকে অনেক ভালো। বিশেষ করে ইংরেজি বিতর্ক এবং ইংরেজি সংবাদ।
বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রামের ২৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে মঙ্গলবার(২০ডিসেম্বর) সন্ধ্যা্য় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি এসব কথা বলেন।
দর্শক, শিল্পী, কলাকুশলী এবং কেবল অপারেটদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেছেন, বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সম্প্রচার আরো উন্নত করার জন্যও আরো বেশ কিছু কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। এ সময় তিনি বিটিভি চট্টগ্রামের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক দিক তুলে ধরেন। তার আগে তিনি বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের শুভ উদ্ভোধন করেন এবং কেক কাটেন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র মোহাম্মদ রেজাউল করিম চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এটিএম পেয়ারুল ইসলাম, বিটিভির মহাপরিচালক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম, পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়, কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন, মহাব্যবস্থাপক নূর আনোয়ার হোসেন রনজু সহ কেন্দ্রের কর্মকর্তা, শিল্পী কলাকুশলীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে বর্ষপূতি উপলক্ষ্যে চট্টগ্রামসহ দেশের খ্যাতনামা একঝাঁক জনপ্রিয় শিল্পীর পরিবেশনায় কবিতা, আবৃত্তি, নৃত্য-গান ও অভিনয় পরিবেশন করা হয়। চিত্র নায়ক জায়েদ খান, জনপ্রিয় গায়িকা কনা, অভিনয় শিল্পী নাদিয়া আহমেদ, সোশ্যাল মিডিয়া তারকা মেরি, চিত্র নায়িকা আচঁল এতে অংশ নেন।
তাছাড়া ২৭ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ম্যাগাজিন, প্রামাণ্য অনুষ্ঠান আধুনিক ও ঐতিহ্যের সমন্বয়ে বৈচিত্র্যময় করে সাজানো হয়। এদিকে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে একশ বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গের সাক্ষাৎকার ও শুভেচ্ছা নিয়েও শতাধিক ফিলার প্রচার করা হচ্ছে ।
অনুষ্ঠানে বিটিভি চট্টগ্রামের জেনারেল ম্যানেজার নূর আনোয়ার হোসেন রনজু বলেন, নির্বাচনী উৎসবকে আরো রঙিন করার প্রত্যয়ে এবার জমকালো অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


দেশবাসীর
উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির পায়তারা
চলছে, সতর্ক থাকুন।’
তিনি
বলেন, ‘আজকে যারা দেশে এই অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক
থাকতে হবে। কারণ, দেশে এই মুহূর্তে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড
বাধাগ্রস্ত হবে। দেশের মানুষ বিপদে পড়বে।’
আজ
শনিবার ( ২৩ মে ) দুপুরে ত্রিশালের বৈলর এলাকার ‘ধরার খাল’
পুনঃখননের পর উপস্থিত নেতা-কর্মীসহ গ্রামবাসীদের এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা
বলেন।
পল্লবীতে
শিশু রামিসা হত্যার ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তিন-চার দিন আগে এই অত্যন্ত দুঃখজনক,
হৃদয় বিদারক একটি ঘটনা ঘটছে। এই ছোট্ট বাচ্চাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। প্রথম থেকে
আমরা বলে এসেছি যে, আইনের দৃষ্টিতে কোন ব্যক্তি যদি অপরাধ করে তাকে শাস্তি পেতে হবে।
আইনের শাসন আমরা প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। তবে সব কিছু নিয়ম কানুন মেনেই করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, ‘যে কোন অন্যায়কারীকে শাস্তি দিতে হলে, তার বিচার করতে হলে সরকারের কতগুলা নিয়ম
কানুন আছে। অথচ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে কিছু সংখ্যক মানুষ একটা ঘোলাটে
পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করছে। রাস্তাঘাট বন্ধ করে দিচ্ছে, যান বাহন চলাচল বন্ধ
করে দিচ্ছে, এখানে আগুন ধরাচ্ছে, ওখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছে। এই কাজগুলো যারা করে
তারা আইনের শাসনকে বাধাগ্রস্ত করছে।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন ক্ষমতায়
ছিল সেই সময় আমরা দেখেছি দেশে কয়েকটি দুঃখজনক এরকম অন্যায় ঘটেছে, সেই অন্যায় যখন ঘটেছে
আমি নিজে সেই সকল বাচ্চার মায়েদের সাথে কথা বলেছিলাম, আমাদের দলের আইনজীবী, আমাদের
দলের চিকিৎসকরা গিয়ে চিকিৎসা দিয়েছে, আইনজীবীরা গিয়ে সেই আইনি সহায়তা করেছিল। আজকে
যেই ব্যক্তিরা হৈচৈ করছে, রাস্তা অবরোধ করছে, বড় বড় কথা বলছে, সেদিন কিন্তু তাদেরকে
আমরা মাঠে দেখিনি, সেদিন কিন্তু আমরা দেখিনি তারা অবরোধ করেছে।’
তিনি
প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘তাহলে কি আমরা ধরে নেব ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ
যেহেতু বিএনপিকে ভোট দিয়ে সরকার গঠন করতে ক্ষমতা দিয়েছে সেই জন্যই কোনো মহলের মনে জ্বালা
হচ্ছে এবং এই জ্বালার কারণেই তারা এসব ষড়যন্ত্র করছে?’
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, ‘আমাদেরকে সতর্ক হতে হবে। গত ৫ আগস্ট যাদেরকে বাংলাদেশের মানুষ এই দেশ থেকে বিতাড়িত
করে দিয়েছিল, এখন যারা অরাজগতা সৃষ্টি করতে চাইছে তাদের মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে। যেভাবে
‘৯৬ সালে করেছিল, যেইভাবে ’৮৬ সালে করেছিল,
তাদের সাথে নতুন কয়েকটি লেজও গজিয়েছে। সুন্দর
ছোট ছোট লেজেও গজিয়েছে।’
তিনি
বলেন, ‘আমরা এই দেশ থেকে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছি। যেই স্বৈরাচার বাংলাদেশের মানুষের
ভোটের অধিকার, মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, খেটে খাওয়া মানুষ, গ্রামে বাস
করা মানুষের সকল প্রকার উন্নয়ন বন্ধ করে দিয়েছিল সেই স্বৈরাচারকে এই বাংলাদেশের মানুষ
ছাত্র-জনতা রাজপথে একত্রিত হয়ে তাদেরকে এই দেশ থেকে বের করে দিয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, ‘এখন বাংলাদেশের মানুষ দেশ গঠন করতে চায়। বাংলাদেশের মানুষ তার ভাগ্যের পরিবর্তন
করতে চায়। ভাগ্যের পরিবর্তন যদি করতে হয় আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে সক্রিয়
করে তুলতে হবে, আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কাজে ব্যবহার করতে হবে, তাহলেই
আমরা এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারব।’
জনগণের
ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা রুখতে হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলে, ‘আজকে সময় এসেছে
মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য কাজ করার। অন্যদিকে যারা ন্যায় বিচারকে, সঠিক বিচারকে,
বাধাগ্রস্ত করার জন্য বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, মানুষের জন্য গৃহীত কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্তের
জন্য বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তাদের ব্যাপারে বাংলাদেশের মানুষকে সজাগ থাকতে হবে।’
তিনি
বলেন, ‘মনে রাখতে হবে এদেশের মালিক জনগণ। কিছু সংখ্যক মানুষ দেশে বিভ্রান্তি ছড়াবে
আর তারা সফল হয়ে যাবে,মানুষের ভাগ্যে নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে এই কাজ আর হতে দেওয়া যাবে
না। যারা জনগণের সাথে থাকবে জনগণের পাশে থাকবে, জনগণের জন্য কাজ করবে বাংলাদেশের জনগণ
তাদেরকেই সাথে নিয়ে এই দেশকে রক্ষা করবে যে কোন ষড়যন্ত্রের হাত থেকে।’
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, ‘আমার ঘর আমাকেই দেখতে হবে। আমাদের দেশ আমাদেরকেই দেখতে হবে। আমাদের দেশের স্বাধীনতা,
আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব, আমাদের দেশের মানুষের স্বার্থ আমরাই দেখব এবং যে কোন ষড়যন্ত্র
প্রতিহত করব আমরা ইনশল্লাহ।’
ময়মনসিংহ-৭
আসনে সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান লিটনের সভাপতিত্বে সমাবেশে দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী
আসাদুল হাবিব দুলুসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
এর
আগে প্রধানমন্ত্রী খাল পূনঃখনন স্থলে এসেই ফলক উন্মোচন করেন। এরপর তিনি নিজে খালের
কাছে গিয়ে কোদাল দিয়ে ‘ধরার খাল’ পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। তিনি
খালের পাশে একটি তাল গাছের চারাও রোপণ করেন।
মন্তব্য করুন


রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন স্বাধীনতার সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে নতুন প্রজন্মকে উপযুক্ত শিক্ষা দিয়ে সুনাগরিক হিসাবে গড়ে তুলতে স্কাউট নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাংলাদেশ স্কাউটস এর জাতীয় কাউন্সিলের ৫২তম বার্ষিক সাধারণ সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে রাষ্ট্রপতি ও চীফ স্কাউট বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে তথ্য-প্রযুক্তি, কম্পিউটার, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ভাষাসহ জ্ঞান-বিজ্ঞানের সর্বশেষ প্রায়োগিক কলা-কৌশল রপ্ত করতে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত ‘রূপকল্প ২০৪১’ বাস্তবায়নে দেশের যুব সম্প্রদায়কে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ও দেশপ্রেমে উজ্জীবিত দক্ষ ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন স্মার্ট নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন গতানুগতিক স্কাউটিং কার্যক্রমের পাশাপাশি সামাজিক বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে এবং জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রমে জনমত গড়ে তুলতেও স্কাউট নেতৃবৃন্দকে এগিয়ে আসার তাগিদ দেন।
কিশোর ও তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করে ‘স্মার্ট নাগরিক’ হিসেবে গড়ে তুলতে স্কাউট প্রশিক্ষণ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের শিশু, কিশোর ও যুব সমাজকে ব্যাপকভাবে স্কাউটিংয়ের আওতায় আনার লক্ষ্যে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। আকাশ সংস্কৃতির নেতিবাচক প্রভাব, মাদকাসক্তি, তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার আমাদের কিশোর তরুণদের ওপর মারাত্মক কু-প্রভাব ফেলছে। শহর-উপশহরে কিশোর গ্যাং এর উত্থান ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম এসবেরই বহিঃপ্রকাশ।তাই শিশু, কিশোর ও যুবকদেরকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এবং মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে স্কাউট নেতৃবৃন্দকে আরো বেশি তৎপর হতে উপদেশ দেন চীফ স্কাউট।
বর্তমানে স্কাউটের সংখ্যা ২৫ লাখ ৮৭ হাজার যা জনসংখ্যার তুলনায় অপ্রতুল বলে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ স্কাউটস এর ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান-২০৩০ অনুসারে স্কাউট সদস্য ৫০ লক্ষে উন্নীত করার পাশাপাশি এর গুণগত মানও নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদেরকেও স্কাউটিংয়ে সমানভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, বৃক্ষরোপণ, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্য-শিক্ষা, ইপিআই কর্মসূচি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ী হতে উদ্বুদ্ধকরণ এবং পরিবেশ সচেতনতার মতো স্কাউটদের সেবাধর্মী কাজ তৃণমূল পর্যন্ত আরো বিস্তৃত হলে দেশের মানুষও এর সুফল পাবে।
রাষ্ট্রপতি জনগণের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে দেশের যে কোনো দুর্যোগ-দুর্ঘটনায় বিভিন্ন সময়ে অগ্নিকা-ে আহত-নিহতদের সেবাদানেও স্কাউটদের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
এ সময়ে বাংলাদেশ স্কাউটসের বিগত বছরের কার্যক্রমের ওপর নির্মিত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।
এছাড়া বাংলাদেশ স্কাউটস এর প্রশিক্ষণ, প্রোগ্রাম, সমাজ উন্নয়ন ও স্বাস্থ্য বিষয়ক কার্যক্রমসহ স্কাউটিং সম্প্রসারণে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ ‘প্রেসিডেন্ট’স রোভার স্কাউট অ্যাওয়ার্ড’, স্কাউটসের সর্বোচ্চ অ্যাওয়ার্ড ‘রৌপ্য ব্যাঘ্র’ এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অ্যাওয়ার্ড রৌপ্য ইলিশ” প্রদান করা হয়। পদকপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানান চীফ স্কাউট। তিনি সেখানে পুরস্কার প্রাপ্তদের সাথে একটি ফটোসেশনেও অংশ নেন।
স্কাউটিং এর সার্বিক কর্মসূচিকে সময়োপযোগী এবং দেশের টেকসই আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে স্কাউটদের সক্রিয় অবদান রাখার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপ্রধান।
বাংলাদেশ স্কাউটস এর সভাপতি মোঃ আবুল কালাম আজাদ এমপি এতে সভাপতিত্ব করেন। এ সময় বাংলাদেশ স্কাউটস এর প্রধান জাতীয় কমিশনার ড. মোঃ মোজাম্মেল হক খানও বক্তব্য রাখেন।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাখাইনে বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য জাতিসংঘের দ্বারা গ্র্যান্টেড
নিরাপদ অঞ্চল তৈরি এবং তাদের সহায়তা করার উপায় খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, এটি রাখাইনের বিদ্যমান সঙ্কট
সমাধানে এটি একটি ভালো সূচনা হতে পারে এবং বাংলাদেশে হাজার হাজার নতুন শরণার্থীর প্রবেশ
ঠেকাতে পারবে।
আজ সোমবার (১৪ অক্টোবর) মিয়ানমারের
মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টার থমাস অ্যান্ড্রুজ প্রধান উপদেষ্টার
সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাজধানীর তেজগাঁও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে
সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
বিশেষ র্যাপোর্টার থমাস অ্যান্ড্রুজ
রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে গত মাসে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে প্রধান
উপদেষ্টার সঙ্গে সাইটলাইনে বৈঠক করেন এবং এ সময় তিনি জাতিসংঘে রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে
প্রধান উপদেষ্টার উপস্থাপিত তিন দফা প্রস্তাবের প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা বড়
ধরনের সংকট তৈরি করেছে এবং এই পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাসহ বাস্তুচ্যুত ও অনাহারী মানুষের
জন্য জরুরিভিত্তিতে মানবিক সহায়তার প্রয়োজন।
বিশেষ র্যাপোর্টার জানান, মিয়ানমারের
অন্তত ৩.১ মিলিয়ন মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যার মধ্যে রাখাইন রাজ্যের রয়েছে কয়েক লাখ।
বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো এখানে দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে।
তিনি উল্লেখ করেন সাম্প্রতিক সময়ে প্রায়
৩০ হাজার রোহিঙ্গা রাখাইন থেকে বাড়িঘর ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। তবে কক্সবাজারের
আশ্রয় শিবিরগুলোতে ইতোমধ্যে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বসবাস করছে।
অধ্যাপক ইউনূস রাখাইনে সহিংসতা বন্ধ
ও বাস্তুচ্যুত মানুষের সজন্য আসিয়ানসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলোচনা করার পরামর্শ
দেন। তিনি হাজার হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে তৃতীয় কোনো দেশে পুনর্বাসন ত্বরান্বিত করতে
বিশেষ র্যাপোর্টারের সহায়তা চান।
২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত
নৃশংসতার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের তদন্ত এবং বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন
সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে পাচার অর্থ ফিরিয়ে আনতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ব্রিটিশ সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন ।
বুধবার (২১ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
এ বৈঠক এর সময় ড. ইউনূস পাচার অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের সহযোগিতা চান।
শফিকুল আলম বলেন, ‘আমরা বৈশ্বিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জানি যে বাংলাদেশ থেকে প্রচুর টাকা পাচার হয়ে গেছে। যুক্তরাজ্যে বিপুল সংখ্যক মানুষ বাড়িঘর করেছেন। পাচার হওয়া এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কীভাবে ফেরত আনা যায় সে বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন ড. ইউনূস।’
তিনি আরো বলেন, সরকার পাচার হওয়া অর্থ ফেরত এনে দেশ পুনর্গঠনের কাজে লাগাতে চায়।
বুধবার ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক ছাড়াও জাপানের রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনোরি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা চালু করার বিষয়ে
অগ্রগতি অর্জিত হওয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বিভিন্ন খাতে দেশটির বিনিয়োগ প্রস্তাবকে
স্বাগত জানান।
আজ বুধবার (৭ মে) ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন
যমুনায় ইউএই’র টলারেন্স এ্যান্ড এক্সিসটেন্স বিষয়ক কেবিনেট মন্ত্রী শেখ নাহায়ান
বিন মুবারক আল নাহায়ানের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার
সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এসময় অধ্যাপক ইউনূস ইউএই’কে ধন্যবাদ জানান।
শেখ নাহায়ানের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলটি আজ
দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে ঢাকায় স্বল্প সময়ের সফরে পৌঁছান। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী তাদেরকে অভ্যর্থনা জানান।
প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ বিন আলি আল সায়েঘ, বিনিয়োগ মন্ত্রণালয়ের
আন্ডার সেক্রেটারি মোহাম্মদ আবদুর রহমান আল হাওয়ি।
আল নাহায়ান প্রধান উপদেষ্টাকে বলেন, বাংলাদেশের
প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং আমাদের বন্ধুত্ব পুনর্ব্যক্ত করতে ‘আমি আমাদের প্রেসিডেন্টের
নির্দেশে এখানে এসেছি।
তিনি বলেন, আমাদের দুই দেশের সরকারের মধ্যে
সাম্প্রতিক সময়ের বাড়তি সংলাপকে আমরা প্রশংসা করি। আমরা বিনিয়োগ থেকে শুরু করে ভিসা
পর্যন্ত সব খাতে সহযোগিতার আশ্বাস দিচ্ছি এবং আমরা একসাথে কাজ করতে ইচ্ছুক।
এই সৌহার্দ্যমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করে অধ্যাপক
ইউনূস বলেন, আমরা এ ধরনের সম্পৃক্ততা ও সহযোগিতাকে স্বাগত জানাই। আমরা বিভিন্ন খাতে
বিনিয়োগ প্রস্তাবকেও স্বাগত জানাই।
ভিসা নীতিতে শিথিলতার কথা উল্লেখ করে প্রধান
উপদেষ্টা বলেন, ভিসার দরজা খোলার জন্য ধন্যবাদ। এখনও কিছু পদক্ষেপ নেওয়া বাকি আছে,
আশা করি আমরা সম্পৃক্ত থাকবো এবং সমস্যাগুলো সমাধান করবো।
সম্প্রতি ইউএই প্রতিদিন ৩০ থেকে ৫০টি ভিজিট
ভিসা ইস্যু করছে।
ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের জন্য ভিসাগুলোও সাম্প্রতিক
সময়ে দ্রুত অনুমোদিত হচ্ছে। সেইসাথে, মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় দক্ষ কর্মীদের জন্য অনলাইন
ভিসা সিস্টেম পুনরায় চালু করেছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিপণন ব্যবস্থাপক,
হোটেল কর্মীসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের ভিসাও এই
পদ্ধতিতে দেওয়া হয়।
এ ছাড়াও, নিরাপত্তা রক্ষীদের জন্য ৫০০ ভিসা
ইতোমধ্যে ইস্যু হয়েছে এবং আরও এক হাজার ভিসা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
ঢাকায় নিযুক্ত ইউএই রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলি
আল হমোদি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদও বৈঠকে
উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নবনিযুক্ত চার বিচারপতি আজ শপথগ্রহণ করেছেন।
শপথগ্রহণ করা আপিল বিভাগের চার বিচারপতি হলেন, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল করিম, বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক।
মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের জাজেজ লাউঞ্জে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ আপিল বিভাগের চার নবনিযুক্ত বিচারককে শপথবাক্য পাঠ করান।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল আজিজ আহমদ ভূঞা।
শপথ অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট উভয় বিভাগের বিচারপতিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবং অন্যান্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
চার বিচারপতি নিয়োগ কার্যকরের মধ্য দিয়ে আপিল বিভাগে বিচারপতির সংখ্যা দাঁড়ালো ৬ জনে।
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে কর্মরত চার বিচারপতিকে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সোমবার (১২ আগস্ট) রাতে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৫ (১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে কর্মরত চারজন বিচারককে তাদের শপথগ্রহণের তারিখ থেকে আপিল বিভাগের বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। শপথগ্রহণের দিন থেকে এই নিয়োগ কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে গত শনিবার (১০আগস্ট) দেশের ২৪তম প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান এবং আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতি পদত্যাগ করেন। পদত্যাগের আগে আপিল বিভাগে বিচারপতির সংখ্যা ছিল ৭। শনিবার রাতে দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান হাইকোর্ট বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। পরদিন রোববার (১২ আগস্ট) প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন তিনি।
বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। দুই বছর পর ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান তিনি।
বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল করিম, বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক ২০০৪ সালের ২৩ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। দুই বছর পর ২০০৬ সালের ২৩ আগস্ট এই তিন বিচারপতি হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।
মন্তব্য করুন


জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ভাষণে ফিলিস্তিনের
নির্যাতিত মানুষের পক্ষে সোচ্চার বক্তব্য রাখায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ
ইউনূসের প্রশংসা করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ রামাদান।
আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) প্রধান
উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সৌজন্য সাক্ষাতে
এ প্রশংসা করেন তিনি। বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতি
বৈশ্বিক সমর্থন, গাজায় গণহত্যা এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা হয়।
ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত ইউসুফ রামাদান
জাতিসংঘে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের প্রশংসা করে বলেন, ‘সময়োপযোগী এবং ফিলিস্তিন
ইস্যুতে একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় স্পটলাইট তৈরি করেছে।’
ফিলিস্তিন রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে
শিক্ষা গ্রহণকারী প্রায় ৬০ ফিলিস্তিনি চিকিৎসক এখন গাজায় রোগীদের সেবা করছেন।’ আরও দুই শতাধিক ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী
বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় প্রধান উপদেষ্টা ফিলিস্তিন রাষ্ট্র
ও এর জনগণের প্রতি বাংলাদেশের অব্যাহত সমর্থন ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ফিলিস্তিনি
জনগণের সমর্থন অব্যাহত রাখবে।’ফিলিস্তিনের
জনগণ তাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীন রাষ্ট্র পাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
মন্তব্য করুন


জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৫।
আজ শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বিকেল ৩টায় বইমেলার উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
উদ্বোধনের পর বিকেল ৫টা থেকে মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
এবারের অমর একুশে মেলায় গণ অভ্যুত্থানের নানা চিত্র ফুটিয়ে তোলা হবে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বইমেলায় থাকছে ‘জুলাই চত্বর’। মেলায় বিভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হবে গণঅভ্যুত্থানকে।
১ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বেলা ৩ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। রাত সাড়ে ৮ টার পর নতুন করে কেউ মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবেন না। ছুটির দিন বইমেলা চলবে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত (৮ ফেব্রুয়ারি ও ১৫ ফেব্রুয়ারি ছাড়া)। ২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহিদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে মেলা শুরু হবে সকাল ৮ টায় এবং চলবে রাত ৯ টা পর্যন্ত।
এবারের বইমেলায় মোট প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ৭০৮টি, বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ১৯৯টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৬০৯টি; মোট ইউনিট ১০৮৪টি (গত বছর প্রতিষ্ঠান ছিল ৬৪২টি এবং ইউনিট ছিল ৯৪৬টি)। এবার মোট প্যাভিলিয়নের সংখ্যা ৩৭টি, বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ০১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৩৬টি; (গত বছর প্যাভিলিয়নের সংখ্যা ছিল ৩৭টি)। লিটল ম্যাগাজিন চত্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চের কাছাকাছি গাছতলায়। সেখানে প্রায় ১৩০টি লিটলম্যাগকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শিশু চত্বরে মোট প্রতিষ্ঠান ৭৪টি এবং ইউনিট ১২০টি (গত বছর প্রতিষ্ঠান ছিল ৬৮টি এবং ইউনিট ১০৯টি)।
বাংলা একাডেমির ৩টি প্যাভিলিয়ন এবং শিশুকিশোর উপযোগী প্রকাশনার বিপণনের জন্য ১টি স্টল থাকবে। ৮ ও ১৫ ফেব্রুয়ারি ব্যতীত প্রতি শুক্র ও শনিবার মেলায় সকাল ১১ টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত ‘শিশুপ্রহর’ থাকবে। অমর একুশে উদ্যাপনের অংশ হিসেবে শিশুকিশোর চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি এবং সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকছে।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা থাকবে। এবারের মেলায় বাংলা একাডেমি প্রকাশ করছে নতুন ৪৩টি ও পুনর্মুদ্রিত ৪১টি বই। বইমেলায় বাংলা একাডেমি এবং মেলায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ২৫ শতাংশ ছাড়ে বই বিক্রি করবে। প্রতিদিন বিকেল ৪টায় বইমেলার মূল মঞ্চে সেমিনার এবং সন্ধ্যায় থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
মন্তব্য করুন


সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত রয়েছে এমন ব্যক্তি বা সত্তার এবং
তাদের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করে সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন করেছে উপদেষ্টা পরিষদ।
আজ রোববার (১১ মে) ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান
উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের এক বৈঠকে
এই খসড়া অনুমোদন করে উপদেষ্টা পরিষদ।
বৈঠকের সারসংক্ষেপে বলা হয়, কতিপয় সন্ত্রাসী কার্য প্রতিরোধ
এবং উহাদের কার্যকর শাস্তির বিধানসহ আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সম্পর্কে বিধান প্রণয়ন করার
নিমিত্ত সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ প্রণয়ন করা হয়।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, কোন ব্যক্তি বা সত্তা সন্ত্রাসী
কার্যের সহিত জড়িত রয়েছে মর্মে যুক্তিসঙ্গত কারণের ভিত্তিতে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন
দ্বারা, ঐ ব্যক্তিকে তফসিলে তালিকাভুক্ত করতে পারে বা সত্তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা ও তফসিলে
তালিকাভুক্ত করতে পারে। তবে বর্তমান আইনে কোন সত্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধকরণের বিষয়ে
কোন বিধান নেই।
এই বিষয়টি স্পষ্টীকরণসহ বিধান সংযোজন আবশ্যক হেতু সন্ত্রাস বিরোধী
আইন, ২০০৯ কে সময়োপযোগী করে আইনের অধিকতর সংশোধন সমীচীন ও প্রয়োজন।
বর্ণিত প্রেক্ষাপটে সন্ত্রাস বিরোধী আইন সংশোধন করে সত্তার কার্যক্রম
নিষিদ্ধ করা, প্রয়োজনীয় অভিযোজন করা এবং অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার নিষিদ্ধকরণের
বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন