

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে চা বিক্রির পাশাপাশি লেখাপড়া করে এবার উচ্চ মাধ্যমিকে জিপিএ-৫ পেয়েছে স্মৃতি পারভীন নামে এক ছাত্রী। প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চায়ের দোকানে চা বিক্রি করে রাতে পড়ালেখা করে জিপিএ-৫ পাওয়া স্মৃতির স্বপ্ন ভবিষ্যতে নার্স হয়ে অসহায় রোগীদের সেবা করা। কিন্তু ১৮ বছর বয়সী ছোট স্মৃতির নার্স হওয়ার ছোট স্বপ্ন বাস্তব রূপ পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে পারিবারিক অস্বচ্ছলতার কারণে,স্মৃতি পারভীন উপজেলার ময়না গ্রামের হারুন শেখের মেয়ে। তিন ভাইবোনের মধ্যে স্মৃতি দ্বিতীয়। উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের উপজেলার একমাত্র নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজের কারিগরি শাখা থেকে সে এবার উচ্চ মাধ্যমিকে অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর আগে সে উপজেলার ময়না ইউনিয়নে অবস্থিত ময়না এ সি বোস ইনস্টিটিউশন থেকে মাধ্যমিকে অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়।স্মৃতি পারভীন জানায়, প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ময়না বাজারে অবস্থিত চায়ের দোকানে চা বিক্রি করে। এরপর রাত ১০টা পর্যন্ত বড় বোন মনিকা পারভীন চা বিক্রি করে। এভাবে পালাক্রমে দুই বোন চায়ের দোকান চালায়। প্রতি কাপ চা ৫টাকা। এতে যা লাভ থাকে তাতেই সংসার চলে।
স্মৃতি আরও জানায়, তাদের বাবা তেমন কিছু করে না বললেই চলে। ওই চায়ের দোকানই তাদের উপার্জনের প্রধান অবলম্বন। ছোট ভাই এবং নিজের পড়ালেখার খরচ, সংসারের খরচ, ওষুধের খরচ চায়ের দোকান থেকেই চালানো হয়। স্মৃতির ইচ্ছে একজন নার্স হওয়ার। তবে সংসার খরচ চালানোর পর তেমন একটা টাকা অবশিষ্ট থাকে না। এজন্য নার্স হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে কি না তা ভবিষ্যতের আর বড় বোনের ওপর ছেড়ে দিয়েই দীর্ঘশ্বাস ফেলে চায়ের পেয়ালায় হাত লাগায় মেধাবী স্মৃতি।
মন্তব্য করুন


রাষ্ট্র সংস্কারে আরও চারটি কমিশন গঠনের
সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সেই চারটি কমিশন হলো স্বাস্থ্য কমিশন, গণমাধ্যম কমিশন, নারী
বিষয়ক কমিশন ও শ্রমিক অধিকার কমিশন।
আজ বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) উপদেষ্টা
পরিষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন,
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সরকারী মাহফুজ আলম ও প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম।
এসময় উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান জানান,
সংস্কারের জন্য আরও চারটি কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্য কমিশনের
প্রধান হিসেবে কাজ করবে জাতীয় অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ খান, শ্রমিক অধিকার কমিশনের কাজ
করবে সৈয়ত সুলতানউদ্দিন আহমেদ, গণমাধ্যম কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন
কামাল আহমেদ, নারী অধিকার বিষয়ক কমিশনের প্রধান হিসেবে কাজ করবেন শিরিন হক। চাকরিতে
প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধি সংক্রান্ত কাজের প্রতিবেদন হাতে পেয়েছি। সেই প্রতিবেদন পর্যালোচনা
করা হচ্ছে। সিদ্ধান্ত কী হয়, পরবর্তীতে সেটি জানানো হবে। এছাড়া শিক্ষা কমিশন নিয়ে
আলোচনা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার
কমিশন, পুলিশ সংস্কার কমিশন, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার
কমিশন, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের পূর্ণাঙ্গ গেজেট প্রকাশ করে সরকার। আর ৬ অক্টোবর
সংবিধান সংস্কার কমিশনের পূর্ণাঙ্গ গেজেট প্রকাশিত হয়।
মন্তব্য করুন


ঢালিউডের
কিংবদন্তি নায়ক আসলাম তালুকদার মান্না এবং কলিউড সুপারস্টার এবং তামিলনাড়ুর মূখ্যমন্ত্রী
থালাপতি বিজয়ের একটি ছবি হঠাৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এক ফ্রেমে দুই
প্রজন্মের দুই জনপ্রিয় মুখকে দেখার পর থেকেই নেটিজেনদের আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে
ছবিটি।
ভাইরাল
ছবিটিতে দেখা যায়, মান্নার কাঁধে হাত রেখে দাঁড়িয়ে আছেন বিজয়। দাবি করা হচ্ছে, প্রায়
২০ বছর আগে তোলা এই ছবি। তবে এটি আসল নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তা নিয়ে তৈরি হয়েছে
তা নিয়ে নেটপাড়ায় চলছে ধোঁয়াশা।
ভাইরাল
হওয়া এ ছবি অনেকের মনে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি করছে, আবার অনেকে ছবিটিকে এআই দিয়ে তৈরি
বলে দাবি করছেন। কিন্তু ছবির আসল রহস্য কী জানেন?
তথ্য
বলছে, ২০০০ সালে চিত্রনায়ক মান্না ভারতীয় অভিনেত্রী রানী মুখার্জিকে নিয়ে কৃতাঞ্জলি
চলচ্চিত্র থেকে একটি সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা দেন। পরবর্তী সময়ে ভারতে বিজয় থালাপতিসহ
অনেক তারকাদের সঙ্গে প্রয়াত মান্নার দেখা হয়। তবে যে ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে
ভাইরাল হয়েছে সেটি তখনকার সময়ে তোলা কি না তার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
অনেকে
মনে করছেন, এটি বাস্তবও হতে পারে। কারণ, মান্নার একাধিক সিনেমার পোস্ট-প্রোডাকশন কাজ
হয়েছে ভারতের চেন্নাইয়ের প্রসাদ ল্যাব ও এভিএম স্টুডিওতে। ২০০৩ থেকে ২০০৪ সালের দিকে
মান্না যখন ‘বাস্তব’, ‘মিনিস্টার’
বা ‘বীর সৈনিক’- সিনেমার কাজে চেন্নাইয়ে ছিলেন, তখন একই সময় বিজয়ের সিনেমার
কাজও চলছিল বলে জানা যায়। সেই সূত্রেই মান্না-বিজয়ের দেখা হয়ে থাকতে পারে এমন ধারণা
করছেন অনেকে।
এ
প্রসঙ্গে সঠিক তথ্য জানতে প্রয়াত নায়ক মান্নার স্ত্রী শেলি মান্নার কাছে জানতে চাইলে
তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, অনেক আগের কথা, ঠিক মনে পড়ছে না। তবে বিজয়ের সঙ্গে তার দেখা
হতেও পারে। প্রায় তো ইন্ডিয়ায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ও কাজে যেত। নায়ক মান্নার ছেলে
সিয়াম ইলতেমাশ অবশ্য দাবি করেছেন, ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি।
এদিকে
ছবি শনাক্তকারী ওয়েবসাইট সাইটইঞ্জিন বলছে, মান্না ও থালাপতি বিজয়ে ছবিটি ৩ শতাংশ এআই
দিয়ে তৈরি। অর্থাৎ ছবিটি বাস্তব ক্যামেরায় তোলা। জিরোজেপিটি বলছে, ছবিটির ৫১ শতাংশ
মৌলিক। পুরোনো ছবি হওয়ায় এতে আলো ও অন্য কিছু কাজ হয়েছে।
নেটিজেনদের
একাংশের দাবি, ছবিটি বাস্তব ক্যামেরায় তোলা। ছবিতে ছিলেন চিত্রনায়ক বাপ্পারাজ অথবা
কাজী মারুফ। আধুনিক এআই প্রযুক্তির সাহায্যে চিত্রনায়ক বাপ্পারাজ অথবা কাজী মারুফের
ছবির মধ্যে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে থালাপতি বিজয়ের মুখ বসিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ভাইরাল
ছবিটি আসল হোক কিংবা এআই প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি হোক এটি ভক্তদের আবেগি করে তুলেছে মান্নার
পুরোনো স্মৃতিতে। চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা বলছেন, মান্না ও থালাপতি বিজয় দুজনেই গণমানুষের
নায়ক যারা নিজ নিজ ইন্ডাস্ট্রিতে সাধারণ মানুষের হৃদয়ের গভীরে জায়গা করে নিয়েছেন।
মন্তব্য করুন


ঘূর্ণিঝড় মোখার কারণে ৫১ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌরুটে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। সোমবার (১৫ মে) সকাল ৯টার দিকে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক হয়।
লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) দৌলতদিয়া ঘাট প্রান্তের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আফতাব হোসেন। এর আগে ঘূর্ণিঝড় মোখার কারণে নদী উত্তাল হয়ে যাওয়ায় নৌ দুর্ঘটনা এড়াতে শনিবার (১৩ মে) ভোর ৬টা থেকে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।
আফতাব হোসেন বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোখার প্রভাব দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে পড়েনি। তারপরও নৌদুর্ঘটার কথা চিন্তা করে এই রুটে শনিবার (১৩ মে) ভোর ৬টা থেকে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এরপর ঘূর্ণিঝড় মোখার প্রভাব কেটে গেলে আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে পুনরায় এই নৌরুটে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক হয়। বর্তমানে এই নৌরুটে ১৬টি লঞ্চ চলাচল করছে।
মীর সামসুজ্জামান/এবিএস
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংক চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জন্য ঋণ সহায়তা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।
মঙ্গলবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদৌলায়ে সেক। এসময় বিশ্বব্যাংকের আবাসিক প্রধান বলেন, চলতি অর্থবছরে তার সংস্থা বাংলাদেশের জন্য দুইশ’ কোটি মার্কিন ডলারের নতুন অর্থায়ন করতে পারবে। এই অর্থ অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন, বন্যা মোকাবিলা, দূষণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বায়ুর মান বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে সহায়তা করা হবে।
জরুরিভাবে আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে এমন ক্ষেত্রে সহায়তা করা হবে উল্লেখ করে আবদৌলায়ে সেক বলেন, আমরা যত দ্রুত সম্ভব এবং যতটা সম্ভব আপনাদের সহায়তা করতে চাই।
বৈঠকে নতুন ঋণ সহায়তার প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টার অনুরোধের প্রেক্ষিতে সংস্থাটি সরকারের চলমান বিদ্যমান প্রকল্পে প্রায় একশ’ কোটি ডলারের অতিরিক্ত একশ’ কোটি ডলারের তহবিল পুনর্বিন্যাসের কথা উল্লেখ করা হয়।
বিশ্বব্যাংকের আবাসিক প্রধান জানান, অতিরিক্ত ঋণ প্রদানের মাধ্যমে বিশ্বব্যাংক এবারের অর্থবছরে বাংলাদেশকে সহজশর্তে ঋণ এবং মঞ্জুরি মিলিয়ে প্রায় তিনশ’কোটি মার্কিন ডলার প্রদান করবে, যার মাধ্যমে বিদ্যমান প্রকল্পসমূহের তহবিল পুনর্বিন্যাসও করা হবে।
সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন বাংলাদেশের তরুণ সম্প্রদায় এবং দেশটির জন্য ‘মহৎ কাজ’হবে উল্লেখ করে বিশ্বব্যাংকের আবাসিক প্রধান বলেন, প্রতিবছর যে ২০ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে, তারাও এর সুফল পাবে।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরক্টেরকে উদ্দেশে করে বলেন, ১৫ বছরের অপশাসন থেকে ঘুরে দাঁড়াতে আমরা যে নতুন যাত্রার সূচনা করেছি তাকে এগিয়ে নিতে এবং সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে বিশ্বব্যাংকের ঋণ তহবিলসমূহের শর্তাবলী নমনীয় হতে হবে। আমাদের ধ্বংসাবশেষ থেকে নতুন কাঠামো তৈরি করতে হচ্ছে। আমাদের এখন বড় ধাক্কা দেওয়ার প্রয়োজন এবং ছাত্রদের যে স্বপ্ন রয়েছে তা পূরণে মনোযোগ দিতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন,
আমি আপনাদের বলবো- আমাদের সাহায্য করুন। আমাদের টিমের অংশীদার হোন। গত ১৫ বছরে শেখ
হাসিনার শাসন আমলে দুর্নীতিবাজরা অর্থ আত্মসাৎ করে বিদেশে কয়েক বিলিয়ন ডলার পাচার করেছে। পাচার হওয়া এসব অর্থ ফিরিয়ে আনতে তিনি বিশ্বব্যাংককে কারিগরি সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানান।
বিশ্বব্যাংকের আবাসিক প্রধান বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সহায়তা করতে সম্মত হন। তিনি বলেন, আমরা আপনাদের সাহায্য করতে পেরে খুশি হবো। বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে পরিসংখ্যানগত তথ্যের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা তৈরি, কর আহরণে অটোমেশন চালু এবং আর্থিক খাত সংস্কারে সহায়তা করতে চায়। বাংলাদেশ তার প্রতিষ্ঠানগুলো মেরামত এবং মোটা দাগের সংস্কার করার এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চায় না। একবার এ সুযোগ হারালে কখনো তা আর ফিরে আসবে না।
আবদৌলায়ে সেক জুলাই-আগস্টে ছাত্র আন্দোলনের শহিদদের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি ঢাকার দেয়ালে তরুণদের আঁকা বর্ণিল গ্রাফিতি ও ম্যুরাল দেখে মুগ্ধ হয়েছেন উল্লেখ করে বলেছেন, ৩০ বছরের চাকরি জীবনে অন্য কোথাও এমন দেখিনি।
মন্তব্য করুন


দরিদ্র ও শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সেনা পরিবার কল্যাণ সমিতি।
সেপকসের পৃষ্ঠপোষক, লেডিস ক্লাব ও চিলড্রেন ক্লাবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক সারাহনাজ কমলিকা জামান আজ জলসিঁড়ি এলাকার শেখ রাসেল ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজে প্রধান অতিথি থেকে এসব শীতবস্ত্র বিতরণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সেপকসের এই মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এছাড়াও, এ ধরনের মানবিক কার্যক্রমে সহযোগিতা প্রদানের জন্য সংগঠনের সকল সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
উল্লেখ্য, সেপকসের বিভিন্ন আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক শাখাসমূহের মাধ্যমে দেশব্যাপী শীতার্ত গরিব, অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হবে।
শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সেনাসদরে কর্মরত ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের সহধর্মিনীগণ, সেপকস ঢাকা অঞ্চলের সভানেত্রী, সেপকস ঢাকা অঞ্চলের পরিচালনা পর্ষদের সকল সদস্যগণ, অফিসারগণ; অন্যান্য পদবির সেনাসদস্যগণ; বেসামরিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিবর্গ ।
মন্তব্য করুন


বাজারে দ্রব্যমূল্যের দাম তদারকিতে
রাজধানীর চাঁনখারপুলে আনন্দ বাজার পরিদর্শন করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং যুব ও ক্রীড়া
উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
শনিবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে
নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে তিনি বাজার পরিদর্শনের বিষয়টি জানিয়েছেন।
ফেসবুক পোস্টে আসিফ মাহমুদ লিখেন, ‘ডিমের হালি ৬০ থেকে ৪৮ টাকা, লাউ প্রতিপিস ১০০ থেকে ৪০-৫০ টাকা ও কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ১৪০-১৫০ টাকায় নেমে এসেছে। যদিও স্থান ও বাজারভেদে দামে কিছু ভিন্নতা রয়েছে। শীতের সবজি বাজারে আসা শুরু হলে আরও কমে আসবে। অন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণেও সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন


স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল
মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেছেন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে
সংস্কারের মাধ্যমে একটি দক্ষ, সুসংগঠিত, পেশাদার ও সময়োপযোগী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা
হবে। এ লক্ষ্যে যা যা করণীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সবকিছু করা হবে।
আজ (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে গাজীপুরের
সফিপুরে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর
৪০তম বিসিএস (আনসার) ক্যাডার কর্মকর্তা এবং ২৫তম ব্যাচ (পুরুষ) রিক্রুট সিপাহিদের মৌলিক
প্রশিক্ষণের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল
মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেন, বাংলাদেশ সৃষ্টির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট থেকে শুরু
করে স্বাধীনতা পরবর্তী দেশের প্রতিটি জরুরি মুহূর্তে আনসার বাহিনীর সদস্যগণ গভীর দেশপ্রেম
নিয়ে এগিয়ে এসেছে এবং দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাসহ সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
পালন করছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা বিধানসহ কূটনৈতিক এলাকার সুরক্ষায়
এ বাহিনী বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেছে। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারী
সরকারের পতনের পর থানা, ট্রাফিক, বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর সুরক্ষায়
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন
করেছে। বিশেষ করে আনসার গার্ড ব্যাটালিয়নের সদস্যরা ডিএমপি’র থানাগুলোর অভ্যন্তরীণ
নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে এবং হযরত শাহাজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় নিয়োজিত
রয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সাথে সাথে পুলিশ বাহিনীর স্বল্পতার মাঝেও রাষ্ট্রীয়
অতিথি ভবন যমুনাতে আনসার গার্ড ব্যাটালিয়নের সদস্যরা সাহসিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করছে।
তিনি জাতির জরুরি প্রয়োজনে সাহসী ভূমিকা রাখার জন্য বাহিনীর সকল সদস্যের প্রতি আন্তরিক
ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, বাংলাদেশের
প্রতিটি গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে থাকা স্বেচ্ছাসেবী গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরাও
দেশের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে। সাম্প্রতিক সময়ে গ্রামে গ্রামে যে
সামাজিক নিরাপত্তা সংকট দেখা দিয়েছিল, ভিডিপি সদস্যরা তা নিরসনে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছে।
যারা মন্দির, গির্জা ও চার্চে হামলা চালিয়ে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলো,
তাদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলো ভিডিপি সদস্যরা। তারা ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে পাহারা
বসিয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি রক্ষায় অবদান রেখেছে। ভবিষ্যতেও
ভিডিপি সদস্যরা তারুণ্য নির্ভর স্বেচ্ছাসেবকের ভূমিকায় সুসংগঠিত হয়ে দেশের আর্থ-সামাজিক
উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তায় আরো বেশি অবদান রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত
ছিলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. মোহাম্মদ আবদুল
মোমেন এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল
মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মৌলিক প্রশিক্ষণের
সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে সালাম গ্রহণ করেন এবং কৃতি প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে পুরস্কার
তুলে দেন।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিধি আরও বড় হচ্ছে।
নতুন করে ৫ উপদেষ্টা যুক্ত হচ্ছেন। এরমধ্যে চারজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন- ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, আলী ইমাম মজুমদার, লে.ক. (অব.) জাহাঙ্গীর আলম ও মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, আগামীকাল শুক্রবার (১৬ আগস্ট) বিকেল ৪টায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাদের শপথ পাঠ করাবেন।
বঙ্গভবন সূত্র জানায়, শুক্রবার (১৬ আগস্ট) বিকেল ৪টায় বঙ্গভবনে নতুন উপদেষ্টাদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এ সময় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ অন্যান্য উপদেষ্টাগণ উপস্থিত থাকবেন।
এর আগে, গত ৮ আগস্ট রাতে নবীন-প্রবীণের সমন্বয় গঠিত হলো দেশের বহুল আলোচিত অন্তর্বর্তী সরকার। এই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বঙ্গভবনের দরবার হলে তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এ সময় আরও ১৩ জন উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ গ্রহণ করেন। শপথ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা ও কূটনীতিকেরা দরবার হলে উপস্থিত ছিলেন।
পরবর্তীতে ১১ ও ১৩ আগস্ট আরও তিন জন উপদেষ্টা শপথ নেন। তারা ঢাকার বাইরে থাকায় পরে শপথ নেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা হলেন- ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, ড. আসিফ নজরুল, হাসান আরিফ, তৌহিদ হোসেন, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, শারমিন মুরশিদ, ফারুক-ই-আজম (বীর প্রতীক), আদিলুর রহমান খান, সুপ্রদীপ চাকমা, ফরিদা আখতার, বিধান রঞ্জন রায়, আ ফ ম খালিদ হাসান, নুরজাহান বেগম, মো. নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি;
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার বড় ধর্মপুর এলাকার লালমাই পাহাড়ে অনেক বছর ধরে একটি গুঞ্জন প্রচলিত–এখানে তেল-গ্যাসের সন্ধান মিলেছিল, বিদেশি কোম্পানি এসে খননও করেছিল; কিন্তু একটি অদৃশ্য হেলিকপ্টার এসে কূপ সিলগালা করে দেয়। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসায় এলাকাজুড়ে আবারও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশে এখনও বড় আকারের খনিজ তেলের মজুত আবিষ্কৃত হয়নি। দেশের প্রধান জ্বালানি নির্ভরতা প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর। সিলেটের হরিপুর ও মৌলভীবাজারের বরমচাল ছাড়া উল্লেখযোগ্য তেল উৎপাদনের ইতিহাসও সীমিত। ফলে দেশের অধিকাংশ জ্বালানি তেল এখনও বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৭-১৮ সালের দিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স) লালমাই এলাকায় অনুসন্ধান কার্যক্রম চালায়। সেখানে ‘লালমাই-১’ ও ‘লালমাই-২’ নামে দুটি কূপ খনন করা হয়। অনুসন্ধানের শুরুতে কিছু পরিমাণ তেলের অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও পরীক্ষামূলক উত্তোলনে উৎপাদন খুবই কম ছিল। লালমাই-১ কূপ থেকে দৈনিক মাত্র ২০ থেকে ২৫ ব্যারেল তেল উত্তোলন সম্ভব হচ্ছিল। লালমাই-২ কূপে চাপ কম থাকায় সেটিও বাণিজ্যিক উৎপাদনের উপযোগী হয়নি।
কথিত আছে–প্রতিদিন অন্তত কয়েকশ ব্যারেল তেল উত্তোলন সম্ভব হলে একটি তেলকূপকে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক ধরা হয়। সেই তুলনায় লালমাইয়ের উৎপাদন ছিল খুবই সীমিত। এ ছাড়া তেলের সঙ্গে অতিরিক্ত পানি উঠে আসা, চাপ কমে যাওয়া এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্পটি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। পরে নিরাপত্তা ও পরিবেশগত ঝুঁকি এড়াতে নিয়ম অনুযায়ী কূপগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ বা ‘প্লাগ অ্যান্ড অ্যাবানডন’ করা হয়।
মো. সিরাজ নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, এখানে তেল-গ্যাস পাওয়া গিয়েছিল। আমরা নিজের চোখে দেখেছি। ২০০২ সালে কোরিয়ান কোম্পানি খনন করতে আসে। পরে তারা চলে যায়। হাজার-হাজার মিটার খনন করা হয়েছিল। এক সময় হেলিকপ্টার এসে এটি সিলগালা করে দেয়।
বড় ধর্মপুর এলাকার বাসিন্দা মো. শহীদ বলেন, এ জায়গাটা আমাদের বাড়ির পাশে। ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি এটা সিসা ঢালাই দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। কিন্তু কেন বন্ধ করা হলো, কে করল আজও জানি না। সরকার চাইলে আবার অনুসন্ধান করতে পারে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিত্যক্ত তেল বা গ্যাসকূপ খোলা অবস্থায় রেখে দিলে গ্যাস লিক, অগ্নিকাণ্ড কিংবা ভূগর্ভস্থ পানি দূষণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসরণ করে অলাভজনক কূপগুলো সিলগালা করা হয়।
পেট্রোবংলার উপব্যবস্থাপক সৈকত মাহমুদ বলেন, লালমাই এলাকায় অনুসন্ধান চালানো হলেও সেখানে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক তেলের মজুত পাওয়া যায়নি। ফলে কূপগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়।
মন্তব্য করুন


নেত্রকোনার
কেন্দুয়ায় আশ্রয় দেওয়ার নামে সদ্য তালাকপ্রাপ্ত এক নারীকে (২৪) ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
উঠেছে। এ সময় এক মাস বয়সী নবজাতক শিশুকে ছুড়ে ফেলে দেন অভিযুক্ত। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার
করেছে পুলিশ।
সোমবার
(১৮ মে) তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আব্দুর রউফ মিয়া (৬০) মদন উপজেলার বাসিন্দা
এবং পেশায় একজন মুদি দোকানদার।
ভুক্তভোগী
নারী আনোয়ারার বাড়ি সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার নূরনগর গ্রামে। প্রায় এক বছর আগে
নেত্রকোনার মদন উপজেলার রিপন মিয়ার (৩০) সঙ্গে বিয়ে করেন তিনি। তাদের সংসারে এক মাস
৭ দিন বয়সী একটি নবজাতক শিশু রয়েছে।
তবে
যৌতুক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ১৫ মে স্বামী রিপন মিয়া আনোয়ালাকে একতরফা ডিভোর্স
(তালাক) দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেন।
স্বামীর
ঘর থেকে বিতাড়িত হয়ে রোববার বিকেলে ভুক্তভোগী তার শিশুকে কোলে নিয়ে বাপের বাড়ি সিরাজগঞ্জের
উদ্দেশে রওনা হন। পথিমধ্যে কেন্দুয়া উপজেলার কান্দিউরা ইউনিয়নের তেতুলিয়া কৈজানী নদী
পার হয়ে ঘাটে পৌঁছান তিনি। সেখানে ঘাট সংলগ্ন মুদি দোকানদার আব্দুর রউফের দোকানে গাড়ির
জন্য অপেক্ষা করছিলেন তিনি।
পরেসন্ধ্যা
৭টার দিকে রউফ মিয়া রাতে তার বাড়িতে থেকে পরদিন সকালে রওনা দেওয়ার পরামর্শ দেন ভুক্তভোগীকে।
নারী রউফের সঙ্গে রওনা হন। কিন্তু পথে গিয়ালী খালের পাশে নির্জন স্থানে নিয়ে রউফ তাকে
‘কুপ্রস্তাব’ দেয়।
আনোয়ারা
এই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রউফ ক্ষিপ্ত হয়ে শিশুটিকে নির্মমভাবে মাটিতে ছুড়ে ফেলে
দেয়। এরপর দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়।
ধস্তাধস্তির
একপর্যায়ে আনোয়ারা কৌশলে দৌড়ে পালিয়ে যান। তিনি সেখান থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে
চিরাং ইউনিয়নের সাজিউড়া বাজারে গিয়ে চিৎকার করে স্থানীয়দের বিস্তারিত জানান। স্থানীয়রা
তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেয়।
প্রায়
২ ঘণ্টা খোঁজাখুঁজিপ পর একটি পাটক্ষেত থেকে ওই নবজাতক শিশুটিকে জীবিত ও অক্ষত অবস্থায়
উদ্ধার করা হয়।
খবর
পেয়ে কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী মাকসুদ দ্রুত ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে ছুটে
যান। তিনি ভুক্তভোগী মা ও শিশুকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য
কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। এরপর পুলিশ সুপারের নির্দেশ কেন্দুয়া
ও মদন থানা পুলিশ যৌথ অভিযান নামেন এবং সোমবার (১৮ মে) সকালে অভিযুক্ত আব্দুর রউফ মিয়াকে
গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
মদন
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী
হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তার আসামি আব্দুর
রউফকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে মা ও নবজাতক শিশুর শারীরিক অবস্থা
স্বাভাবিক রয়েছে।
মন্তব্য করুন