

গত ২৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে তাইওয়ানে। বুধবার সকালে স্থানীয় সময় ৭টা ৫৮ মিনিটে এ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৪। এতে অন্তত ৪ জন নিহত ও অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। ভূমিকম্পের পর তিন দেশ- তাইওয়ান, ফিলিপাইন ও জাপানে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। খবর বিবিসির।
এক জরুরি বার্তায় তারা জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কারণে সুনামি আঘাত হানতে পারে। তাইওয়ানে এর প্রভাব পড়তে পারে। উপকূলীয় এলাকার লোকজনকে সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। ২৫ বছর আগে ১৯৯৯ সালের সেপ্টেম্বরে তাইওয়ানে ৭ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত আনে। তাতে ২ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্যমতে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল তাইওয়ানের হুয়ালিয়েন শহরের ১৮ কিলোমিটার দক্ষিণে। ভূপৃষ্ঠের ৩৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার গভীরে এর উৎপত্তি হয়েছে। ভূমিকম্পের পরপরই সুনামি সতর্কতা জারি করেছে তাইওয়ান কর্তৃপক্ষ। ভূমিকম্পে তাইওয়ানের একাধিক শহরের বেশকিছু ভবন ধসে পড়েছে। এসব ভবনের নিচেও চাপা পড়েছেন অনেকে। এছাড়া এই পাহাড়ি শহরটিতে ভূমিধ্বসের খবরও জানা গেছে।
মন্তব্য করুন


ভারত, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানকে নিয়ে গঠিত নিরাপত্তা বিষয়ক জোট কোয়াডের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক বাতিল করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে এ চার দেশের প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টদের সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তার অস্ট্রেলিয়া সফর বাতিল করায় সম্মেলনটিও বাতিল করা হয়েছে।
বুধবার (১৭) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিস বুধবার সকালেও আশা প্রকাশ করেছিলেন নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সম্মেলনটি হবে। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি জানান, এটি বাতিলই করা হয়েছে।
১৭ থেকে ১৯ মে জাপানে গ্রুপ অব সেভেন জি-৭ জোটের সম্মেলন হবে। এখন কোয়াডভুক্ত দেশগুলোর নেতারা জি-৭ জোটের সম্মেলনের ফাঁকে আলাদাভাবে বৈঠক করতে পারেন।
যদিও জাপানে এ চার দেশের প্রধানদের আলাদা বৈঠক হওয়ার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হয়নি। তবে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমাদের কথা বলার বিষয়টি ভালো হবে।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘কোয়াড একটি গুরুত্বপূর্ণ জোট। আমরা চাই নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে বৈঠকটি হবে এবং আমরা এ সপ্তাহের শেষে এ নিয়ে আলোচনা করব।’
কয়েক সপ্তাহে আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের অস্ট্রেলিয়া সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল। এছাড়া তার পাপুয়া নিউ গিনিতেও যাওয়ার কথা ছিল। ঐতিহাসিক এ সফরে দেশটির সংসদে বক্তব্য দিতেন তিনি।
জাপানে কোয়াড সদস্য দেশগুলোর বিশেষ বৈঠক হবে নাকি হবে না এ বিষয়টি নিশ্চিত না হলেও, বাইডেনের সঙ্গে অজি প্রধানমন্ত্রী আলাদাভাবে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। এছাড়া বাইডেনকে আলাদাভাবেও অস্ট্রেলিয়ায় আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে বাইডেনের অস্ট্রেলিয়া সফর বাতিলের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে— তিনি নিজ দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন।
মন্তব্য করুন


চীনের মহানগরী বেইজিং-এর ১০০ কিলোমিটার দূরে সমুদ্রতীরবর্তী তিয়ানজিনে তৈরি হয়েছে এই লাইব্রেরি। ডাচ আর্কিটেক্ট কোম্পানি MVRDV এবং চীনের ডিজাইনার কোম্পানি TUPDI তৈরি করেছে এই লাইব্রেরি।
১৩.৫ লক্ষাধিক বইয়ের সমারোহ এবং সায়েন্স ফিকশনের মত স্থাপত্যকলার এক মূর্তিমান শিল্পকর্ম হয়ে উঠেছে তিয়ানজিন বিনহাই লাইব্রেরি।
প্রায় ৩৩ হাজার ৭০০ বর্গমিটার জায়গা জুড়ে চীনের তিয়ানজিনে অবস্থিত এই পাবলিক লাইব্রেরিটি । ৫তলা উঁচু এই লাইব্রেরিটিতে স্তরে স্তরে সাজানো আছে প্রায় ১৩.৫ লক্ষাধিক বই।
এই অত্যাশ্চর্য স্থাপনাটি দেখতে প্রতিদিন এখানে প্রায় ১০ হাজার মানুষ ভিড় করে। ২০১৭ সালে নির্মাণ হওয়া লাইব্রেরিটিতে এই কম সময়ে প্রায় ১৮ লক্ষ মানুষ ভ্রমণ করেছে।
মন্তব্য করুন


৮৫
বছর বয়সে চলে গেলেন আর্জেন্টিনাকে ১৯৭৮ সালে প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা জেতানো
ক্যারিশম্যাটিক কোচ সেজার লুইস মেনোত্তি।
এক্স
হ্যান্ডেলে মেনোত্তির মৃত্যুর খবর জানিয়ে এএফএ লিখেছে, আর্জেন্টিনা
ফুটবল ফেডারেশন অত্যন্ত শোকের সঙ্গে বর্তমান জাতীয় দলের পরিচালক ও আর্জেন্টিনার
বিশ্বকাপজয়ী কোচ লুইস সিজার মেনোত্তির মৃত্যুর খবর জানাচ্ছে। বিদায় প্রিয় ফ্লাকো!
স্থানীয়
গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে,
মেনোত্তিকে মার্চ মাসে গুরুতর রক্তাস্বল্পতা নিয়ে একটি
ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছিল। তিনি এপ্রিল মাসে ফ্লেবিটিসের জন্য অস্ত্রোপচার
করেছিলেন এবং পরে দেশে ফিরে আসেন বলে জানা গেছে। আর্জেন্টিনার ফুটবলে তাকে সবচেয়ে
প্রভাবশালী কোচ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
মেনোত্তি
একজন রাজনৈতিক কর্মী এবং আর্জেন্টিনার কমিউনিস্ট পার্টির সহযোগী সদস্য হবার
পাশাপাশি বক্সিং অনুরাগী ছিলেন। তিনি রোজারিও সেন্ট্রাল (১৯৬০-৬৩ এবং ১৯৬৭) এর
একজন তরুণ খেলোয়াড় হিসাবে তার ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন, তারপরে রেসিং
ক্লাব (১৯৬৪) এবং বোকা জুনিয়র্স (১৯৬৫-১৯৬৬)সহ একাধিক ক্লাবের হয়ে খেলেন।
মেনোত্তি
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিউ ইয়র্ক জেনারেলদের হয়ে খেলেছেন (১৯৬৭), তারপরে ব্রাজিলের
সান্তোস (১৯৬৮) এবং ইতালির জুভেন্টাসের (১৯৬৯-১৯৭০) হয়েও তাকে খেলতে দেখা গেছে।
মেনোত্তি
১৯৭৪ থেকে ১৯৮৩ সালের মধ্যে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের কোচ ছিলেন। বিশ্বকাপের
প্রাক্কালে, মেনোত্তি
১৭ বছর বয়সী ম্যারাডোনাকে স্কোয়াড থেকে বাদ দিয়েছিলেন-যে সিদ্ধান্তের জন্য
উভয়ের মধ্যে সম্পর্কের বেশ অবনতি নয়। পরবর্তীতে মেনোত্তি ১৯৯১-৯২ সালে মেক্সিকো
জাতীয় দলের কোচ ছিলেন। তিনি বার্সেলোনাকেও নেতৃত্ব দেন, যেখানে তার
স্কোয়াডে ম্যারাডোনা ছিলেন। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ, উরুগুয়ের পেনারোল,
ইতালির সাম্পডোরিয়া এবং মেক্সিকোর টেকোসে ছিল তার শেষ কোচিং জীবন। মেনোত্তি
সিগারেটে আসক্ত ছিলেন। কিন্তু ২০১১ সালে তার তামাক আসক্তির কারণে তিন দিনের জন্য
হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরে তিনি এই অভ্যাস ছেড়ে দেন।
মেনোত্তি একজায়গায় রসিকতা করে বলেছিলেন, আমাকে না
হারানো পর্যন্ত আমি আমার চুল কাটব না। মেনোত্তির হাত ধরেই সহিংসতাপূর্ণ খেলার
কুখ্যাতি থেকে সরে এসে রোমান্টিক ধাঁচের ফুটবল খেলে সমর্থকদের মন জিতেছে
আর্জেন্টিনা।
মেনোত্তির
মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের
অধিনায়ক লিওনেল মেসি লিখেছেন,
আর্জেন্টিনার ফুটবলের অন্যতম গ্রেট আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তার পরিবার এবং
প্রিয়জনদের প্রতি সমবেদনা। শান্তিতে ঘুমান।
মন্তব্য করুন


রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন কুয়েতে বাংলাদেশের
নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন ।
বুধবার বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে গুরত্বপূর্ণ কিছু বিষয় নিয়ে
নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
রাষ্ট্রপতি কুয়েতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের সার্বিক কল্যাণের পাশাপাশি নতুন
করে জনশক্তি রপ্তানির বিষয়ে বাংলাদেশের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
আজকের এ সৌজন্য সাক্ষাৎ নিয়ে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন জানান, সাক্ষাৎকালে
কুয়েতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের সার্বিক কল্যাণের পাশাপাশি নতুন করে জনশক্তি রপ্তানির
বিষয়ে রাষ্ট্রদূতকে কাজ করার নির্দেশ দেন রাষ্ট্রপ্রধান।
রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, কুয়েতের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে
বিদ্যমান সম্ভাবনাগুলোকেও কাজে লাগাতে হবে।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


এই পুরো গ্রামটাই হচ্ছে আসলে পুতুলের গ্রাম। পুতুলরাই সড়ক ধরে হাঁটার ভঙ্গিমায় দাঁড়িয়ে; দোকানে বসে আছে পুতুল দোকানি; বাড়ির উঠানেও পুতুল এবং এমনকি স্কুলের সারি সারি বেঞ্চে বসে থাকা সব বাচ্চা পুতুল। এই গ্রামে কি জীবিত কেউ থাকে না? অবশ্যই থাকে তবে সঙ্গে নিয়ে প্রাণহীন একঝাঁক পুতুল। আজকের আয়োজনটা এই অদ্ভুত আর রহস্যেঘেরা গ্রামটাকে কেন্দ্র করেই।
ছোট্ট গ্রাম নাগোরো। যে গ্রামে এককালে প্রায় ৩/৪০০ পরিবারের বাস ছিল। কিন্তু, এখন মাত্র ১৫ থেকে ১৬ জন মানুষ থাকেন সেখানে। কারণ কি? গত শতকের পঞ্চাশের দশকে গ্রামটিতে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজে একটি বাঁধ নির্মান করা হয়। এরপর থেকেই গ্রামে পানির অভাব দেখা দেয়। বেশীরভাগ মানুষ গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে শুরু করে। রয়ে যান হাতে গোণা কয়েকজন কেবল।
জনসংখ্যা ধীরে ধীরে কমতেই থাকে। গ্রামটিতে শেষ শিশুর জন্ম হয়েছিল ২০০১ সালে। গ্রামটিতে এখন কোনো দোকান নেই। নেই কোনো হাসপাতালও। সামান্য অসুখ হলেও শহরে যেতে হয় বাসিন্দাদের। এক সমীক্ষায় জানা যায়, ২০১৪ সালে গ্রামটিতে মাত্র ৩৭ জন বাস করতো। যা ২০১৫ সালে কমে গিয়ে দাঁড়ায় ৩৫ জনে। এভাবেই ক্রমাগত কমতে থাকে গ্রামের লোকসংখ্যা।
গ্রামের নাম – পুতুলের গ্রাম! কারণ গ্রামের নির্জীব কিছু বাসিন্দা আছে। তারা সকলেই পুতুল! পুরো গ্রাম জুড়েই এদের দেখা পাওয়া যায়।
রাস্তায় দাঁড়িয়ে পুতুল, দোকানে পুতুল, স্কুলে পুতুল, বাড়ির উঠানে পুতুল! সবখানে পুতুল! পুরো গ্রামটিকে ভরে ফেলা হয়েছে পুতুল দিয়ে। জীবিত বাসিন্দাদের সাথে ওরাও হয়ে উঠেছে এই গ্রামেরই নতুন বাসিন্দা। কিন্তু গ্রামটি পুতুলদের গ্রাম হয়ে উঠলো কী করে? এর জন্য দায়ী সুকিমি আইয়ানো নামের এক নারী।
যিনি বহুকাল আগে গ্রাম ছেড়ে পড়াশোনার জন্য ওসাকায় চলে গিয়েছিলেন। তারপরে সেখানেই বিয়ে করে সংসার পাতেন। ২০০২ সালে নিজের অসুস্থ বাবার দেখাশোনা করার জন্য ফিরে আসেন তিনি গ্রামে। এসে অবাক হয়ে যান! তিনি গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার সময়েও গ্রামে প্রায় ৩০০ মানুষ ছিল। কিন্তু তখন গ্রামের লোকসংখ্যা পঞ্চাশেরও নিচে নেমে গিয়েছিল। হতাশ হয়ে যান সুকিমি। কিন্তু কী আর করা? নিজের বাবার দেখাশোনা আর মাঝে মাঝে টুকটাক ক্ষেতে কাজ করা শুরু করেন তিনি।
২০০৩ সালের কথা। সুকিমির বাবার একটি মূলা আর মটরশুঁটির ক্ষেত ছিল। সেই ক্ষেতের দেখাশোনা করতে লাগলেন সুকিমি। কিন্তু গ্রামে কাক আর অন্যান্য পাখিদের উৎপাত বাড়তে লাগলো দিনকে দিন। নীরব আর জনবিরল জায়গা বলে পাখিরা নিজের আবাসস্থল বানাতে শুরু করলো। সমস্যা বাঁধল, পাখিগুলোর ব্যাপক অত্যাচারে। কোনো গাছের চারা বের হলেই পাখিরা চারাগুলো নষ্ট করে দিতো। বিরক্ত হয়ে একদিন সুকিমি একটি কাকতাড়ুয়া বানালেন। ওটার মুখটা বানালের নিজের বাবার মুখের আদলে! তারপর দাঁড় করিয়ে দিলেন ক্ষেতের ঠিক মাঝ বরাবর।
কাকতাড়ুয়াটাকে মানুষ ভেবে ভয়ে আর এলো না পাখিগুলো। ব্যাপারটা সুকিমিকে নতুন করে ভাবাতে বাধ্য করলো। পুতুল গ্রামের শুরুটা হয়েছিল এভাবেই। মৃত মানুষদের স্মরণে একের পর এক পুতুল বানাতে লাগলেন তিনি। প্রথম পুতুলটা বানালেন নিজের এক মৃত প্রতিবেশীর আদলে। যার সাথে ছোটবেলায় খেলতেন তিনি, তারপর ওটাকে বসিয়ে দিলেন সেই প্রতিবেশীর বাড়িতে। ধীরে ধীরে পুতুলে ভরে যেতে লাগলো গ্রামটি।
গ্রামের অন্য বাসিন্দারাও সুকিমির এই বিচিত্র শখে বেশ উৎসাহই দিতে লাগলেন। ফাঁকা গ্রামে পুতুলগুলোর উপস্থিতি উনাদের মন্দ লাগতো না। এভাবেই চলতে লাগলো। ধীরে ধীরে আলোচিত হয়ে উঠতে লাগলো নাগোরো গ্রামের পুতুলগুলো।
এভাবেই কেটে গেল নয়টি বছর। ২০১২ সালের কথা। গ্রামের স্কুলে তখন মাত্র দুজন শিক্ষার্থী ছিল। তাদের স্কুলের পড়াশোনাও একটা পর্যায়ে গিয়ে শেষ হলো! উচ্চ শিক্ষার আশায় শহরের দিকে পাড়ি দিল ওরা। স্কুল রয়ে গেল ফাঁকা। কোনো ছাত্র-ছাত্রী নেই। তাই বন্ধ হয়ে গেল গ্রামের একমাত্র স্কুলটিও।
ওই স্কুলে সুকিমিও ছোটবেলাতে পড়তেন। নিজের সহপাঠীদের চেহারা ভেবে ভেবে তিনি পুতুল বানাতে শুরু করলেন। পরিচিত শিক্ষকদেরও পুতুল বানালেন। সেগুলোকে বই-খাতা সহকারে বসিয়ে দিলেন ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণীকক্ষে। ধীরে ধীরে প্রতিটি শ্রেণীকক্ষই ভরে উঠলো পুতুলে। যেন সবাই শান্তমনে বসে ক্লাস করছে।
কিন্তু সব কিছু নীবর! তাই, গ্রামের প্রতিটি দোকান খুলে দেওয়া দেওয়া হলো। সেখানেও বসিয়ে দেওয়া হলো পুতুলদের। নেই কোনো মালামাল, নেই কোনো খদ্দের, শুধু আছে পুতুল!
জানা যায়, গ্রামের শেষ বিয়েটি হয়েছিল ১৯৮৮ সালে। যে জায়গাতে বিয়ের উৎসব হতো সেখানে দুটো বর আর বউ পুতুল বানিয়ে বসিয়ে দেন সুকিমি। আশেপাশে বসে আছে নিমন্ত্রিত অতিথিরা। বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বাদকেরা। যেন পুতুল বিয়ে হচ্ছে সেখানটাতে।
গ্রামটি আবার ভরে উঠলো। কিন্তু নেই কোনো কোলাহল। নেই কোনো শব্দ। এভাবেই কেটে গেল আরো দুটি বছর। ২০১৪ সালে জার্মান তথ্যচিত্র নির্মাতা ফ্রিটজ স্কুম্যান এই গ্রামটি নিয়ে তৈরী করেন তাঁর বিখ্যাত তথ্যচিত্র ‘ভ্যালি অফ ডলস’। এরপর থেকেই গোটা পৃথিবীতে নাগোরো পরিচিত হয়ে ওঠে ‘পুতুলদের গ্রাম’ হিসাবে। দেশ বিদেশ থেকে পর্যটকেরা আসেন শুধুমাত্র এই গ্রামটি দেখতে।
পর্যটকেরা অবাক না হয়ে পারে না। গাছের নিচে কেউ বসে আছে, পার্কে প্রেমিক-প্রেমিকা, স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা…সবকিছুকে কেমন যেন জীবন্ত মনে হয় তাদের কাছে। সুকিমির কাজ এতই নিখুঁত যে তারা চমকে উঠতে বাধ্য হন! পুতুল বানানোর ক্লাসও নিয়ে থাকেন সুকিমি। বছরের এপ্রিল থেকে নভেম্বর পর্যন্ত প্রতি বুধবার তিনি পর্যটকদের দেখান যে কী করে পুতুল বানাতে হয়। যদিও পুতুল বানানোর সরঞ্জাম শিক্ষার্থীকেই বহন করতে হয়।
বছরের অক্টোবর মাসে গ্রামের সবগুলো পুতুল নিয়ে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। ২০১৩ সাল থেকে এমনটা হয়ে আসছে। এই সময়েই সবচেয়ে বেশী পর্যটক আসে গ্রামটিতে। আপনি চাইলে সুকিমির বাড়িতেও যেতে পারেন। তার বাবা এখনো জীবিত। ভদ্রলোকের বয়স এখন ৯০। নাগেরোর সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি তিনিই।
মোটামুটি এই ছিল নাগোরোর পুতুল গ্রামের গল্প।
মন্তব্য করুন


সোনা,হীরাসহ নানা দামি সম্পদ পাচার করার জন্য প্রায়ই নতুন নতুন পন্থা অবলম্বন করে পাচারকারীরা। তবে গত তিনদিন ধরে ভারতের মুম্বাই বিমানবন্দরে ধরা পড়া পাচারকারীদের কীর্তি দেখে হতবাক নিরাপত্তারক্ষীরাও। কেউ নুডলসের প্যাকেটে, কেউ আবার শরীরের মধ্যে লুকিয়ে কোটি কোটি টাকা মূল্যের সোনা ও হীরা পাচারের চেষ্টা করেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত ধরা পড়ে যায় তাদের কৌশল।
ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
মুম্বাই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার রাতে ব্যাঙ্ককগামী বিমান ধরতে আসা এক যাত্রীর স্যুটকেস থেকে বিপুল পরিমাণ সোনা ও হীরা উদ্ধার করা হয়েছে। ওই যাত্রীর স্যুটকেস খুলে পরীক্ষা করার সময় বেশ কয়েকটি নুডলসের প্যাকেট পাওয়া যয়। সেই প্যাকেট কাটতেই বেরিয়ে আসে সোনা ও হীরা।
ভারতের শুল্ক দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই যাত্রীর কাছ থেকে ৬ কেজি ৮০০ গ্রাম সোনা উদ্ধার করা হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৪ কোটি রুপি। এ ছাড়া ২ কোটি রুপিরও বেশি মূল্যের হীরাও উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মোট ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অন্যদিকে কলম্বো থেকে মুম্বইগামী বিমানে এক বিদেশি নাগরিক শরীরের মধ্যে ৩২১ গ্রামের সোনার বার নিয়ে ভারতে ঢোকার চেষ্টায় ছিলেন। কিন্তু মুম্বাই বিমানবন্দরে নামতেই নিরাপত্তারক্ষীদের হাতে ধরা পড়ে যান তিনি।
সূত্র- আনন্দবাজার পত্রিকা
মন্তব্য করুন


পশ্চিম আফ্রিকার দেশ
সেনেগালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ২৩ জন
নিহত ও আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
২৬ জুলাই বুধবার দেশটির
উত্তরাঞ্চলে একটি মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে
বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়,
বুধবার উত্তর সেনেগালে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির
প্রেসিডেন্ট ম্যাকি স্যাল। দুর্ঘটনাটি এন২ নামে পরিচিত সেনেগালের অন্যতম প্রধান
একটি মহাসড়কের এসজিউসে স্যার নামক একটি গ্রামে ঘটেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
লোগা
শহরের ডেপুটি মেয়র মাদজিগুয়েন গুয়ে সানকারে রয়টার্সকে বলেছেন, দুর্ঘটনার সময়
একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে যায়। আর এতেই প্রাণহানির এই ঘটনা ঘটে।
মন্তব্য করুন


আজ
৬ জানুয়ারি, আলিঙ্গন দিবস। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে দিনটি উদযাপন করা হয়। কিন্তু কবে
কীভাবে এই দিবসের শুরু হয়েছিল, তা জানা যায়নি। তবে আলিঙ্গন কেবল প্রেমিক-প্রেমিকা বা
স্বামী-স্ত্রীর রোমান্টিক আলাপে সীমাবদ্ধ নয়। তীব্র শীতে কষ্ট পাওয়া শীতার্ত মানুষের
মধ্যে আলিঙ্গনের উষ্ণতা ছড়িয়ে দিতে এ দিবসের শুরু।
কেবল
রোমান্টিক সম্পর্ক নয় আন্তরিক যেকোনো সম্পর্কে আলিঙ্গন এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জাঁকিয়ে
বসা শীতে আলিঙ্গন যেমন উষ্ণতা জোগায়, তেমন এর ভিন্ন উপকারিতাও আছে।
আলিঙ্গন
মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। গবেষণা বলছে, প্রীতিপূর্ণ
আলিঙ্গন রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়। কমায় রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি। নানা রকম শারীরিক
ব্যথাও দূর করে। আলিঙ্গনে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়। এর মাধ্যমে নির্গত হয় অক্সিটোসিন
হরমোন, যার ফলে মানসিক অবসাদ কমে গিয়ে সুখানুভূতি তৈরি হয়। কমে দুশ্চিন্তা, আসে স্বস্তি।
শীতের
এই তীব্রতার সময়ে আপনি চাইলে উষ্ণতা নিয়ে দাঁড়াতে পারেন শীতে কাবু হওয়া মানুষদের পাশে।
তাদের জন্য করতে পারেন শীত কাপড়ের ব্যবস্থা।
মন্তব্য করুন


কোন
জায়গা থেকে স্বর্ণমুদ্রাগুলো উদ্ধার
করা হয়েছে এবং যে ব্যক্তি
এগুলোর সন্ধান পেয়েছেন, তার পরিচয় এখনও প্রকাশ
করা হয়নি।
ওই খামারের কর্তৃপক্ষ এবং স্বর্ণমুদ্রাগুলো বিক্রির
দায়িত্ব পাওয়া কোম্পানি সূত্র জানিয়েছে, স্বর্ণমুদ্রার এই মজুতকে ‘গ্রেট
কেন্টাকি হোর্ড’ নামে ডাকা হচ্ছে।
কয়েক
মাস আগে ওই ব্যক্তি
ভুট্টাখেতে স্বর্ণমুদ্রাগুলোর সন্ধান পাওয়ার পর বিরল মুদ্রা
সংগ্রহকারী জেফ গ্যারেটের সঙ্গে
যোগাযোগ করেন।
সন্ধান পাওয়া স্বর্ণমুদ্রাগুলো পরীক্ষা করে এরই মধ্যে
প্রত্যয়নপত্র দিয়েছে নুমিসম্যাটিক গ্যারান্টি কোম্পানি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এ প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন
মুদ্রা পরীক্ষা ও বিশ্লেষণ করে
থাকে।
জানা
গেছে, স্বর্ণমুদ্রাগুলো আমেরিকার গৃহযুদ্ধের (১৮৬১-১৮৬৫) সময়কার।
উদ্ধার হওয়া এসব স্বর্ণমুদ্রা
এখন বিক্রির জন্য তোলা হবে।
ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো
লাখ লাখ ডলার মূল্যে
বিক্রি হবে।
উদ্ধার স্বর্ণমুদ্রাগুলো বিক্রির দায়িত্ব পেয়েছে গভমিন্ট ডটকম। ওই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত
এক ভিডিওতে দেখা গেছে, এক
ব্যক্তি মাটি খুঁড়ে স্বর্ণমুদ্রাগুলো
বের করছেন।
এর মধ্যে আছে
১ ডলার গোল্ড ইন্ডিয়ানস,
১০ ডলার গোল্ড লিবার্টিস
ও ২০ ডলার গোল্ড
লিবার্টিস। এর মধ্যে ১৮টি
অত্যন্ত বিরল ধরনের ২০
ডলার গোল্ড লিবার্টিস আছে। এগুলো ১৮৬৩
সালে ফিলাডেলফিয়াতে তৈরি করা।
সূত্র: ফক্স১৯
মন্তব্য করুন


রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় ইস্ট এশিয়া সামিটে যোগ দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে মিয়ানমার সংকটের ব্যাপারে টেকসই সমাধান খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছেন । রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনে বিলম্ব ও মানবিক সহায়তার অভাব সমগ্র অঞ্চলকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
আজ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইউএস নিউজ।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রাষ্ট্র বাংলাদেশে লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রিত। কেননা, এ জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যাপক অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছিল মিয়ানমার সরকার। দেশটিতে চলমান সংঘাত এর মূল কারণে। যে কারণেই বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মিয়ানমারের এ সংকট সমাধানে টেকসই সমাধান খুঁজে বের করার আহ্বান জানান।
৪৩ তম আসিয়ান সম্মেলন ও ১৮ তম ইস্ট এশিয়া সামিটে যোগ দিতে জাকার্তায় রয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন। গত সোমবার স্ত্রী অধ্যাপক ড. রেবেকা সুলতানাসহ ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন রাষ্ট্রপতি।
রাজধানীর জাকার্তা ৫-৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ৪৩ তম আসিয়ান (দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলির সংস্থা) শীর্ষ সম্মেলনে ও ১৮ তম ইস্ট এশিয়া সামিটে যোগ দেন তিনি।
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী, আইওরা মহাসচিব ও আরও কয়েকজন রাষ্ট্রীয় নেতার সঙ্গে পৃথক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের কথা রয়েছে রাষ্ট্রপতির।
মন্তব্য করুন