

বগুড়ায় দইয়ের ওজন কম দিয়ে ক্রেতাদের ঠকানোর অভিযোগে মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহরের সাতমাথা এলাকায় ৩ দইঘরকে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বগুড়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইফতেখারুল আলম রিজভী।
মঙ্গলবার শহরের জিরো সাতমাথার বিভিন্ন দইঘরে এই অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানান, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বগুড়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইফতেখারুল আলম রিজভী।
অভিযানে দেখা যায় দইয়ের মোড়কে ৬৫০ গ্রাম থাকলেও প্রকৃত ওজন ৫৩০ গ্রাম। দইয়ের ওজন কম দিয়ে ক্রেতাদের ঠকানোর অভিযোগে আলহাজ মহরম আলী দইঘরকে ৬ হাজার, আদি আসল মহরম আলী দইঘরকে ৫ হাজার এবং চিনিপাতা দইঘরকে ৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়াও ব্যবসায়ীদের এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করেন তিনি।
এ সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্তিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


গত ২৪ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার জেলার চকরিয়ায়
ডাকাতি প্রতিরোধ অভিযান পরিচালনার সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট তানজিম
ছারোয়ার নির্জন (২৩) শহীদ হয়েছিলেন।
এ ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত দুষ্কৃতিকারীদের ধরতে
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অভিযান চলমান রয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে আজ শুক্রবার (২৫ অক্টোবর)
আনুমানিক ১০:৩৫ মিনিটে চকোরিয়ার রংমহল এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান
পরিচালনা করে ডাকাত মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন প্রকাশ (৩৫) ওরফে ভিন্ডি কামালকে আটক
করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ডাকাত কামাল উক্ত ডাকাতির
ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা স্বীকার করেছে। অদ্যাবধি উক্ত হত্যাকাণ্ড এবং ডাকাতির ঘটনায়
জড়িত ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যাদের মধ্যে ৩ জন সরাসরি
হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিল। উক্ত ঘটনায় জড়িত অবশিষ্ট ডাকাতদের গ্রেফতারের জন্য
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সর্বাত্মক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গ্রেফতারকৃতকে চকরিয়া থানা পুলিশের নিকট
হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে
চকরিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট জোসে রামোস-হোর্তা বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের তাঁর দেশে বিনিয়োগের আহবান জানিয়েছেন।
আজ রোববার (১৫ ডিসেম্বর) ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক এবং প্রতিনিধিদলের আলোচনার পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে রামোস-হোর্তা বলেন, আমি মনে করি আমরা বাংলাদেশ থেকে আরও পণ্য আমদানি করতে পারি এবং বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোকে তিমুর-লেস্তে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানাই। আগামী বছর আমরা আসিয়ানের সদস্য হব এবং সেইসাথে ৭০০ মিলিয়ন জনগোষ্টির অঞ্চলের অংশ হয়ে উঠব। আগামী বছর তিমুর-লেস্তে ৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি জিডিপি অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত হবে। তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট আশা প্রকাশ করেন যে বাংলাদেশ তাঁর দেশের উন্নয়নে অংশীদার হবে।
রামোস-হোর্তা বলেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক ইউনূস বিশ্বের অন্যতম সম্মানিত নেতা, যিনি এখনও সক্রিয়ভাবে অফিসে কাজ করছেন। তিনি বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টাকে নেলসন ম্যান্ডেলা, জন এফ কেনেডি, মহাত্মা গান্ধী, ফিদেল কাস্ত্রো এবং চে গুয়েভারের মতো বিশ্ব নেতাদের সাথে তুলনা করেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ অত্যন্ত সৌভাগ্যবান, খুবই ভাগ্যবান যে এমন একজন নিরহঙ্কার ও বিনয়ী মানুষ দেশের নেতৃত্বে রয়েছেন। তিনি আপনাদের তরুণদের সাথে কাজ করছেন দেশের পরিববর্তনের জন্য।'
বাংলাদেশ ও তিমুর-লেস্তের জনগণের ভোগান্তির ইতিহাস প্রায় একই রকম উল্লেখ করে তিমোর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ দৃঢ়চেতা, পরিশ্রমী, সৃজনশীল ও সফল।
অধ্যাপক ইউনূসকে তার ভাই, বন্ধু ও পরামর্শক উল্লেখ করে তিনি বাংলাদেশ সরকারকে তাকে আতিথেয়তা দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এখানে এসে তিনি সম্মানিত বোধ করছেন।
সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট এবং তার সফরসঙ্গীরা গতকাল রাত ১০টা ৪০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (এইচএসআইএ) অবতরণ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ইউনূস তাকে গার্ড অব অনার এবং গান স্যালুটের মাধ্যমে অভ্যর্থনা জানান।
মন্তব্য করুন


নারী ও শিশু নির্যাতন
আইনে ধর্ষণ মামলায় জামিন পাওয়ার অধিকার রাখবো না বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক
উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
আজ রবিবার (৯ মার্চ)
আইন মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ
নজরুল বলেন, ধর্ষণ মামলায় যদি ৯০ দিনের মধ্যে বিচার না হয়, তাহলে এই মামলায় কাউকে জামিন
দেওয়া যাবে না। আগে ছিল ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার না হলে জামিন দেওয়া যেতো। এখন থেকে ধর্ষণের
মামলার ক্ষেত্রে কোনো জামিন দেওয়া হবে না। ধর্ষণের মামলার ক্ষেত্রে যদি কোনো রকমের
গাফলতি থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে ডিপার্টমেন্টাল অ্যাকশন নেয়ার জন্য সুনির্দিষ্ট আইন
সংযোজন করা হবে। ধর্ষণের মামলার ক্ষেত্রে ডিএনএ
সার্টিফিকেট লাগতো। আমাদের দেশের সব জায়গায় ডিএনএ সার্টিফিকেট দেওয়ার সুবিধা নেই। এজন্য
ধর্ষণ মামলার বিচার অনেক দেরি হতো। এজন্য স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কথা বলে একটা সংশোধনী
আনবো যে, উপযুক্ত ক্ষেত্রে বিচারক যদি মনে করে যে শুধু মাত্র মেডিকেল সার্টিফিকেটই
মামলার বিচার ও তদন্ত কার্যক্রম চালানো সম্ভব তাহলে সে রকম ব্যবস্থা নিতে পারবে, বলেন
উপদেষ্টা।
আইন উপদেষ্টা আর বলেন,
যেসব স্থানে আসামিরা হাতেনাতে ধরা পড়বে সেখানে ডিএনএ সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য সময়ক্ষেপণ
রোধকল্পে এই পরিবর্তন আনার চিন্তা করছি। অতিদ্রুত জেলা পর্যায় ডিএনএ টেস্ট নেওয়ার জন্য
ল্যাবরেটরি তৈরি করা হবে।
মন্তব্য করুন


দ্বাদশ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের জনগণ এবং গণতন্ত্রের জয় হয়েছে বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি
মো. সাহাবুদ্দিন।
মঙ্গলবার
(৩০ জানুয়ারি) বিকেলে সংসদ ভবনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি
এ মন্তব্য করেছেন।
রেওয়াজ
অনুযায়ী সংসদের প্রথম অধিবেশন এবং প্রতি বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি
ভাষণ দিয়ে থাকেন। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেন।
এ
সময় অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। অধিবেশনে অন্যান্যের
মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সংসদ উপনেতা মতিয়া চৌধুরী,
বিরোধীদলীয় নেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদেরসহ সংসদ সদস্যরা।
রাষ্ট্রপতি
মো: সাহাবুদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, দেশের গণতন্ত্রের জন্য দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজন অত্যন্ত যুগান্তকারী ঘটনা, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক
অঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় হয়েছে
দেশের জনগণের, জয় হয়েছে গণতন্ত্রের। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সফলভাবে নির্বাচন পরিচালনার
মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক শক্তি আরও সুদৃঢ় হয়েছে। নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই, জনগণের
রায় মেনে নিয়ে গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ মানুষের
স্বতঃস্ফূর্ত ও সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্যই সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সব পদক্ষেপ সার্থক
হয়েছে। নির্বাচন বর্জনকারী দলগুলো সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন
করেছে।
মন্তব্য করুন


মো মিজানুর রহমান মিনু, চৌদ্দগ্রাম:
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার মোঃ সাইদুল ইসলাম এর নির্দেশনায় ১৪ জুলাই রাত ২ টার সময় চৌদ্দগ্রাম থানায় কর্মরত এস আই সুজন কুমার চক্রবর্তী সঙ্গীয় ফোর্সসহ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চৌদ্দগ্রাম থানার চিওড়া ইউনিয়নের ঘোষতল রাস্তার উপর থেকে ০১টি সিএনজি গাড়ী তল্লাশী করে ১টি স্কুল ব্যাগ ও ১টি প্লাষ্টিকের বস্তার ভিতরে থেকে মোট ২৫ কেজি গাঁজা ও ০১টি নাম্বার বিহীন সিএনজি অটোরিক্সা উদ্ধার করে।
এ সময় সি এন জি তে থাকা দুইজন আসামী ইউসুফ (৪৫) ও কাজী মোঃ লিটন (৩২)কে মাদকদ্রব্য সহ আটক করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আর একজন আসামী মোঃ ইউনুছ আলী দৌড়ে পালিয়ে যায়।
উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে চৌদ্দগ্রাম থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলা করা হয়।
মন্তব্য করুন


ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলায়
বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে হামলার ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে কর্তব্যে
গাফিলতির জন্য ত্রিপুরা পুলিশের তিন সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।
আজ মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) সংবাদমাধ্যমকে
এ তথ্য জানিয়েছেন পশ্চিম ত্রিপুরা পুলিশের এসপি কিরণ কুমার।
তিনি জানান, বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে
হামলার ঘটনায় আগরতলার গোলচত্বর এলাকা থেকে ঝুটন দাস, দশমীঘাট চত্বর থেকে উজ্জ্বল দাস,
অভয়নগরের দীপ্তনীল ভৌমিক, আমতলি রানীখামার অঞ্চলের সূর্য দাস, বিলোনিয়ার মতাই অঞ্চলের
ঝুলন মালাকার, শহরের ৭৯টিলা অঞ্চলের বাসিন্দা প্রদীপ সাহা এবং অলক মজুমদারকে সোমবার
রাতে আটক করা হয়েছে। গতকালের ঘটনায় পুলিশের তিন জন উপপরিদর্শককে বরখাস্ত করা হয়েছে।
সেই সঙ্গে আগরতলার নিউ ক্যাপিটাল কমপ্লেক্স থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে।
এ ব্যাপারে পুলিশ ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
মন্তব্য করুন


আজ (৩ নভেম্বর) জেলহত্যা দিবস। এ দিনটি পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর দ্বিতীয় কলঙ্কজনক অধ্যায় ।
১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীরসেনানী ও চার জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এএইচএম কামারুজ্জামান এবং ক্যাপ্টেন মনসুর আলীকে এ দিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠনের উদ্যোগে সারাদেশে পালিত হচ্ছে শোকাবহ এ দিনটি।
প্রখ্যাত সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাস তার ‘বাংলাদেশ এ লিগ্যাসি অব ব্লাড’ গ্রন্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পরই জেলখানায় জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। আর এ কাজের জন্য পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি ঘাতক দলও গঠন করা হয়।
বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভার ঘৃণিত সদস্য হিসেবে পরিচিত এবং তৎকালীন স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদ এবং বঙ্গবন্ধুর দুই খুনি কর্নেল (বরখাস্ত) সৈয়দ ফারুক রহমান এবং লে. কর্নেল (বরখাস্ত) খন্দকার আব্দুর রশীদ জেলখানায় জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এ কাজের জন্য তারা একটি ঘাতক দলও গঠন করে। এ দলের প্রধান ছিল রিসালদার মুসলেহ উদ্দিন। ১৫ আগস্ট শেখ মনির বাসভবনে যে ঘাতক দলটি হত্যাযজ্ঞ চালায় সে দলটির নেতৃত্ব দিয়েছিল মুসলেহ উদ্দিন।
স্বাধীনতা ঘোষণার পরপরই পাকিস্তানের সামরিক জান্তা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুকে ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে। পরে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সৈয়দ নজরুল ইসলাম বাংলাদেশ সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাজউদ্দীন আহমদ একটি স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় কোটি কোটি বাঙালির স্বাধীনতার স্বপ্ন পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বঙ্গবন্ধুর অপর ঘনিষ্ঠ সহযোগী এএইচএম কামারুজ্জামান ও ক্যাপ্টেন মনসুর আলী আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলাযুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে নীতি ও কৌশল নির্ধারণে ভূমিকা রাখেন।
পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্য এবং ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিহত জাতীয় চার নেতা হত্যার তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছিল লন্ডনে। তদন্ত করার জন্য ১৯৮০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে এ তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়। তবে জিয়াউর রহমান সরকারের অসহযোগিতার কারণে এবং কমিশনের একজন সদস্যকে ভিসা প্রদান না করায় এ উদ্যোগটি সফল হতে পারেনি।
অধ্যাপক আবু সাইয়িদের ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড ফ্যাক্টস অ্যান্ড ডুকমেন্টস’ গ্রন্থে এই কমিশন গঠনের বর্ণনা রয়েছে। এটিতে বলা হয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুই কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা, মনসুর আলীর ছেলে মোহাম্মদ সেলিম এবং সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের আবেদনক্রমে স্যার থমাস উইলিয়ামস, কিউ. সি. এমপি’র নেতৃত্বে এই কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বাংলাদেশ ও বিদেশে অনুষ্ঠিত জনসভাসমূহে এ আবেদনটি ব্যাপকভাবে সমর্থিত হয়।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতা হত্যায় যে ষড়যন্ত্র হয়েছিল তা প্রমাণিত হয়েছে বলে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে বলা হয়েছে।
জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলায় (জেল হত্যা) পলাতক দুই আসামি এলডি (দফাদার) আবুল হাসেম মৃধা ও দফাদার মারফত আলী শাহকে নিম্ন আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে আপিল বিভাগের দেওয়া ২৩৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় ২০১৫ সালের ২ ডিসেম্বর প্রকাশ করা হয়।
এর আগে জাতীয় চার নেতাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে হত্যার পরদিন তৎকালীন উপ-কারা মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) কাজী আবদুল আউয়াল লালবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই ঘটনায় মামলা দায়েরের ২৩ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ১৯৯৮ সালের ১৫ অক্টোবর অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. মতিউর রহমান রায় ঘোষণা করেন।
বিচারিক আদালত রায়ে রিসালদার মোসলেম উদ্দিন (পলাতক), দফাদার মারফত আলী শাহ (পলাতক) ও এল ডি (দফাদার) আবুল হাসেম মৃধাকে (পলাতক) মৃত্যুদণ্ড দেন। এছাড়া বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, বজলুল হুদা ও একেএম মহিউদ্দিন আহমেদসহ ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপি নেতা কেএম ওবায়দুর রহমান, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, নুরুল ইসলাম মঞ্জুর ও তাহেরউদ্দিন ঠাকুরকে খালাস দেওয়া হয়।
মন্তব্য করুন


সরকারি চাকরিতে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির পদে এ পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগপ্রাপ্ত জনবলের পূর্ণাঙ্গ তথ্য চেয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার
(১৫ আগস্ট) মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সচিব/সিনিয়র সচিবদের কাছে এ তথ্য চেয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে মন্ত্রণালয়গুলোকে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগ করা জনবলের তথ্য পাঠাতে একটি ছক করে দেওয়া হয়েছে। ছক অনুযায়ী প্রার্থীর নাম, নিয়োগপ্রাপ্ত পদ ও শ্রেণি; বাবার নাম ও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা, যার মুক্তিযোদ্ধা সনদ/গেজেটের পরিপ্রেক্ষিতে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন (পিতা/মাতা/পিতামহ/মতামহ) তার নাম ও ঠিকানা; মুক্তিযোদ্ধার নাম, পিতা/মাতা/পিতামহ/মাতামহের মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও গেজেট নম্বর এবং নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ার তারিখ জানাতে হবে।
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অনেক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে সনদ দেওয়া হয়েছে। সেই সনদ দিয়ে অনেকে চাকরি নিয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়টি খতিয়ে দেখার পদক্ষেপ নিয়েছে।
মন্তব্য করুন


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি আজ মঙ্গলবার (১২ মে)সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে 'ট্রান্সফর্মিং হাইয়ার এডুকেশন ইন বাংলাদেশ: রোডম্যাপ টু সাসটেইনেবল এক্সিলেন্সি’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘শিক্ষা ও গবেষণায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বৈশ্বিক মান বজায় রাখতে পারছে কিনা এমন একটি প্রশ্ন অনেকের আলোচনায় ফুটে উঠেছে। দুঃখজনক হলেও বাস্তবতা হচ্ছে, একবিংশ শতাব্দীতে শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানের উৎকর্ষ অর্জনের ক্ষেত্রে র্যাংকিংয়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান এখনো প্রত্যাশিত উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেনি।
তিনি আরো বলেন, ‘র্যাঙ্কিংয়ের ক্ষেত্রে সাধারণত গবেষণা, প্রকাশনা, সাইটেশন এবং উদ্ভাবন এই বিষয়গুলোকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। সে ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান কোথায় এ বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের শিক্ষাবিদগণ নিশ্চয় আরো চিন্তাভাবনা করবেন। শুধু পুঁথিগত শিক্ষাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগ না দিলে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে আমাদের টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়বে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে পা দিয়েছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চলমান এই সময়ে এ আই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স ও অটোমেশন, ইন্টারনেট অব থিংস, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োটেকনোলজি, সাইবার সিকিউরিটি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইন্টারনেট অব থিংস, বিগ ডাটা, ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স, ন্যানো টেকনোলজি, পঞ্চম প্রজন্মের ওয়্যারলেস প্রযুক্তি, এসব উন্নততর প্রযুক্তি একদিকে আমাদের চিন্তার জগৎ নিয়ন্ত্রণ করছে, অন্যদিকে শাসন করছে মানুষের কর্মক্ষেত্র বা কর্মসংস্থান। এর ফলে নিত্যনতুন প্রযুক্তির ব্যবহার প্রথাগত চাকুরির বাজারে বেকারত্ব বাড়াচ্ছে যেমন তেমনি তৈরি করছে নিত্য নতুন কর্মসংস্থানও।'
তারেক রহমান বলেন, 'চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কর্মসংস্থানের নতুন বাজারে প্রবেশ করতে হলে আমাদের মুখস্ত বিদ্যা এবং সার্টিফিকেট নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চাহিদা অনুযায়ী আমাদের প্রচলিত ধারার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে।'
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কারণ, শিক্ষা শুধু ব্যক্তির পরিবর্তনের জন্যই নয়, বরং বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উদ্ভাবন এবং বিশ্বমানের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা তৈরিরও প্রধান নিয়ামক। ফলে উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থাকে অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে আরও শক্তিশালী সংযোগ গড়ে তুলতে হবে। কারিকুলাম প্রণয়নে শিল্পখাতের চাহিদাকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।'
তিনি বলেন, ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লব বিশ্ববাসীর সামনে যে বার্তাটি স্পষ্ট করেছে, সেটি হলো শিক্ষা কেবল স্কুল-কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নয়। বর্তমানে জ্ঞানের চর্চা কেবল একটি নির্দিষ্ট বিষয়েই আবদ্ধ নয়। বরং আমরা দেখি, ডাটা সায়েন্সের সাথে বায়োলজি বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সাথে হয়তো সমাজবিজ্ঞানের মেলবন্ধন ঘটছে। এই সংযোগের ফলে জ্ঞানের সীমানা প্রতিনিয়ত প্রসারিত ও গতিশীল হচ্ছে। এই পরিবর্তনের গতি প্রকৃতির সঙ্গে আমাদের নিবিড় সম্পর্ক থাকা জরুরি।’
শিক্ষা কারিকুলাম ঢেলে সাজানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী বের হয়। উচ্চশিক্ষা নিয়েও অনেককে বেকার থাকতে হয়। অর্থাৎ বেকারত্বের সংখ্যা উচ্চ শিক্ষিতদের মধ্যে বেশি। এর কারণ সম্পর্কে নানামত রয়েছে। তবে এ ব্যাপারে অনেকেই একমত একাডেমিক শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি দক্ষতা অর্জন করতে না পারাই শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেশির অন্যতম কারণ।'
তিনি বলেন, 'প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চতর পর্যায় পর্যন্ত আমাদের শিক্ষা কারিকুলাম ঢেলে সাজানো এখন সময়ের দাবি। নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন কর্মমুখী শিক্ষা ছাড়া বেকারত্ব নিরসন সম্ভব নয়। সময়োপযোগী শিক্ষা কারিকুলাম ছাড়া বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়। এ কারণেই বর্তমান সরকার একাডেমিক সিলেবাসকে সময়োপযোগী করার কাজ শুরু করেছে।'
বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করতে বর্তমান সরকার এপ্রেন্টিসশিপ, ইন্টার্নশিপ এবং ইন্ড্রাষ্ট্রি-একাডেমিয়া বিষয়ে সহযোগিতা বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'প্রাথমিকভাবে বিভাগীয় শহরগুলোতে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে স্থানীয় শিক্ষা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক স্থাপন করে এই কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীগণ পুঁথিগত বিদ্যা অর্জনের পাশাপাশি হাতে কলমে শিক্ষা লাভ করে শিক্ষার্থী অবস্থাতেই কর্মদক্ষতা অর্জন করতে সক্ষম হবেন। ফলে শিক্ষা জীবন শেষে তাকে আর বেকার থাকতে হবে না '
তিনি বলেন, 'কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনোভেটিভ বিজনেস আইডিয়া বাণিজ্যিকীকরণ করতে প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় সিড ফান্ডিং বা ইনোভেশন গ্রান্ট প্রদান করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, ক্যাম্পাস থেকে ব্যবসায়িক উদ্যোক্তা তৈরি করা। ফলে এই উদ্যোক্তারা নতুন এবং সৃজনশীল ব্যবসায়িক ধারণা বাস্তবায়ন করে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবেন।'
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় কর্মদক্ষতা অর্জনের ফলে এমনও হতে পারে তিনি আর চাকুরির জন্য অপেক্ষা না করে নিজেই একজন উদ্যোক্তা হিসেবে আরো কয়েকজনের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হবেন। এসব উদ্যোগ ছাড়াও সরকার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন ইন্সস্টিটিউট’, সায়েন্স পার্ক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে। দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিজ্ঞান মেলা, ইনোভেশন ফেয়ার, প্রোডাক্ট সোর্সিং ফেয়ারসহ এ ধরনের শিক্ষা ও দক্ষতা বিষয়ক আয়োজনকে উৎসাহিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। শুধু উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেই নয়, স্কুলপর্যায় থেকেই সরকার শিক্ষা কারিকুলামে কারিগরি এবং ব্যবহারিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নিয়েছে। '
প্রধানমন্ত্রী বৃটিশ লেখক টম উইনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘আজকের এই কর্মশালার বিষয়বস্তুর সঙ্গে ব্রিটিশ লেখক 'গুডউইন' যিনি বিশেষ করে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে 'বিজনেস স্ট্রাটেজিস্ট এন্ড এনালিস্ট' হিসেবে স্বনামধন্য, তার একটি বিখ্যাত মন্তব্য বেশ প্রাসঙ্গিক বলেই আমার কাছে মনে হয়েছে। তিনি বলছেন, বিশ্বে বহুল ব্যবহৃত ট্যাক্সি কোম্পানি উবারের নিজের কোনো ট্যাক্সি নেই। বিশ্বে অপ্রতিদ্বন্দ্বী সোশ্যাল মিডিয়া 'ফেসবুক' নিজে কনটেন্ট তৈরি করে না। বিশ্বের বৃহত্তম অনলাইন বিজনেস প্লাটফর্ম 'আলিবাবা'র কোনো 'মজুদ পণ্য' নেই।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় আবাসন প্রোভাইডার 'এয়ারবিএনবি’র নিজেদের কোনো রিয়েল এস্টেট নেই।' অর্থাৎ ইনোভেটিভ আইডিয়া দিয়ে তারা যার যার ক্ষেত্রে বিশ্ব শাসন করছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত: এক একটি 'স্মার্ট ইন্টারফেস'। তারা সেবা দিচ্ছে না, বরং যারা সেবা দিতে চায় এবং যারা সেবা নিতে চায়, তাদের এক জায়গায় নিয়ে আসছে। এটিই প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞান।
শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভাবন কিংবা গবেষণা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সরকার অর্থ বরাদ্দ দেবে এটাই স্বাভাবিক। তবে আমি জানি, ব্রিটেনসহ বিশ্বের অনেক দেশেই যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের এলামনাই তাদের অনেকেই কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের 'গবেষণা এবং উদ্ভাবন' কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকেন। এ জন্যই অনেকে বলে থাকেন, ‘শিক্ষার্থীরা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ, আর এলামনাইরা হলো তার মেরুদণ্ড।'
তিনি বলেন, 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বর্তমানে যারা দেশে-বিদেশে, জ্ঞানে-বিজ্ঞানে ও অর্থ-বিত্তে প্রতিষ্ঠিত সেসব এলামনাইকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা ও গবেষণা' উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেয়ার জন্য আমি উপস্থিত শিক্ষাবিদদের প্রতি বিনীত আহ্বান জানাই।'
মেধাভিত্তিক দেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমাদের সামর্থ সীমাহীন না হলেও সীমিত সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে অবশ্যই আমাদের পক্ষেও নতুন কিছু করা সম্ভব। আমি বিশ্বাস করি, আমাদেরও প্রচুর মেধাবী মানুষ রয়েছেন যারা সুযোগ বা সুবিধা পেলে তাদের পক্ষেও বিশ্বমানের কিছু করা অসম্ভব নয়। মেধা পাচার রোধ করে মেধার বিকাশ ও মেধার লালন করে আমরা ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে চাই। '
ফ্যাসিবাদ-স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আমাদের তারুণ্য বারবার রাজপথে নেমে এসেছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, 'স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রকামী জনগণ বারবার অধিকার আদায়ের মিছিলে শামিল হয়েছে। এভাবেই দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর হাজারো প্রাণের বিনিময়ে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণের কাছে দায়বদ্ধ এই সরকার বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চায়। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার একটি জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র এবং সমাজ গড়তে চায়।'
তিনি বলেন, 'জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনের মূল ভিত্তি হলো এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা যেখানে শিক্ষা, গবেষণা, মেধা, যোগ্যতা এবং সৃজনশীলতা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়।'
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী নিজের সম্ভাবনাকে বিকশিত করার সুযোগ পাবে। আমরা সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা চাই, যা আমাদের বর্তমান এবং ভবিষ্যত বাংলাদেশকেও আলোকিত করবে। সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের স্বার্থে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষকে আমরা অবশ্যই আলিঙ্গন করবো।'
তিনি বলেন, 'তবে আমরা যেন আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজের আবহমানকালের ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ হারিয়ে না ফেলি। আমি এ ব্যাপারে শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী পেশাজীবী তথা সকল শ্রেণি পেশার মানুষের প্রতি সতর্ক ও সজাগ থাকার আহবান জানাচ্ছি।'
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ক্রেস্ট উপহার দেন কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।
ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক, ইউজিসির সচিব ফখরুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।
মন্তব্য করুন


মহান বিজয় দিবসে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট জোসে রামোস-হোর্তা সাভারের জাতীয় স্মৃতি সৌধে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। এ সময় পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ৫৪তম বিজয় দিবস উদযাপন করেন।
উভয় নেতা আজ সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল ৭টা ৫ মিনিটে জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তাঁরা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।
এ সময় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় সালাম প্রর্দশন করে এবং বিউগলে করুণ সুর বেজে উঠে।
বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা এবং পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট সেখানে রাখা দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
এ সময় উপদেষ্টা, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, মুক্তিযোদ্ধা, কূটনীতিক, বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি এবং বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিজয় দিবস উপলক্ষে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
মন্তব্য করুন