

প্রবৃত্তির তাড়নায় মানুষ পাপ করে ফেলে। তবে পাপের পরে মানুষকে পরিশুদ্ধ ও পবিত্র করে তোলে একনিষ্ঠ তওবা। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন– ‘সেই মহান সত্তার কসম যার হাতে আমার জীবন! যদি তোমরা পাপ না কর, আল্লাহ তোমাদের নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে (তোমাদের পরিবর্তে) এমন এক জাতি আনয়ন করবেন, যারা পাপ করবে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনাও করবে। আর আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করে দেবেন। -(মুসলিম, ২৭৪৮)
খেয়াল রাখতে হবে যে পাঁচ বিষয়
শয়তানের ধোঁকা ও প্রবৃত্তির তাড়নায় পাপ করে ফেলার পর তওবা করা আবশ্যক। তবে তওবা কবুলের জন্য তা একনিষ্ঠচিত্তে করা উচিত এবং আগামীতে কখনও আর এমন পাপ করবো না এই মানসিকতা থাকাও জরুরি। আল্লাহ তায়ালার দরবারে তওবা কবুলের জন্য তওবা করার মুহুর্তে পাঁচটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। বিষয়গুলো হলো-১, খাঁটি অন্তরে তওবা করতে হবে। অর্থাৎ শুধু আল্লাহর আজাবের ভয় ও তার মহত্ত্বকে সামনে রেখে তওবা করতে হবে।
২. অতীতের পাপের প্রতি অনুতপ্ত ও লজ্জিত হতে হবে।
৩. তওবা করার সময় থেকেই শয়তানের ধোঁকায় পড়ে করে ফেলা পাপ থেকে বিরত থাকতে হবে।
৪. ভবিষ্যতে কখনো আর এমন পাপ না করার জন্য মনে মনে দৃঢ় সংকল্প করতে হবে।
৫. আল্লাহ তায়ালা বা বান্দার কোনও হক নষ্ট করে থাকলে তা সংশোধন ও প্রতিকারে চেষ্টা করতে হবে।আল্লাহর হক বা বান্দার হক থেকে মুক্তি
যেমন, নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত ইত্যাদি আল্লাহর হক জাতীয় ইবাদত পালন না করে থাকলে তা আদায় করতে হবে। আর বান্দার হক অর্থাৎ, কারও সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করে থাকলে বা নষ্ট করলে তার সম্পদ ও অর্থ ফেরত দিতে হবে। যার সম্পদ অন্যায়ভাবে দখল করা হয়েছে সে বেঁচে না থাকলে তার উত্তরাধিকারীর কাছে ফেরত দিতে হবে। আর ফেরত দেওয়া সম্ভব না হলে তাদের কাছ থেকে মাফ করিয়ে নিতে হবে।
অর্থ-সম্পদ ছাড়া অন্য কোনও হক নষ্ট করে থাকলে যেমন গীবত বা গালি-গালাজ করে থাকলে বা মুখে কিংবা কথায় কষ্ট দিয়ে থাকলে তার কাছ থেকে মাফ করিয়ে নিতে হবে। কোনও ধরনের ঝামেলার আশঙ্কা না থাকলে অন্যায়ের কথা উল্লেখ করে ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে। আর হকদার মারা গেলে তার উদ্দেশ্যে কিছু সদকা করে দিতে হবে।তওবা করার সময় এই পাঁচটি বিষয় খেয়াল না রেখে শুধু গতানুগতিকভাবে মুখে তওবা, ইস্তিগফার করলে এবং শুধু ইস্তিগফারের দোয়াগুলো পড়লে তওবা কবুল হবে না। তবে শুধু মুখে তওবার বাক্যগুলো পড়ারও অনেক উপকারিতা রয়েছে। -(আহকামুন নিসা, ২২১)
মন্তব্য করুন


গত এক সপ্তাহে ১৩ মিলিয়নের বেশি মানুষ মক্কার মসজিদুল হারাম বা কাবা শরিফ এবং মদিনার মসজিদে নববী জেয়ারত করেছেন। ভিড় নিয়ন্ত্রণে এখন অত্যাধুনিক সেন্সর প্রযুক্তি ব্যবহার করার ফলে পুণ্যার্থীদের ভ্রমণ আরো নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল হয়েছে বলে জানা গেছে।
শনিবার (১১ অক্টোবর) দ্য ইসলামিক ইনফের্মেশন ডট কম-এর এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মসজিদ এবং নবীজির মসজিদের প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৪৪৭ হিজরি সনের রবিউস সানি মাসের ১১ থেকে ১৭ তারিখ (৩ অক্টোবর থেকে ৯ অক্টোবর, ২০২৫) পর্যন্ত ইসলামের পবিত্র দুই স্থানে মোট ১৩,০২৯,৪৭১ জন মুসল্লি ও দর্শনার্থী এসেছেন।
মক্কার মসজিদুল হারাম, যেখানে কাবা ঘর অবস্থিত এবং যাকে বাইতুল্লাহ বা আল্লাহর ঘর বলা হয়, এখানে এই সময়ে ৪,১৯৭,০৫৫ জন মুসল্লি নামাজ পড়েছেন। এর মধ্যে ২২,৭৮৬ জন আল-হাতিম এলাকায় নামাজ আদায় করেছেন।
ওমরাহ পালনকারী পুণ্যার্থীর সংখ্যা ছিল ২,৮৮৭,৫১৬ জন। এতে বোঝা যায়, হজের মৌসুম না হলেও বিপুল পরিমাণে ওমরাহ পালনকারী মক্কায় অবস্থান করছেন।
একই সময়ে মদিনার মসজিদে নববীতে এসেছেন ৫,০৮৮,১৭৯ জন মুসল্লি। এর মধ্যে ৩৫৫,৫৩২ জন মহানবীর (সা.) পবিত্র রওজা শরিফ জিয়ারত করেছেন।
প্রধান প্রবেশপথে অত্যাধুনিক সেন্সর প্রযুক্তি ব্যবহার করে দর্শনার্থীর সংখ্যা নির্ভুলভাবে গণনা করা হয়। এই প্রযুক্তি ভিড়ের গতিবিধি এবং ঘনত্ব পর্যবেক্ষণ করে, যা কর্তৃপক্ষকে পুণ্যার্থীদের প্রবাহ সুষ্ঠুভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।
এ ধরনের প্রযুক্তি ইসলামের পবিত্র দুই মসজিদে সেবার মান উন্নত করার জন্য চলমান প্রচেষ্টার একটি অংশ। এত বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী প্রমাণ করে যে, এই সময়ে কোনো বড় ধর্মীয় উৎসব না থাকলেও সৌদি আরবের পবিত্র স্থানগুলি বিশ্বব্যাপী মুসলিমদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
তথ্য অনুসারে, সারাবছর ধরে নামাজ, ওমরা এবং ধর্মীয় স্থানসমূহ পর্যটনের জন্য মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষ এখানে আসছেন। ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা থাকায় ভিড় নিয়ন্ত্রণ আরও সুচারুরূপে সম্পন্ন করা যায় এখন। সেন্সর নেটওয়ার্কগুলি তাৎক্ষণিক তথ্য সরবরাহ করে, যা বিশাল মসজিদ কমপ্লেক্সগুলিতে নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা এবং প্রশাসনিক কাজ সমন্বয়ে সহায়তা করে থাকে।
উল্লেখ্য, বছরের এই সময়টি, বিশেষ করে সপ্তাহটি ধর্মীয় পর্যটনের জন্য সাধারণত শান্ত সময় হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই ১৩ মিলিয়ন দর্শনার্থীর এই সংখ্যা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
মন্তব্য করুন


নামাজে প্রত্যেক দুই রাকাত পর পর বৈঠকে বসতে হয়। এ বসাকে তাশাহহুদও বলা হয়। এ তাশাহহুদ তথা বৈঠকে বসা ফরজ। চার রাকাতবিশিষ্ট নামাজের প্রথম এবং তৃতীয় রাকাতে বসতে হয় না। দুই সিজদা আদায়ের পর সরাসরি পরবর্তী রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যেতে হয়।
তবে কেউ যদি তৃতীয় রাকাতে ভুলে বসে পড়েন। তাহলে তার করণীয় বিষয়ে অনেকে জানতে চান। যেমন একজন প্রশ্ন করেছেন-
‘কয়েকদিন আগে আসরের নামাজের তৃতীয় রাকাতে ইমাম সাহেব ভুলে বসে যান। মুসল্লিদের তাকবীর শুনে সঙ্গে সঙ্গে দাঁড়িয়ে যান এবং সাহু সিজদা ছাড়াই বাকি নামাজ শেষ করেন। কিন্তু পরবর্তীতে একজন আলেমকে বলতে শুনেছি, ১ম রাকাত বা তৃতীয় রাকাতের পর ভুলে বসে গেলে নাকি সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়। এক্ষেত্রে সঠিক মাসআলা জানতে চাই’।
এর উত্তরে আলেমরা বলেন, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে সাহু সিজদা না করা ঠিক হয়েছে। কেননা প্রথম রাকাত বা তৃতীয় রাকাতের পর যদি ভুলে বসে যায় এবং অল্প সময় তথা তিন তাসবীহ পরিমাণের চেয়ে কম সময় অবস্থান করার পর ভুল বুঝতে পেরে দাঁড়িয়ে যায় তাহলে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয় না।
আর যদি তিন তাসবীহ পরিমাণ অবস্থান করে তাহলে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ইমাম সাহেব যেহেতু বসার সঙ্গে সঙ্গে দাঁড়িয়ে গেছেন তাই সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়নি।
(আলমুহীতুল বুরহানী ২/১২৩; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪৬৯; রদ্দুল মুহতার ১/৫০৬; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাল মারাকী, পৃ. ২৫৮; ইমদাদুল আহকাম ১/৬৭৫)
মন্তব্য করুন


প্রবৃত্তির তাড়নায় মানুষ পাপ করে ফেলে। তবে পাপের পরে মানুষকে পরিশুদ্ধ ও পবিত্র করে তোলে একনিষ্ঠ তওবা। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন– ‘সেই মহান সত্তার কসম যার হাতে আমার জীবন! যদি তোমরা পাপ না কর, আল্লাহ তোমাদের নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে (তোমাদের পরিবর্তে) এমন এক জাতি আনয়ন করবেন, যারা পাপ করবে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনাও করবে। আর আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করে দেবেন। -(মুসলিম, ২৭৪৮)
খেয়াল রাখতে হবে যে পাঁচ বিষয়
শয়তানের ধোঁকা ও প্রবৃত্তির তাড়নায় পাপ করে ফেলার পর তওবা করা আবশ্যক। তবে তওবা কবুলের জন্য তা একনিষ্ঠচিত্তে করা উচিত এবং আগামীতে কখনও আর এমন পাপ করবো না এই মানসিকতা থাকাও জরুরি। আল্লাহ তায়ালার দরবারে তওবা কবুলের জন্য তওবা করার মুহুর্তে পাঁচটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। বিষয়গুলো হলো-১, খাঁটি অন্তরে তওবা করতে হবে। অর্থাৎ শুধু আল্লাহর আজাবের ভয় ও তার মহত্ত্বকে সামনে রেখে তওবা করতে হবে।
২. অতীতের পাপের প্রতি অনুতপ্ত ও লজ্জিত হতে হবে।
৩. তওবা করার সময় থেকেই শয়তানের ধোঁকায় পড়ে করে ফেলা পাপ থেকে বিরত থাকতে হবে।
৪. ভবিষ্যতে কখনো আর এমন পাপ না করার জন্য মনে মনে দৃঢ় সংকল্প করতে হবে।
৫. আল্লাহ তায়ালা বা বান্দার কোনও হক নষ্ট করে থাকলে তা সংশোধন ও প্রতিকারে চেষ্টা করতে হবে।আল্লাহর হক বা বান্দার হক থেকে মুক্তি
যেমন, নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত ইত্যাদি আল্লাহর হক জাতীয় ইবাদত পালন না করে থাকলে তা আদায় করতে হবে। আর বান্দার হক অর্থাৎ, কারও সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করে থাকলে বা নষ্ট করলে তার সম্পদ ও অর্থ ফেরত দিতে হবে। যার সম্পদ অন্যায়ভাবে দখল করা হয়েছে সে বেঁচে না থাকলে তার উত্তরাধিকারীর কাছে ফেরত দিতে হবে। আর ফেরত দেওয়া সম্ভব না হলে তাদের কাছ থেকে মাফ করিয়ে নিতে হবে।
অর্থ-সম্পদ ছাড়া অন্য কোনও হক নষ্ট করে থাকলে যেমন গীবত বা গালি-গালাজ করে থাকলে বা মুখে কিংবা কথায় কষ্ট দিয়ে থাকলে তার কাছ থেকে মাফ করিয়ে নিতে হবে। কোনও ধরনের ঝামেলার আশঙ্কা না থাকলে অন্যায়ের কথা উল্লেখ করে ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে। আর হকদার মারা গেলে তার উদ্দেশ্যে কিছু সদকা করে দিতে হবে।তওবা করার সময় এই পাঁচটি বিষয় খেয়াল না রেখে শুধু গতানুগতিকভাবে মুখে তওবা, ইস্তিগফার করলে এবং শুধু ইস্তিগফারের দোয়াগুলো পড়লে তওবা কবুল হবে না। তবে শুধু মুখে তওবার বাক্যগুলো পড়ারও অনেক উপকারিতা রয়েছে। -(আহকামুন নিসা, ২২১)
মন্তব্য করুন


মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে একদিন পরেই শুরু হচ্ছে হজযাত্রা।
শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টায় ৪১৯ যাত্রী নিয়ে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ থেকে হজের প্রথম ফ্লাইট।
এ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ উপলক্ষে রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্পে চলছে সব শেষ প্রস্তুতি।
এ বছর বাংলাদেশ থেকে পবিত্র হজ পালনে যাচ্ছেন ৭৮ হাজার ৫শ' যাত্রী। এরই মধ্যে সৌদি আরব পৌঁছেছে ১৭১ জনের মেডিকেল টিম।
এবার প্রত্যেক হজযাত্রীর জন্য 'নুসুক কার্ড' বাধ্যতামূলক, যে ডিজিটাল আইডেন্টিফিকেশনে সৌদি আরবে সব সেবা পাবেন হজযাত্রীরা। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়া প্রত্যেক হজযাত্রী সেই কার্ড দেশেই পাচ্ছেন। তবে সরকারি ব্যবস্থাপনার যাত্রীরা নুসুক কার্ড নেবেন হোটেল লবিতে গিয়ে।
মন্তব্য করুন


বিয়েতে দেনমোহরের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘আর মুমিন সচ্চরিত্রা নারী ও তোমাদের আগে যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের সচ্চরিত্রা নারীদেরকে তোমাদের জন্য বৈধ করা হল, যদি তোমরা তাদের মোহর প্রদান কর বিয়ের জন্য, প্রকাশ্য ব্যভিচার বা গোপন প্রণয়িনী গ্রহণকারী হিসেবে নয়। -(সুরা মায়েদা. আয়াত, ৫)
দেনমোহর নির্ধারণের ক্ষেত্রে সমাজে অনেক ধরনের ভুল প্রচলন রয়েছে। আবার অনেকের এ বিষয়ে সঠিক কোনও ধারণাও থাকে না। তাই বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণে বেশ কিছু ভুল করে বসেন। সমাজে ঘটে চলা এমন কিছু ভুল হলো-
দেনমোহর পরিশোধের ইচ্ছা না রেখে শুধু নিয়ম রক্ষার জন্য নির্ধারণ করা
দেনমোহর নির্ধারণে সমাজের অনেকেই একটি মারাত্মক ভুল করে বসেন। পরিশোধের কোনও ইচ্ছা না রেখে শুধু নিয়ম রক্ষার জন্য মোহর নির্ধারণ করেন।
স্ত্রী তার অধিকারের বিষয়ে সচেতন থাকুন বা না থাকুন তা আদায়ে স্বামীর কোনও ইচ্ছা থাকে না। অনেকের দৃষ্টিতে মোহর একেবারে একটি সাধারণ লেনদেন। এমনকি মোহরের পরিমাণ কম-বেশি করার কোনও আলোচনা হলে অনেকে নিঃসঙ্কোচে বলে বসেন- একটা পরিমাণ নির্ধারণ করলেই হলো। ‘কে দেয় আর কে নেয়?’ কেউ কেউ সরাসরি বলেও ফেলে, মোহর শুধু নামের জন্য। আদান-প্রদানের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই।
লোক দেখানোর জন্য বড় অংকের দেনমোহর নির্ধারণ
সামর্থ্য না থাকার পরেও অনেকে শুধু লোক দেখানোর জন্য খেয়াল-খুশি মতো বড় অংকের মোহর নির্ধারণ করে থাকে। অথচ সক্ষমতা না থাকলে বিশাল অংকের মোহর নির্ধারণ করা উচিত নয়। কারণ এতে হাদিসে বর্ণিত কড়া হুঁশিয়ারির পাত্র হয়ে যাবে সে। তাই বুদ্ধিমানের কাজ হলো- সামর্থ্যের মধ্যে অল্প টাকা নির্ধারণ করা। যেন সহজেই আদায় করা সম্ভব হয়।
বিবাহ বিচ্ছেদ বা তালাক এড়ানোর জন্য অধিক মোহর নির্ধারণ
অনেকে বিবাহ বিচ্ছেদ বা তালাক এড়ানোর জন্য অতিরিক্ত মোহর নির্ধারণ করে থাকে। তাদের ধারণা হলো- মোহরের পরিমাণ বেশি হওয়ার কারণে স্বামী চাইলেও স্ত্রীকে ছেড়ে দিতে পারবে না। অথচ এই ধারণা অমূলক। কারণ, কোনও দম্পতির মাঝে বনিবনা না হলে এবং একসঙ্গে থাকা সম্ভব না হলে তারা মোহরের পরিমাণের প্রতি খেয়াল করে না, সব প্রতিবন্ধকতা পার করে হলেও বিচ্ছেদের পথে যায়।
এক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় হলো- সব ক্ষেত্রে ছেড়ে না দেওয়াটা কল্যাণকর নয়। কারণ, যে ব্যক্তি মোহরের ভয়ে স্ত্রীকে ছেড়ে দেয় না সে ছাড়ার থেকেও নিকৃষ্ট কাজ করে। অর্থাৎ তালাক না দিলেও স্ত্রীর সঙ্গে ভালো আচরণ করে না, তার ভরণপোষণ ঠিক মতো দেয় না, অধিকার ঠিকমত আদায় করে না। তাই মোহর নির্ধারণে এই ভুল কাজগুলো থেকে বিরত থাকা জরুরি। -(ইসলাহে ইনকিলাব, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা : ১২৭, মুসলিম বর-কণে, ১৫৪)
মন্তব্য করুন