

সারা বাংলাদেশে গণহত্যাকে যেভাবে ফ্যসিলিটেট করেছিল, গোটা দুনিয়ার কাছ থেকে এই গণহত্যার তথ্য লুকানোর চেষ্টা যে করেছিল সেটা কিন্তু মাস্টারমাইন্ড জয়- এমনটাই মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।
বুধবার ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যাযজ্ঞে সহায়তা এবং মরদেহ ও আলামত গুমের মামলায় শুনানি শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তাজুল ইসলাম বলেন, সজীব ওয়াজেদ জয় বাংলাদেশে কখনও আসে নাই বিষয়টা তা না, তিনি রাষ্ট্রের বেতনভুক্ত ছিলেন, উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি আইসিটির এডভাইজার ছিলেন এবং আইসিটি মন্ত্রাণালয় বাংলাদেশের গণহত্যাকে আড়াল করার জন্য ইন্টারনেট বন্ধ করে সারা বাংলাদেশে গণহত্যাকে যেভাবে ফ্যসিলিটেট করেছিল, গোটা দুনিয়ার কাছ থেকে এই গণহত্যার তথ্য লুকানোর চেষ্টা যে করেছিল সেটার মাস্টারমাইন্ড কিন্তু জয়। সেটা বাংলাদেশে থেকে বাস্তবায়ন করেছিল জুনাইদ আহমেদ পলক।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, জয়ের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনেই হবে। তার বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণ আছে।
এদিকে, আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরুর আগে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ চেয়ে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমান।
যুক্তরাজ্য থেকে দুজন আইনজীবী আনতে বুধবার ট্রাইব্যুনালে পৃথক দুটি আবেদন করেন তারা।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ রয়েছে, তবে সেটি আইনি শর্তসাপেক্ষে।’
এদিকে আরেক মামলায় সজীব ওয়াজেদ জয়কে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
তাজুল ইসলাম জানান, বুধবার জুলাই হত্যাযজ্ঞের মামলায় হাজির করা হয় আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমানকে। তাদের পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্য থেকে দুজন আইনজীবী আনার আবেদন করা হয়। এ মামলার অভিযোগ গঠনে শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে ১৭ ডিসেম্বর।
এদিন ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যাযজ্ঞে সহায়তা এবং মরদেহ ও আলামত গুমের মামলায় হাজির করা হয় সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে। আর উপস্থিত না থাকায় হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে হাজির করতে পত্রিকার বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।
এদিকে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছে আরও দুজন। এ নিয়ে মামলায় সাক্ষী দিলেন ২৪ জন।
মন্তব্য করুন


এখন থেকে ৫ আগস্ট সরকারি ছুটি পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান দিবস হিসেবে এদিন ছুটি থাকবে। আগামী সোমবার এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কথা জানায়।
তিনি জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ঘিরে আগামী ১ জুলাই থেকে কর্মসূচি শুরু হবে, চলবে ৫ আগস্ট পর্যন্ত। ১৪ জুলাই থেকে মূল আয়োজন চলবে। আন্দোলনে যেভাবে দেশ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, সেভাবে কর্মসূচি করা হবে।
এখন থেকে ৫ আগস্ট সরকারি ছুটি থাকবে জানিয়ে ফারুকী বলেন, আগামী রবিবার উপদেষ্টা পরিষদ বৈঠকে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলন দিবস জাতীয় দিবস হিসেবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম জোর দিয়ে বলেছেন, আগামী ফেব্রুয়ারির ১৫ তারিখের মধ্যেই সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং ‘এটাকে পেছানোর মতো কোনো শক্তি নেই।’ এছাড়া গণভোটের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা সিদ্ধান্ত নেবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
শুক্রবার সকালে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ‘জুলাই কন্যা ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘মাইন্ডব্রিজ ও নলেজ কম্পিটিশন-২০২৫’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘যেকোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হোক না কেন, জাতীয় নির্বাচন সময়মতোই হবে।’
প্রেস সচিব আরও বলেন, ‘বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের মতের কথা বলছেন। আমরা এটাকে হুমকি হিসেবে দেখছি না। যেটা সবচেয়ে উত্তম, সেটাই প্রধান উপদেষ্টা করবেন।’
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মামলার বিষয়েও তিনি কথা বলেছেন এবং জানিয়েছেন, ‘১৩ নভেম্বর আদালত শেখ হাসিনার বিচারের দিন জানাবেন।’
তরুণদের জ্ঞান ও মেধার বিকাশকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে নোবিপ্রবির কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে জুলাই কন্যা ফাউন্ডেশনের সভাপতি জান্নাতুল নাঈম প্রমির সভাপতিত্বে এই প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোবিপ্রবির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইসমাইল।
মন্তব্য করুন


সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে গাজীপুরসহ সারাদেশে যৌথবাহিনীর সমন্বয়ে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ শুরু করতে যাচ্ছে।
শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে গাজীপুরে ছাত্র-জনতার ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর সমন্বয়ে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় এই অভিযান শুরুর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শনিবার থেকেই গাজীপুরসহ সারাদেশে এই বিশেষ অভিযান শুরু হবে। ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য আগামীকাল প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে জানানো হবে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার রাতে পতিত স্বৈরাচারের সমর্থক সন্ত্রাসীদের হামলায় কয়েকজন গুরুতর আহত হন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন


স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এক লাখ সেনা সদস্যসহ মোট ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আজ বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইন-শৃঙ্খলাসংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ২০তম সভা শেষে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী থেকে সদস্য মোতায়েন করা হবে। এরমধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য থাকবে ১ লাখ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ৫ হাজার, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ৩ হাজার ৭৩০ (স্থলভাগ-১ হাজার ২৫০), বাংলাদেশ পুলিশ ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৩, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৪, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৩৭ হাজার ৪৫৩, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ৩ হাজার ৫৮৫, র্যাব ৭ হাজার ৭০০, এবং সাপোর্ট সার্ভিস হিসেবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর ১৩ হাজার ৩৯০ জনসহ সর্বমোট ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে।
উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশজুড়ে দুই পর্বে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী মোতায়েন করা হবে। প্রথম পর্বে চলমান যারা মোতায়েন রয়েছেন, তারা বলবৎ থাকবেন। দ্বিতীয় পর্বে ভোটকেন্দ্রিক মোতায়েন, যেখানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ৭ দিন দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি বলেন, পুলিশ, আনসার ভিডিপির পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড এবং র্যাবের সমন্বয়ে আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয় সেল গঠন করা হবে।
এ সমন্বয় সেলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর একজন করে প্রতিনিধি থাকবেন।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ, গ্রহণযোগ্য এবং উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানে বদ্ধপরিকর। সেজন্য জাতীয় নির্বাচনে জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন ও নিশ্চিতকরণে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ আমাদের নিকট সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আর এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন


‘দলীয় শৃঙ্খলার বাইরে গিয়ে কেউ কিছু করলে সংগঠন দায় নেবে না’ বলে জানিয়েছেন নেতাকর্মীদের উদ্দেশে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৯ মে) দুপুরে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে এ কথা বলেন তিনি।
দলীয় সহকর্মীদের উদ্দেশে ওই স্ট্যাটাসে ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি, সিদ্ধান্ত ও শৃঙ্খলার বাইরে গিয়ে কেউ কিছু করলে সংগঠন তার কোনো দায় নেবে না এবং এ বিষয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে কাউকে কোনো ছাড়ও দেয়া হবে না- ব্যক্তি তিনি যেই হোন না কেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘অতএব, সবাইকে দলীয় শৃঙ্খলা, সিদ্ধান্ত ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি সর্বোচ্চ আনুগত্য বজায় রেখে কাজ করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। এর কোনো ভিন্নতা যেখানেই ঘটুক, সংগঠন অবশ্যই সিদ্ধান্ত নেবে।’
মন্তব্য করুন


গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। এতে জোট করলেও নিজ দলের প্রতীকে ভোট, ফেরারি আসামি ভোটে অযোগ্য, মিথ্যা তথ্য দিলে এমপি পদ বাতিল এমন একগুচ্ছ নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। থাকছে ‘না’ ভোটও। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিও এমপি পদে প্রার্থী হতে পারবেন না।
সোমবার (৩ নভেম্বর) আইন মন্ত্রণালয় এ অধ্যাদেশ গেজেট আকারে প্রকাশ করে। এর আগে গত ২৩ অক্টোবর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আরপিও সংশোধন অধ্যাদেশের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন করা হয়।
অনুচ্ছেদ ২ সংশোধন করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সংজ্ঞায় সেনা বাহিনী, নৌ বাহিনী ও বিমান বাহিনী রাখা হয়েছে। এতে সেনা মোতায়েনে নির্বাচন কমিশনকে আর আগের মতো বেগ পেতে হবে না।
২০০১ ও ২০০৮ সালের ভোটে এমন বিধান ছিল।
অনুচ্ছেদ ৮ সংশোধন করে ভোটকেন্দ্র (পোলিং স্টেশন) প্রস্তুতের ক্ষেত্রে জেলা নির্বাচন অফিসারের হাতে রাখা হয়েছে। আগে এ ক্ষমতা ডিসির হাতে ছিল।
অনুচ্ছেদ ৯ সংশোধনীতে বলা হয়েছে, রিটার্নিং অফিসার কোনো ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা বরখাস্ত করতে পারবেন, তবে ইসিকে অবহিত করতে হবে।
অনুচ্ছেদ ১২-তে বলা হয়েছে, কোনো আদালত কর্তৃক ফেরারি বা পলাতক আসামি ঘোষিত হলে সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য হবে। তিনি আর প্রার্থী হতে পারবেন না। এ ছাড়া কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বা অন্য কোনো পদে অধিষ্ঠিত থাকলে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হবেন।
কোনো প্রতিষ্ঠানের কাযনির্বাহী পদকে ‘লাভজনক’ পদের সংজ্ঞাভুক্ত করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের কাযনির্বাহী পদে থেকে নির্বাচন করা যাবে না।
হলফনামায় দেশে-বিদেশে আয়ের উৎস এবং সবশেষ বছরের রিটার্ন জমা দিতে হবে। এক্ষেত্রে কেউ মিথ্য তথ্য দিয়ে নির্বাচিত হলে এবং তা প্রমাণিত হলে এমপি পদও বাতিল করতে পারবে ইসি।
অনুচ্ছেদ ১৩ সংশোধন করে জামানতের পরিমাণ ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
অনুচ্ছেদ ১৯-এর সংশোধনীতে ‘না’ ভোটের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। কোনো আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী যদি একজন থাকে, তাহলে ব্যালট পেপারে ‘না’ ভোটের বিধান থাকবে। না ভোট বেশি পড়লে পুনরায় নির্বাচন হবে। ফের একক প্রার্থী থাকলে তিনি নির্বাচিত হবেন।
অনুচ্ছেদ ২০-এর সংশোধনীতে বলা হয়েছে, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের জোটগতভাবে নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিজ দলের প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে।
অনুচ্ছেদ ২৬-এর সংশোধনীতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের ব্যবহার সংক্রান্ত বিধান বিলুপ্ত করা হয়েছে।
অনুচ্ছেদ ২৭-এ আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিং যোগ করা হয়েছে। প্রবাসী, সরকারি চাকরিজীবী ও দেশের ভেতরে কয়েদিরা এ সুযোগ পাবেন।
অনুচ্ছেদ ৩৬-এ বলা হয়েছে, ভোট গণনার সময় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত থাকতে পারবেন।
এ ছাড়াও সমভোট পেলে লটারির পরিবর্তে পুনভোট হবে। প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয় ভোটার প্রতি ১০ টাকা, দলের ব্যয় দেখানো, অনুদানের অর্থের হিসাব ওয়েবসাইটে প্রকাশ, উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক পর্যন্ত বদলিতে ইসির অনুমোদনের বিধান আনা হয়েছে। আবার মিথ্যা তথ্য, অপতথ্য, গুজব ও এআই অপব্যবহার রোধে প্রার্থী ও দলের বিষয়ে অপরাধ বিবেচনা শাস্তির বিধান আনা হয়েছে।
এদিকে নিবন্ধন স্থগিত হলে প্রতীক স্থগিত, অনিয়ম হলে পুরো আসনের ভোট বাতিলে ইসির হাতে ক্ষমতা, আচরণ বিধি প্রতিপালনে ইসি কর্মকর্তাদেরও ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে আচরণবিধি লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ ছয় মাসের দণ্ডের পাশাপাশি সর্বোচ্চ দেড় লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। দলের ক্ষেত্রেও জরিমানার বিধান আনা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে ৫৮তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের প্রথম ধাপের আখেরি মোনাজাত সকাল ৯টা ১১ মিনিটে শুরু হয়ে ৯টা ৩৬ মিনিটে শেষ হয়। মাওলানা জুবায়ের আহমেদের নেতৃত্বে এই মোনাজাতে মুসল্লিরা মহান আল্লাহর দরবারে অশ্রুভেজা চোখে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এছাড়াও মোনাজাতে মুসলিম উম্মাহ ও দেশ-জাতির কল্যাণ কামনা করা হয়।
এই দিনে তুরাগ তীরে লাখো মুসল্লির সমাগম ঘটে। চোখ যতদূর যায়, শুধু মুসল্লিদেরই সারি দেখা গেছে। তারা পরম করুণাময় আল্লাহর দরবারে হাত তুলে প্রার্থনা করেন। আখেরি মোনাজাতের আগে সকাল ৬টা থেকে ঢাকার ৩০০ ফিট, ধওর ব্রিজ এবং ভোগড়া বাইপাস মোড় থেকে ইজতেমাগামী সব যানবাহনের চলাচল বন্ধ ছিল। মোনাজাত শেষে মুসল্লিরা ধীরে ধীরে ময়দান ত্যাগ করছেন। এরপরই এসব সড়ক আবারও যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
বিশ্ব ইজতেমার অন্যতম আকর্ষণ হলো যৌতুকবিহীন গণবিয়ে। শনিবার বাদ আসর ইজতেমা ময়দানের মূল বয়ানের মঞ্চে ৬৩ জোড়া দম্পতির বিয়ে সম্পন্ন হয়। ভারতের মাওলানা যোহাইরুল হাসান মোহরে ফাতেমা অনুসারে এই বিয়ের আয়োজন পরিচালনা করেন। ইজতেমা আয়োজক কমিটির সমন্বয়কারী হাবিবুল্লাহ রায়হান বলেন, "প্রতিবারের মতো এবারও ৬৩ জোড়া দম্পতির যৌতুকবিহীন গণবিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।"
বৃহস্পতিবার বাদ মাগরিব ভারতের মাওলানা ইব্রাহিম দেওলার আম বয়ানের মাধ্যমে ৫৮তম বিশ্ব ইজতেমার সূচনা হয়। প্রথম পর্বের এই তিন দিনের ইজতেমায় লাখো মুসল্লি অংশ নেন। শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয় দেশের বৃহত্তম জুমার জামাত, যেখানে মুসল্লিদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
মন্তব্য করুন


দেশে বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলার যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, সেই পরিস্থিতিতে আগামী নির্বাচন করা সম্ভব বলে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, ভোট সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সব দলকেও সহযোগিতা করতে হবে।
আজ সোমবার ঢাকার কেরানীগঞ্জে ঢাকা-৩ সংসদীয় আসনের ৩ নম্বর ভোটকেন্দ্র তেঘরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে পুলিশ সদস্যদের শরীরে থাকা ৪০ হাজার বডিক্যামেরা সেন্টার থেকে মনিটর করা হবে।
সেই সঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ, আনসার মোতায়েনসহ ৮০ হাজার সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্য থাকবে।
এ সময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা যেকোনো অন্যায় দেখলে তা প্রতিহত করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। এ ছাড়া দেশজুড়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান।
তিনি আরো বলেন, গত জুলাইয়ের থেকে এই জুলাইয়ে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
থানায় কেউ আসতো না। আনসার বাহিনী বিদ্রোহ করছিল, অন্যান্য বাহিনীগুলোও অতোটা সক্রিয় ছিল না। এখনও হয়তো আমরা কাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে পৌঁছাতে পারিনি। তবে পরিস্থিতি যে পর্যায়ে আছে আমাদের নির্বাচন করতে কোনো সমস্যা নেই।
তিনি বলেন, নিরীহ নিরপরাধ ব্যক্তি যেন আইনের আওতায় না আসে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। টাকার লোভে অনেকের নামে জুলাই-আগস্টে মামলা হয়েছে। কোনো নিরীহ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়, সেই চেষ্টা করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মন্তব্য করুন


রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে শেরেবাংলা নগর থানার মামলায় সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদাকে ফের ৪ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
শুক্রবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এদিন রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার এসআই শামসুজ্জোহা সরকার আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। নূরুল হুদাকে দুপুর আড়াইটার পর আদালতে আনা হয়।
আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী আসামির সর্বোচ্চ রিমান্ড চেয়ে শুনানি করেন। পরে আদালত ওই রিমান্ড আদেশ দেন।
এই মামলায় এর আগে গত সোমবার নূরুল হুদার ১০ দিনের রিমান্ড চেয়েছিল পুলিশ। সেদিন শুনানি নিয়ে তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
গত রোববার সন্ধ্যার দিকে ‘মব’ (উচ্ছৃঙ্খল জনতার বিশৃঙ্খলা) তৈরি করে নূরুল হুদাকে হেনস্তার পর পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পরে পুলিশ জানায়, বিএনপির করা একটি মামলায় নূরুল হুদাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
প্রহসনের নির্বাচন করার অভিযোগে গত রোববারই ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন খান।
মামলায় ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ, ২০১৮ সালের নির্বাচনে তৎকালীন সিইসি কেএম নূরুল হুদা ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে তৎকালীন সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়ালকে আসামি করা হয়।
এ মামলায় হাবিবুল আউয়ালকে গত বুধবার গ্রেফতার করা হয়। মামলায় তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে গতকাল (বৃহস্পতিবার) আদেশ দেন আদালত।
মন্তব্য করুন


নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, কোনো দলের কার্যক্রম স্থগিত থাকলে তাদের প্রতীকও স্থগিত থাকবে। তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। কিন্তু প্রতীক ছাড়া স্বতন্ত্র দাঁড়াতে পারবে কিনা সেটা সময় বলে দেবে।
অর্থাৎ আওয়ামী লীগের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার না হলে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসির নিবন্ধিত এ দলটি দলীয় প্রতীক নিয়ে অংশ নিতে পারবে না। আওয়ামী লীগের নাম না নিলেও স্থগিত থাকার দলের বিষয়ে ইসির অবস্থান স্পষ্ট করলেন ইসি সানাউল্লাহ।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন ভবনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন নিয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের সংশোধনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তালিকায় সশস্ত্র বাহিনী যুক্ত করা হয়েছে। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ভোটকেন্দ্র স্থাপন করবেন। এছাড়া আদালত কর্তৃক যারা ফেরারি হবেন, তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। লাভজনক পদে যারা আছেন বলে গণ্য হবেন এবং যারা সরকারি ৫০ শতাংশ বা তার বেশি শেয়ার আছে এমন প্রতিষ্ঠানে কাজ করলে তারা অংশ নিতে পারবেন না। এছাড়া হলফনামায় তথ্য গোপন বা মিথ্যা তথ্য দিলে ইসি পরে ব্যবস্থা নিতে পারবে এবং সেই ব্যক্তি সংসদ সদস্য পদ হারাবেন। পাশাপাশি প্রার্থীর জামানত ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, একক প্রার্থী থাকলে সেই আসনে ‘না’ ভোট থাকবে ব্যালটে। জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করলেও প্রার্থীরা নিজ নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করবেন। ইভিএম সংক্রান্ত সব বিধান বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া মিডিয়ার ব্যক্তিরা ভোট গণনায় থাকতে পারবেন। পাশাপাশি নির্বাচনী পোস্টার বাতিল করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে আচরণবিধি ভঙ্গ হয় তা করা যাবে না। এছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন স্থগিত থাকবে ও প্রতীক সংরক্ষিত থাকবে, ভোট শব্দ কিছু স্থানে ছিল, এগুলো নির্বাচন করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন