

এবার প্রেমের টানে বাংলাদেশের নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এসেছেন মালয়েশীয় তরুণী স্মৃতি আয়েশা বিন রামাসামি (২২)। এই তরুণী বাংলাদেশে এসে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের ফরহাদ হোসেনকে (২৬) ভালোবেসে বিয়ে করেছেন। মালয়েশিয়া একই কোম্পানীতে চাকরির সুবাধে ফরহাদের সাথে পরিচয় হয় মালয়েশীয় তরুণী রামাসামির। একপর্যায়ে দুইজনের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে উঠে।
চলতি বছর দেশে ফিরেন ফরহাদ। এরপর ফরহাদের প্রেমে উদগ্রীব হয়ে পড়ে প্রেমিকা রামাসামি। অবশেষে গত ২৪ জুন ঢাকার হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রামাসামিকে বহনকারী বিমানটি অবতরণ করে। পরে একই দিন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার হাজীপুর এলাকার বাসায় পৌঁছান তারা।
জানা যায়, রামাসামি বাংলাদেশে আসার পর পরদিন ২৫ জুন এফিডেভিটের মাধ্যমে ফরহাদ ও স্মৃতি আয়েশা বিন রামাসামি বিয়ে করে। অনেকেই মালয়েশীয় নববধূ দেখতে ছুটে আসছেন ফরহাদের বাড়িতে। ভিনদেশী কন্যা পেয়ে খুশি ফরহাদের পরিবার। বর্তমানে চৌমুহনী পৌরসভার হাজীপুর এলাকার বাসায় ফরহাদের সঙ্গে সংসার করছেন মালয়েশীয় এই তরুণী।
ফরহাদ জানান, তিনি মালয়েশীয় একটি কোম্পানিতে প্রায় পাঁচ বছর চাকরি করেন। চলতি বছরে বাংলাদেশে ফিরেন। কর্মক্ষেত্রে তাদের দুজনের পরিচয়। এক সময় পরিচয় প্রেমের সম্পর্কে রুপ নেয়। একপর্যায়ে আমরা দুজই বিয়ে করার সিন্ধান্ত গ্রহণ করি। এরপর রামাসামি বাংলাদেশে আসেন। সে দেশে আসার একদিন পরই আমরা বিয়ে করি। সকলে আমাদের জন্য দোয়া করবেন।
হালকা ভাঙা ভাঙা বাংলা বলতে পারা স্মৃতি আয়শা বিন রামাসামি বলেন, তিনি ফরহাদকে ভালোবাসেন। শ্বশুর বাড়ির লোকজন অথিতি পরায়ণ। সবার আন্তরিকতা খুব ভালো লাগছে। শ্বশুরের পরিবারের সবাই তাকে আপন করে নিয়েছেন। বাংলাদেশি খাবার এবং পরিবেশ তার ভালো লেগেছে। এটা তার স্বামীর দেশ। এ দেশকে তিনি ভালোবাসেন।
মন্তব্য করুন


গণভবনকে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের
জাদুঘর নির্মাণের জন্য উপদেষ্টাদের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ
ইউনূস।
আজ সোমবার (২৮ অক্টোবর) গণভবন পরিদর্শনের
সময় এই নির্দেশ দেন তিনি।
‘‘গণভবনে ক্ষমতাচ্যুত ‘স্বৈরশাসক’ শেখ
হাসিনা গত ১৫ বছর ধরে বাস করেছিলেন, যা দমন ও তার নৃশংস শাসনের প্রতীক হয়ে উঠেছে’’
বলে উল্লেখ করেছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
গণভবনের ধ্বংসাবশেষ পরিদর্শনকালে অধ্যাপক
মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘তার (শেখ হাসিনা) দুঃশাসনের স্মৃতি এবং জনগণ যে ক্ষোভ প্রকাশ
করেছিল, যখন তারা তাকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করেছিল, সেসব জাদুঘরের রাখা উচিত হবে। শেখ
হাসিনা বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার কয়েক মুহূর্ত পর ৫ আগস্ট গণভবনে
কয়েক লাখ বিক্ষোভকারী হামলা চালায়। বিক্ষোভকারীরা গণভবনের দেয়াল ও কক্ষে গ্রাফিতি
এঁকে এবং খুনি হাসিনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী নোট লিখে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আয়নাঘর,
যেখানে হাসিনার কুখ্যাত নিরাপত্তা সংস্থাগুলো গোপনে শত শত ভিন্নমতাবলম্বী ও বিরোধী
কর্মীকে আটক করেছিল, তার একটি রেপ্লিকাও গণভবনের জাদুঘরে নির্মাণ করা উচিত। আয়নাঘরের
উচিত দর্শকদের গোপন বন্দিদের নির্যাতনের কথা মনে করিয়ে দেওয়া।
গণভবন পরিদর্শনকালে প্রধান উপদেষ্টার
সঙ্গে ছিলেন উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ।
এসময় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী
মাহফুজ আলমও উপস্থিত ছিলেন।
অধ্যাপক ইউনূস উপদেষ্টাদের জাদুঘর বিশেষজ্ঞদের
সঙ্গে পরামর্শ করতে বলেন। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে জাদুঘরের জন্য প্রস্তাব চূড়ান্ত
করতে বলেন তিনি।
উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, ২০০৯ সাল
থেকে শুরু হওয়া হাসিনার শাসনের অপকর্মগুলো জাদুঘরে যত্নসহকারে সংরক্ষণ করা হবে।
মন্তব্য করুন


মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, মাইক্রোক্রেডিটই
ব্যাংকিংয়ের ভবিষ্যৎ।
তিনি মাইক্রোক্রেডিট’র জন্য আলাদা আইন করার
আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এনজিও ভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে মাইক্রোক্রেডিটকে ব্যাংকিংয়ের ধারণা
গ্রহণ করতে হবে। আর এ ধারণা গ্রহণ করেই ঋণগ্রহিতাকে সেবা দিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, ‘মাইক্রোক্রেডিট এখনো এনজিও। এই এনজিও থেকে উত্তরণ
ঘটাতে হবে। এনজিও পর্যায়ে থেকে গেলে ব্যাংকিং মেজাজ আসবে না। মেজাজে আসতে হলে এটাকে
ব্যাংক হতে হবে। মাইক্রোক্রেডিট’র জন্য আলাদা আইন করতে
হবে।’
আজ শনিবার (১৭ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি
অথরিটির (এমআরএ) নতুন ভবন উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন।
গ্রামীণ ব্যাংকের শুরুর সময়কার স্মৃতিচারণ করে প্রফেসর ইউনূস
বলেন, আমরা যখন গ্রামীণ ব্যাংক করলাম তখন আপত্তি উঠলো এটাকে ব্যাংক বলা যাবে কি না।
আমরা বললাম, আমাদেরটাই প্রকৃত ব্যাংক, তোমাদেরটা লোক দেখানো। ব্যাংক যে শব্দ থেকে উৎপন্ন
হয়েছে সেটা হলো ট্রাস্ট, তোমরা যেটা করছো সেটা ডিসট্রাস্ট। আমাদের ব্যাংকিং মানুষের
বিশ্বাসের ভিত্তিতে হয়েছে। জামানতবিহীন ব্যাংক, বিশ্বাসের ভিত্তিতে আমরা টাকা দেই।
আজ এমন সময় আমরা আলাপ করছি যখন জামানতওয়ালা ব্যাংক, যারা নিজেদের প্রকৃত ব্যাংক বলে
দাবি করত তাদের অনেকে আজ হাওয়া। টাকা নিয়ে লোপাট। ব্যাংক শেষ। আর মাইক্রোক্রেডিটের
পরিসংখ্যান দেখেন। কেউ পয়সা নিয়ে পালায় নাই। এই হলো পরিহাস।’
মাইক্রোক্রেডিটই ব্যাংকিংয়ের ভবিষ্যৎ উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘এটাই প্রকৃত ব্যাংকিং, আগামী দিনের ব্যাংকিং যেটাতে মানুষ
নিজের পরিচয়ে কাজ করবে, নিজের বিশ্বাসের ওপরে ব্যাংকিং চলবে, টাকার উপরে না।’
মাইক্রোক্রেডিটের জন্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে
প্রধান উপদেষ্টা নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘গ্রামীণ ব্যাংকের সাফল্যের
পর প্রত্যেক এনজিও চেষ্টা করলো একইরকম কিছু করতে। ক্রমে ক্রমে প্রসার হতে আরম্ভ করল।
নানারকমের নতুন নতুন জিনিস, নানা আইডিয়া নিজেদের সুবিধার জন্য ঢোকাতে আরম্ভ করল। এটা
ভবিষ্যতের জন্য খারাপ হবে মনে করে একটি রেগুলেটরি অথরিটির প্রয়োজন হলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের
সঙ্গে যোগাযোগ করলাম, তারা বলল ‘আমাদের কাজ না’। অর্থ মন্ত্রণালয় শুরুতে
গুরত্ব দিল না, পরে বলল ‘আচ্ছা কী করতে হবে জানাও’। তখন আমরা বললাম, ‘রেগুলেটরি অথরিটি
হওয়া দরকার, কারণ যে হারে বাড়ছে বড় রকমের সমস্যা হতে পারে।
‘তৎকালীন গভর্নর ফখরুদ্দীন সাহেব আমাদের সমর্থন করলেন। কিন্তু
বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে এটা হতে পারবে না। তারা ব্যাখ্যা চাইল। আমি বললাম, এটা বহু
দেশে বলেছি, এখনো বলি, গ্রামীণ ব্যাংকও ব্যাংক, অন্যান্য ব্যাংকও ব্যাংক। কিন্তু তফাত
অনেক। উদাহরণ দেই, আমেরিকান ফুটবলও ফুটবল। ইউরোপিয়ান ফুটবলও ফুটবল। কিন্তু খেলা ভিন্ন।
আপনি যদি ইউরোপিয়ান ফুটবলের রেফারিকে দিয়ে আমেরিকান ফুটবল খেলা চালাতে চান ইট উইল বি
অ্য ডিজাস্টার। কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দিয়ে ক্ষুদ্রঋণ নিয়ন্ত্রণ করবেন, সে তো ক্ষুদ্রঋণ
জানেই না। সে তো ইউরোপীয় ফুটবলের রেফারি,’ প্রধান উপদেষ্টা বলেন।
তিনি আরোও বলেন, ‘অবশেষে ফখরুদ্দীন সাহেব রাজি হলেন। গভর্নরকে
দিয়ে এটা পরিচালনা করানোর ব্যাপারেও তাঁকে রাজি করাতে হলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরে
এর অফিস করার আলোচনা ছিল। আমরা বললাম, আলাদা জায়গায় অফিস হতে হবে... আজকে নতুন ভবন
হলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা এটিকে বোঝার চেষ্টা করেছেন, নিয়মকানুন করেছেন। তারা
যদি অন্যান্য ব্যাংকের রেগুলেটরি নিয়মের ওপর এটা স্থাপন করত তাহলে মাইক্রোক্রেডিট সেদিনই
শেষ হয়ে যেত, আর খুঁজে পাওয়া যেত না। আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের অভিনন্দন
জানাচ্ছি।’
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানান, নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ
কে হবে এ নিয়ে শুধু বাংলাদেশ না, যে দেশেই মাইক্রোক্রেডিট হয়েছে সে দেশই সমস্যায় পড়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমি তাদেরকে বারে বারে বলে এসেছি তোমাদের এত কিছু
চিন্তা করতে হবে না। কারণ বাংলাদেশ এর সমাধান দিয়ে দিয়েছে। মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি
অথরিটি শুধু যে বাংলাদেশের জন্য কাজ করেছে তা না এটা আন্তর্জাতিকভাবে অনেক দেশের জন্যে
সহায়ক হয়েছে।’
অর্থ উপদেষ্টা সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘রেগুলেটরের ওপর কড়া
না হয়ে ইউজার ফ্রেন্ডলি রেগুলেশন যেন হয় সেভাবে আইন করা, যেন কোনোকিছু চাপিয়ে না দেয়া
হয়। এমআরএ’কে এখন রেগুলশনের পাশাপাশি প্রমোশনাল অ্যাক্টিভিটিও দেখতে হবে।
সেভিংসের রিটার্ন, সার্ভিস চার্জ যেন সহজ হয় সেদিকে নজর দিন। উপকারভোগীদের জন্য যেন
সহজ হয়।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর তাঁর বক্তব্যে বলেন,
‘মাইক্রোক্রেডিট আজ অনেক দূর এগিয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকিং খাতের ১০ শতাংশ সমপরিমাণ সম্পদ
আছে মাইক্রোক্রেডিট সেক্টরে। সবচেয়ে বড় কথা, ব্যাংকিং খাতে যে জায়গাগুলোতে দুর্বলতা
আছে, মাইক্রোক্রেডিট সে জায়গায় শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। সদস্যদের সঞ্চয় বেড়ে ৬৮ হাজার
কোটি টাকার ওপর, পুঞ্জীভূত উদ্বৃত্ত বেড়ে ৬১ হাজার কোটি টাকার উপরে হয়েছে। এটা বড় অর্জন।
তারা নিজেদের সঞ্চয় ও উদ্বৃত্ত দিয়ে নিজেদের গড়ে তুলছে। বিদেশি সহায়তা, অনুদান নাই
বললেই চলে। দাতা তহবিল তিন হাজার কোটি টাকার মতো। এটা খুবই নগণ্য।’
‘বাংলাদেশে গ্রামীণ অর্থনীতি বাড়ছে। এজেন্ট ব্যাংকিং ছড়িয়ে পড়ছে।
মাইক্রোক্রেডিটের শাখা আছে ২৬ হাজারের মতো। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের শাখা ২০ হাজার ছাড়িয়েছে।
এখানে একটা সুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে ফরমাল সেক্টরের পদচারণা
বাড়ছে, বাড়বে। মাইক্রোফাইন্যান্স ইন্সটিটিউটটে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে টিকে থাকতে
হবে। মাইক্রোক্রেডিট আরও ফাংশনাল করতে রেগুলেটরি অথরিটি ও বাংলাদেশ ব্যাংক একসঙ্গে
কাজ করবে,’ বলেন তিনি।
মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি নিয়ে নতুন আইনের খসড়া করা হয়েছে। সরকারের
কাছে শিগগিরই নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।
উক্ত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, প্রধান উপদেষ্টার
বিশেষ সহকারী ড. এম আনিসুজ্জামান চৌধুরী।
মন্তব্য করুন


চাঁদপুরের কচুয়ায় সাপের কামড়ে ফজিলতের নেছা নামের এক নারীর করুন মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার দোয়াটি গ্রামের হাজী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ওই নারী একই গ্রামের মৃত আব্দুর রবের স্ত্রী।
স্থানীয় লোকজনরা জানান, মঙ্গলবার ফজিলতের নেছা সন্ধ্যায় মুরগির খোপে মুরগির ডাকে হাত দিলে ডান হাতে বিষধর সাপ দংশন করে। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কতর্ব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে প্রেরন করে। ওই হাসপাতালে ফজিলতের নেছার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুতে পরিবারের সদস্যদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে।
মন্তব্য করুন


বিভিন্ন
রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও জনগণের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার যে দাবি উঠেছে, তা
অন্তর্বর্তী সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
আজ
শুক্রবার (৯ মে) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে।
বিবৃতিতে
বলা হয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও জনগণের পক্ষ থেকে স্বৈরশাসন ও সন্ত্রাসী
কার্যক্রমের অভিযোগে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার যে দাবি উঠেছে, তা সরকার গুরুত্বের সাথে
বিবেচনা করছে। এ ব্যাপারে সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে ইতোমধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করেছে,
তাদের সাথে আলোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
সকলকে
ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের নেতা ও সমর্থকদের
সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিষয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদন সরকার বিবেচনায় রাখছে। সে পর্যন্ত
সকলকে ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানাচ্ছে।
উল্লেখ্য,
ইতোমধ্যে সরকার জনদাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রচলিত আইনের অধীনে সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগকে
নিষিদ্ধ করেছে।
বিবৃতিতে
আরও বলা হয়, সরকারের পক্ষে থেকে মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে জড়িত সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সাবেক
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের দেশত্যাগের বিষয়ে বলা হয়, ফ্যাসিবাদী সরকারের সাবেক রাষ্ট্রপতি
ও হত্যা মামলার আসামি আবদুল হামিদের বিদেশ গমন সম্পর্কে জনমনে ক্ষোভের বিষয়ে সরকার
অবগত। এ ঘটনার সাথে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনগত ব্যবস্থা নিতে সরকার বদ্ধপরিকর
রয়েছে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা
নগরীতে অভিনব এক চুরির ঘটনা সামাজিকমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রোববার (১০
মে) দুপুরে নগরীর ইসলামপুর এলাকায় একটি বাসার বারান্দার লোহার গ্রিলে আটকেপড়া মো. মারজান
হোসেন জিহাদ (২২) নামের এক চোরকে নিয়ে শোরগোল পড়ে যায়। সোমবার সকাল থেকে ওই ঘটনার একটি
ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি সবার নজরে আসে। মারজান সদর দক্ষিণ উপজেলার ইয়াছিন মার্কেট
এলাকার আব্দুল বারেকের ছেলে। ওই ভবনটির মালিক ইসলামপুর এলাকার মোহাম্মদ আলী।
স্থানীয়
সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুরে কুমিল্লা আদালতের পূর্ব পাশে ইসলামপুর এলাকার মোহাম্মদ
আলীর মালিকানাধীন একটি ভবনের নিচ তলায় চুরির উদ্দেশ্যে গ্রিলের ফাঁক দিয়ে প্রবেশের
চেষ্টা করে জিহাদ। কিন্তু তার শরীর গ্রিলে এমনভাবে আটকে যায় যে, মাথার অংশ বাইরে এবং
পাসহ শরীরের বাকি অংশ ভেতরে আটকে পড়ে।
ভাইরাল
হওয়া ১ মিনিট ১২ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, গ্রিল থেকে বের হওয়ার জন্য জিহাদ প্রাণপণ
চেষ্টা করছে এবং উৎসুক জনতার ভিড়ের মধ্যে চিৎকার করে বলছে, ‘স্যার, আমি বের হতে পারছি
না। আমার একটি বাচ্চা আছে।’ প্রায় আধা ঘণ্টা গ্রিলে ঝুলে থাকার
পর স্থানীয় লোকজন তাকে টেনে বের করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী
আব্দুল খালেক জানান, দুপুরে চিৎকার শুনে গিয়ে তারা দেখেন চোরটি গ্রিলের ফাঁকে আটকে
পড়ে আছে। সে যে ফাঁক দিয়ে ঘরে ঢুকেছিল, পালানোর সময় তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে সেখানেই আটকে
যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে টেনে ভেতরে বের করে আনেন।
কোতোয়ালি
মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার সোমবার রাতে জানান, ঘটনার পর হয়তো স্থানীয় লোকজন তাকে
মারধর করে ছেড়ে দেয়। রোববার রাতে পুলিশের টহল ডিউটি চলাকালে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরাকালে
ফৌজদারি মোড় এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২০ দিনের
সাজা দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। কিন্তু চুরি করতে গিয়ে গ্রিলে আটকে যাওয়ার বিষয়টি
আমাদের জানা ছিল না। ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। এরপর ছবি দেখে নিশ্চিত
হই, সে কারাগারে আছে।
মন্তব্য করুন


সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ২১ ট্রাকে সাড়ে ৩০০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
আজকে আরও পেঁয়াজের ট্রাক প্রবেশ করতে পারে বলে জানিয়েছে ভোমরা শুল্ক স্টেশনের কর্মকর্তারা।
সাতক্ষীরার আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক জানান, পেঁয়াজভর্তি আরও ট্রাক ভোমরা বন্দরের বিপরীতে ঘোজাডাঙ্গায় অবস্থান করছে যেকোন মুহূর্তে প্রবেশ করবে ট্রাক।
ভোমরা স্থলবন্দরে ব্যবসায়ীদের সংগঠন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ খাঁন জানান, প্রতি টন পেঁয়াজ ২২০ মার্কিন ডলার থেকে ২৫০ মার্কিন ডলারে আমদানি করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


তথ্য
ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো: নাহিদ ইসলাম বলেছেন, গণমাধ্যমের ওপর সরকারের কোনো চাপ নেই।
এই স্বাধীনতাকে কাজে লাগিয়ে গণমাধ্যমকে সাহসের সঙ্গে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করতে
হবে।
আজ মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দৈনিক
সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।
উপদেষ্টা
মো: নাহিদ ইসলাম বলেন, সঠিক তথ্য ব্যাপকভাবে প্রচার না হওয়ায় গুজব ও অপতথ্যের দ্বারা
মানুষ প্রতিনিয়ত বিভ্রান্ত হচ্ছে। গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধে গণমাধ্যমকেই অগ্রণী ভূমিকা
পালন করতে হবে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে যারা শহিদ ও আহত হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের
গল্প গণমাধ্যমে প্রচার করতে হবে। আন্দোলনে শহিদ ও আহতদের জনস্মৃতিতে রাখতে গণমাধ্যমকে
দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বিগত
ফ্যাসিবাদী সরকারের সমালোচনা করে উপদেষ্টা মো: নাহিদ ইসলাম বলেন, ওই সময় অনেক গণমাধ্যমকর্মী
ভয়ে সত্য ঘটনা প্রকাশ করতে পারেননি। এখন সেই সময় কেটে গেছে।
উপদেষ্টা
ফ্যাসিবাদী সরকারের গুম ও দুর্নীতিসহ সকল অপকর্মের তথ্য গণমাধ্যমে প্রচারের জন্য সাংবাদিকদের
প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি
বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। জনগণের কাছে সঠিক
তথ্য পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সরকার গণমাধ্যমের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করে।
গণমাধ্যমের
সংস্কার প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, সরকার গণমাধ্যমের সংস্কারের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কমিশন
গঠন করেছে। কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গণমাধ্যমের সংস্কার করা হবে।
মতবিনিময়
সভায় পত্রিকার সম্পাদকগণ বলেন, বর্তমান সময়ে গণমাধ্যমের ওপর সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ
নেই, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য আশীর্বাদ। দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমের কার্যকর
ভূমিকা রয়েছে।
তারা
বলেন, গত ১৬ বছর গণমাধ্যম সঠিক ভূমিকা পালন করলে দেশে ফ্যাসিবাদের উত্থান হতো না।
মতবিনিময়
সভায় ইংরেজি পত্রিকার জন্য আলাদা নীতিমালা প্রণয়নেরও দাবি জানানো হয়।
মতবিনিময়
সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের
মহাপরিচালক আবুল কালাম মোহাম্মদ শামসুদ্দিন, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা
পরিচালক মুহাম্মদ আবদুল্লাহ এবং দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক ও প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


পটুয়াখালীর বাউফলে জমি লিখে না দেওয়ায় শ্বশুর ও শাশুড়িকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ উঠেছে জামাইয়ের বিরুদ্ধে। রোববার (১৪ মে) রাতে বাউফল সদর ইউনিয়নের নকুলের হাট সংলগ্ন মিস্ত্রী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনার দিন রাতে ওই বাড়ির হীরালাল মিস্ত্রী (৬৫) ও তার স্ত্রী কিরন বালা (৬০) নিজ বাসায় টিভি দেখছিলেন। এ সময় হঠাৎ করে তাদের মেয়ের জামাই ফনি ভূষণ (৩৫) ছুরি নিয়ে আকস্মিকভাবে হামলা চালিয়ে দুইজনকে জখম করেন। তাদের চিৎকার শুনে এলাকাবাসী এগিয়ে এসে জামাই ফনি ভূষনকে আটকে বাউফল থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফনি ভূষনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে হীরালালের মেয়ে শিল্পী রানী বলেন, সম্প্রতি আমার বাবা আমাকে ৮ কড়া (স্থানীয় মাপ) জমি লিখে দেন। ওই জমি আমার স্বামী ফনি ভূষণ তার নামে লিখে দেওয়ার জন্য বাবাকে চাপ প্রয়োগ করেন। বাবা এতে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ফনি ভূষণ দুইজনকে কুপিয়ে জখম করেন।
এ ব্যাপারে বাউফল থানান পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিচুল হক বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত ফনি ভূষণকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে এসেছি। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এবিএস
মন্তব্য করুন


ট্রাকের
তেলের ট্যাংকে বিশেষ কায়দায় পাচারকালে ১ লাখ ১৪ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে র্যাব-৭।
এসময় ৩ মাদক কারবারীকে গ্রেফতারসহ ইয়াবা বহনে ব্যবহৃত ট্রাকটিও জব্দ করা হয়েছে।
৪
অক্টোবর বুধবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থানার কুমিরা
এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন: কক্সবাজারের টেকনাফ থানার
হাতিয়ারঘোনা গ্রামের মো. আজিজুর রহমানের ছেলে মো. মহিবুল্লাহ (২৪), চট্টগ্রামের কর্ণফুলী
থানার আজিমপাড়া গ্রামের মো. জামাল হোসেনের ছেলে মো. ইয়াসিন (১৯) এবং বাঁশখালী থানার
কোকদণ্ডী গ্রামের বাচা মিয়ার ছেলে মো. আলম (২১)।
র্যাব-৭
দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায়।
র্যাব-৭
জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীতাকুণ্ডের কুমিরা কাজীপাড়া এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনের
সামনে ঢাকামুখী একটি ট্রাককে থামানোর সংকেত দিলে না থামিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
পরে চালক-হেলপারসহ ৩ মাদককারবারীকে গ্রেফতার করা হয়। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে
ট্রাকটির জ্বালানির ট্যাংক কেটে এক লাখ ১৪ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। ইয়াবাগুলো
৫৭০টি বায়ুরোধক পলিজিপার প্যাকেট দিয়ে মোড়ানো ছিল।
পরে
গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে সীতাকুণ্ড থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
মন্তব্য করুন