

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আনুপাতিক হারে নির্বাচনের প্রশ্নই ওঠে না। বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ঢাকাস্থ ভারপ্রাপ্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন চায় না বিএনপি। এছাড়া, বিএনপি আনুপাতিক হারে নির্বাচনের ব্যবস্থার পক্ষে নয়।
জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থান বিষয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদনকে স্বাগত জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বিগত ১৭ বছরের সব গণহত্যার জন্য শেখ হাসিনা দায়ী। তিনি আরও বলেন, দেশে কোন রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা বা নিষিদ্ধ হবে কিনা, তা জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে।
এছাড়া, ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশনার লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলেও জানান বিএনপি মহাসচিব।
মন্তব্য করুন


শাপলা ছাড়া বিকল্প প্রতীক পছন্দের শেষ দিনে নির্বাচন কমিশনে এসে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা বলেছেন, কোনো ধরনের চাপিয়ে দেওয়া প্রতীক তারা নেবে না। শাপলা প্রতীকের বিষয়ে অনঢ় অবস্থানের কথা তুলে ধরে ইসির চিঠি জবাব দিয়েছে দলটি।
রোববার সকালে নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এনসিপির প্রতিনিধিদল।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আমরা দেখেছি যে নির্বাচন কমিশন একটি স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। আমাদের কাছে মনে হয়েছে যে এই সিদ্ধান্তগুলো আসলে চাপিয়ে দেওয়া। প্রতীক বাছাইয়ে ইসির চাপিয়ে দেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে না।
বর্তমান ইসির প্রতীক বরাদ্দে কোনো নীতিমালা নেই মন্তব্য করে এ নেতা বলেন, ‘ইসির মনোভাব দেখে মনে হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক অটোক্রেসি তৈরি হয়েছে। বিদ্যমান দলগুলোকে যে মার্কা দেওয়া হয়েছে কোনো নীতিমালা নেই। মধ্যযুগী বর্বর শাসন ব্যবস্থা যেমন দেখতাম রাজা যেমন ইচ্ছা করছে...। রাজা বাদশাহদের আচরণের সঙ্গে তাদের সাদৃশ্য রয়েছে। নির্বাচন আসলে রিমোট কন্ট্রোলটা এটা অন্য জায়গায়। নির্বাচন কমিশন (ইসি) স্পাইনলেন (মেরুদণ্ডহীন)।’
বর্তমান ইসির সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন করার যোগ্যতা নেই বলে মন্তব্য করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ।
এনসিপির মূখ সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, দলের পক্ষ থেকে চিঠির জবাব দিয়ে চারটি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এ ইসির অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।
তার মতে, দেড় কোটি মৃত ও প্রবাসী ভোটার তালিকায় রয়েছে, এটা সংশোধন করতে বলা হয়েছে। দলীয় কর্মকর্তা ও দুর্নীতিগ্রস্তদের সরাতে হবে। চারটি বিষয় সমাধান করতে হবে। সমাধান করতে না পারলে ইসির পদত্যাগ করতে হবে। শাপলা পাবো আশাবাদী।
যুগ্ম আহ্বাবায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, আমাদের জন্য ৫০টি প্রতীক রয়েছে। বেগুন, খাটসহ প্রতীক রয়েছে। আমরা স্পষ্ট প্রশ্ন করেছি, কোন নীতিমালার ভিত্তিকে এ তালিকা করা হয়েছে।
এননিসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব জহিরুল ইসলাম মূসা বলেন, ইসি আইনগতভাবে যে কোনো প্রতীক বরাদ্দ দিতে পারে না। এটা আমরা ইসিকে জানিয়েছি।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সমনে রখে এনসিপিসহ দুটি দলকে নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। দল দুটির প্রতীকসহ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রক্রিয়া চলছে।
নির্ধারিত তালিকা থেকে প্রতীক পছন্দ করতে গেল সপ্তাহে এনসিপিকে চিঠি পাঠানোর পর ইসি সচিব আখতার আহমেদ মঙ্গলবার বলেছিলেন, এনসিপি আগামী রোববারের মধ্যে নির্বাচন পরিচালনা বিধির তফসিলে থাকা তালিকা থেকে প্রতীক বাছাই করে জানাতে ব্যর্থ হলে ইসি ‘নিজস্ব পদ্ধতিতে’ এনসিপিকে মার্কা বরাদ্দ দেবে।
এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর এনসিপিকে তফসিলে থাকা ৫০টি প্রতীক থেকে ৭ অক্টোবরের মধ্যে মার্কা বেছে নিতে চিঠি দেয় ইসি। নির্ধারিত সময়ে এনসিপি পছন্দের প্রতীক বাছাই না করে বিধি সংশোধন করে ফের শাপলা বরাদ্দের দাবি জানায়। কিন্তু ইসি কাউকে শাপলা প্রতীক না দেওয়ার বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে।
এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে ইসি এরই মধ্যে জানান, এনসিপি শাপলা দাবি করলেও প্রতীক তালিকায় না থাকায় তা বরাদ্দ দেওয়া যায়নি। ইসির সিদ্ধান্ত একই।
মন্তব্য করুন


বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছন, জেতানোর মালিক আল্লাহ। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বেলা ১টার দিকে সিলেটের আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির জনসভায় উপস্থিত হয়ে তিনি এমন কথা বলেন। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তারেক রহমান সমাবেশের মঞ্চে হাজির হন।
বক্তব্য দেওয়ার এক পর্যায়ে তিনি সমাবেশ থেকে ওমরাহ পালন করে আসা একজনকে মঞ্চে ডেকে নেন। বিএনপির চেয়ারম্যান ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করেন, আপনি তো কাবা শরীফে গিয়েছেন, কাবা শরীফের মালিক কে?
এখানে সবাই মুসলমান—উল্লেখ করে তারেক রহমান তার কাছে তিনি জানতে চান, এই দুনিয়া, জান্নাত–জাহান্নামের মালিক কে? জবাবে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘আল্লাহ।’
এরপর বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, আপনারা সবাই সাক্ষী দিলেন, দোজখের মালিক আল্লাহ, বেহেশতের মালিক আল্লাহ, এই পৃথিবীর মালিক আল্লাহ, সবার মালিক আল্লাহ। জেতার মালিকও আল্লাহ। সেটা কি অন্য কেউ দেওয়ার ক্ষমতা রাখে? রাখে না।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগেই একটি দল এই দিবো, ওই দিবো বলছে, টিকেট দিবো বলছে। জেতার মালিক মানুষ না, সেইটার কথা যদি যে বলে, শিরক করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর পল্টন মডেল থানায় দায়ের করা নাশকতার এক মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ ১৬৭ নেতাকর্মীকে দায়মুক্তি দিয়েছেন আদালত।
সোমবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ সাব্বির ফয়েজের আদালত পুলিশের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে এ আদেশ দেন।
আদালত অব্যাহতি দেওয়া অন্য নেতাদের মধ্যে রয়েছেন—মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কফিল উদ্দিন, যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুর রশিদ হাবিব, মিডিয়া উইংয়ের শামসুদ্দিন দিদার, নির্বাহী সদস্য নিপুণ রায়, যুবদল সভাপতি রফিকুল ইসলাম মনজু, ছাত্রদল দক্ষিণের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন প্রমুখ।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহি উদ্দিন চৌধুরী বলেন, 'এই মামলায় তদন্ত শেষে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, অভিযোগের কোনও সত্যতা মেলেনি। চূড়ান্ত প্রতিবেদনেই আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।' তিনি বলেন, 'ফ্যাসিস্ট সরকারের করা এই মিথ্যা মামলায় দেরিতে হলেও আমরা আইনের আশ্রয়ে সুবিচার পেয়েছি।'
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১৪ নভেম্বর রাজধানীর ফকিরাপুল থেকে বিএনপি নেত্রী আফরোজা আব্বাসের নেতৃত্বে একটি মিছিল নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আসে। একইভাবে নবী উল্লাহ নবী, কফিল উদ্দিন এবং পরে মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে আরও তিনটি মিছিল ওই এলাকায় জমায়েত হয়।
অভিযোগে বলা হয়, তারা ভিআইপি রোড অবরোধ করে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় এবং পুলিশের অনুরোধে কর্ণপাত না করে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। পরে বিএনপি অফিস থেকে বের হয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে তারা পুলিশের গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয়, ভাঙচুর চালায় এবং পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
এ ঘটনায় পল্টন থানার এসআই মো. আল-আমিন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে সম্প্রতি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
আদালত সেই প্রতিবেদন গ্রহণ করে আসামিদের দায়মুক্তির আদেশ দেন।
মন্তব্য করুন


গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার জন্য যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তাতে ফেরার একমাত্র পথ হলো সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আর বিকল্প কোনো পথ নেই।
শুক্রবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, যতই সংস্কার করি বা বুদ্ধিজীবীরা মিলে কৌশল আবিষ্কারের চেষ্টা করি, নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা না করা পর্যন্ত গণতন্ত্রে ফিরে যেতে পারব না।
মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রকামী ও স্বাধীনতাকামী। তারা বারবার লড়াই করেছে, সংগ্রাম করেছে এবং রক্ত দিয়েছে স্বাধীনতার জন্য। দুর্ভাগ্য হচ্ছে সেই লড়াইয়ে মানুষ বারবার হোঁচট খেয়েছে। তবে যতবার হোঁচট খেয়েছে, ততবারই উঠে দাঁড়িয়েছে এবং আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিজয় অর্জন করেছে।
হাসিনাকে শুধু ‘হাসিনা’ বললে সম্মান দেয়া হবে এমন মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, দানব হাসিনা দেশের বিচার ব্যবস্থা, প্রশাসন, নির্বাচন ব্যবস্থা, আমাদের অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ব্যবস্থা- সমস্ত কিছু তছনছ করে দিয়েছে।
তিনি বলেন, কিছু কিছু মানুষ বা সংগঠন জুলাই আন্দোলনকে নিজেদের আন্দোলন বলে দাবি করে। অথচ গণতন্ত্রের জন্য বিএনপি দীর্ঘ সময় ধরে লড়াই করেছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ধানের শীষকে আটকে দেয়ার চেষ্টা চলছে। ধানের শীষ জিতে গেলে বাংলাদেশ নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীরা চলে যেতে বাধ্য হবে।
স্বৈরাচারবিরোধী গণ-আন্দোলনে শহিদ নাজিরউদ্দিন জেহাদের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এই সভার আয়োজন করেন নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের নেতারা।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে নস্যাৎ করতে পরিকল্পিত প্রচেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। এখনো প্রশাসেন বিভিন্ন স্তরে আওয়ামী লীগের দোসররা অবস্থান করছে বলেও জানান তিনি।
শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত ছাত্রদলের সাবেক নেতাকে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর পক্ষ থেকে সহায়তা প্রদান শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বিগত সময় চারজনের পরামর্শে শেখ হাসিনা সব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন।
তাদের পরামর্শে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় ছাত্র জনতাকে গুলি করে, বোমা মেরে হত্যা করা হয়েছে।’ এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থাকা সত্ত্বেও অপরাধীরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে ‘আমরা বিএনপি পরিবারের’ প্রতিনিধিদল আহত ভূলতা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি দোলন ভূঁইয়ার স্বাস্থ্যের সার্বিক খোঁজ খবর নেয়। পরে তার হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ‘আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন, সদস্য সচিব মোমিন মিথুনসহ সংগঠনের সদস্যরা। এছাড়া জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনিসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
মন্তব্য করুন


সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে শুধু নির্বাচন কমিশনের জন্য ৫ সদস্যের সিলেকশন কমিটি গঠনের সঙ্গে একমত বিএনপি। এজন্য একটা সার্চ কমিটি গঠন করার সুপারিশ করা হয়েছে।
আজ বুধবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে দ্বিতীয় ধাপের সংলাপের ১৮ তম দিন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা শুধুমাত্র সংবিধানে উল্লেখ থাকলেই যথেষ্ট নয়, তার কার্যকর স্বাধীনতা উপযুক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে নিশ্চিত করতে হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা অতীতে বলে এসেছি যে, প্রতিটি সাংবিধানিক এবং সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের জন্য সংবিধানে আলাদা করে নিয়োগ প্রক্রিয়া না এনে, সংশ্লিষ্ট আইনের মাধ্যমে সেসব প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আচরণবিধি নিশ্চিত করতে হবে। তবে, নির্বাচন কমিশনের বিষয়টি সংবিধানে আলাদা করে উল্লেখ করা যায়- এই ক্ষেত্রে আমরা একমত।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য জানায়, সংলাপে সব পক্ষের আলোচনার ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠনে একটি পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট সিলেকশন কমিটি গঠনের প্রস্তাব চূড়ান্ত রূপ পেয়েছে। এই কমিটিতে থাকবেন- জাতীয় সংসদের স্পিকার (সভাপতি), বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত ডেপুটি স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা এবং প্রধান বিচারপতির মনোনীত একজন আপিল বিভাগের বিচারপতি।
এই কমিটি নির্বাচন কমিশনের জন্য প্রার্থী খুঁজে বের করতে একটি অনুসন্ধান প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে, যেখানে সিভিল সোসাইটি, রাজনৈতিক দল ও সাধারণ জনগণ নাম জমা দিতে পারবে। সংসদে একটি আইন প্রণয়ন করে এই অনুসন্ধান বা সার্চ কমিটির কাঠামো নির্ধারণ করার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এই সার্চ কমিটি জীবনবৃত্তান্ত যাচাই-বাছাই করে একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রস্তুত করবে এবং সেটি সিলেকশন কমিটির কাছে পাঠাবে। কমিটি চাইলে এই তালিকা থেকে অথবা নিজেরা আরও প্রার্থী বিবেচনায় নিয়ে সর্বসম্মতিক্রমে কমিশনারদের নাম রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করবে।’
মন্তব্য করুন


রাজধানীর পরিবাগ সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, "নববর্ষে জাতির প্রধান আকাঙ্ক্ষা হলো ভোটাধিকার ফিরে পাওয়া। কারণ, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা দেশবাসীর ভোটাধিকারসহ সকল মৌলিক অধিকার কেড়ে নিয়ে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন।"
সতীর্থ স্বজনের আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রিজভী জুলাই মাসে ছাত্রদলের আন্দোলনের কথা স্মরণ করে বলেন, "আমি কারাগারে থাকা অবস্থায় শুনেছি, তরুণদের আন্দোলন কতটা তীব্র ছিল। পুলিশ বলছে, 'একজনকে গুলি করলে আরেকজন এসে দাঁড়ায়।' এই সাহস ও প্রেরণা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামসহ অন্যান্য কবি-সাহিত্যিকদের রচনা থেকে এসেছে।"
তিনি আরও বলেন, "গত ১৫ বছর ধরে একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে দেশের সংস্কৃতিকে বিকৃত করার চেষ্টা করেছে। এমনকি পহেলা বৈশাখের মতো উৎসবেও মুখোশ পরে আমাদের নেত্রীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। দাড়ি-টুপি পরা মানুষদের নিয়ে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। কিন্তু দাড়ি-টুপি পরা মানুষরা কি খারাপ? না।"
রিজভী গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংকল্প ব্যক্ত করে বলেন, "আমরা ১৬ বছর ধরে যে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছি, তা নিশ্চিত করতে হবে। এই নববর্ষে আমাদের দাবি—দ্রুত ভোটাধিকার ফিরে পাওয়া। শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসন জনগণের অধিকার হরণ করেছে, কিন্তু আমরা তা ফিরে পাবই।"
সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "ভোটাধিকার ও সংস্কারকে এক করে দেখা উচিত নয়। গণতন্ত্র হলো প্রবাহমান নদীর মতো, যেখানে কর্তৃত্ববাদের স্থান নেই। অনেক উপদেষ্টা এখন বিএনপিকে শত্রু ভাবছেন। তারা ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র বাদ দিয়ে শুধু সংস্কারের কথা বলছেন—এটি আমাদের বোধগম্য নয়।"
অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল বলেন, "ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনমুক্ত দেশই ছাত্রদলের জন্য ঈদের মতো আনন্দের দিন বয়ে আনবে। এই নববর্ষে সবার মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সম্প্রীতির প্রত্যাশা করি।"
এই আলোচনা সভায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়, যেখানে বিভিন্ন শিল্পী দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরেন।
মন্তব্য করুন


বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বিএনপি দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে প্রথম দিন থেকে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করবে এবং তাকরার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞ টিম এ বিষয়ে কাজ করছে।’
মঙ্গলবার (০৫ আগস্ট) চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিভাসু) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ‘ভেটেরিনারি সায়েন্স, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইসিটি ইত্যাদি খাতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আর সেটাই হবে নতুন বাংলাদেশের লক্ষ্য।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে এককভাবে রাজত্ব কায়েম করেছিল। আমাদের গণতন্ত্র পরিপূর্ণভাবে পুনঃপ্রবর্তন করতে হবে। সেই গণতন্ত্র প্রবর্তনের জন্য আমাদের মনমানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। ভিন্নমতের প্রতি সম্মান জানাতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন অনিবার্য ছিল। বিগত ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষের ওপর অবিচার হয়েছে। ৬০-৭০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে, কয়েক হাজার লোক গুম হয়েছে, খুন হয়েছে, পুলিশের হেফাজতে মৃত্যুবরণ করেছে, জেলখানার মধ্যে চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণ করেছে। গত ৫ আগস্ট আমি নিজেও কারাগারে বন্দী ছিলাম।’
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘জুলাইয়ের ত্যাগের প্রতি আমরা যদি সম্মান জানাতে চাই, তাহলে যার যার অবস্থান থেকে দেশ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করতে হবে। তাহলে এই ত্যাগের সঠিক মূল্যায়ন করা হবে। নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে নতুনভাবে চিন্তা করতে হবে। আমাদের মনমানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে। কথাবার্তায়, আচার-আচরণে গণতান্ত্রিক হতে হবে। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে বড় পরিবর্তন আনতে হবে।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিভাসু উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. ওমর ফারুক ইউসুফ, সিভাসুর পরিচালক (বহিরাঙ্গন কার্যক্রম) অধ্যাপক ড. এ কে এম সাইফুদ্দিন, পরিচালক (ছাত্রকল্যাণ) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রাশেদুল আলম এবং পরিচালক (পিআরটিসি) অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. হুমায়ুন কবির। স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান।
মন্তব্য করুন


তারেক রহমানই দেশের ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ শনিবার ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) জাতীয় কাউন্সিলে এ মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, তারেক রহমান যে ৩১ দফা প্রস্তাব করেছেন, তা দেশের স্বাস্থ্য খাতসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনার শক্তি রাখে।
মির্জা ফখরুল বলেন, পারস্পরিক হিংসার যে কালচার তৈরি করা হয়েছে, তা আমাদের ধ্বংস করেছে, আমাদের এ কালচার থেকে বের হয়ে আসতে হবে।
সরকারের ওষুধশিল্প নীতিসহ বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, শুধু ভোটের অধিকার নয়, মানুষের সব অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মন্তব্য করুন


বিএনপির নারী কর্মী ও সমর্থকরা প্রতিনিয়ত জামায়াত ও ছাত্র শিবিরের আক্রমণের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যান কার্যালয়ে ভুক্তভোগী নারী কর্মীদের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ধর্মকে ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশের নারীদের সম্পর্কে অশ্লীল ভাষায় মন্তব্য করছে একটি রাজনৈতিক দলের বট বাহিনী। জামায়াত ও ছাত্র শিবির নারীদের অনলাইন অফলাইন সব মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করছে। প্রতিনিয়ত বিএনপির নারী কর্মীদের হুমকি দিচ্ছে।
জামায়াতের কোনো নারী সংসদ সদস্য প্রার্থী নেই উল্লেখ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন দেশের নারীরা। দলটির আমির প্রকাশ্যে বলেছেন, তার দলের প্রধান কখনো কোনো নারী হতে পারবে না।
মন্তব্য করুন