

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, কোনো দলের কার্যক্রম স্থগিত থাকলে তাদের প্রতীকও স্থগিত থাকবে। তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। কিন্তু প্রতীক ছাড়া স্বতন্ত্র দাঁড়াতে পারবে কিনা সেটা সময় বলে দেবে।
অর্থাৎ আওয়ামী লীগের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার না হলে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসির নিবন্ধিত এ দলটি দলীয় প্রতীক নিয়ে অংশ নিতে পারবে না। আওয়ামী লীগের নাম না নিলেও স্থগিত থাকার দলের বিষয়ে ইসির অবস্থান স্পষ্ট করলেন ইসি সানাউল্লাহ।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন ভবনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন নিয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের সংশোধনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তালিকায় সশস্ত্র বাহিনী যুক্ত করা হয়েছে। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ভোটকেন্দ্র স্থাপন করবেন। এছাড়া আদালত কর্তৃক যারা ফেরারি হবেন, তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। লাভজনক পদে যারা আছেন বলে গণ্য হবেন এবং যারা সরকারি ৫০ শতাংশ বা তার বেশি শেয়ার আছে এমন প্রতিষ্ঠানে কাজ করলে তারা অংশ নিতে পারবেন না। এছাড়া হলফনামায় তথ্য গোপন বা মিথ্যা তথ্য দিলে ইসি পরে ব্যবস্থা নিতে পারবে এবং সেই ব্যক্তি সংসদ সদস্য পদ হারাবেন। পাশাপাশি প্রার্থীর জামানত ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, একক প্রার্থী থাকলে সেই আসনে ‘না’ ভোট থাকবে ব্যালটে। জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করলেও প্রার্থীরা নিজ নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করবেন। ইভিএম সংক্রান্ত সব বিধান বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া মিডিয়ার ব্যক্তিরা ভোট গণনায় থাকতে পারবেন। পাশাপাশি নির্বাচনী পোস্টার বাতিল করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে আচরণবিধি ভঙ্গ হয় তা করা যাবে না। এছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন স্থগিত থাকবে ও প্রতীক সংরক্ষিত থাকবে, ভোট শব্দ কিছু স্থানে ছিল, এগুলো নির্বাচন করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই কানুকে গলায় জুতার মালা পরিয়ে হেনস্থার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, চৌদ্দগ্রামে বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাইকে মানহানির ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, আব্দুল হাই হত্যাসহ ৯টি মামলার আসামি। আমরা সবাইকে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।
ভুক্তভোগী আব্দুল হাই কানুর অভিযোগ, রোববার দুপুরে ওষুধ কিনতে বাড়ির কাছে বাজারে গিয়েছিলেন। এ সময় স্থানীয় জামায়াত কর্মী আবুল হাসেমের নেতৃত্বে ১০-১২ জন তাকে ধরে জুতার মালা পরিয়ে দেন। সেই সঙ্গে তাকে দ্রুত এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়।
আবদুল হাই কানুকে লাঞ্ছিত করার এই ঘটনার ভিডিও গতরাতে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। তবে স্থানীয় জামায়াত দাবি করছে, আবুল হাসেমসহ ঘটনায় জড়িতরা জামায়াতের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়।
এদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই কানুকে হেনস্তাকারীদের অবশ্যই আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
সোমবার সকালে বিজিবির সদরদপ্তরে বিজিবি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, কিছু সংখ্যক দুষ্কৃতিকারী সব জায়গায় রয়ে গেছে। যে দুষ্কৃতিকারীরা তাকে হেনস্তা করেছে, তাদেরকে অবশ্যই আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
মন্তব্য করুন


বর্তমান রাষ্ট্র কাঠামো ও অর্থনৈতিক কাঠামোর পরিবর্তন দরকার। যেটা রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব নয়। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এটি সংস্কার করতে হবে। শনিবার (২৬ জুলাই) সকালে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, গেলো ১৫ বছরে দেশের মানুষের সব স্বপ্নকে গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে। অর্থনীতি, গণতন্ত্র ও রাজনীতির কাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়েছে। জবাবদিহিতার অভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের পুনর্গঠনে সব সমস্যাকে পাশ কাটিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। সবাই মিলে সহযোগিতা করছে বলেই সরকার চলছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিলম্ব না করে অতিদ্রুত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরে যেতে হবে। যৌক্তিক কারণে নির্বাচন চায় বিএনপি। অর্থনীতি ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমান বড় পরিবর্তন নিয়ে এসেছেন, যা পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ট্রাম্পের ট্যারিফ আমাদের খুব বিপদে ফেলতে যাচ্ছে। এখান থেকে উত্তরণে বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা জরুরি।
মন্তব্য করুন


ভোক্তা পর্যায়ে এলপি গ্যাসের নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। জুলাই মাসের জন্য ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৪০৩ থেকে ৩৯ টাকা কমিয়ে এক হাজার ৩৬৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কমেছে অটোগ্যাসের দামও। প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম এক টাকা ৮৪ পয়সা কমিয়ে ৬২ টাকা ৪৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। জুন মাসে প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ৬৪ টাকা ৩০ পয়সা ছিল।
আজ বুধবার নতুন এ মূল্যের ঘোষণা দেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। নতুন এ দাম আজ সন্ধ্যা থেকে কার্যকর হবে।
বিইআরসি চেয়ারম্যানের ঘোষণা অনুযায়ী, সাড়ে ৫ কেজির বোতলজাত এলপিজির দাম ৬২৫ টাকা, সাড়ে ১২ কেজির দাম এক হাজার ৪২১, ১৫ কেজির দাম এক হাজার ৭০৫, ১৬ কেজির দাম এক হাজার ৮১৮, ১৮ কেজির দাম দুই হাজার ৪৬, ২০ কেজির দাম দুই হাজার ২৭৩, ২২ কেজির দাম আড়াই হাজার, ৩০ কেজির দাম তিন হাজার ৪০৯, ৩৩ কেজির দাম তিন হাজার ৭৫০, ৩৫ কেজির দাম তিন হাজার ৯৭৭ এবং ৪৫ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫ হাজার ১১৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে গত ২ জুন সবশেষ সমন্বয় করা হয় অটোগ্যাসের দাম। সে সময় ভোক্তা পর্যায়ে ১ টাকা ২৭ পয়সা কমিয়ে অটোগ্যাসের মূসকসহ দাম প্রতি লিটার ৬৪ টাকা ৩০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে চার দফা কমেছিল এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম, আর বেড়েছে সাত দফা। এ দফা ছিল অপরিবর্তিত। গত বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চ, জুলাই, আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর বাড়ানো হয়েছিল এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম। আর দাম কমেছিল এপ্রিল, মে, জুন ও নভেম্বরে। তবে দাম অপরিবর্তিত ছিল ডিসেম্বরে।
মন্তব্য করুন


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৭৫ থেকে ২০০ জন পর্যবেক্ষক পাঠাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এ বিষয়ে ইইউয়ের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
বুধবার দুপুরে নির্বাচন কমিশন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সচিব।
ইসি সচিব বলেন, আমাদের সঙ্গে যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়েছে সেই চুক্তির আওতায় তাদের আমরা ফ্যাসিলিটিজ প্রোভাইড করবো। তাদের যাতায়াত এবং চলাফেরার বিষয় রয়েছে। আমরা শুধু একটা জিনিসই অনুরোধ করেছি, সেটা হচ্ছে লোকাল প্রোটোকল কিছু কিছু ক্ষেত্রে মানতে হয়। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামে যে লোকাল প্রোটোকল তা মানতে হবে।
তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষকরা তাদের কিছু ইকুইপমেন্ট এক্সেসরিজ এখানে নিয়ে আসবেন- সেগুলো ফেরত নিয়ে যাবেন; এমন একটা ডিক্লারেশন হয়তো আসার সময় তারা দেবেন।
মন্তব্য করুন


ঢাকা-১০ সংসদীয় আসনের ভোটার হতে ধানমন্ডি থানা নির্বাচন অফিসে গেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। রবিবার বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে তিনি রাজধানীর গ্রীন রোডে ধানমন্ডি থানা নির্বাচন অফিসে আসেন।
তিনি ধানমন্ডি থানা নির্বাচন অফিসার ওয়াজাহাত নূরের কাছে ভোটার স্থানান্তরের আবেদন করবেন।
ঢাকা-১০ নির্বাচনি আসনটি ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, কলাবাগান ও হাজারীবাগ থানা নিয়ে গঠিত।
এখন পর্যন্ত বিএনপি এই আসনে এখনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি। তবে জামায়াত এই আসনে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জসীম উদ্দিন সরকারকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে।
উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ কুমিল্লা-৩ আসনের ভোটার। ধারণা করা হচ্ছে আসন সমঝোতার মাধ্যমে তিনি যে কোনো একটি দলের হয়ে এই আসনে নির্বাচন করতে পারেন।
থানা নির্বাচন কমিশনের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী ঢাকা-১০ আসনের ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৭ হাজার ২৩৮।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘‘অসংখ্য মানুষ গুম হয়েছে, খুন হয়েছে এই সময়ে। আমরা গুমের তদন্তে একটি কমিশন গঠন করেছি। কমিশন প্রধান আমাকে জানিয়েছেন, অক্টোবর পর্যন্ত তারা ১ হাজার ৬০০ গুমের তথ্য পেয়েছেন। তাদের ধারণা, এই সংখ্যা ৩ হাজার ৫০০ ছাড়িয়ে যাবে। অনেকেই কমিশনের কাছে গুমের অভিযোগ করতে ভয় পাচ্ছেন, এই ভেবে যে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দ্বারা তারা আবার আক্রান্ত হতে পারেন, ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, আপনারা দ্বিধাহীন চিত্তে কমিশনকে আপনার অভিযোগ জানান। কোনো শক্তি নেই যারা আপনাদের গায়ে আবার হাত দিতে পারবে।’’
ড. ইউনূস আরও বলেন, ‘‘গুম কমিশনের সদস্যদের কাছে যেসব বিবরণ আমরা পেয়েছি তা অত্যন্ত মর্মান্তিক। জুলাই-আগস্টের বিপ্লবের পর ছাত্র-ছাত্রীরা শহর-বন্দরগুলোতে দেয়াল ও দেয়ালে তাদের মনের কথা লিখেছে। তাদেরও যারা আগে গুমের শিকার হয়েছে, প্রতিটি গোপন আস্তানার দেয়ালে তারা লিখে গেছেন, রেখেছেন তাদের কষ্টের মর্মস্পর্শী বিবরণ। এসব কষ্টের কথা শুনে আমাদের হৃদয় কেঁপে উঠেছে। এসবের সঙ্গে জড়িতদের আমরা বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবই।’’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘‘অভিযুক্ত যতই শক্তিশালী হোক, যে বাহিনীরই হোক তাকে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কেবল দেশে নয়, গুম, খুন এবং জুলাই-আগস্ট গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের আমরা আন্তর্জাতিক আদালতেও বিচারের উদ্যোগ নিয়েছি। ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টের প্রধান কৌশলী করিম খানের সঙ্গে আমার ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে কথা হয়েছে।’’
তিনি বলেন, ‘‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্য কিংবা অন্য কেউ যাতে হত্যা, গুমসহ এ ধরনের অপরাধে জড়িয়ে না পড়তে পারে, সে জন্য আমরা গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদে স্বাক্ষর করেছি। আপনারা দেখেছেন, জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করেছেন। জাতিসংঘ জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডের তদন্তে আমাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই তারা আমাদেরকে তাদের রিপোর্ট হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অতীতের গুমের ঘটনাগুলোর তদন্তকাজেও আমরা নিয়মিত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছি। মানবাধিকার রক্ষায় সহযোগিতা করতে ঢাকায় তারা তাদের জনবল বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। আমরা এই প্রস্তাব গ্রহণ করেছি।’’
উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। এমন প্রেক্ষাপটে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ৮ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণ করে।
মন্তব্য করুন


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে সহকারী পুলিশ সুপারদের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, মানবিক মর্যাদা ও আইনের শাসন রক্ষা অনেকটাই মাঠপর্যায়ের পুলিশের আচরণের ওপর নির্ভর করে। জনগণের আস্থা অর্জন ছাড়া কেবল শক্তি প্রয়োগ করে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় এক লাখ পুলিশ সদস্যকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলের রক্ষক নয়; তারা জনগণের করের টাকায় পরিচালিত রাষ্ট্রের কর্মচারী। পুলিশ বাহিনীর মূল দায়িত্ব হলো জনগণের সেবা করা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের সময় শতভাগ নিরপেক্ষ থাকতে হবে এবং কোনো অনৈতিক সুবিধা বা আপ্যায়ন গ্রহণ করা যাবে না। ভোটকেন্দ্রে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে রিটার্নিং অফিসারের পরামর্শ অনুযায়ী তা কঠোরভাবে দমন করতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ কোনো সাধারণ বাহিনী নয়; এটি রাষ্ট্র ও জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করবে। নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে পুলিশের ভিত্তি হতে হবে জ্ঞান, নৈতিকতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং জনবান্ধব সেবা।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইস্যুতে পররাষ্ট্র সচিব মো. জসীম উদ্দিনের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা।
রোববার (২০ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে বৈঠকের পর এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন ভারতীয় হাইকমিশনার।
বৈঠকে শেখ হাসিনা ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাওয়া হয় প্রণয় ভার্মার কাছে। জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো আলোচনা হয়নি। কীভাবে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়া যায়। আমরা মূলত আলোচনা করেছি কীভাবে আমরা কাজগুলো এগিয়ে নিতে পারি।
সম্প্রতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ১৮ নভেম্বরের মধ্যে শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করে এ ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে অন্তর্বর্তী সরকার।
সচিবের সঙ্গে বৈঠকে আলোচনার বিষয়ে প্রণয় ভার্মা বলেন, এটি নিয়মিত বৈঠক ছিল। আমাদের সম্পর্ক নিয়ে নিয়মিত বৈঠকের অংশ। আমরা দুই দেশের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেছি। আমাদের ইতিবাচক সম্পর্ক রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি আমাদের সম্পর্ক দুই দেশের মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে। ভারত বাংলাদেশের ওপর নির্ভরশীল, বাংলাদেশ ভারতের ওপর নির্ভরশীল, পারস্পরিক নির্ভরশীলতার সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়া দরকার।
বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ পরামর্শক সভা নিয়ে হাইকমিশনার জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা এফওসি করতে চাই।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘মানুষের মধ্যে একটা সংশয় ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যাতে করে মানুষ নানা দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকে। বাংলাদেশের মানুষ অনেক সচেতন। ওই প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে কোনো লাভ হবে না।’
তিনি বলেন, ‘তারা তাদের নেতা নির্ধারণ করতে এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে সাধারণ নির্বাচন এবং গণভোট দুইটাতে অংশ নেবেন।’
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, “পরিবর্তন ও সংস্কার চাইলে জনগণকে গণভোটে অংশ নিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে আহ্বান জানিয়েছে সরকার। ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে কী পাওয়া যাবে এবং ‘না’ ভোট দিলে কী কী পাওয়া যাবে না, সে বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরা হবে।”
উপদেষ্টা বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে আপনি কী কী পাচ্ছেন, এটা আমরা বলছি। ‘না’ দিলে কী কী পাচ্ছেন না, এটাও আমরা বলছি। কেউ যদি মনে করে, সে ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচার করবে, এটা তার দলীয় সিদ্ধান্ত।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আগেও বলেছি, এখনো বলি নির্বাচন হবে, এটা ১২ ফেব্রুয়ারিতেই হবে ইনশাআল্লাহ। মানুষের মধ্যে একটা সংশয় ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যাতে করে মানুষ ওই দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকে।
মানুষের মধ্যে আরেকটা সংশয় ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে, যাতে করে মানুষের মধ্যে একটা দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকে। এটা হচ্ছে ওই কূটচালেরই একটা অংশ যে আমি না থাকলে নির্বাচন হবে কি না।’
সৈয়দা রিজওয়ানা বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ অনেক সচেতন। ওই প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে কোনো লাভ হবে না। তারা তাদের নেতা নির্ধারণ করতে এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে সাধারণ নির্বাচন এবং গণভোট দুটিতেই অংশ নেবে।’
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে অভিযোগ ইস্যুতে উপদেষ্টা বলেন, ‘এটা নিয়ে অভিযোগ আসবে না—এমন তো কোনো কথা নেই। কেউ যদি মনে করে তার এলাকাতে ব্যত্যয় ঘটছে সে তো ইলেকশন কমিশনকে বলবে এবং ইলেকশন কমিশনের কিন্তু নিজস্ব আইনেই ওটার প্রতিকার দেওয়ার বিধান আছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সারা দেশের ৩০০ আসনে কিন্তু এই কথাটা বলা হচ্ছে না। একটা-দুটো জায়গায় যদি এ ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে বলব, নির্বাচন কমিশন প্রতিকার দেবে। বলার পরেও যদি প্রতিকার না পায় তখন সেটা একটা প্রশ্ন।’
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেবেন না তামিম ইকবাল। একসময় বোর্ডে সরাসরি কাজ করার আগ্রহ দেখালেও শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন সাবেক এই অধিনায়ক।
তিনি সাধারণ পরিচালক হিসেবে কাজ করতে চেয়েছিলেন, বিশেষ করে ক্রিকেট অপারেশনে মনোযোগ দিতে চেয়েছিলেন। তবে শেষমেশ তিনি সরে দাঁড়ালেন। নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে ৬ অক্টোবর। আর তার আগে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১ অক্টোবর। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে তামিম সরে দাঁড়ালেন বিসিবি নির্বাচন থেকে।
তামিম বাংলাদেশের অন্যতম সফল ক্রিকেটার। দেশের ক্রিকেটের ইতিহাসের সফলতম অধিনায়কদের তালিকাতেও তার নাম থাকবে ওপরের দিকে।
সেই তামিম এবার খেলোয়াড়ি জীবনের পাট চুকিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটে অবদান রাখতে চেয়েছিলেন বোর্ডে এসে। বিশেষ করে ক্রিকেট অপারেশনে সক্রিয় হওয়ার ইচ্ছা ছিল তার। তবে সেটা এবার আর হচ্ছে না।
এদিকে তামিম না থাকায় নির্বাচনে পরিচালক পদ নিয়ে লড়াইয়ের চিত্র অনেকটাই বদলে যাবে। অন্য প্রার্থীদের জন্য সুযোগ বেড়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।
মন্তব্য করুন