

অবশেষে উপ-সচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন
একসময়ের আলোচিত ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম।
নিজের পদোন্নতির বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ
মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে সারওয়ার আলম নিজেই জানিয়েছেন।
স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, তিনবার বঞ্চিত
হওয়ার পর আজ উপসচিব পদে পদোন্নতি পেলাম। আলহামদুলিল্লাহ্। সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর
যিনি সর্বোত্তম ফয়সালাকারী।
২০২১ সালের ৭ মার্চ প্রশাসনের ৩৩৭ জন
সিনিয়র সহকারী সচিবকে উপসচিব পদে পদোন্নতি দেয় সরকার। কিন্তু পদোন্নতিবঞ্চিত হন ২৭তম
বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডারের আলোচিত এ কর্মকর্তা।
বিসিএস ২৭তম ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডার
হিসেবে ২০০৮ সালের নভেম্বরে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন সারোয়ার আলম। ২০১৪ সালের ১ জুন
সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে পদোন্নতি পান তিনি। সে অনুযায়ী এ পদে প্রায় সাত বছরসহ মোট
১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রশাসন ক্যাডার হিসেবে কর্মরত থাকলেও সেসময় পদোন্নতিবঞ্চিত
হন সারওয়ার আলম।
২০২২ সালে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার
কারণে তিরস্কার সূচক লঘুদণ্ডের শাস্তি পেয়েছিলেন সেসময়ের র্যাবের আলোচিত এ নির্বাহী
ম্যাজিস্ট্রেট। এর আগে ২০২১ সালের ৩০ জুন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয় এবং তার কাছে
কৈফিয়ত তলব করা হয়। তবে সারওয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনে কোনো লিখিত বক্তব্য দেননি।
তার পদোন্নতি না পাওয়ার ঘটনাটি ওই সময়ের
বেশ আলোচিত বিষয় ছিল। তখন মো. সারওয়ার আলম বলেছিলেন, আমার পদোন্নতি না হওয়ার বিষয়টি
বিশ্বাস করতে পারছেন না বলে অনেক সরকারি কর্মকর্তা আমাকে জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে তারা
অবাক হয়েছেন। তবে এটাই বাস্তবতা।
এদিকে আজ (মঙ্গলবার) সারোয়ার আলমসহ
উপসচিব পদে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি পেয়েছেন ১১৭ কর্মকর্তা।
সারওয়ার আলম ২৭তম বিসিএসে ক্যাডার সার্ভিসে
যোগদান করেন। এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণিবিদ্যা বিভাগে পড়াশোনা শেষ
করেন। ছয় ভাই বোনের মধ্যে সবার বড় সারওয়ার।
সৎ ও মেধাবী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত
পাওয়া সারওয়ার আলম র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নে (র্যাব) যোগদানের পর থেকে সব সময়
আলোচিত ছিলেন। কর্মদক্ষতা আর নিষ্ঠার পরিচয় দিয়ে গেছেন বারংবার। ব্যক্তিস্বার্থ নয়,
বরং তিনি প্রাধান্য দিয়েছেন দেশ ও জনগণের স্বার্থকে। স্বার্থান্বেষী মহল তার কাজে অসন্তুষ্ট
থাকলেও জনগণ তাকে অফুরান ভালোবাসা দিয়ে বরণ করে নিয়েছে।
১৯৮৩ সালে তার শিক্ষাজীবন শুরু হয় বাড়ির
পাশের ইসমাইল মেমোরিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। ১৯৯৩ সালে পাকুন্দিয়া পাইলট
উচ্চবিদ্যালয় (বর্তমান পাকুন্দিয়া সরকারি উচ্চবিদ্যালয়) থেকে এসএসসি পরীক্ষায় প্রথম
বিভাগ পেয়ে ভর্তি হয় কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল সরকারি কলেজে।
১৯৯৫ সালে কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল সরকারি
কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় প্রথম বিভাগ অর্জন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন প্রাণিবিদ্যা
বিভাগে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে ২০০৫ সালে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতকোত্তর
পাস করেন তিনি। সারওয়ার আলম ২০০৮ সালে ২৭তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে যোগ দেন প্রশাসনে।
মন্তব্য করুন


বেসামরিক বিমান পর্যটন ও ভূমি উপদেষ্টা
এ এফ হাসান আরিফের মৃত্যুতে আনুষ্ঠানিকভাবে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করেছে উপদেষ্টা পরিষদ।
আজ রবিবার (২২ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার
কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পরিষদের এক বিশেষ সভায় এই শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়।
বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সভায় শোক প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা সর্বসম্মতভাবে গৃহিত হয়।
সভায় রিজওয়ানা হাসান জানান, আগামীকাল
সকাল সাড়ে দশটায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি হামিদুর রহমানের
কবরের পাশে হাসান আরিফকে সমাহিত করা হবে।
সভার শুরুতে উপদেষ্টা হাসান আরিফের
মৃত্যুতে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ
অন্য উপদেষ্টারা হাসান আরিফের স্মৃতিচারণ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ
ইউনূস বলেন, আজ ছোট ছোট অনেক কথাই মনে পড়ছে, তিনি সবসময় আমাকে মনে করিয়ে দিতেন- আমরা
কিন্তু সমবয়সী। শিশুর মতো সরল ব্যবহার ছিল তার। যতরকম সমস্যা দেখা দিয়েছে, যেখানে কোনো
কোন্দল দেখেছেন, তিনি হাজির হয়েছেন তার সমাধানে। এ এক অপূর্ব লোক, আমাদের মাঝ থেকে
চলে গেলেন।
অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন
আহমেদ বলেন, হাসান আরিফ ছিলেন একজন বিরল ব্যক্তিত্ব এবং সদা হাস্যময়।
অতীতের কর্মময় জীবনের স্মৃতিচারণ করে
পাট বস্ত্র ও নৌপরিবহণ উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ব্যক্তিগতভাবে হাসান আরিফের
মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত।
সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের
উপদেষ্টা শারমীন মুরশিদ বলেন, এখানে কাজ করতে এসে উনার সঙ্গে একটা সুন্দর সম্পর্ক গড়ে
উঠেছিলো। উনি আমাদের জন্য ছিলেন এক ইতিবাচক প্রেরণা।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা
আখতার বলেন, আজকে আমাদের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় আমরা হাসান আরিফকে মিস করছি। উনাকে
ছাড়া আমাদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান
খান আইনজীবী হিসেবে হাসান আরিফের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, উনি ছিলেন
মানবাধিকার রক্ষায় সব সময় সোচ্চার।
সভায় আদিলুর রহমান জানান, মানবাধিকার
সংগঠন অধিকারের প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি হিসেবেও কাজ করেছেন হাসান আরিফ।
আইন ও বিচার এবং প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা
আসিফ নজরুল বলেন, হাসান আরিফ ছিলেন একজন কর্মনিষ্ঠ ও পরিশ্রমী মানুষ। সবগুলো নথি তিনি
খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন,
হাসান আরিফ কখনো কোনো কাজকে কম গুরুত্বের সঙ্গে নিতেন না।
স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর
আলম চৌধুরী বলেন, হাসান আরিফ ছিলেন অমায়িক এক মানুষ, যেকোনো সমস্যা উনার সঙ্গে আলোচনা
করে সমাধান করা যেত।
জ্বালানি ও সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা মুহাম্মদ
ফাওজুল কবির খান বলেন, আমাদের সমাজে বিভেদ অনেক বেশি। এই বিভেদ জোড়া লাগানোর মানুষ
আস্তে আস্তে কমে যাচ্ছে। সর্ব মহলে উনার গ্রহণযোগ্যতা ছিল।
১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি
চুক্তি স্বাক্ষরের সময় হাসান আরিফের ভূমিকা স্মরণ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা
সুপ্রদীপ চাকমা বলেন, উনি পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষদের নিয়ে অনেক ভাবতেন। তাঁর মৃত্যুতে
সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হলো পার্বত্য অঞ্চলের মানুষদের।
স্থানীয় সরকার ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ
মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, উপদেষ্টা পরিষদে এসে হাসান আরিফকে চিনেছি, উনাকে সব সময় শিক্ষকের
মতো পাশে পেয়েছি।
তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, উনার
সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে একবারও আমাদের বয়সের পার্থক্য বুঝতে পারিনি। তিনি সবার সঙ্গে আন্তরিকভাবে
মিশতেন।
খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেন,
২০০৮ সালে অংশগ্রহণমূলক একটি নির্বাচন আয়োজনে আন্তরিকভাবে কাজ করতে দেখেছি উনাকে। এবারও
উনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন।
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন মন্ত্রী পরিষদ
সচিব শেখ আব্দুর রশীদ, বেসামরিক বিমান সচিব নাসরীন জাহান, ভূমি সচিব এ এস এম সালেহ
আহমেদ।
মন্তব্য করুন


সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে সিএমএইচগুলোতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত ছাত্রদের চিকিৎসার অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
শনিবার (৩১ আগস্ট) রাত ৯টা ৫৬ মিনিটে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ফেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১৮ আগস্ট ২০২৪ তারিখ হতে সারা দেশব্যাপী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত ছাত্রদের দ্রুত সুস্থ করে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিরলসভাবে ও আন্তরিকতার সাথে সিএমএইচ সমূহে জরুরি ও উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদান করছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকা সিএমএইচসহ দেশের অন্যান্য ১০টি সিএমএইচে সর্বমোট ৮২৯ জন আহত ছাত্র চিকিৎসা সেবা গ্রহণের জন্য আগমন করেন। তন্মধ্যে ২১৯ জন আহত ছাত্র সিএমএইচসমূহে চিকিৎসাধীন আছেন এবং অবশিষ্ট ছাত্রগণ চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত ছাত্রদের অতিদ্রুত সুস্থতা কামনা করছে। পাশাপাশি দেশব্যাপী আহত চিকিৎসাধীন ছাত্রদের প্রয়োজনীয় জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রাপ্তিতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদানে সদা তৎপর আছে।
মন্তব্য করুন


নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় ছয়
বছর বয়সী এক কন্যাসন্তানকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে
গুরুতর আহত এক অভিযুক্তসহ মোট দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার
(২৩ মে) ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিশুটির পাশে দাঁড়াতে এবং তার পরিবারের খোঁজখবর নিতে থানায়
ছুটে গেছেন জেলা প্রশাসন ও পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার
(২২ মে) বিকেলে ফতুল্লা মডেল থানার বক্তাবলী এলাকায় এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার
পর শিশুটির মা বিষয়টি বুঝতে পারলেও প্রথমে লোকলজ্জার ভয়ে কাউকে কিছু জানাননি। পরবর্তীতে
রাতে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া
হয়।
সেখানে
তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল
কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে প্রেরণ করেন। বর্তমানে শিশুটি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং
তার স্বাস্থ্যগত পরীক্ষার (মেডিকেল টেস্ট) প্রক্রিয়া চলছে। মামলায় অভিযুক্ত দুইজন
হলেন, বক্তাবলীর ওই গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে হিরো এবং জামাল পাটোয়ারীর ছেলে সোহেল।
শুক্রবার
রাতে ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ
জনতা রাতেই অভিযুক্ত হিরোকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ মুমূর্ষু অবস্থায়
তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
অতিরিক্ত
পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, গণপিটুনিতে গুরুতর আহত হিরো বর্তমানে ঢাকা
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) চিকিৎসাধীন। এ ছাড়া রাতে
অভিযান চালিয়ে অপর অভিযুক্ত সোহেলকেও আটক করে থানা হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। শনিবার সকালে
ভুক্তভোগী শিশুটির মা বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি
মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ওই দুইজনকেই আসামি করা হয়েছে।
শনিবার
সকালে ফতুল্লা মডেল থানায় ভিকটিম ও তার পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করতে যান জেলা
প্রশাসক (ডিসি) মো. রায়হান কবির, পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মিজানুর রহমান মুন্সী, এবং
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (ইউএনও) জেলা প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
তারা ভুক্তভোগী পরিবারটিকে সান্ত্বনা দেন এবং আইনি সহায়তাসহ পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
থানায়
সাক্ষাৎ শেষে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মিজানুর রহমান মুন্সি গণমাধ্যমকে
বলেন, ছয় বছরের এক মেয়েকে দুজন ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে
এবং অভিযুক্ত দুজনই আমাদের হেফাজতে বা নজরদারিতে (একজন হাসপাতালে ও একজন থানায়) আটক
আছে। যেহেতু এটি একটি শিশু বাচ্চা, আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি।
মেয়েটির মেডিকেল টেস্ট করানোসহ পরবর্তী আইনি কার্যক্রম চলছে।
ফতুল্লা
মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহাবুব আলম জানান, পুলিশ ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ
গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে হাইকোর্টের রায়ের প্রেক্ষিতে পোষ্য (ওয়ার্ড) কোটায় শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট বা প্রকাশিত মেধাতালিকায় কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পোষ্য কোটা বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট পোষ্য কোটা বহাল রাখার পক্ষে রায় দেন। সেই রায়ের আলোকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চলতি শিক্ষাবর্ষে পোষ্য কোটায় ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে।
যদিও শিক্ষার্থীদের ক্লাস ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে, তবুও পোষ্য কোটায় কতটি আসনে ভর্তি নেওয়া হয়েছে, আবেদন ও যাচাই-বাছাই কীভাবে সম্পন্ন হয়েছে এসব বিষয়ে এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। ভর্তি সংক্রান্ত ওয়েবসাইট ও মেধাতালিকাতেও এ বিষয়ে আলাদা কোনো তথ্য সংযুক্ত করা হয়নি।
এর আগে, পোষ্য কোটা বহাল রাখার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর হাইকোর্ট ডিভিশনের বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজি ও বিচারপতি রাজিউদ্দিন আহমেদের বেঞ্চ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে রুল জারি করেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি শশাংঙ্খ শেখর সরকার ও বিচারপতি উম্মে রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে আদালত পূর্বে জারিকৃত রুল যথাযথভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। রুলে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের সন্তান ও স্বামী/স্ত্রীর জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ওয়ার্ড কোটা বহাল রাখা যৌক্তিক এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আদেশ দেওয়ার এখতিয়ার আদালতের রয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিজীবী ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে পাঠানো এক চিঠিতে জানানো হয়, “যুগ যুগ ধরে যেভাবে পোষ্য কোটা চালু ছিল, আদালতের রায় অনুযায়ী তা সেভাবেই বাস্তবায়ন করতে হবে।” একই সঙ্গে ৩১ মার্চ ২০২৬ অনুষ্ঠিত ভর্তি কমিটির সভায় হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় উপাচার্যকে ধন্যবাদ জানানো হয়। চিঠিতে পূর্বের মতো ১৬৬টি আসন বহাল রাখার কথাও উল্লেখ করা হয়।
তবে বাস্তবে কতজন শিক্ষার্থী এ কোটায় ভর্তি হয়েছেন, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, “হাইকোর্টের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতেই পোষ্য কোটা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আদালত ১৬৬ জন শিক্ষার্থী ভর্তির কথা উল্লেখ করলেও, গত বছরের মতো এবারও ৫৪ জন শিক্ষার্থীকে এ কোটায় ভর্তি নেওয়া হবে। তবে এখন পর্যন্ত মোট কতজন ভর্তি হয়েছে, তা নির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না।”
চবি প্রতিনিধি
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর)
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সাক্ষাৎকালে, সেনাপ্রধান
দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সেনাবাহিনীর চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে প্রধান
উপদেষ্টাকে অবহিত করেন। পাশাপাশি, দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য সেনাবাহিনী গৃহীত
বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা করেন।
আলোচনাকালে, সেনাপ্রধান তাঁর সাম্প্রতিক
সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক সফরের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেন। এই সফরটি দুই
দেশের মধ্যকার সম্পর্কোন্নয়ন ও সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে সেনাপ্রধান
আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এছাড়াও, সদ্য সমাপ্ত বিবিধ বঞ্চিত সেনা
কর্মকর্তাদের সুবিচার নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত উচ্চপদস্থ পর্ষদের মূল্যায়ন ও সুপারিশ এবং
বিবিধ কারণে চাকরিচ্যুত জেসিও ও অন্যান্য পদবীর সেনা সদস্যদের চলমান উচ্চপদস্থ পর্ষদ-এর
অগ্রগতির বিষয়ে সেনাপ্রধান প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেন।
এ ছাড়া জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আহত
ছাত্র-জনতার চিকিৎসায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কেও তাঁকে অবহিত
করা হয়।
প্রধান উপদেষ্টা সেনাবাহিনীর ভূমিকা
ও অবদানের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে সেনাবাহিনীকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা
প্রদান করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে
সেনাবাহিনী তাদের পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে।
মন্তব্য করুন


বন্ধ হয়ে গেছে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন। জানা যায় যান্ত্রিক ত্রুটির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
আজ সকাল ৬ .১৫ মিনিটের দিকে কেন্দ্রটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
এ তথ্য নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ ইন্ডিয়া পার্টনারশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (বিআইএফপিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাঈদ আকরামুল্লাহ ।
তিনি বলেন, উৎপাদন বন্ধ হওয়ার খবর পেয়েছি। আশা করি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আবারও উৎপাদন শুরু করা হবে।
২০১০ সালে ভারত ও বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। ২০১২ সালের ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং ভারতের এনটিপিসি লিমিটেডের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (প্রাঃ) লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল) নামে কোম্পানি গঠিত হয়। এই কোম্পানির অধীনে ১৩২০ মেগাওয়াট মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্ট (রামপাল) নামে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ শুরু হয়।
মন্তব্য করুন


কূটনৈতিক ও অফিসিয়াল পাসপোর্টধারীদের জন্য দ্রুত মিশরের সঙ্গে
পারস্পরিক ভিসা অব্যাহতি চুক্তি করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর
আলম চৌধুরী।
আজ মঙ্গলবার (১৩ মে) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার অফিসকক্ষে
বাংলাদেশে নিযুক্ত মিশরের রাষ্ট্রদূত ওমর মহি এলদিন আহমেদ ফাহমি’র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ কথা জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, কূটনৈতিক
ও অফিসিয়াল পাসপোর্টধারীদের জন্য পারস্পরিক ভিসা অব্যাহতি চুক্তির খসড়া অনুমোদনের জন্য
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মিশরে পাঠানো হয়েছে। মিশরের পক্ষ
থেকে এটি অনুমোদিত হলে চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে স্বাক্ষরিত হবে। তাছাড়া সাধারণ পাসপোর্টধারীদের
জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসা প্রদানের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে মিশরের
পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা
ইস্যু, পুলিশের প্রশিক্ষণ, অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধ, আন্তঃদেশীয় সন্ত্রাস
দমন, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, পারস্পরিক আইনি সহায়তা, সীমান্ত নিরাপত্তা বিষয়ে অভিজ্ঞতা
বিনিময়সহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের শুরুতে রাষ্ট্রদূতকে
স্বাগত জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, মিশর বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধুপ্রতিম দেশ।
দেশটি প্রাচীন সভ্যতা ও ইসলামি ইতিহাস-ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, আন্তঃদেশীয় অপরাধ নেটওয়ার্ক দমনের
বিষয়টি পারস্পরিক নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে প্রতিফলিত হতে হবে। নিরাপত্তা ক্ষেত্রে
সহযোগিতা ছাড়াও দুই দেশের মধ্যে অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধ এবং পারস্পরিক আইনি
সহায়তা বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। বাংলাদেশের বর্তমানে সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা
হুমকি সম্পর্কে রাষ্ট্রদূত জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বড় ধরনের
কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই। তবে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বাংলাদেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে
একটি অন্যতম প্রতিবন্ধকতা ও নিরাপত্তা উদ্বেগ। কিছু রোহিঙ্গা সীমান্তে নিরাপত্তা সমস্যা
সৃষ্টি করছে।
উপদেষ্টা এ সময় মিশরকে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনে আর্থিক সহায়তা ও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে নৈতিক সহায়তার আহ্বান জানান।
সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা বিষয়ে মিশর বাংলাদেশকে সহযোগিতা
করতে পারে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, মিশরের সঙ্গে
ইসরায়েলের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম বিরোধপূর্ণ সীমান্ত। তথাপি মিশরের
সীমান্তরক্ষী বাহিনী এটি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ব্যবস্থাপনা করে আসছে।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে কর্মশালা
ও প্রশিক্ষণ আয়োজনের মাধ্যমে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
এটি করা গেলে বিজিবি মিয়ানমার সীমান্তে আরও দক্ষতা ও নিপুণতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে
সক্ষম হবে মর্মে আমি মনে করি।
এ সময় উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, গত ৫০ বছর
ধরে বাংলাদেশ ও মিশরের মধ্যে চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রয়েছে। এ সম্পর্ক পারস্পরিক
শ্রদ্ধা ও আস্থার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।
রাষ্ট্রদূত বলেন, আফ্রিকা মহাদেশের সবচেয়ে সেরা পুলিশ প্রশিক্ষণ
একাডেমি মিশরে অবস্থিত। মিশর বাংলাদেশকে পুলিশের প্রশিক্ষণ ও সামর্থ্য বৃদ্ধিতে সহযোগিতা
করতে পারে। তাছাড়া মিশর বাংলাদেশের নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা করতে আগ্রহী।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল
গনি, জননিরাপত্তা বিভাগের যুগ্মসচিব (রাজনৈতিক-১) মু. জসীম উদ্দিন খান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের
আফ্রিকা অনুবিভাগের মহাপরিচালক বি এম জামাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মন্তব্য করুন


আলোচিত ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট।
আজ বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি নাসরীন আক্তারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতানা আক্তার রুবী ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসিফ ইমরান জিসান।
পাঁচজন আসামির পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান। লুত্ফুজ্জামান বাবরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
মন্তব্য করুন


দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে জাতীয় স্বার্থে
সবাই যেন ঐক্যবদ্ধ থাকে সেজন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে
ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
আজ বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) রাতে রাষ্ট্রীয়
অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের
ব্রিফিংকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান
বলেন, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ কয়েকজন উপদেষ্টা বৈঠকে ছিলেন। তাদের
সঙ্গে বিদ্যমান পরিস্থিতির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। দেশ কীভাবে শান্তিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে
আগামীতে একটা কার্যকর নির্বাচনের দিকে এগোতে পারে, সে বিষয়ে কথা হয়েছে।
তিনি বলেন, জাতি-ধর্ম, দল-মত নির্বিশেষে
এ দেশ আমাদের সবার। সবাই মিলেমিশে জাতীয় ঐক্য আরও কীভাবে সংহত করা যায়, প্রশাসনকে আরও কীভাবে গুছিয়ে আনা যায়, এসব বিষয়ে
আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যের যে ঊর্ধ্বগতি, যেটাতে মানুষের কষ্ট হচ্ছে, সেটাকে
লাঘব করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামীতে রমজান মাস আসছে, এটাকে কেন্দ্র করে অসাধু ব্যবসায়ীরা
যেন কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে না পারে, সেসব নিয়েও কথা হয়েছে। আমরা পরামর্শ করেছি।
পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও অনেক আলোচনা হয়েছে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কিছু
বিষয় নিয়ে আলাপ হয়েছে। এসব আলোচনায় আমরা একমত হয়েছি যে—দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়েই দেশকে সামনে
এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। আর দেশের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে যারাই জড়িত থাকবে,
তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। এর মাধ্যমে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে দিতে হবে। এরজন্য
প্রয়োজন সর্বোত জাতীয় ঐক্য। দল-মত-ধর্মের ভিন্নতা থাকতে পারে, তবে জাতীয় স্বার্থে আমরা
যেন ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারি। আপনাদের মাধ্যমে আমরা সে আহ্বান জানাই। আমরা বৈঠকেও এ কথা
বলেছি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ন্যূনতম যে
সংস্কার দরকার, সেটা দ্রুত করে তারপর নির্বাচন আয়োজনের কথা বলে এসেছি আমরা।
বৈঠকে জামায়াত আমিরের সঙ্গে উপস্থিত
ছিলেন, দলটির দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, আব্দুল হালিম এবং
নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন।
মন্তব্য করুন


সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি আজ মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট ২০২৪) ফেনী জেলার ছাগলনাইয়াতে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে তিনি ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় বন্যা দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন। এরপর বন্যা দুর্গতদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর চাহিদা সম্পর্কে অবহিত হন এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে চলমান উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমকে অধিকতর ফলপ্রসু করার লক্ষ্যে করণীয় বিষয়সমূহ সম্পর্কে মতবিনিময় করেন।
এসময় তিনি উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণের কাজে নিয়োজিত সেনাসদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। পরিদর্শনে জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ৩৩ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার কুমিল্লা এরিয়া ছাড়াও সেনাসদরের ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেনাবাহিনীর এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন